১০.
আগে দেশে টিভি চ্যানেল ছিলো এটিএন, চ্যানেল আই আর এনটিভি। এখন ফিরে এসেছে ইটিভি, যু্ক্ত হয়েছে দেশ টিভি, বৈশাখী, বাংলা ভিশন, আর টিভি, মাই টিভি, দিগন্ত আর বন্ধ ঘোষিত চ্যানেল ওয়ান। এ ছাড়াও ইসলামিক টিভিও সম্ভবত বাংলাদেশ ভিত্তিক। পশ্চিম বাংলা থেকে ছিল ইটিভি, জিবাংলা, আর আকাশ। বাড়তি এবার দেখছি স্টার জলসা আর এস মিউজিক। এসবের বাইরে আরো হয়ত চ্যানেল থেকে থাকবে, সিলেটে এগুলোই দেখা যাচ্ছে। বিটিভি আর বিটিভি ওয়ার্ল্ডকে ধরছি না।
সংখ্যা বিচারে পশ্চিমবাংলার সাথে তুলনা করলে গত পাঁচ বছরে দেশে টিভি চ্যানেল খোলার হিড়িক গেছে। অনুষ্ঠান বিচার করলে প্রচারিত হচ্ছে নাটকের নামে সিরিয়াল আর খবর। এর বাইরে জনপ্রিয় হলো লাইভ অনুষ্ঠান যার মধ্যে আলোচনা ধরনের অনুষ্ঠানই বেশী। তবে কিছু চ্যানেলে সন্ধ্যায় আর মাঝরাতে লাইভ গানের অনুষ্ঠান হয়। ট্যালেন্ট হান্ট ধরনের অনুষ্ঠান একটু ঝিম মেরে এসেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রোগ্রাম সময় হিসেব করলে এক একটা চ্যানেল বড়জোর ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অনুষ্ঠান প্রচার করে। বাকী সময় বিভিন্ন পণ্যের আর নিজেদের অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন।
১১.
নাটক বলতে আগে এক ঘন্টার পুরো নাটক বোঝাত, এখন সেটা বোঝায় ধারাবাহিকের একটা পর্ব; স্থায়িত্ব পনের থেকে বিশ মিনিট। বিজ্ঞাপন দেখিয়ে নাটকের কলাকুশলীর তালিকা আসে, গত পর্বে যা দেখেছেন শেষ হওয়ার আগেই আবার বিজ্ঞাপন। দুটো বিজ্ঞাপন বিরতির মাঝে বড়জোর দুটো বা তিনটা দৃশ্য প্রচারিত হয়। দৈর্ঘ্যের হিসাবে বিজ্ঞাপনের সময়কাল মূল নাটকের দ্বিগুণ হবে অন্তত। এক পর্বে কাহিনী এগোয় এক আঙুল।
এসব লোকাল সার্ভিস নাটক থেকে মুক্ত করতে একটা চ্যানেল আবার চালু করেছে বিরতিহীন নাটক; রাত বারোটার দিকে বিরতি ছাড়াই সপ্তাহের পুরনো একটা নাটক দেখায়। নাটকের কাহিনীতে কলহ, গ্রাম্য ভাঁড়ামি বেশী দেখি। বহুব্রীহিতে এক ডাক্তারকে বোকা দেখিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। গ্রামের লোকদের নিয়ে মশকরা করলে কোন প্রতিবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
১২.
গানের অনুষ্ঠানগুলো সে তুলনায় বেশ উন্নতমানের। বেশীর ভাগই প্রস্তুতি নিয়ে আসেন, দুএকজন জোশে। আবিদা সুলতানা এক সময় হয়ত অনেক যশের অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তার গত দুটো অনুষ্ঠানে দেখলাম কণ্ঠ মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, গলা উপরে উঠছে না, কিন্তু কানে হাত চেপে গেয়ে যাচ্ছেন। রফিকুল আলমের সাথে একজন এলেন। গান গাইতে গিয়ে তাল ছেড়ে দিলেন প্রায় গানে, যন্ত্রীরা চোখাচোখি করছেন, রফিকুল আলম বলছেন বেশ বেশ। মাইলস ছেড়ে দেয়া শাফিন এলেন একদিন। খুবই ভাল গান করেন, কিন্তু কেন যে স্টুডিওর ভেতরেও সানগ্লাস পরে থাকেন!
১৩.
রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীতে তাকে একেবারে ভাজাপোড়া করে ফেলেছে চ্যানেলগুলো। সপ্তাহ ধরে তার ছবি দিয়ে লোগো ঝোলানো; তারপর আছে দেখবেন, আসবেন একমাত্র চ্যানেল অমুকে। এমনকি দিগন্ত টিভিও রবি ঠাকুরের নাটক গান দেখায়। সে তুলনায় নজরুল অনেকটা উপেক্ষিত। তার নাটকে সুনির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্টও দেখা গেল না। খুব বেশী কণ্ঠশিল্পী নজরুল গায় না তাও বোঝা গেল। কষ্ট লাগল খিল খিল কাজী যখন জাতীয় ছুটি দাবী করলেন: নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথের নামও জুড়ে দিলেন। নজরুলকে সম্মান করতে গেলে কি রবীন্দ্রনাথ ছোট হয়ে যান?
বড়ই বিসদৃশ দৃশ্য দেখা গেল পশ্চিমবাংলার চ্যানেলগুলোতে। রবীন্দ্রনাথের উপর মাত্র একটা চ্যানেল এক টুকরো অনুষ্ঠান করেছে; তারাই কেবল তার ছবি দিয়ে লোগো ঝুলিয়েছে কয়েক ঘণ্টা। অন্য কোন চ্যানেল দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। নজরুল উপলক্ষে কোন কিছুই দেখলাম না।
১৪.
চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে গেল। আমার বিশ্বাস ছিল শিক্ষিত লোকজন মতামত প্রকাশের আগে জেনেশুনে করেন। কিন্তু সবসময় যে তা ঘটে না তার প্রমাণ দেখা গেল চ্যানেল ওয়ান আর যমুনা বিষয়ে কথাবার্তায়।
যমুনা টিভির 'সম্প্রচার লাইসেন্স' নেয়া ছিলো অনেক আগে, সেটার মেয়াদ ফুরিয়ে যায় চালু হওয়ার আগেই। গত বছর তারা আবার সেটার আবেদন করে। 'সম্প্রচার লাইসেন্স' ছাড়াও দরকার হয় 'স্পেকট্রাম এলোকেশনের'। যমুনার সেটা ছিলো না- কখনোই না। যন্ত্রপাতি আমদানির পর তা ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য বিটিআরসি অস্থায়ী একটা স্পেকট্রাম দেয়। সেটা দিয়ে তারা নিজেদের মর্জিমতো সম্প্রচার শুরু করে। বিটিআরসি নোটিশ দেয়ার পরও বন্ধ করে না। এটা পৃথিবীর সব দেশেই বেআইনি, কোন সাদা-কালো ভেদবিবেচনা ছাড়াই। যমুনা জনগণকে মিথ্যা কথা বলে, আদালতকে বলে এমন কি রিটে হেরে যাবার পরও ব্যারিস্টার রফিকের মিথ্যা কথা বন্ধ হয় না। আদালত রিট বাতিল করে দেন, তিনি বলেন আদালত কোন সিদ্ধান্ত দেননি, 'বাতিলও করেননি, আবার রাখেননিও'। এ বিষয়টা আমাদের অনেকের বোঝার কথা, কিন্তু আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদী, তারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় যমুনা বন্ধ করে দিয়েছে এটা বললে বরং জোশ শোনা যায়।
চ্যানেল ওয়ানের কাহিনী একটু ভিন্ন। 'সম্প্রচার লাইসেন্সের' একটা শর্ত নাকি থাকে সম্প্রচার যন্ত্রপাতির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না। চ্যানেল ওয়ান অর্থ সঙ্কটে ছিলো, তারা যন্ত্রপাতি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল। ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে ব্যাংক সেসব যন্ত্রপাতি নিলামে বিক্রি করে দেয়। যে এ যন্ত্রপাতি কেনে, সে বুঝে নেয়ার আগেই বিটিআরসি বলে যন্ত্রপাতি হস্তান্তর হয়ে গেছে- তাই লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে পুরো লাইসেন্স বাতিল হয় নাকি জরিমানা হয় সেটা আমরা জানি না। কিন্তু এক্ষেত্রে বিটিআরসি নিজেদের সুবিধামতো লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছে।
চ্যানেল ওয়ান সেটা জানে, তাই আদালতে যাচ্ছে না। আর্থিক যে সঙ্কট তাদের ছিলো, তারা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যেতো, খামাখা দোষটা সরকারের কাঁধে আসলো।
১৫.
বিটিআরসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটা কেউ বলেন না। এর প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর। হাঁটুবাহিনী কেমনে ওখানে যায়? কারণ তিনি আর্মির সিগনাল কোরে কাজ করতেন। সরকার নিয়োগ দিলেও বিটিআরসির সব কাজকে সরকারের কাজ বলাটা সঠিক নয়। সরকারকে যারা ফ্যাসিবাদী বলছেন, তারা এসবের কিছুই বলছেন না।
১৬.
চ্যানেল ওয়ান বন্ধের পর আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা নিয়মনীতির অভাবের কথা বলেন। সরকার বদলালেও তাদের ব্যবসা কীভাবে টিকে থাকবে, লাভ করবে তার আলোচনা করেন। একটা প্রতিষ্ঠান কেন দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে না তা নিয়ে কোন কথা বলেন না। অনুষ্ঠানের কন্টেন্ট নিয়ে কেন কোন আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকবে না, সেটাও বলেন না। প্রত্যেকটা চ্যানেলে লাশের ছবি দেখতে দেখতে বমি আসে। প্রতিটা খবরে একটা দুটা লাশ দেখাবেই দেখাবে। দুর্ঘটনার খবরে দেখাতে হবে মানলাম, কিন্তু বেবী ইসলাম মারা গেলে তার শীর্ণ অনাবৃত দেহ দেখাতে হবে কেন! এদিক থেকে দিগন্ত দেখি ছবিগুলোকে ঘোলা করে একটু বিবেচনাবোধের পরিচয় দেয়।
১৭.
এর চেয়েও আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে কোন চ্যানেলেই শিশুদের কোন অনুষ্ঠান নেই; একেবারে জিরো। (বিটিভি বিকেল বেলায় কিছু দেখায় হয়ত।) শিশুদের নিয়ে একটা ট্যালেন্ট হান্ট হচ্ছে: সেখানে বাচ্চারা 'বড়দের' গান গাচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ আর শাওন বাহবা দিচ্ছেন। কিন্তু শিশুদের কোন অনুষ্ঠান নেই। আমাদের শিশুরা একেবারে বিনোদনহীন নির্জীব একটা কাল কাটাচ্ছে। শিশুদের জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করা কি খুব কঠিন? নাকি টাকা এত বেশী লাগে যে বিজ্ঞাপনে উঠে আসে না।
শিশুদের ব্যবহার করে, লক্ষ্য করে তো অনেক বিজ্ঞাপন দেখছি। শিশুদের কাসুন্দি খাওয়াচ্ছে স্কয়ার, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী লম্বা বানাচ্ছে হরলিক্স, আরো কত কী। টিভি অনুষ্ঠানের কন্টেন্ট রেটিং আর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা দরকার খুব। এটা টিভি চ্যানেলগুলো নিজেরাই করতে পারে নিজেদের জন্য। সরকার কিছু করতে গেলে অনিবার্যভাবে ফ্যাসিবাদী গালি খাবে।
মন্তব্য
আজকাল বিদেশি চ্যানেল গুলাতেও বিজ্ঞাপনের বাহার দেখা যায়। ঘাম বের না হওয়া, রঙ ফর্সা আর ঝলমলে চুল, দুনিয়াতে আছে কেবল এই তিনটা।
...........................
Every Picture Tells a Story
আরও আছে, বলা যাবে না
তিন পর্ব এক সাথে পড়লাম। আমিও দেশ থেকে দূরে অনেকটা সময় ধরে। পরিবর্তনগুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছি লেখা পড়ে। আপনার তো তবু ফেরা হলো, আমি নতুন করে বাঁধা পড়লাম আরও কিছু বছরের জন্য।
এ বাঁধন তো ভাল। অভিনন্দন। (নিশ্চিত ছিলাম না )
মাইলস ছেড়ে দেয়া শাফিন এলেন একদিন। খুবই ভাল গান করেন, কিন্তু কেন যে স্টুডিওর ভেতরেও সানগ্লাস পরে থাকেন!
আমারো সেই প্রশ্ন!
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
হামিন আসছিলো মাইলস নিয়ে, পুরো বোরকার মতো কী একটা পরে থাকে তবু এরা খুব ভাল গায়।
৫ তারা। এই লেখাটার প্রয়োজন ছিল।
_________________________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.
রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক
ধন্যবাদ।
বিটিসিএল ও শুনছি স্বাধীন, সরকারি না। কিন্তু একটা টেলিফোন লাইন নেয়ার জন্য যে পরিমাণ নাচালো ...আর পান চাবাতে চাবাতে ক্লায়েন্টের সাথে তো তাদের কথা বলারও সময় হয় না... সরকারি যে না, সেটা ভাবতে কষ্ট করতে হয়।
অনেকগুলা প্রতিষ্ঠানই স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত। যেমন দুদক। বিটিআরসিও হয়তো এমনই স্বাধীন
বিটিসিএলের কর্মচারী আপনার দিকে তাকায়নি মানলাম। আপনি দেশের আরো জায়গা ঘুরেন। দোকানদার আপনার দিকে তাকাবেন না, আপনার কাছে বেচবেন না- এরকম পাবেন। আমাদের অনেকের চরিত্রই সম্ভবত এরকম।
স্যার এই রকম গতানুগতিক সমালোচনা আপনার কাছ থেকে কাম্য নয়। এই লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্র গঠনমূলক কিছু পেলাম না।
কিছুদিন আগে চীনে দুধে মেলামিন মেশানোর দায়ে সে দেশের সরকার ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে না দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের দোষী কর্তাকে ফাসী দিয়েছিল কারন মনে হয় কোন হাটুবাহিনীর সদস্যকে ওইখানে সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি। একটি প্রতিষ্ঠান এমনিতেই বন্ধ হয়ে যেত সেইজন্য বিটি আরসি ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে ভাল করেছে এটি হাস্যকর যুক্তি। প্রসংগত বলা বাহুল্য বাংলাদেশেই অনেক ভাল দৃষ্টান্ত আছে একটি প্রতিষ্ঠানকে দক্ষতার সাথে রক্ষা করার। যা বর্তমান ICBBANK একটি সাক্ষাত উদাহারন। স্যার মনে হয় তখন দেশে ছিলেন না। একটু কষ্ট করে জানবেন। ওই প্রতিষ্ঠানে অনেক অনিয়ম হয়েছিল এবং দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম ছিল কিন্তু তখন ভাগ্যবশত বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর হাটু বাহিনীর ছিলেন না। আরেকটি বিষয় স্যারের জানা প্রয়োজন, রেগুলেটরি বডির কাজ শুধু লাইসেন্স দেয়া আর বাতিল করার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা করা প্রধান দায়িত্য।
খন্দকার ইনতেনাম উনায়েস আহমেদ স্যার,
আপনে একটা গঠনমূলক সমালোচনা লিখুন না কেন?
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির
আমার জানামতে লোকটি নিজে নিজের প্রাণ নিয়েছে। বাংলাদেশে এরকম নজির আছে? চীন দেশ তো চালায়ই আর্মিরা। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে ভাল করেছে এটা বলিনি। উল্টোটা বলেছি, যে এমনিই বন্ধ হতো, সরকার/বিটিআরসির হাত নোংরা করার দরকার ছিলো না। প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা রেগুলটির বডির কাজ না।
আপনি নিজে লেখা শুরু করুন।
টেলিভিশন এখন আর বিনোদনের মাধ্যম নয়, ব্যবসার মাধ্যম।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
বোকা মানুষ তাই বিনোদন খুঁজি
সময়োপযোগী একটি লেখা, লেখককে ধন্যবাদ
___________________________________
বর্ণ অনুচ্ছেদ
ধন্যবাদ।
আলমগীর ভাই তাওতো ধৈর্য ধরে এসব দেখেছেন। আমি হলে তো এক মিনিটের আগেই চ্যানেল চেঞ্জ। সবই এখন ভন্ডামির পর্যায়ে পৌছে গেছে।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল
ধন্যবাদ।
লেখা ও পর্যবেক্ষণ ভালো লেগেছে।
এই ব্যাপারে একমত নই। বিটিয়ারসির মূর্খতার দায় কিন্তু সরকারকেই নিতে হচ্ছে।
++++++++++++++
ভাষা হোক উন্মুক্ত
________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...
কারণ কাগজে-কলমে স্বাধীন হলেও সরকারের বিস্তর প্রভাব বিদ্যমান। আর সামনে যে পরিবর্তন আসছে তাতে বিটিআরসির কোন ক্ষমতাই থাকবে না। সব কিছু করবে মন্ত্রণালয়। তখন কোন সিন্ধান্তের জন্য সরাসরি সরকারকে দায়ী করা সঠিক হবে।
ঘুরিয়ে পেচিয়ে চ্যানেল ওয়ান বন্ধের দায়দায়িত্ব হাটুল এর উপর ছেড়ে দিয়ে সরকারকে সাধু বানাবার কথা একমাত্র এই লেখাতেই পেলাম। বিটিআরসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। খুব নতুন তথ্য দিয়েছেন, কেউ জানত না আগে!! তার মানে এই প্রতিষ্ঠানের স্বিদ্ধান্তের উপর সরকারি কোন হাত নাই, তাই তো? হা হা প গে...
যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই প্রশ্নের সম্মুখীন, সেখানে এইসব তথ্য নিতান্তই বালখিল্য। ৫ বছর পরে দেশে আসছেন তাই বুঝতে পারেন নাই যে দেশের মানুষ অনেক লাত্থি গুতা খেয়ে এখন আগের চাইতে বেশী বোঝে। এসব উদ্ভট যুক্তি এখন মানুষ আর খায় না।
এই সরকার ক্ষমতায় আশার পর বিচার বিভাগ এর যে কি অবস্থা করেছে সেটা মানুষ খুব ভালই জানে। দেশের কোন আওয়ামী নেতার নামেই আর মামলা নাই, সবাই সাধু হয়ে গেছে আদালতের চোখে!!! সে কি বিচার ব্যবস্থা!!!
আর একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হলে সরকারের ইচ্ছাটাই যথেষ্ঠ, এতো আইন খুজতে হয় না। বি,এন,পি'র সময় ২১শে টিভিও তো আইন দিয়েই বন্ধ করেছিল।
চীনের ব্যাপারে একজন এর মন্তব্যে দেখলাম কি যেন লিখেছেন কিছু না জেনেই। একজন আত্মহত্যা করেছেন টাইপের কিছু একটা। এখানে দেখুন। আর চীন আর্মিরা চালায় এরকম মন্তব্য করার আগে একটু পড়াশোনা করবেন, আর তাদের সাথে বাংলাদেশের হাটুল এর তুলনা করার আগে ১০০ বার চিন্তা করবেন। আপনার জ্ঞান এর বহর দেখে অবাক হচ্ছি। আপনার ঐ চীনা হাটুলদের বদৌলতে চীন এখন পৃথিবীর এক বড় পরাশক্তি।
আমি জানিনা আপনি রাজনীতি তে যোগ দিচ্ছেন কিনা, যদি দিয়ে থাকেন, আমার মন্তব্য আমি ফেরত নিলাম (কারন রাজনীতিবিদদের সাথে কথা বলে তো লাভ নাই, ওরা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না।) আর যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে বলব, আপনার মতো মেধাবী (এবং জনপ্রিয়। আপনি আমারও প্রিয়) শিক্ষকরা যদি রাজনৈতিক পরিচয় একটু গোপন রাখেন, তাহলে ছাত্ররা অনেক উপকৃত হয়। এদেশে এমন কোন সরকার নাই যার সাফাই গাইতে হবে। ভাল থাকবেন।
আমি ম্যাটেল টয়ের কথা ভেবেছিলাম, এখন দেখছি দুধে মেলানিনের ঘটনা। যাই হোক আপনিও ভালো থাকুন।
বাংলাদেশের সবগুলো চ্যানেল ফ্রি চ্যানেল। তাই বিজ্ঞাপনের দৌরাত্ম্য আমাদেরকে হজম করতে হবে। কারণ, টিভি চ্যানেলগুলো চলে বিজ্ঞাপনের টাকাতেই।
সহমত।
আমার মন্তব্য কেন ব্লক করা হল জানতে পারি?
ভালো লাগলো
ধন্যবাদ।
পর্ব ২ আর ৩ একসাথে পড়লাম। পরের পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।
ইমেল করে দিমুনে
আমাকে CC দিয়েন
তৃতীয় চোখে দেখা যেন লেখাটি। ভালো লেগেছে পর্যবেক্ষণ।
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
ধন্যবাদ।
হা হা হা ভাল বলেছেন।
সিরিজ পড়ে যাচ্ছি...
পড়ে যান
নতুন মন্তব্য করুন