কতদিন ভেবেছি
কর্মের ক্লান্তির ভার দু'হাতে ঠেলে
ফুসরত পেলে
যাবো ওর কাছে, জিরাবো কিছুটা ক্ষণ
ও আমার ছোটবোন, একান্ত আপন
আমি বুড়ো শিশু, সে নিপুন শিশু চিকিৎসক।
"আজ নাইট আছে, 'আই সি ইউ'তেই এসো
দুজনে মন খুলে গল্প করবো স্মৃতি ধরবো
ছিপ দিয়ে মাছের মতোন !"
বুকে কি যেন জমে ক্রমে ক্রমে কুয়াশার মতো.....
পুরোনো দেরাজ খুলে দু'পকেটে ভরি হারানো কৈশোর
সেই সোনা রোদ ভোর।
১৭ নম্বরে নেবুলাইজার দিতে হবে
ক ...
আমি যখন ঘুমিয়ে পড়লাম- ভারমুক্ত আকাশের নিচে
স্থির বুকে গুঁজে থাকা ঠোঁট নিয়ে পাখিটা কি ভাবছিল
দিনের শেষ ছায়াটুকু? হলুদ খামে ভরা নদীর জলে
যেন কেবলই চিঠির মত ভেসে থাকা।
আমাকে পেয়ে গান ধরলো এক বৈষ্ণব, আমি বললাম
আমাকে মাফ করুন, আমাকে বিশ্রাম নিতে দিন
আমার শোকের শেষ সঞ্চয়টুকু পান করতে দিন
দয়া করে ফেরত পাঠাবেন না কোনো নাগরিক গারদে।
আমাকে পেয়ে ভীড় জমালো কয়েকটা স্মৃতির রাজহাঁস ...
দেখো----
কেমন করে পুড়ে যাচ্ছে এক একটি সবুজ পাতা;
আর ছাইগুলো কলমের কালি হয়ে তোমার লেখার খাতা ভরে দিচ্ছে নতুন শব্দ-সম্ভারে।
সহজ নয়-----
পুরোনো ক্যালেন্ডার জমানোর বাতিক ছেড়ে দেয়া।
পিছনের পাতাগুলো ঘাটলেই---------
কখনো ঝরে পড়ে একরাশ ফুল
কখনোবা তাড়া করে বিবর্ণ-হলুদ কঙ্কাল
অথবা ঘর-পালানো জ্যোৎস্নায় মাধবীর বনে সাপের নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ।
'কেবল আজকের জন্য বেঁচে থাকা'
--এমন আপ্তবাক্য মেনে নিয় ...
পূর্বলেখঃ
- অনন্ত আত্মা
[মির্যা গালিবের শের এবং গজলে অবশ্যম্ভাবী অনুসঙ্গ হিসেবে যেমন এসেছে নারী ও প্রেম; তেমনিভাবে বিদ্রূপাত্মক ঢঙে এসেছে সুরা ও সাকী প্রসঙ্গ। গালিবের শেরের দূরবর্তী ছায়া অবলম্বণে এবারও তিনটি শের লেখার চেষ্টা করলাম।]
৪.
সুন্দর মুখ ভালবাসি
সবসময়ই আমি।
আমার ঘরে আয়নাতো
নেই, আমি কেমন জানি?
৫.
সুর, সুরা সবই আছে,
ভেসে যাও স্রোতে;
উন্মাদ হয়ে মাতো
নারী ও প্রেমেতে।
কান খুলে শুন ...
পূর্বলেখঃ
রবার্ট ফ্রস্ট নিজেই বলেছেন, অনুবাদে কবিতার প্রস্ফুটন কিম্বা পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটেনা। বিশ্বসাহিত্যের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে কখনো কখনো নির্জলা কফির ঘ্রাণ মনকে বড়োবেশী চন্মনে করে তোলে। অক্ষমতার কালিমা মেখে হলেও অনুবাদের লোভ সামলানো কঠিন হয়। রবার্ট ফ্রস্টের ‘ফায়ার এন্ড আইস’ এমনি এককাপ নির্জলা কফি। মাত্র নয় লাইনে কি অসাধারণ কাব্যময়তা! এ কবিতার ভিত দান্তের ‘ডিভাইন ক ...
গতকাল কি ঘটলো মনে রাখতে চাই না; বেদনার গন্ধ পাই। মনে রাখলে বেদনাও বেঁচে থাকতে চায় ত্রিশফুট উচ্চতায়। প্রতিটি বেদনার একটি কারণ থাকে তাই কালে-পার্বণে দোলা দেয় মুহূর্তচোখে। আগামীকাল আমাকে তাড়ায়, দৌড়ায়, বোকা বানায় আশেপাশে যেন কিছুই মনে থাকে না। ইদানিং ঘৃণাকে অধিক মমতায় নীল মলাটে সাজাই। ঘৃণার চেয়ে কষ্টের তীব্রতা এতো গাঢ় যে কারো চোখের দিকে তাকাতে পারি না; ঘৃণা যদি অপূর্ণতা পায়
তোমার ...
১.
দূরের আকাশ যখন হারাবে নীল,
আমি স্বপ্নলোকের দরোজা খুলে দেব।
যদি ফিরে চাও, তবে দেখবে,
আমার আকাশ তখনো রয়েছে রঙ্গিন।
তুমি ফিরে এসো তখন,
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার
আমি অপেক্ষায় আছি, অপেক্ষায় র’ব;
আমৃত্যু অপেক্ষায়....।।
২.
অনেক তো ছিলে দূরে
কত জোছনায় ভেজা রাত একাকী পথে
একলাই দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে হেঁটেছি...
এখনো কি অভিমান নিয়ে
রয়ে যাবে এতটাই পর?
আমি চাঁদের অশ্রু মুছে হাসি ফুঁটিয়েছি
তবু তোমার হা ...
সবাই চলে গেছে শুধু একটি মাধবী তুমি......................................."
ফুরিয়ে গেছে চরকার সুতো---------
বোনা হয়নি রূপকথার সেই নকশীচাঁদর।
মাঝরাতে আচমকা আকাশের জানালা খুলে গেলে
একটি নক্ষত্র খসে সোজা আমার স্বপ্নের ভেতরে ঢুকে পড়ে
'খসে পড়া তারার কাছে কিছু চাইলে ইচ্ছা -পূরণ হয়'
----------------তুই বলেছিলি।
তারা খসা-------------
তুই।
কিছুতেই মনে পড়েনা কিযে চাই।
গুলমোহরের লতানো ঝোপে চাঁদ নেমে এলে
এক বুক চাঁদনীতে গলে গলে যা ...
দূরের ঐ গাঙচিলের ওড়াওড়ি,
সুপ্ত ইচ্ছেটাকে স্বাধীনতা দেয়।
শৈশবের নির্জন দ্বীপ জেগে ওঠে,
বাতাসে লোনা ঘ্রাণের সর্প্শ পাই।
আদিনাথের পুকুরপাড়ের সরীসৃপটা
এখনো যেন ভেঙচি কাটে।
মাঝে মাঝে দু একটা ডিঙি নৌকা
অস্তিত্বের লড়াইরত।
জেলেদের অঙ্গার সৌষ্ঠব
যেন কোন ভাস্করের নির্ঘুম কর্মযজ্ঞ।
নদীর দেশে সূর্য্য হার মানে,
রক্তিম আভা এখন অন্তিম আলিঙ্গনরত।