.
(০১)
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…’, রবীন্দ্রনাথের এই সঙ্গীতটিকে ঋদ্ধি ও মননে ধারণ করেছিলেন বললে হয়তো ভুলভাবে বলা হবে ; বলতে হবে, ওই সঙ্গীতের মন্থিত জীবন-রসের সবটুকু মাধুর্যকেই বুকে আগলে নিয়েছিলেন তিনি। শুধু কি আগলেই নিয়েছিলেন ? আগুনের ওই পরশমণির অনিন্দ্য ছোঁয়ায় অগ্নিশুদ্ধ হয়ে নিজেকে এমন এক জীবনশিল্পীর মর্যাদায় আলোকিত করে নেন, সমকালীন বাস্তবতায় কী সাহিত্যে কী সাংবাদিকতায় ক...
মঞ্চসজ্জাঃ পেছন দিকটায় নীল সিল্কের কাপড় টানা থাকবে, ওটাই মঞ্চের আকাশ। আর অর্ধেকটায় নীল সিল্কের কাপড় থাকবে কুঁচ্কানো, ওটা সমুদ্র। তার পাশে মাদুর বেছানো থাকবে, মাদুরের পাশে একটা হুক্কা আর একটা ফ্লাওয়ার ভেস। (সস্তায় কাম সারতে হবে)
প্রথম দৃশ্যঃ
মাদুরের ওপর বসা থাকবে মানুষ, জোকার, ব্রোকার আর খেকশিয়াল। মানুষ হুক্কা টানছে, ব্রোকার ও খেকশিয়াল ফিস ফিস করে কথা বলছে; আর জোকার উদাশ দৃষ্ট...
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবারই কোনও ইচ্ছা কখনও আমার ছিল না। সারাজীবন ডাক্তার হবার স্বপ্ন দেখেছি, উচ্চ মাধ্যমিকে খারাপ রেজাল্টের কারণে সে স্বপ্ন যখন চুরমার হয়ে গেল তখন বাবার জোরাজুরিতে পরীক্ষা দিতে গেলাম জাবিতে। ঢাবির পরীক্ষার আরও পরে ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল বিজ্ঞানের কোনও বিষয়ে পড়ার, ফার্মাসী/বায়োকেমিস্ট্রি ছিল প্রথম পছন্দ। বিবিএর কথা মাথাতেও আনিনাই কখনও। ফর্ম প...
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দেশব্যাপী বিশাল এক ইভেন্টের দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা আমরা খেটে মরছি। নাওয়া নাই খাওয়া নাই অবস্থা। নারী নিয়া আমার অনেক মাথা ব্যাথা থাকলেও নারী দিবস নিয়া কোনো মাথাব্যাথা নাই। কিন্তু এইখানে অর্থকরীর ব্যাপার আছে, তাই এই খাটাখাটনি।
আমাদের এক বন্ধু আছেন। বড় ভাইয়ের মতো। তোজো ভাই। আমরা ডাকি মুশকিল আছান নামে। এই দেশে তার জন্য অসম্ভব কিছু নাই...
মৃত্যুর পর তাঁকে যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়, তাঁর এই শেষ ইচ্ছেটা তিনি একবারও কি উচ্চারণ করতেন, যদি জানতেন কবরের একটুকু জায়গা না পেয়ে দাফনের অপেক্ষায় তাঁর নিথর মরদেহটি পাঁচ পাঁচটি দিন হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে থাকবে ! এই জাতির কাছে তাঁর চাওয়াটা কি খুব বেশি কিছু ?
বায়ান্নতে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠি কর্তৃক বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে গড়ে তোলা একুশের তাৎক্ষণিক ও প্রথম শহীদ ...
আমাদের জীবনকালেই হয়তো সেই সময়টা আমরা দেখে যাবো, এই দেশ এই মাটি এবং আমাদেরকে রাহুমুক্ত করতে নির্দ্বিধায় জীবনটাকে বাজী রেখে যাঁরা পাহাড়ের মতো অদম্য বুকটাকে টানটান করে দাঁড়িয়েছিলেন ট্যাঙ্ক গুলি আর বন্দুকের মুখে, আমাদের প্রচণ্ড অপরাধবোধ আর তীব্র পাপবোধ থেকে রেহাই পেতে ঋণশোধ তো দূরের কথা, একটুখানি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যেও তখন আর একজনকেও খুঁজে পাবো না আমরা ! তাঁরা আমাদের ভাই, বন্ধু,...
তিনি আমাদের একমাত্র নোবেল লরিয়েট। অনেক বিতর্ক তাঁকে নিয়ে। তিনিই কি এসব বিতর্কের জন্ম দেন, না কি নিজেদের কাটতি বাড়াতে মিডিয়াই এসব বিতর্কে ইস্যু তৈরির ঘৃতাহুতি দিয়ে যায়, তাও এক রহস্য বৈ কি। তবে কোন রাষ্ট্রনায়ক বা ওয়ার্ল্ড ক্লাস পারফর্মার না হয়েও অসাধারণ মেধা আর অনন্য সৃজনক্ষমতার চৌকস উপস্থাপন, অর্থনীতির ক্ল্যাসিক তত্ত্বকে উল্টে দিয়ে সৃষ্ট তত্ত্বের সাথে প্রয়োগযোগ্যতার বিস্ময়...
ক.
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, মিটিং, মিছিল, শ্লোগান, টিয়ার গ্যাস, বুটের লাথি আমাকে এক লাফে কৈশোর ছাড়া করেছিলো। কৈশোরের স্বাদ পেতে পেতেই তরুণ হয়ে গেলাম। একটা মস্ত আন্দোলন বাড়িয়ে দিলো বয়স।
আর সেই হুট করে পাওয়া তারুণ্যে পেলাম রুদ্রকে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। প্রিয়তম কবিকে।
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে ম...
প্লেন থেকে নেমে এয়ার্পোরটের গেট দিয়ে বেরিয়েই দেখি বাবা দাঁড়িয়ে আছেন আমাকে রিসিভ করতে। বাবা, আমার চির পরিচিত বাবা।
বাবাকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে থেমে গেলাম একটু। চেহারায় বয়সের ছাপ এসেছে। এ ক’বছরেই বুড়িয়ে গেছেন অনেক। তা হবে নাই বা কেন। সত্তর ছাড়িয়েছেন বেশ ক’বছর হল। মাথার কাশবন আরো ফিকে হয়ে এসেছে, কিন্তু চোখ দুটো আগের মতই প্রাণময়।
-‘তোমাকে বল...
মা-বাবার প্রবল ইচ্ছের কারণেই তীব্র প্রতিবাদ করেও দেশের বাইরে পড়তে যাওয়াটা আমি প্রতিহত করতে পারিনি। কিন্তু সে পর্ব শেষে ফিরে আসার সময় শেষ মূহুর্তে আমার যে অভিজ্ঞতা হল তাই এখন আমিরাতের উড়োজাহাজে বসে আমি লিখছি।
আমাকে পড়তে পাঠানো হয় ভার্জিনিয়া টেক নামক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি আমেরিকার ভার্জিনিয়ার ব্ল্যাক্সবার্গ নামক ছোট্ট গ্রামে অবস্থিত। এখানে আমার পাঁচ বছরের যাত্রা শেষে আম...