এইচআইভি নামের ভাইরাসটি এইডস রোগের জন্য দায়ী। এইডস হলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে, আপাত নীরিহ রোগগুলোই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এইডস কথাটার লম্বা মানেও সেই কথাই বলে। সহজ বাংলায় বললে, এইডস অর্থ "রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ"! রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে, কারণ রোগী নানারকম সহজ-কঠিন রোগে আক্রান্ত! রোগ সারছে না! শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে বলেই সারছে না!
ডুয়েসবার্গ কী বোমা ফাটিয়েছেন সেটা আগের লেখাতেই বলেছি। তিনি বলতে চেয়েছেন, এইডস নিয়ে তোমরা অনর্থক লাফাচ্ছ! লাফালাফি বন্ধ করা দরকার! কারণ,
এইডস মহামারী বিষয়ে ডুয়েসবার্গের বিরোধীরা দুইভাগে বিভক্ত। একভাগ, যাঁরা কতটা বৈজ্ঞানিক কথা বলেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে! এঁরা বিজ্ঞানের চাইতে ধর্মে বেশী মানানসই! দূর দূর! বুড়ো পাগল! যত্তসব! এতদিন পরে এসেছে ঝামেলা করতে! ওর ওসব খোঁড়া যুক্তি! ওর বংশ ভালো না! ...ইত্যাদি কথা বলে এঁরা ডুয়েসবার্গের বিরোধীতা করেন। সঙ্গত কারণেই এই ধরনের বক্তব্য অন্তত বিজ্ঞানে পাত্তা দেয়া হয়না! ডুয়েসবার্গকেও আমি কোথাও দেখিনি এই শ্রেনীকে পাত্তা দিতে। বরং তিনি বিরোধীদের দ্বিতীয় দল, যাঁরা বৈজ্ঞানিক যুক্ত দিয়েছেন, তাঁদের যুক্তিগুলি ধরে ধরে নাকচ করবার চেষ্টা করেছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই! এই লেখাটিতে আমি ডুয়েসবার্গের নিজের যুক্তি-প্রমাণ অংশগুলো সংক্ষেপে বলব তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র থেকে। যেখানে যেখানে প্রয়োজন মনে হবে, সেই অংশগুলো খানিকটা ব্যাখ্যা করারও চেষ্টা করব।
মূল অংশে যাওয়ার আগে সংক্রমণ বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারনা নেই এরকম পাঠকের জন্য কিছু তথ্য দেয়া দরকার। এই লেখাটিতে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়, খুব সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করি।
- প্যাসেঞ্জার ভাইরাস হচ্ছে সেইসব ভাইরাস যেসব ভাইরাস সংক্রমণ ঘটালেও রোগ সৃষ্টি করে না! প্যাসেঞ্জার ভাইরাসে সংক্রামিত মানুষ সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করে! এই ভাইরাসে আত্রান্ত মানুষের অন্যসব রোগ হতে পারে ঠিক কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে এই ভাইরাসের সম্পর্ক থাকতে হবে তেমন কোনো কথা নেই!
- এইডসের জন্য দায়ী ভাইরাসটি রেট্রোভাইরাস পরিবারের অন্তর্ভূক্ত। রেট্রোভাইরাস হচ্ছে তারা যাদের ডিএনএ নেই, আছে আরএনএ। (সংযোজন: এরাই একমাত্র আরএনএ ভাইরাস নয়। রেট্রোভাইরাস সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা এই লেখাটির উদ্দেশ্য নয় বলে সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলাম)।
- ভাইরাস কোষকে সংক্রামিত করে তার ডিএনএ দিয়ে। সংক্রমণকারী ভাইরাসের ডিএনএ গিয়ে কোষের ডিএনএ তে জুড়ে যায়! তারপর ওই ডিএনএর বদোলতেই কোষের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভাইরাসের কাছে! কোষের ডিএনএ তে ভাইরাসের ডিএনএ থাকা মানেই তাই ওই কোষটি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়েছে! তাই কোষে ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কীনা তা পরীক্ষার একটি পদ্ধতি হচ্ছে কোষের ডিএনএ'তে ভাইরাসের ডিএনএ আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা!
- ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার আরেকটি উপায় হলো অ্যন্টিবডি পরীক্ষা! একটা ক্ষতিকর কিছু শরীরে ঢুকলেই শরীরের বিশেষ কোষেরা সংকেত পেয়ে সেটার জন্য অ্যান্টিবডি বানাতে থাকে। (পড়তে পারেন: এই লেখাটি) । অ্যান্টিবডির ধর্ম হচ্ছে তা খুব রক্ষণশীল। তারমানে, কমলালেবুর জন্য কোনো অ্যান্টিবডি থাকলে তা ওই কমলালেবুতেই জোড়া লাগবে। আম-আপেলে তার রুচি হবে না। কারো শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি আছে মানেই সে এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত। সংক্রমণ না ঘটে থাকলে তার শরীরে ওই অ্যান্টিবডি স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে না। ব্যাপারটা এমন, গ্রামে পুলিশ আছে মানে চোরও এসেছে! চোর না থাকলে পুলিশ আসবে কেন!
- অনেক বছর আগে, যখন পাপের ফলে রোগ হত, সেই সময়ে ফরাসী মহামানব বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগের জীবাণু তত্ত্ব (Germ Theory of Diseases) দেন। এই তত্ত্ব বলে, জীবাণুর আক্রমণে রোগ হতে পারে। রোগীর দেহ থেকে জীবাণু সুস্থ লোকের দেহে সংক্রামিত হয়ে তাকেও অসুস্থ করে ফেলতে পারে। এই তত্ত্বটির প্রমাণ দেন আরেক মহামানব, জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ। রবার্ট কখ জীবাণুর সংক্রমণে যে রোগ হতে পারে সেই প্রমাণ তো দেনই সঙ্গে সংক্রামক জীবাণু এবং রোগ বিষয়ে একটি প্রস্তাবণা দেন। এই প্রস্তাবণা কখস পস্টুলেট নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবণা বলে, রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু রোগীর দেহ থেকে নিয়ে পরীক্ষাগারে কালচার (culture:চাষ) করা যায়। কালচার করা জীবাণু সুস্থ প্রাণির দেহে প্রবেশ করালে তা ওই একই রোগ সৃষ্টি করবে। ওই নতুন রোগীর শরীর থেকেও ওই একই জীবাণু কালচার করা যাবে!
মোদ্দা কথাটা হচ্ছে, কুদ্দুসের ফোঁড়া হয়ে থাকলে তার শরীরে ফোঁড়ার জীবাণু পাওয়া যাবে। কুদ্দুসের ফোঁড়ার জীবাণু গণেশের সুস্থ শরীরে প্রবেশ করালে গণেশেরও ফোঁড়া হবে।
- কোনো জীবাণুর জন্য রোগ হচ্ছে সেটা প্রমাণ করার জন্য কখস পস্টুলেট মেনে সেটার প্রমাণ দেয়া জরুরী। বলে রাখা ভালো, প্রাচীন কখস পস্টুলেট যথার্থ নয়। মূল ব্যপারটি ঠিক থাকলেও ব্যতিক্রম রয়েছে। ১৯৮৮ সালে স্ট্যানলি ফলকও মলিক্যুলার কখস পস্টুলেট প্রস্তাব করেন। সেটিই এখন পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য।
এবার ডুয়েসবার্গের গবেষণাপত্রটি নিয়ে কথা বলি।
এইডস কি মহামারী?
ডুয়েসবার্গ শুরু করেছেন ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত গালো'র একটি গবেষণাপত্র এবং সেই বছরই নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করে। গালো'র গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছিল, যেহেতু তাদের পরীক্ষিত বেশীরভাগ এইডস এবং 'সম্ভাব্য এইডস' রোগীর শরীরেই এইচটিএলভি-৩ (HTLV-III: Human T-lymphotropic Retrovirus type: III) ভাইরাসটি পাওয়া যাচ্ছে সুতরাং এই ভাইরাসটিই এইডস রোগের জন্য দায়ী সম্ভাব্য ভাইরাস। একই সময়ে ফরাসী ভাইরাসবিদ মন্তাগনিয়ের এলএভি ( LAV: lymphadenopathy-associated virus) নামক একটি ভাইরাস এইডসের জন্য দায়ী বলে দাবী করেন। নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা হয়, গালো'র এইচটিএলভি-৩ ভাইরাস এবং মন্তাগনিয়ের-এর এলএভি ভাইরাস একই ভাইরাস হতে পারে বলে গবেষকরা ধারণা করেন! সেটা না হলে ব্যপারটা বেশ কেঁচে যায়!
পরবর্তীতে এইচটিএলভি-৩ এবং এলএভি ভাইরাস কে নাম দেয়া হয় এইচআইভি। যেটি এখন সব মহলে পরিচিত। এই নাম দেয়ার প্রকৃয়াটি কেমন ছিল এবং এই দুটি ভাইরাস আদতেই একশোভাগ একই ছিল কিনা সেটি আমার জানা নেই! ১৯৯৮ সালে মন্তাগনিয়ের এইচআইভি ভাইরাস আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরুপ চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পদক পান। গালো কেন এই পুরস্কারের অংশীদার হননি সেটিও একটি রহস্য!
ডুয়েসবার্গ শুরুতেই বলেন, গালো'র যে গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে এইডসের চিকিৎসার জন্য এইচআইভির উপর বিস্তীর্ণ গবেষণা শুরু হয়! এবং তখনই ধারণা করা হয় এইডস আমেরিকাতে এবং বিশেষত আফ্রিকাতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে। অথচ সেরকম দেখা যায়নি। সংক্রামক রোগের নিয়মটি হচ্ছে, সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং যতদিন না সম্ভাব্য সকলেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে অথবা তাদের মধ্যে এই রোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে ততদিন এই রোগটি ক্রমবর্ধমান (exponentially) হারে বাড়তেই থাকবে।
হিসেবটা এরকম, একটি সংক্রামক ব্যাধি (উদাহরণ স্বরূপ) ১ > ৫ > ২৫ > ১২৫ > ৬২৫ > ৩১২৫ > ... এভাবে বাড়তেই থাকবে যতক্ষণ না সবাই অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে অথবা তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ রোগগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে পরে ধীরে ধীরে কমে যায় এবং শেষে সংক্রমণের হার একটি সাম্যবস্থায় চলে আসে! [উদাহরণ স্বরূপ এরকম: ১ > ৫ > ২৫ > ১২৫ > ৬২৫ > ৩১২৫ > ২৯৮৭ > ১৯৮৭ > ৯৮৭ > ৮৭৬ > ৪৭৬ > ২৬৫ > ১০০ > ৫০ > ১০ > ১০ > ১০ ....]
ডুয়েসবার্গ বলেন, আমেরিকায় এইডস ১৯৮০ সাল থেকেই, গবেষকদের ধারনানুযায়ী ক্রমবর্ধিত হারে (exponentially) সংক্রামিত হয়নি বরং সংক্রমণের একটি সাম্যবস্থা বজায় রয়েছে! আমেরিকায় ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত (ক্রমবর্ধমান হারে/exponentially নয়) ধীরে ধীরে (Gradually) এইডস সংক্রামিত হয় এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে এই সংখ্যা কমতে শুরু করে এবং ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কমতেই থাকে! ১৯৯৭'র পরে যখন এইডসের সংজ্ঞা মোটামুটি সর্বজনগ্রাহ্য হয়েছে এবং এইডস পরীক্ষারও একটি সাধারণ উপায় পাওয়া গেছেন তখন থেকে এইডস সংক্রমণের হারও দেখা গেছে স্থিতিশীল!
এইডস সংক্রমনের হারের উপর ১৯৮৮ সালে করা অ্যান্ডারসনের গাণিতিক হিসেব বলে যে, এই রোগটি উন্নয়নশীল বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ইতিবাচক সংখ্যা থেকে নেতিবাচক করে ফেলতে পারে মাত্র কয়েক দশকেই! ব্যপারটা এমন, কোনো দেশের জনসংখ্যা যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পেত, এইডসের সংক্রমণে তা আর বৃদ্ধি না পেয়ে বরং প্রতিবছর কমতে থাকবে! ২০০০ সালে ৫ হাজারেরও বেশী গবেষকের স্বাক্ষর করা ডারবান ঘোষণানুযায়ী, পরবর্তী ৫ বছরে প্রায় আড়াইকোটি আফ্রিকানের মৃত্যু হওয়ার কথা এইডসের কারণে! কিন্তু তারপরও, যদিও পৃথিবীতে সেইসময়ে অন্তত ৩ কোটি লোক এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রামিত ছিল, এইডসের কোনো মহামারী পৃথিবীর কোথাও এখনো দেখা যায়নি!
আফ্রিকাতে এইডস জনিত মৃত্যুর যে বিরাট সংখ্যা দাবী করা হয়, দেখা যায় সেই দাবী অগ্রহ্য করে আফ্রিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থিতিশীল! তাতে কোনো পতন নেই! এইডস জনিত মৃত্যুর যে সংখ্যা দাবী করা হয়, সেটা যাচাই করার জন্য ডুয়েসবার্গ তিনটি উৎসের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন:
১। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউএসএইডস: ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এইচআইভি এইডস সনাক্ত হওয়া বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই! খালি লেখ এঁকে রাখা হয়েছে (আশ্চর্যজনক?)! এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ২০০৮ সালে হার্ভার্ডের গবেষক Chigwedere (সঠিক উচ্চারণ বুঝতে পারছি না) দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস মহামারীতে ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৮ লক্ষ লোকের মুত্যু হয়েছে বলে দাবী করেন!
২। দক্ষণ আফ্রিকার এইডস জনিত মৃত্যুর পরিসংখ্যান: ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ১০ হাজার। যা Chigwedere'র দাবী করা সংখ্যার মাত্র ৩০ ভাগের একভাগ! এমনকি এই যে ১০ হাজার মৃত্যুর হিসাব সেটাও এইডস-এর কারণে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায় না যেহেতু, যে ২৭ টি রোগ'কে এইডসের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় সেগুলোর কিছু কিছু দক্ষিন আফ্রিকায় মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রধান কারণ! এই রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, যক্ষা, নিউমোনিয়া এবং পাকস্থলীর সংক্রামক রোগ! এই জন্যে সাধারণ রোগগুলোকেই হয়তো অনেকক্ষেত্রে এইডস বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে শুধুমাত্র এই কারণে যে তাদের শরীরে এইচআইভি'র অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে!
৩। দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন/অস্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর শুমারী ২০০০ থেকে ২০০৫: দক্ষিণ আফ্রিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এই সময়ে উল্লেখযোগ্য (৩০ লক্ষ)! জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার অন্যান্য সময়ের তুলনায় স্বাভাবিক! এই সময়ে এইডস জনিত যে ১৮ লক্ষ মৃত্যুর হিসাব, সেটি বিবেচনা করলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হওয়ার কথা ছিল!
পরিসংখ্যান বলছে, উগাণ্ডা এইডস মহামারীর মুল ক্ষেত্র! যদিও উগাণ্ডার জনসংখ্যা ১৯৮০ সালের পরে বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ! এই উগাণ্ডাতেই এইচআইভি আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ১৯৮৯ সালে ৫.৮ ভাগ থেকে বেড়ে ১৯৯০ সালে হয় ১৩ ভাগ! যেটি আবার কমে ৫ ভাগে দাঁড়ায় ২০০৬ এ! আশ্চর্যজনক ভাবে এই ক্ষেত্রেও এইডস সনাক্তকরণের পরিসংখ্যান পাতাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েব সাইটে ফাঁকা রয়েছে!
সাব-সাহারা আফ্রিকাতে ১৯৮০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে! যদিও এইডসপক্ষীয় গবেষণাগুলো বলছে, এই দেশগুলোতে এইডস মহামারী হিসেবে দেখা দেয়ার কথা! ডুয়েসবার্গ দাবী করেন, যে মহামারীর কথা বলা হয়েছিল এবং যে ব্যপক মৃত্যুর কথা বলা হয় সেটি কখনোই আফ্রিকাতে অথবা বিশ্বের অন্য কোথাও ঘটেনি, ঘটছে না!
এইচআইভি কি তাহলে একটি প্যাসেঞ্জার ভাইরাস?
ডুয়েসবার্গ এইচআইভি ভাইরাসকে একটি প্যাসেঞ্জার ভাইরাস হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব রেখেছেন তার গবেষণাপত্রে। তাঁর যুক্তিগুলো এরকম:
ডুয়েসবার্গের এই হিসেবে এইচআইভি ভাইরাস এইডস রোগটির জন্য দায়ী সেটা প্রমাণিত বলা যায় না! ব্যপারটা অনেকটা এমন যে, লাল জামা পরলেই যে মানুষ গাড়ি চাপা পড়ে তা নয়! লাল জামা পরলেও মানুষ গাড়ি চাপা পড়তে পারে, না পরলেও পারে! তবে কেন মিছেমিছি লাল জামাকে গাড়িচাপা পড়ার কারণ বলা হবে!
ডুয়েসবার্গ বলছেন, এইডসের বর্তমান চিকিৎসা (ওষুধ) ক্ষতিকর। কারণ:
ডুয়েসবার্গ বলেন,
আমরা স্বীকার করছি যে, সাময়িকভাবে এইচআইভি বিরোধী ওষুধগুলো ক্যান্সার এবং কিছু আপাত নিরীহ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু এই ওষুধগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর এবং এগুলো এইডসের লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত এবং চিহ্নিত নয় এমন রোগের জন্য দায়ী! সুতরাং এইচআইভি সংক্রামিত ব্যক্তিদের যাদের মধ্যে এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি তাদের উপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে ভেবে দেখা দরকার!
আমাদের পরীক্ষণে দেখা যায়, কথিত এইচআইভি-এইডস মহামারীর কোনো অস্তিত্ব ছিলনা, নেই। এইচআইভি বিরোধী ওষুধগুলোর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে, আমরা এইচআইভি ভাইরাসের সঙ্গে এইডস-এর সম্পর্কের ব্যাপারটি পুনরায় বিবেচনা করার দাবী করি। এবং এইচআইভি সংক্রামিত ব্যক্তিদের উপর এই ওষুধ ব্যবহারের ব্যাপারটিও বিবেচনা করতে বলি। আমরা মনে করি, যতক্ষণ না স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, এইচআইভি ভাইরাসটির জন্যে এইডসের মতো প্রাণঘাতি কোনো রোগ হতে পারে ততক্ষণ, এইচআইভি বিরোধী ওষুধের ব্যবহার জীবন নয় বরং মানুষের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করবে!
এইচআইভি-এইডস বিরোধী ডুয়েসবার্গের এই গবেষণাপত্রটি সাম্প্রতিক। এর প্রভাব কতটুকু সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এইচআইভি এইডস সম্পর্ক অস্বীকারকারীদের প্রভাব সবচে বেশি দেখা গিয়েছিল ২০০০ সালে। সেই প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিকদের ফেরাতে সেই সময়ে এইডসের পক্ষের লোকেরা ৫ হাজারেরও বেশি গবেষক/স্কলারের স্বাক্ষর নিয়ে একটি প্রস্তাবণা তৈরি করেন। এটি ডারবান ঘোষনা হিসেবে পরিচিত। এখানে এইচআইভি এবং এইডসের সম্পর্ক কীভাবে প্রমাণ করা হয়েছে তা বলা হয়। বলা হয় এইডসের চিকিৎসার সুফলও। তীব্রভাবে প্রতিবাদ করা হয় যারা এইচআইভি এইডসের সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন তাদের বক্তব্যের!
----------------------------------------------------------------------------------------------------
এইডস রোগটির জন্য যে এইচআইভি ভাইরাস দায়ী তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত! এই প্রমাণ বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেই করা হয়েছে। এই প্রমানের পেছনে যে তথ্য সেগুলো অন্যান্য ভাইরাস ঘটিত রোগ যেমন পোলিও, বসন্ত, মিজলস-এর ক্ষেত্রেও একই রকম। প্রমাণগুলো হলো:
----------------------------------------------------------------------------------------------------
দুইপক্ষের বক্তব্য যদি আমি মেলাই তাহলে এরকম দাঁড়ায়:
এইডস পক্ষ: এইচআইভি থেকেই এইডস হয় তা প্রমাণিত।
বিপক্ষ: ওই প্রমাণ শক্ত না। এখন দেখা যাচ্ছে, এইচআইভি একটা নীরিহ ভাইরাস!
- এইডস মহামারী। লাখ লাখ লোক মেরে ফেলেছে। আরো ফেলবে।
- কই মারলো! তথ্য কোথায়! এতো লোক তো এমনিতেই মরে! জনসংখ্যা বৃদ্ধি তো সুস্থির!
- এইডসের চিকিৎসা দরকার। নাহলে লোক মরবে।
- মোটেই না। ওই ওষুধ বিষাক্ত। ওষুধে লোক মরছে আর তুমি দোষ দিচ্ছ ভাইরাসের! আর তাছাড়া তোমার চিকিৎসা তো এইডসের নয়, এইচআইভি'র! আগে দেখাও যে এটা এইডসের জন্য দায়ী!
- যেসব তথ্য আছে তা কি সব মিথ্যা?! কখ পস্টুলেট মেনে প্রমাণ পাওয়া গেছে!
- আর আমি যে তথ্য দিলাম সেগুলো?
- ফোঁস ফোঁস...
- গ্ররররর...
আমি আসলে অপেক্ষা করছি ডুয়েসবার্গের সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রের যুক্তিগুলোকে তার বিরোধীরা কীভাবে খণ্ডন করে সেটা দেখার জন্য! তারপর হয়ত আরেকটা পোস্ট দেব! নাও দিতে পারি! আমার ইচ্ছা!
মন্তব্য
লেখা পড়ে তো দ্বিধায় পড়ে গেলাম! তবে এইচআইভি/এইডস নিয়ে এনজিও মহলে প্রজেক্টের বিপ্লব বয়ে যাচ্ছে। ডুয়েসবার্গের কথা সত্য হলে তাদের জন্য সেটা হবে অশনি সংকেত, অন্তত এ কারণে হলেও ডুয়েসবার্গের কথা সত্য হবে না!
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
প্রজেক্ট কেবল এনজিও মহলে না কিন্তু! সব মহলেই!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
খাইছে । এইবার.........
ডাকঘর | ছবিঘর
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
"১৯৯৮ সালে মন্তাগনিয়ের এইচআইভি ভাইরাস আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরুপ চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পদক পান। গালো কেন এই পুরস্কারের অংশীদার হননি সেটিও একটি রহস্য!"
- গ্যালোর আবিষ্কার ১৯৮৪ সালে, মন্তগানিয়ের ১৯৮৩ সালে।
"সংক্রামক রোগের নিয়মটি হচ্ছে, সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং যতদিন না সম্ভাব্য সকলেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে অথবা তাদের মধ্যে এই রোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে ততদিন এই রোগটি ক্রমবর্ধমান (exponentially) হারে বাড়তেই থাকবে।"
- এখানে একটা পয়েন্ট মনে করিয়ে দিচ্ছি। সংক্রামক রোগ ততদিনই ছড়ায় যতদিন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। যেমন টিবির বিরুদ্ধে মানুষের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ তৈরী হয়নি বা এর ফলে ক্রমবর্ধমান হারে মানুষ আক্রান্ত হয় না। কারণ মানুষ এখন রোগ সম্পর্কে জানে ও রোগীদের ওষুধ দেওয়া যায়। এর মানে এই নয় যে টিবি সংক্রামক নয়। ১৫৫৬-১৫৬০ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ইউরোপের ২০% জনগণ মারা গিয়েছিল - এখন এরকম ঘটা দুষ্কর, কারণটা বিজ্ঞানের ও মিডিয়ার অগ্রগতি। বিস্তারে পড়ে নিন - http://en.wikipedia.org/wiki/Infectious_disease ।
"মোদ্দা কথাটা হচ্ছে, কুদ্দুসের ফোঁড়া হয়ে থাকলে তার শরীরে ফোঁড়ার জীবাণু পাওয়া যাবে। কুদ্দুসের ফোঁড়ার জীবাণু গণেশের সুস্থ শরীরে প্রবেশ করালে গণেশেরও ফোঁড়া হবে।"
- সরলীকরণের জন্য এরকম হয়েছে কিনা জানি না, তাও মনে করিয়ে দিচ্ছি। প্রথমটা সত্যি হলেও দ্বিতীয়টা সত্যি নাও হতে পারে। পাস্তুরের তত্ত্ব ভাইরাসের ক্ষেত্রে খাটে না, কারণ ভাইরাস হোস্ট সেল ছাড়া জীবিত থাকে না।
"ভাইরাস কোষকে সংক্রামিত করে তার ডিএনএ দিয়ে। " - এটা আর-এন-এ ভাইরাসের জন্য সত্যি নয়। এদের ক্ষেত্রে আর-এন-এর টুকরো গিয়ে কোষের নিউক্লিয়াসে বসে যায়। কোষ নির্বিকারে তার কপি তৈরী করতে থাকে।
http://en.wikipedia.org/wiki/File:HBV_replication.png
এরপরে আরও লিখি।
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
এই তথ্যটি জানা ছিল না। আমার জানা ছিল দুজনই একই সময়ে দুটি ভাইরাসকে এইডসের জন্য দায়ী বলে দাবী করেন! নোবেল পাওয়া নিয়ে মন্তাগনিয়ের অবশ্য নিজেই বলেছেন, গালো'র জন্য তিনি দুঃখিত! গালোর অনেক অবদান ছিলো এই ব্যাপারে!
যে অংশটি কোট করেছেন সেটা আমার বক্তব্য নয়। ডুয়েসবার্গের গবেষণাপত্রের খানিকটা অনুবাদ বলতে পারেন। মূল পেপারটি পড়লেই পেয়ে যাবেন। ইনট্রো: ২য় প্যারা। এখানে রেফারেন্সও উল্লেখ করেছেন তিনি: Fenner et al., 1974; Freeman, 1979; Mims and White, 1984; Duesberg, 1991, 1994, 1996. আপনার কথাটি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সত্যি নয়। বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হলে সংক্রামক রোগের হিসেব অন্যরকম হবে। যে কথাটি বলা হয়েছে সেটি নতুন সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সত্যি! সহজ সংজ্ঞাটি পাবেন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়। বোঝাতে পেরেছি কিনা বুঝতে পারছি না!
কখ পস্টুলেটের সমস্যা একটি নয় অনেকগুলো। ভাইরাস নয়, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য অণুজীবের ক্ষেত্রেও এটার ব্যতিক্রম হয়! আমি কিন্তু লেখায় উল্লেখ করে দিয়েছি সেটি। বর্তমানে গ্রহনযোগ্য মলিক্যুলার কখস পস্টুলেটের কথাও উল্লেখ করেছি। আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে সম্ভবত।
যে অংশটি কোট করেছেন সেটি আমি কখস পস্টুলেট এক কথায় পাঠককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলেছি।
এই লেখাতে আসলে একটা বড় অংশ ছিল কীভাবে রেট্রোভাইরাস আরএনএ থেকে উল্টো নিয়মে ডিএনএ বানায় এবং তারপর কী হয় এসব! কিন্তু এটা এতো বড় হয়েছে যে অনেক হাবিজাবি কথা বাদ দিয়েছি পরে! সরলীকৃত এই অংশটা চোখে পড়েনি। আর এমনিতেও আমি ভাইরাসের ব্যাপারে কিছুই জানিনা। বলে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। বদলে নেব।
বুঝতে পারিনি!
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। যত্ন করে কেউ পড়লেই লিখতে ভালো লাগে
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
"যে অংশটি কোট করেছেন সেটা আমার বক্তব্য নয়"
- আপনার গোটা লেখাটাই আপনার নয়, ডুয়েসবার্গের লেখা। আমি যাই কমেন্ট করি - তা আপনার বা ডুয়েসবার্গের সংক্রান্ত হতে পারে। আলাদা করে আমি দেখছি না ...
"বুঝতে পারিনি! " -
- আমি আরেকটা কমেন্ট দেব এই নিয়ে, সেটাই বলছিলাম।
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
নিশ্চয়ই। আমি বলি অথবা ডুয়েসবার্গ, মন্তব্য করতে তো বাধা নেই।
আপনার আরো মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
নতুন তথ্য জানলাম। ডুয়েসবার্গের কথায়ও যুক্তি আছে। দেখা যাক তার বিরুদ্ধ যুক্তি কী বলে।
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
একবার পড়লাম। আবার পড়তে হবে
বিষয়টি সহজভাবে 'বোধগম্য' করে উপস্থাপন করার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
“Peace comes from within. Do not seek it without.” - Gautama Buddha
আপনাকেও ধন্যবাদ।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গঃ
এইডসের ভ্যাকসিনেশনের সম্বন্ধে গত এক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন প্রায়শই নানা চমকপ্রদ খবর শুনি। আসলে, যারা বর্তমানে গবেষণা করছেন, তাদের কাজের অগ্রগতি, কে কতদূর এগিয়েছে; এসব বিষয়ে কিছু জানাতে পারবেন? সম্ভব হলে একটা পোস্ট দিয়ে।
ধন্যবাদ। চেষ্টা করব লিখতে।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
সকালে উঠেই হুরপার করে আপনার লেখাটা পড়লাম, অপেক্ষায় ছিলাম।
এখন একটু বলি।
ডুয়েসবার্গের পুরো অ্যানালাইসিসটাইকি জাস্ট স্ট্যাটিস্টিক্যাল? এমনকি এইডস নিয়ে আগের রিসার্চগুলাও? মানে আসলেই কেউ কি নিশ্চিত জানে না যে এইচআিভির কারণেই এইডস হচ্ছে কিনা? বা যেটাকে এইডস বলা হচ্ছে সেটা আসলেই 'কোনকিছু' কিনা? ব্যাপারটা কি পুরাই জাস্ট পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করার ব্যাপার? এর পেছনে সায়েন্স নেই? এই ব্যাপারটাতেই খটকা লাগছে আমার। এত বড় একটা ব্যাপার, অথচ সেগুলা শুধু পরিসঙ্খ্যানের ওপর ভিত্তি করে? সব রোগের ব্যাপারেই কি ব্যাপারগুলো এরকম?
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
একটা ব্যাপার স্পষ্ট হওয়া দরকার, পরিসংখ্যান শুদ্ধ বিজ্ঞান। জৈবপরিসংখ্যান (biostatistics) নামে পরিসংখ্যানের একটি শাখাই রয়েছে যেটি দিয়ে জীববিজ্ঞানের অনেক তত্ত্ব প্রমাণ করা হয়। সুতরাং পরিসংখ্যান বলে কোনো প্রমাণকে হালকাভাবে দেখার উপায় নেই।
কিন্তু আপনি কী জানতে চাইছেন তা বুঝতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে। বিজ্ঞানের গ্রুপেও এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। একবারে জবাব দেয়ার চেষ্টা করি।
"এইডস মহামারী নয়" এই প্রসঙ্গে ডুয়েসবার্গের প্রমাণ পরিসংখ্যানভিত্তিক। একটি পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণের সহজ উপায়ও তো পরিসংখ্যানই, তাইনা?
এইচআইভি ভাইরাসের কারণেই যে এইডস হচ্ছে সেটি যে প্রমাণগুলোর ভিত্তিতে দাবী করা হয় তা ডারবান ঘোষণাতে বলা হয়েছে। পয়েন্টগুলো আবার লিখলাম না, মূল লেখাতে রয়েছে। এই প্রমাণগুলো বৈজ্ঞানিক এবং এইচআইভি-এইডসের সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু ডুয়েসবার্গ এসব প্রমাণের কিছু খাদ তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে নিজস্ব যুক্তিও বলছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি ডারবান ঘোষণায় উল্লেখ করা গবেষণাপত্রগুলো পড়ার চেষ্টা করেছি (সবকটি পাইনি!)। কিছু ক্ষেত্রে, প্রশ্ন জেগেছে (সন্দেহ করার যোগ্যতা নেই!), ডুয়েসবার্গের কথাগুলোই ঠিক মনে হয়েছে। আবার অনেকক্ষেত্রেই কোনো সন্দেহ জাগেনি। তবে সবমিলিয়ে লেখায় যা বলেছি, তার বাইরে এই প্রসঙ্গে আমি আর বেশি কিছু জানিনা আসলে। সুতরাং এইডসকে কীভাবে দেখা হবে সেই বিষয়ে আপনার মতো আমিও কৌতুহলী!
এরকম প্রমাণে এতো বেশি ভিন্ন ভিন্ন প্রভাবক কাজ করে যে প্রমাণের জন্য পরিসংখ্যানের উপর নির্ভরশীল হতেই হয়। প্রাথমিক প্রমাণটি অবশ্য পরীক্ষালব্ধ। উদাহরণ দেই,
প্রথম যখন এইডস আক্রান্ত রোগীর শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেল, তখন পরীক্ষা নির্ভর প্রমাণের উপায় হতে পারত (উদাহরণ স্বরূপ) ১০০ জন একইরমের সুস্থ মানুষকে একটা নির্দিষ্ট পরিবেশে রেখে তাদের ৫০ জনকে এইচআইভি দ্বারা সংক্রামিত করা। সংক্রামিত ৫০ জনেরই যদি এইডস হয় আর বাকি ৫০ জনের না হয় তাহলে বলতে পারেন, এইচআইভি ভাইরাসই এইডসের জন্য দায়ী। কখস পস্টুলেট মেনে প্রমাণ দিতে গেলে এভাবে করতে হবে! কিন্তু এই পরীক্ষাটি করা সম্ভব নয়।
সেই জন্য, যে তথ্যগুলো পাওয়া যায় সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই প্রমাণ করতে হয়! (তারমানে অবশ্য এই নয় যে এই প্রমাণ দূর্বল)। জীবাণুর সংক্রমণ ঘটিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয় দেখেই যাচাই করা হয় যাদের এই রোগ আছে তারা সবাই বিশেষ জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত কিনা! এইখানে পরিসংখ্যান চলে আসে! জীবাণুর সংক্রমণ যাচাই করতে পরীক্ষা করতে হয়, কিন্তু সবাই সংক্রামিত কিনা সেটা যাচাই করার উপায় পরিসংখ্যান!
যে কোনো জীবাণুর ক্ষেত্রেই সংক্রামিত সবাই অসুস্থ নাও হতে পারে। মানুষের শারিরীক অবস্থা, পরিবেশ, মিলিয়ে হাজারো প্রভাবকের জন্য এরকম হতে পারে।
একটি নতুন ওষুধ যেমন সবার রোগ সারিয়ে তুলবে না। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সারিয়ে তুললেই সেই ওষুধটিকে কার্যকর বলা হবে। বাজারে প্রচলিত বর্তমান ওষুধগুলোর কার্যকারিতাও এভাবেই প্রমাণ করা হয়েছে!
সবমিলিয়ে ব্যাপারটা পরীক্ষালব্ধ প্রমাণের পরিসংখ্যান।
বোঝাতে না পারলে জানান। আরো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
হ্যাঁ, বুঝেছি মোটামুটি। এরকমই ধারণা করেছিলাম যদিও। আপনার কাছ থেকে আরেকটু পরিষ্কার হওয়া গেল। আর ছোটখাট আরও কনফিউশান অন্য মন্তব্যগুলো পড়ে কাটানোর চেষ্টা করছি। এটা কনক্লুসিভ কিছু যে না, সেটা বুঝতে পারছি।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
ধন্যবাদ অনার্য সংগীত। আসলে আমি প্রথমে ধারনা করেছিলাম ডুয়েসবার্গের প্রবন্ধ ল্যাবরেটরী পরীক্ষালব্ধ এখন মনে হচ্ছে সেটা মূলত পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে তৈরী। দেখা যাক এই নিয়ে বিজ্ঞানীমহলে কি প্রতিক্রিয়া আসে। সেগুলো নিয়ে একটি লেখাও চাই।
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
।ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।
ধন্যবাদ জাহিদ ভাই।
চমকপ্রদ কিছু পেলে লিখব আবার
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
স্যাম্যবস্থা, স্থিতাবস্থা, ক্রমবর্ধমান - এই শব্দগুলো সঠিকভাবে অনুদিত হয়েছে বলে মনে হলো না। ডুইসবুর্গের সাথে একমত হয়েছেন এরকম গবেষক মনে হয় বেশি না।
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি
শব্দগুলো আমি সময় নিয়ে দেখে ঠিক করে দেব।
হ্যাঁ, ডুয়েসবার্গ সংখ্যালঘু!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
ডুয়েসবার্গের বিষয়ে পরের মন্তব্য - যে দেশগুলোতে এইচ-আই-ভি সংক্রমণ বেশী তাদের গড় আয়ু কিভাবে কমে গেছে তার ব্যাখ্যা কি ভাবে পাওয়া যাবে?
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
আমি নিশ্চিত নই। এইডস মহামারী প্রমাণে এটা একটা ভালো হাতিয়ার হতে পারে। আমি ডুয়েসবার্গের পক্ষে এটার কী জবাব হতে পারত তা ভেবে দেখে জানাবো।
একটা ব্যাপার মনে রাখা দরকার, ডুয়েসবার্গ মূলত কিছু প্রমাণের/তথ্যের বিরোধীতা করেছেন। সেই হিসেবে হিসেবে ডুয়েসবার্গ পূর্বোক্তদের তথ্যে যে ভুল/বিচ্যুতি ধরেছেন সেগুলোর জবাব দেয়া তাদের দ্বায়িত্ব! ডুয়েসবার্গ যেগুলোর বিরোধীতা করেছেন সেগুউলো ছাড়াও এইডসের পক্ষে কিন্তু অনেক প্রমাণ রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, সত্য হতে গেলে তাকে পূর্ণ সত্য হতে হয়! মিথ্যা হতে গেলে তাকে একটুখানি মিথ্যা হলেই চলে!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
এটা পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে সঠিক না। আপনি ১৬ নম্বর কমেন্টে দেখুন কিভাবে বুঝিয়েছেন কেন পরিসংখ্যান দিয়ে ডুয়েসবার্গ প্রমাণ করছেন। আমি তার বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান দিলাম ।
আপনি বলেছেন (আগের কমেন্টে) -
- আমি সেই চেষ্টাই করেছি।
মূলধারার বিজ্ঞানীরা কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে এইডস মহামারী নিয়ে গবেষণা করছেন না - তাদের মধ্যে কেউ চিকিৎসাবিজ্ঞানী, কেউ পরিসংখ্যানবিদ আবার কেউ বায়োকেমিস্ট। তাই পরিসংখ্যান মেপে দেখানোর সময় কেন ডুয়েসবার্গ একদল পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করছেন আর কেন আরেকদলের ওপর নির্ভর করছেন না - সেটা দেখানোর দায় কিন্তু ডুয়েসবার্গের ওপরেই বর্তায়।
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
একমত।
কিন্তু আমি বলতে চেয়েছিলাম, যদি আপনি দ্বিমুখী দুটো পরিসংখ্যান দেন তাহলে কোনো একটাকে ঠিক বলে দুম করে মেনে নিতে পারবেন না। এই দ্বিধার ফলে যা হবে, প্রথমে প্রমাণিত সত্যটি সন্দেহের মুখে পড়বে! ডুয়েসবার্গ যে গবেষণা, মহামারীর পরিসংখ্যানের বিরোধিতা করেছেন, সেটার জন্যই তার তথ্যগুলো অনেকটা গোছানো। এইডসের পক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, আপনার দেয়া তথ্যটিও ধরে নেই আরেকটি প্রমাণ বাড়ালো কিন্তু তাতে কি ডুয়েসবার্গ যে পয়েন্টগুলোতে প্রশ্ন তুলেছেন সেগুলো ভূল প্রমাণিত হলো? ডুয়েসবার্গ বলেছেন আফ্রিকার জনসংখ্যা (বৃদ্ধির হার) কমেনি, Chigwedere বলছেন কমেছে। আপনি আরো একটা প্রমাণ দিলেন। কিন্তু তাতে তো Chigwedere'র দেয়া তথ্যে সন্দেহটা দূর হলো না। সেটার জন্য তাকে ডুয়েসবার্গের তথ্য ধরে ধরে ভুল প্রমাণ করতে হবে!
আমি সময় নিয়ে পরিসংখ্যানগুলো আরেকটু খুঁজে মিলিয়ে ঝালিয়ে দেখে নতুন তথ্য পেলে এখানে দেব।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
উনি যেটা করছেন সেটাকে বলা হয় চেরি-পিকিং - অর্থাৎ যে পরিসংখ্যান আপনার প্রমাণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সেটাকেই দেখানো, যা সংগতিপূর্ণ না, তা চেপে যাওয়া। উদাহরণ দিই -
জনসংখ্যা হিসাবে উগান্ডা আর দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ নিয়েছেন - কেন? কোনো কারণ দেখাননি কেন শুধু ওই দুটো দেশই গুরুত্বপুর্ণ। কারণ হল ওই দুই দেশে এইডস সম্পর্কে প্রচারণা বেশী সফল অন্যান্য দেশের তুলনায়। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার যে অঞ্চলে প্রচারণা অসফল, সেই অঞ্চলের তুলনার অন্যান্য অঞ্চলের পরিসংখ্যানের পার্থক্যও দেখার মত।
মৃত্যুহার আর জনসংখ্যা পরিসংখ্যান লিখেছেন - কিন্তু জন্মহারটা কোথায় গেল? আর অন্যান্য স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্যারামিটার কোথায় যাবে? এইচ-আই-ভি কম আছে আর বেশী আছে এরকম দুই দেশের তুলনা নেই কেন? বাংলাদেশের সাথে উগান্ডার তুলনা করে দেখুন।
উনি ১৯৯৫ বা তার আগে থেকেই এই কথাই বলে যাচ্ছেন যে এইডসের কারণ এইচ-আই-ভি নোয়, বরং এটা কেমিক্যাল ডিসিস - যা নিজেও পরিষ্কার করে সংজ্ঞায়িত করেন নি। বিকল্প তত্ত্ব ছাড়া ভুল কি ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব।
এইডসকে মহামারী বলা ঠিক না - বেশ। তাতে কি কিছু এসে যায়? এইডস তো তা সত্ত্বেও প্রাণঘাতী বটে, তাই না?
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
ডুয়েসবার্গের সমালোচনায় যা বলেছেন তা ঠিক।
এইডস প্রাণঘাতি সেটাও ঠিক। আমি নিজে চিন্তা করছি এইচআইভি এইডসের সম্পর্ক প্রসঙ্গে। বাকি বিষয়গুলো অন্তত আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
কার্ল পপার এ কারণে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বা প্রমাণিত ‘সত্য’ জাতীয় কিছু স্বীকার করতে চান নি। এটা এখন বিজ্ঞানে স্বীকৃত হয়ে গেছে যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মাত্রই মিথ্যাপ্রতিপাদনের সম্ভাবনাযুক্ত। যে তত্ত্বের মিথ্যা প্রতিপন্ন হবার সম্ভাবনা নাই, সেই তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক না।
তো মাত্র একটা পর্যবেক্ষণ দিয়েই যেহেতু তত্ত্বের ভিত নড়িয়ে ফেলা সম্ভব, সেটা সাধারণত পদার্থবিজ্ঞানে বহুকাল গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অন্যান্য অনেক বিজ্ঞানে যেখানে অনিশ্চয়তার সুযোগ ব্যাপক, সেখানে ১০০ ভাগ সত্য জানার চেয়ে গ্রহণযোগ্য একটা ব্যাখ্যা জানাটাই অনেক বেশি প্র্যাকটিকালি ফিজিবল ও মূল্যবান হয়ে পড়ে। ফলে তত্ত্বের বেইজিয়ান ভিউ ধীরে ধীরে বিজ্ঞানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এখানে একশ ভাগ সত্য কিনা সেটা যাচাই করার চেষ্টা না করে একটা তত্ত্ব আর সেটার বিকল্প তত্ত্বকে এভিডেন্সের পাল্লায় মাপা হয়। যেটার পক্ষে এভিডেন্স বেশি, সেটার পাল্লা ভারি। সেখানে এমন দাবি নেই যে অমুক তত্ত্বটার ব্যাখ্যাটাই সত্য। বরং এমন যে, অমুক তত্ত্বটার পক্ষে এভিডেন্স বেশি।
ঠিক বলেছেন।
কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে কখনো কখনো কোনো তত্ত্বের পক্ষে কেবল প্রমাণ বেশি বলে সেটাকে মেনে নেয়া বোধহয় সহজ না। মানে, মেনে নেয়া যেতে পারে কিন্তু জীবনে সেটার প্রয়োগের আগে ভাবা দরকার! প্রশ্নটা জীবনের।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
সেটাও ঠিক। যেখানে মানুষের উপর প্রয়োগ জড়িত, সেখানে দশবার ভাবতেই হবে।
উনি কোনো বিকল্প থিয়োরী তো দিচ্ছেন না, সুতরাং বর্তমান থিয়োরী ভুল ও তাই ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত না - এর অর্থ হল মৃত্যুবরণ কর। সমস্যাটা এখানেই - বিকল্প চিকিৎসা আসার আগে পর্যন্ত একে মেনে নেওয়া ছাড়া গতি নেই। আমার মনে হয় না পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়া ভাইরাস চিকিৎসা সম্ভব, অন্তত আগামে কয়েক দশকে কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। কারণ জীবকোষের মৌলিক পদ্ধতি - প্রোটিন উৎপাদন প্রণালীটাকে আশ্রয় করেই ভাইরাস বংশবিস্তার করে। যে কোনো রকম ভাবে ভাইরাসকে আটকাতে গেলেই ভাইরাস এর সাথে কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
এজন্য অনেকক্ষেত্রে যেটা করা হয়, ঔষধের কার্যকারিতা সম্পর্কে কনফিডেন্স হিসেব করা হয়। র্যান্ডমাইজ্ড কন্ট্রোল ট্রায়াল বা কোহোর্ট জাতীয় স্টাডি, যেটা প্রযোজ্য। তারপর যদি কার্যকারিতার সিগনিফিক্যান্ট প্রমাণ পাওয়া না যায়, সেই ঔষধ তখন গণহারে সরবরাহ করা যাবে কিনা সেটা সম্ভবত নির্ভর করবে ঔষধ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইন দেশে প্রচলিত তার উপর। তবে ক্রিটিক্যাল একজন রোগীর পক্ষে কার্যকারিতা-অনিশ্চিত-এমন ঔষধ সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় ঝুঁকি নিয়ে যাচাই করার সুযোগ থাকা উচিত।
সরকারকে যখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তখন লেগে যায় ঝামেলা। এরকম অনিশ্চিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ঔষধটা প্রয়োগের অনুমোদন দিলে যদি কাজের কাজ কিছু না হয়, বরং জনগোষ্ঠীতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব বাড়তে থাকে? আর অনুমোদন না করলে যদি সত্যি সত্যি রোগটা মহামারী আকার ধারণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরে ফেলতে থাকে? অনিশ্চিত জ্ঞানের বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সমস্যা হবেই।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
ওষুধের খানিকটা পার্শপ্রতিক্রিয়া থাকবেই। কিন্তু এইডসের ক্ষেত্রে AZT এর পার্শপ্রতিক্রিয়া রোগের চাইতেও ভয়াবহ হতে পারে বলে বলছেন ডুয়েসবার্গ। সমস্যাটা সেখানেই। তিনি কিছু প্রমাণও দিয়েছেন (প্রমাণগুলো ওনার নিজের গবেষণা নয়)!
মুর্শেদ ভাইয়ের মন্তব্যের জবাবে বলছিলাম, এইচআইভি এইডস প্রসঙ্গে আমি ডুয়েসবার্গপন্থী নই। কিন্তু AZT প্রসঙ্গে আমি তাকে অবিশ্বাস করতে পারছি না!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
তোমার দেয়া লিংক থেকে গতকালই মূল পেপারটা পড়েছি। সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করি।
১) এপিডেমিকের প্যাটার্ণ: ডুয়েসবার্গ বলতে চেয়েছেন রোগের কারনে দুতিন মাসের মহামারীকে কে এপিডেমিক বলে। কিন্তু এইডসের ব্যাপ্তি ১১ বছর যাবৎ। তাই এটা এপিডেমিক নয় বরং কেমিকাল প্রসেস।
কিন্তু তিনি এইডসের বিরুদ্ধে প্রচারণা, গবেষণা এগুলোর এফেক্ট হিসেবে আনেননি। তাছাড়া শুধুমাত্র বছরের হিসাব না করে প্যাটার্ণটা দেখলে বোঝা যায় এটা অনেক দীর্ঘায়িত সময়ের এপিডেমিকের মতো।
২,৩,৪) সাউথ আফ্রিকা/উগান্ডা/সাব সাহারান আফ্রিকা এপিডেমিক আক্রান্ত হয়েও তাদের জনসংখ্যা খুব চমৎকার ভাবে এগিয়েছে। ডুয়েসবার্গ দাবী করছেন এইডস মহামারী হলে এই রকম নিরবিচ্ছিন্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটত না।
অথচ তিনি এটা কনসিডার করেননি যে এইডস না থাকলে হয়ত এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি আরো অনেক দ্রুত গতিতে ঘটত। এইডস বিহীন অবস্থায় হাইপোথিটিকাল জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটা গ্রাফ করে এটা প্রমাণ করা যেতে পারে।
৫) এইচআইভি একটা নিরীহ প্যাসেঞ্জার ভাইরাস বলে প্রমাণ করতে চেয়েছেন।
৬) এন্টি রেট্রোভাইরাল ড্রাগের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন। এই অংশটা একটু কেমন কেমন মনে হয়েছে। এন্টি রেট্রোভাইরালের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই তা কেউ দাবী করেছে কিনা জানিনা। কিন্তু এগুলোই এইডেসর বিরুদ্ধে আমাদের বর্তমান হাতিয়ার।
শেষের টোনটা অবশ্য ভালোই লেগেছে। যেহেতু এইচআইভির ভয়াবহতা যতটা বেশী ভেবেছিলো মানুষ সেটা প্রশ্নাতীত নয়। সুতরাং ড়্রাগ ডেভলপের সময় আরো ভালো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
১ -> এটাই আমার বক্তব্য। মধ্যযুগে যাকে মহামারী বলা হত, এখন মহামারী বলার জন্য তত কিছু ঘটার দরকার নেই। সমস্যা ঘটার আগেই সমাধানের চেষ্টা করা ভাল।
২,৩,৪ -> আমি এটা নিয়ে গ্রাফটা দিয়েছি।
৬ -> এটা বাস্তব হতেই পারে। কিন্তু প্রমাণ করার জন্য যে গবেষণা দরকার উনি সে পথে হাঁটেননি।
পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।
১. এটা আসলে নতুন কোনো সংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্রমবর্ধমাণ সংক্রমণ ২/৩ মাসের হতে হবে সেটা কিন্তু নয়। বছর, যুগব্যপীও হতে পারে! কিন্তু হতে হবে 'বেল কার্ভড'। মানে শুরু হয়ে দ্রুত বেড়ে গিয়ে আবার কমতে থাকবে এবং একটা পর্যায়ে সরল হয়ে যাবে অথবা থেমে যাবে! ডুয়েসবার্গ বলতে চান, এইডসের এই ধারাটা দেখা যায় না। তারমানে এটি নতুন কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয়! (হয়তো দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মাঝে নিরবে রয়ে গেছে!)
২,৩,৪. এইক্ষেত্রে ডুয়েসবার্গ আসলে Chigwedere বর্ণিত ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান তার বিরোধীতা করেছেন বলে, দেখাতে চেয়েছেন এই সময়ের আগে পরে মিলিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কোনো হেরফের নেই!
১৯৮০ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির, এবং এইচআইভি সংক্রমণের লেখ কিন্তু রয়েছে (ছবি নং: ৪)। এখানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯০ থেকে পরবর্তী ১৫ বছর এইচআইভি সংক্রমণ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে তার কোনো প্রভাব নেই! Chigwedere'র দাবী মেনে এইডসে লোক মারা গেলে গ্রাফটা কীরকম হত সেটাও এঁকে দেখানো হয়েছে।
আবার, জনসংখ্যা তুলনামূলক আরো দ্রুত বাড়তে পারতো দাবী করায় সমস্যা হচ্ছে, এই সময়ে এইডসের চিকিৎসা ছিলনা/নেই। সুতরাং প্রথম বছরে এইডস যা-ই থাকুক পরের বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বাড়বে (সংক্রামক ব্যাধির সংজ্ঞানুযায়ী)।
৫. হ্যাঁ। তিনি এটি প্রস্তাব করেছেন।
৬. অ্যান্টি রেট্রোভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু। এটা নিয়ে তর্ক আছে বলেও জানিনা। এইচআইভি-এইডস প্রসঙ্গে আমি নিজে ডুয়েসবার্গপন্থী নই। (যদিও এটি আমার ব্লগ এবং ডুয়েসবার্গের পক্ষে এখানে আমাকেই খানিকটা আলোচনা আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।) কিন্তু রেট্রোভাইরাস বিরোধী ওষুধ, অন্তত AZT এর ক্ষেত্রে আমি ডুয়েসবার্গের পক্ষে। আমার মতে, এই ওষুধ এবং বিষের মধ্যে পার্থক্য কেবল, এটার দাম বেশি! অণুচ্ছেদ ৬ এর ২ এবং ৩ পড়লেই বুঝতে পারবেন।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = জন্মহার - মৃত্যুহার
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যদি অপরিবর্তিত থাকে, বা আরো বাড়ে, এর কারণ যেমন মৃত্যুহারে থাকতে পারে, তেমন জন্মহারেও থাকতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন, কৃষি খাতে প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে খাদ্য সরবরাহের উন্নতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন, এসব কারণে জন্মহার বাড়তে পারে। যদি স্বাস্থ্যসেবা আর স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ে, তাহলে মৃত্যুহারের পেছনে এইডস ছাড়া অন্য যে সব কারণ আছে, সেগুলোর প্রভাব হ্রাস পেয়ে থাকতে পারে।
তবে মূল তর্কটা বোধহয় এইডসকে মহামারী বলা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে। আক্রান্ত প্রতি দশ হাজারে কতজন মারা গেলে সেটাকে মহামারী বলা যাবে, সে নিয়ে নানা তর্ক চালু আছে বলে পড়েছিলাম। এইডস বিউবোনিক প্লেগ, এশিয়াটিক কলেরার মতো হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে রোগীকে মেরে ফেলে না, লম্বা সময় নেয়। এইডসে আক্রান্ত হয়ে একজন মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে এই মাঝের সময়ে আরো কয়েকটি শিশু নিশ্চয়ই জন্ম নেয় এবং বেঁচে থাকে। কাজেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধনাত্মকই থাকার কথা।
"Extraordinary claims require extraordinary evidence" — Carl Sagan
নিয়া বসলাম আগামী কয়েক বছরের জন্য।
লেখা সম্পর্কে বলা যায় সাজানো, গোছানো, ছিমছাম – এককথায় চমৎকার! কে না জানে অনার্য সচলের সেরা বিজ্ঞানলেখক?
ধুর বিজ্ঞান লেখক হয়া কী করমু! ঘরজামাই হইতে চাই
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
টাশকি, তাব্দা সব খাইলাম।
ধন্যবাদ আপনাকে, অশেষ ধন্যবাদ !!
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
মহামারী বিষয়ক আলোচনাটা বেশ লাগলো। পুরো বিষয়টাই আমার কাছে নতুন।
------------------------
[ওয়েবসাইট] [ফেইসবুক] [ফ্লিকার ]
ধন্যবাদ।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
লুক মন্তানিয়ে প্রথম ভাইরাসটি পান, এর পর রবার্ট গ্যালো।
মন্তানিয়ে ‘র ল্যাবের সাথে গ্যালোর ল্যাব বহুদিন একসাথে কাজ করেছে। ভাইরাসটি স্যাম্পল মন্তানিয়ের এর ল্যাব থেকে পাঠানো হয়েছিল গ্যালোর ল্যাবে। রেন্ট্রোভাইরোলজী কেন্দ্র তখন ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সস্টিটিউট। গ্যালো যেটা খুজে পেয়ে আলাদা ভাইরাস বলে দাবী করেন সেটি ১৯৮৫ সালে নিরপেক্ষ ল্যাব পরীক্ষা করে দেখেন একই ভাইরাস। একই সাথে ক্যালিফোর্নিয়ায় জে লেভী পেয়েছিলেন ভাইরাসটিকে (ARV), যেটি মন্তানিয়ের এর থেকে স্বতন্ত্র তবে একই ভাইরাস যা HIV-1 নামে এখন পরিচিত। মন্তানিয়ে’র টীম ভাইরাসটি প্রথম পেলেও এটি আসলে কিভাবে রোগ করছে সেটা ব্যাখ্যাটা দিয়েছিল গ্যালোর টীম ( যাদের মধ্যে হার্ভার্ডের ম্যাক্স এসেক্সও ছিলেন, যিনি HIV-2)। মন্তানিয়ে এবং তার প্রধান সহযোগী ফ্রাসোয়া বারে-সিনুসী (যিনি আসলে এটাকে রেট্রোভাইরাস বলে বুঝতে পেরেছিলেন) কে নোবেল দেয়া হয়, গ্যালোকে বাদ দিয়ে। নোবেল কমিটির বক্তব্য তাদের ক্লজ অনুযায়ী যে প্রথম আবিষ্কারককে তাকে পুরষ্কার দিতে হবে। সে বছর তাদের সাথে আরো পুরষ্কার পান, প্যাপিলোমা ভাইরাসের সাথে ক্যানসারের সংযোগ বের করার জন্য জার্মান ভাইরোলজিষ্ট হারাল্ড জুর হাউসেন। গ্যালোর না পাওয়াটা অনেককে বিস্মিত করেছে।
রেট্রোভাইরাসগুলো আমাদের সাথে বহু বছর ধরেই আছে, আমাদের জীনোমের ৮% এই ভাইরাসের, বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন
জীন এসেছে ভাইরাস এর থেকে। এই সবই বহু মিলিয়ন বছর আগে আমাদের পুর্বপুরুষদের সংক্রমিত করা ভাইরাস।
সেই হিসাব অনুযায়ী আরো কয়েক হাজার বছর পরে HIV ভাইরাসটি আমাদের জীনের পার্ট হয়ে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। ১৯৯৮/৯৯ সালে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের দেশে প্রথমবারের AZT চিকিৎসা দেবার সাথে জড়িত থাকার। AZT খুবই টক্সিক, প্রতিটি Anti HIV ড্রাগই তাই, এখন অন্য অ্যাপ্রোচের ড্রাগও হচ্ছে। কিন্তু যাদের ড্রাগটি দরকার (CD4 কোষের মাত্রার উপর নির্ভর করে) তাদের জন্য এটির বেনিফিট অনেক এবং প্রমানিত বহু গবেষনায়। আর HIV এর সাথে AIDS কারনটাও প্রমানিত অসংখ্য গবেষনায়। সমস্যা হচ্ছে HIV হচ্ছে প্রথম মহামারী যার সাথে রাজনীতি অর্থনীতিও জড়িত, জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কিত। কাজী মাহবুব হাসান
আপনার মন্তব্য ভালো লাগলো। আপনার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখাগুলো চাইলে সচলে দিতে পারেন। আপনাকে আগে একবার সম্ভবত বলেছিলাম
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
আমি সচলে রেজিষ্ট্রার করার চেষ্টা করেছিলাম, দুই তিন বার। কদিন আগেও একবার। আমি প্রক্রিয়াটা আসলে বুঝতে পারছি না, আমি একটা পাসওয়ার্ডও পেয়েছি, সেটাও কাজ করে না।
আমি যেহেতু বেশী সাবলীল বাংলায় লিখতে পারিনা। এবং মাঝবয়সী ;
আমি এখানে সব তরুনদের কথা জানতে আসি, কে কি ভাবছে। ভালো লাগে।
অনেক শুভেচ্ছা।
নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ বার্তায় প্রক্রিয়াটা লেখা আছে অবশ্য। সচলে নিবন্ধনের সাথে সাথে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করা হয় না। আপনি লিখতে চাইলে লগ ইন হিসেবে guest_writer আর পাসওয়ার্ড guest দিয়ে লগ ইন করতে পারেন, "অতিথি লেখক" নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। আপনার অংশগ্রহণ যত বেশি হবে, তত দ্রুত আপনার মূল অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় হবে। মন্তব্যের পাশাপাশি পোস্টেও অংশগ্রহণ করবেন আশা করছি। ধন্যবাদ।
কিছুদিন: নাম: guest_writer পাসওয়ার্ড: guest দিয়ে লগ-ইন করে লিখুন। পোস্টের নিচে আপনার নামটি লিখে দিন। কয়েকটি পোস্ট/কমেন্টের পর একাউন্ট পেয়ে যাবেন।
ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত লেখাও এখানে প্রকাশ করতে পারেন। তবে অন্য কমিউনিটি ব্লগ বা মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা প্রকাশ করতে পারবেন না। প্রয়োজনে নীতিমালাটি একবার দেখে নিন।
অন্য অনেক ব্লগের মত সচলায়তনে শুরুতেই একাউন্ট দেয়া হয়না। অতিথি লেখক হিসেবে লেখার-মন্তব্য করার পরে দেয়া হয়। এটা খানিকটা চড়াই-উৎরাই মনে হতে পারে, কিন্তু সচলায়তনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্য ধরে রাখতে এর বিকল্প নেই।
আমরা সবাই এভাবেই লিখেছি/লিখছি। আপনাকেও স্বাগতম।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
অনেক ধন্যবাদ। ঠিক আছে তাহলে,
guest_writer পাসওয়ার্ড: guest;
আপনার লেখা পড়বার আশা নিয়ে বসে থাকলাম।
পড়ছি! সারা পৃথিবীতে এই এক নাম দিয়ে যে ব্যবসা, বাজার অধিগ্রহন আর যেন-হেন প্রকারে সাম্রাজ্য বিস্তার, তা এতো সহজে বন্ধ হবেনা বলেই মনে হয়।
আপনার লেখা পড়তে ভালো লাগে।
ব্যাবসার চাইতে সত্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা মানুষের জীবনের প্রশ্ন!
ধন্যবাদ আপনাকে।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
একটি কৌতুহল অনার্য'দা: অন্য কোন প্রাইমেটদের উপর নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে এটা কি প্রমাণ করা যায় না? নাকি তারা এ রোগ থেকে মুক্ত?
love the life you live. live the life you love.
ভাইরাসের একটি বিশেষ ধর্ম হচ্ছে তারা পোষকের ব্যপারে খুব রক্ষণশীল (host specific)! এইজন্যে এইচআইভি মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণিকে সংক্রামিত করবে না। তবে অন্য প্রাইমেটের একই রোগ সৃষ্টি করে এরকম কাছাকাছি ভাইরাস রয়েছে। বানরের এইডসের ভাইরাস যেমন SIV (Simian immunodeficiency virus)। বানরের ক্ষেত্রে তাদের ভাইরাস (SIV, যা এইচআইভির সঙ্গে ঘণিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত) দিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়েছে। সেটা আমি লেখাতে বলেছি, ডারবান ঘোষণা'তে উল্লেখ আছে দেখুন।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
টাশকি, তাব্দা সব খাইলাম।
ধন্যবাদ আপনাকে, অশেষ ধন্যবাদ !!
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
ধন্যবাদ আপনাকেও
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
মারাত্মক
ডুয়েসবার্গ ঠিক না বেঠিক, সময় তার জবাব দেবে। আপনাকেতো বলেছিই, সবকিছু নিয়া একটা কন্সপিরেসি থিওরি আছে (বাচ্চাগো টিকা নিয়াও!)
তবে এইডসের ব্যাপারে আমার মনে হয় প্রোজেক্টেড জিনিসটা একটু হলেও ওভার-রেটেড। পশ্চিমে এসে মেডিক্যাল রিসার্চ করতে গিয়ে এইখানের লবিইস্ট-কোম্পানি-রিসার্চের মধ্যকার ইত্রামি গুলান দেখে আমার কিছুটা হলেও সন্দেহ জাগে। একটা উদাহরণ! এইডস একটা বিলিওন বিলিওন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি, সেই সাম্রাজ্যে আঘাত করাও সহজ কথা নয়। নিজে যখন পেপার লিখি, যত বালছাল কাজই হোকনা কেন, সেইটাই যে দুনিয়ার ভবিষ্যতের জন্য ভাল-এই কথাটা না বললে পেপার পাব্লিশ হবে না।
আশা করি এইটা নিয়ে একটা সঠিক কিছুতে পৌঁছানো যাবে। বিরুদ্ধ মত থাকা বেশিরভাগ সময়ই ভাল...তাইলে আগাপাশতলা বিচার হয়, সত্যটাও যাচাই হয়।
-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...
শিরোনাম দেখেই অনেকদিন ধরে ঠিক করে রেখেছিলাম লেখাটি পড়ব। কিন্তু পড়তে গিয়ে প্রতিপদে এমন হোঁচট খেলাম যে মনে হচ্ছে এর প্রতিক্রিয়া লেখার সময়ই বের করতে পারবনা। কয়েক লাইন পরপর ভুল এ্যাসাম্পশন আর পার্শিয়াল ইন্টারপ্রিটেশনে ভরপুর। এটার ভুল ধরিয়ে লেখার চাইতে নতুন লেখা লেখাই সহজসাধ্য হবে।
১. আপনি রেট্রোভাইরাসের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন:
আপাতদৃষ্টিতে বাক্যটিকে সঠিক মনে হলেও রেট্রোভাইরাসের পরিচয়জ্ঞাপক বাক্যহিসেবে এটি বরং বিভ্রান্তিবর্ধক। রেট্রোভাইরাসের ডিএনএ নেই হক কথা, কিন্তু সে তো রাইবোভাইরাস, রিয়োভাইরাসেরও নেই। রেট্রোভাইরাসের ফিচার হল: এরা রিভার্সট্রান্সক্রিপ্টেজ এনজাইমের সাহায্যে এদের শরীরের আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করে। এটা ব্যতিক্রম এ কারণে যে, সাধারণত ডিএনএ ট্রান্সক্রিপশন হয়ে আরএনএ তৈরি হয়; আর এখানে হচ্ছে তার রিভার্স প্রক্রিয়া; তাই এর নাম রেট্রোভাইরাস।
২. লেখাটি যে জার্নালে ছাপা হয়েছে তা কোন স্বনামধন্য জার্নাল নয়। পাবমেডে এন্ট্রি আছে যদিও; কিন্তু অনকে খুঁজেও ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর বের করতে পারলাম না। আপনার জানা থাকলে জানাবেন প্লিজ। ইনফেকশাস ডিজিজের কোন গুরুত্বপূর্ণ লেখাতেই এ জার্নালের রেফারেন্স পেয়েছি বলে মনে করতে পারছিনা; তবে সেটা আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণেও হয়ে থাকতে পারে।
৩. মহামারীর (epidemic) ক্ষেত্রে যে exponential growth এর কথা বলা হয়েছে তা নিতান্তই পার্শিয়াল একটা তত্ত টান দিয়ে দাবি করা হয়েছে। এপিডেমিকের আরো অনেক তত্ত রয়েছে: স্টকাস্টিক মডেল, ডিটারমিনিস্টিক মডেল- এতকিছু এখন মনে নেই। আপনার উল্লেখিত ভদ্রলোক সম্ভবত SIR মডেলের আলোকে এমন উদ্ভট দাবিটি করতে চেয়েছেন। আমার এখানে ভুল হলেও হতে পারে; তবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে উনার দাবি করা এপিডেমিকের characteristic ই একমাত্র, কিম্বা প্রামাণ্য নয়।
৪. বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানকে প্রশ্নবীদ্ধ করেছেন; অথচ দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের পরিসংখ্যানের তথ্যসূত্রটুকুও উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। মনে রাখতে হবে এই সেই দক্ষিণ আফ্রিকা যার প্রেসিডেন্ট জ্যকব জুমা দীর্ঘকাল এইডসের বিষয়টি চেপে রেখে বিশ্বভিলেনে পরিণত হয়েছিলেন; যার পরিণতি দক্ষিণ আফ্রিকাকে আজও বহণ করতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেছিলেন ভাল মতো গোসল করলেই নাকি এইডস সেরে যায়; কাজেই এ নিয়ে পশ্চিমাদের বাড়াবাড়িতে কান না দিতে।
৫. সংক্রমণের দীর্ঘদিন পরে রোগটির উপসর্গ প্রকাশ পায়; এটাই রোগটির natural history of disease। এজন্য একে প্যাসেঞ্জার ভাইরাস দাবি করা; বা এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন মনে করার কোন কারণ থাকতে পারে কি?
৬. অষুধ নিয়ে যে কথাগুলো বলা আছে তা পৃথিবীর অনেক চিকিৎসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। HART যে ভাইরাল কাউন্ট কমায় তা এ বিষয়ে পড়াশুনা করা অর্বাচিনও বুঝবে।
৭. ভাই কিছু মনে করবেননা; আর ধ্যৈর্য হচ্ছেনা। লাইন বাই লাইন আলোচনা করে এটিকে ভুল প্রমাণ করা যায়। আপনার কি মনে হয়? আপনি কি ডুয়েসবার্গের দাবিকে সমর্থন করেন?
এই লাইনটি পড়েই পুরো মন্তব্যটি পড়ার খুব আগ্রহ তৈরি হল। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করি যেন লেখায় আর যা-ই থাকুক, ভ্রান্ত বিজ্ঞান না থাকে। সবসময় সম্ভব হয় না, সেটার জন্য আমার জ্ঞানের স্বল্পতা দায়ী। আপনার প্রশ্ন/পয়েন্টগুলোর জবাব দেয়ার চেষ্টা করি।
এটি আসলে রেট্রোভাইরাসের পরিচয় নয়। রেট্রোভাইরাসের পরিচয়, পাঠককে বুঝিয়ে বলতে হলে দীর্ঘ একটি রচনা লেখা প্রয়োজন। আরএন এবং ডিএনএ'র পার্থক্য বুঝিয়ে কেন ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরির দরকার হচ্ছে (যেহেতু ডিএনএ'র মৌলিক ভবিষ্যৎ আবার সেই আরএনএ তৈরি হওয়া), ট্রান্সক্রিপটেজ/রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ ইত্যাদি মিলিয়ে অনেকখানি লেখার প্রয়োজন ছিল। অপ্রয়োজনীয় হলেও জানিয়ে রাখি, সেই কাজটি আমি শুরু করেছিলাম। এই লেখার শুরুতেই একেবারে ছবি এঁকে সেন্ট্রাল ডগমা বুঝিয়ে, ভাইরাসের সংক্রমণ বুঝিয়ে, লিখতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাতে এই লেখাটির আকার হচ্ছিল এখনকার তিনগুণ। সেটা হয়ত খুব সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে, একটু লক্ষ্য করুন, এই লেখাটির উদ্দেশ্য ভাইরাসের প্রকারভেদ করা এবং তার জীবনবৃত্তান্ত বুঝিয়ে বলা নয়। এই লেখাটির উদ্দেশ্য স্পষ্টতই, ডুয়েসবার্গ তাঁর গবেষণাপত্রে কী বলতে চেয়েছেন তা পাঠককে জানানো। মূল পয়েন্টে থাকতেই বাহুল্যগুলো পরে ছেঁটে ফেলা। তারপরও যদি আমার ব্যাখ্যা না করায় আপনার বিভ্রান্তি বেড়ে গিয়ে থাকে তবে তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি।
আপনার যুক্তিগুলো পড়লাম। আলোচনায় যাচ্ছি না। কেন যাচ্ছি না সেটি পরে জানাচ্ছি।
প্রশ্নের জবাবে, আমার ব্যক্তিগত কোনো কারণ নেই। ডুয়েসবার্গের যুক্তিটি আমি যেরকম বুঝেছি জানাতে পারি কেবল। তিনি বলতে চেয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণের এতো দীর্ঘ সময় পর যখন অন্য রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাকে এইডস বলা হচ্ছে তখন, এইচআইভির সঙ্গে এইসব রোগের সম্পর্ক সহজে প্রমাণিত হতে পারেনা। এমনও হতে পারে, ওই রোগগুলো এমনিতেই হচ্ছে, দোষ চাপছে অনেক বছর আগে সংক্রামিত হওয়া একটি নির্দোষ ভাইরাসের উপর।
নিশ্চয়ই। কিন্তু ডুয়েসবার্গ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, এইডসের চিকিৎসায় যে ক্ষতি হয় তা এইডস রোগের চাইতে ভয়াবহ। হিসেবটা এরকম, ভুতে যা মারে, ওঝা মারে তার চাইতে বেশি!
যদি ভুল এ্যাসাম্পশন আর পার্শিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন বলতে আপনি আপনার উল্লেখ করা (ধৈর্যের অভাবে সব উল্লেখ করেন নি) পয়েন্টগুলো বোঝাতে চান, তাহলে সেগুলোর জবাব দেয়া আমার পক্ষে খুব সহজ নয়। কারণ এটি আমার নিজের গবেষণাপত্র নয়। আমি একটি গবেষণাপত্রে কী বলা হয়েছে সেটি বাংলায় বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়েছি পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে!
এবং এই কথাটি আমি আমার লেখাতেই স্পষ্ট উল্লেখ করেছি। আমি লিখেছি: "এই লেখাটিতে আমি ডুয়েসবার্গের নিজের যুক্তি-প্রমাণ অংশগুলো সংক্ষেপে বলব তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র থেকে। যেখানে যেখানে প্রয়োজন মনে হবে, সেই অংশগুলো খানিকটা ব্যাখ্যা করারও চেষ্টা করব।"
ডুয়েসবার্গের গবেষণাপত্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে যদি আমি নিজে কয়েক লাইন পরপর ভুল এ্যাসাম্পশন আর পার্শিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন করে থাকি তাহলে একটু কষ্ট হলেও দয়া করে জানান। যেমন ১ নং পয়েন্টে একটির কথা জানিয়েছেন। আমি আমার বক্তব্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব। এবং অবশ্যই সকল ভুলের জন্য নিঃশর্তে দুঃখপ্রকাশ করব।
লাইন বাই লাইন আলোচনা করে ডুয়েসবার্গের গবেষণাপত্র ভুল প্রমাণ করে সেটি সচলায়তনেই প্রকাশ করতে পারেন। আমরা সেটি নিয়েও আলোচনা করব। যেমন আমরা এখানেই এই লেখার মন্তব্য অংশে খানিকটা করেছি।
একটা অনুরোধ করি, কষ্ট করে লেখায় উল্লেখ করা রেফারেন্সগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নিন। তাহলে অনেক প্রশ্নই আপনাকে আর অনর্থক করতে হয়না। ডুয়েসবার্গের গবেষণাপত্র বিষয়ে ন্যাচারে প্রকাশিত আর্টিকেলের ব্যপারেও আমি কথা বলেছি, উল্লেখ করেছি গবেষণাপত্রটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, তার মান, গ্রহযোগ্যতা এবং আনুষাঙ্গিক আরো কিছু বিষয়। সেই লেখাটির লিঙ্ক আমি এই লেখাটার প্রথমেই জুড়ে দিয়েছি।
এই প্রশ্নের জবাব অপ্রয়োজনীয়। তবে আমি এই লেখার আলোচনা অংশে কথাপ্রসঙ্গে উল্লেখ করেছি, না, আমি ডুয়েসবার্গের দাবীকে সমর্থন করি না। যদিও এই লেখাতে আমি তাঁকে ডিফেন্ড করে আলোচনা করেছি, সেটার কারণ আলোচনাকে এগিয়ে নেয়া। আপনার কিছু পয়েন্টের সূত্র ধরে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে আমার মনে হয়নি, সেটি আপনার অভিপ্রায়। সেজন্য আর আলোচনায় গেলাম না।
পাঠকের প্রশ্ন/সমালোচনা'র জবাব দেয়া যায়। নিদেনপক্ষে ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা যায়। কিন্তু পাঠকের বিরক্তির কোনো জবাব নেই। আপনার প্রশ্ন/সমালোচনার অপেক্ষায় রইলাম।
মন্তবের জন্য ধন্যবাদ।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
ধন্যবাদ সময় নিয়ে চমৎকার জবাবটি দেবার জন্য। কয়েক লাইন পরপর ভুল এ্যাসাম্পশন আর পার্শিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন এর যে কথাটি বলেছি তা আপনার নয়, ডুয়েসবার্গের। ডুয়েসবার্গ এমনটি করেছেন বলে মনে হয়েছে; যা উদাহরণ সহ আলোচনা করেছি।
রেট্রোভাইরাস ইস্যুটি সংক্ষেপেও আলোচনা করা যেত, এতে তিনগুণ স্থান অপচয় হতো এটি মানতে পারলামনা। আমি আমার মন্তব্যে যা লিখেছি ততটুকু উল্লেখ করলেও চলে যেত। কিন্তু, আপনি নিজেই পড়ে দেখুন আপনার বাক্যটি। মনে হচ্ছেনা ডিএনএ না থাকাই রেট্রোভাইরাসের প্রামাণ্য বৈশিষ্ট্য? অথচ রেট্রোভাইরাসের যে 'খাসলত' মূলত: সেটিই HIV/AIDS কে এতটা দুর্জয় করেছে। তাই এটি নিয়ে আরেকটু আলোচনা হতেই পারত।
৫ নং পয়েন্টের উত্তরে ডুয়েসবার্গ কি বোঝাতে চেয়েছেন তা বুঝিয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু সম্ভাব্য কারণগুলোকে কন্ট্রোল করে রিগ্রেশন করলেই তো এর সহজ সমাধান হয়ে যায়; আমার বিশ্বাস তা অবশ্যই হয়েছে, এবং তার ভিত্তিতেই HIV/AIDS এর কার্যকারণ প্রস্তাব করা হয়েছে। অনেকগুলো কোহোর্টস্টাডি হয়েছে; যাকে যেকোন রোগের কার্যকারণ নির্ধারণের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। কাজেই দীর্ঘ সময় পরে উপসর্গ দেখা দিলেও তা যে ভাইরাসের কারণেই হয়েছে তা নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।
৬ নং পয়েন্টে উল্লেখ করা ডুয়েসবার্গের যুক্তিটিও অত্যন্ত দুর্বল। এটিকে নানাভাবে খন্ডন করা যায়। সবচেয়ে সহজটি বলি: একজন এইডস রোগীকে জিজ্ঞেস করা যায়: উনি দীর্ঘমেয়াদী, ব্যয়বহুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত থেরাপিটি গ্রহণ করে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন নাকি চিকিৎসা না নিয়েই মারা যেতে চান। আপনার কি মনে হয়, উত্তর কি হবার সম্ভাবনা বেশি? এছাড়া আরো কথা বলা যায়; যেমন: ড্রাগগুলো মিনিমাম ৪ স্টেজের গবেষণা পার হয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়ে তবেই ছাড়পত্র পেয়েছে। এটিকে পত্রপাঠ বাতিল করে দেয়ার জন্য যে পরিমাণ সাইন্টিফিক ভিত্তি থাকা দরকার তা উনার বক্তব্যে নেই বলে মনে হয়েছে।
পরিশেষে, আপনি ডেভিলস এ্যাডভোকেট সেজে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিতে তর্ক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন এজন্য অবশ্যই সাধুবাদ দাবি করেন। আপনার আরো কিছু লেখা চোখে পড়েছে যেখানে বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সহজে উপস্থাপনের প্রয়াস পেয়েছেন- এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আমি তো বিশ্বাস করি জ্ঞান বিজ্ঞানের সব বইই মাতৃভাষা বাংলায় অনূদিত হওয়া প্রয়োজন। আপনার ব্লগগুলোই হতে পারে তার প্রথম পদক্ষেপ।
মেনে নিলাম। ভাইরাস বিষয়ক বড় একটি লেখা দেয়ার চেষ্টা করব এসব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে। আমার লেখার এই লাইনটি বিভ্রান্তি তৈরি করলে দুঃখপ্রকাশ করছি।
৬ নয় পয়েন্টের কিছু তথ্যসূত্র দিয়েছেন ডুয়েসবার্গ। সেগুলো ওনার নিজের গবেষণা নয়। পড়ে দেখতে পারেন। সেসবের কোনো কোনোটাতে দাবী করা হয়েছে, AZT বরং দ্রুত মৃত্যুর কারণ। ডুয়েসবার্গের অন্যান্য যুক্তিতে একমত না হলেও এই বিষয়টি আমি উড়িয়ে দিতে পারিনি রেফারেন্সগুলোর কারণেই। আরো খানিকটা পড়াশোনা না করে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্যেও কৃতজ্ঞতা।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
জার্ম থিউরী অব ডিজিজ দিয়েছেন রবার্ট কখ, লুই পাস্তুর সম্ভবত নন। আর রেট্রোভাইরাস ছাড়াও অনেক আরএনএ ভাইরাস আছেন। রেট্রো বলা হয় এই কারণে, উনারা আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করেন বলে।
জার্ম থিওরি পাস্তুরেরই দেয়া। সেটার পরীক্ষামূলক প্রমাণ দেন রবার্ট কখ।
রেট্রো ভাইরাস প্রসঙ্গে মন্তব্যের জবাব উপরে দিয়েছি।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
উপরে দিগন্ত ভাই ,তৌফিক জোয়ার্দার ভাই কিছু ভুল দেখিয়ে দিয়েছেন। আলোচনাও অনেক হয়ে গেছে। লেখার চেয়ে কমেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ন মনে হল।
আমার চোখে পড়া একটা ভুল দেখিয়ে দিই,
বানরে এইডস হয় না।
ইফতি
বানরের এইডস হতে পারে।
আপনি কি আমার ভুল নাকি ডারবান ঘোষণার ভুল বের করলেন। ডারবান ঘোষণার সর্বশেষ বক্তব্যটির অনুবাদ আপনি কোট করেছেন:
* Monkeys inoculated with cloned SIV DNA become infected and develop AIDS এই কথাটির সহজবোধ্য অনুবাদ করেছিলাম: পরীক্ষাগারে বানরের শরীরে সংক্রামিত করা একই ধরনের ভাইরাস (SIV) এইডস সৃষ্টি করে।
এই তথ্যে আপত্তি থাকলে পড়ুন: Vladimir Liska, Anis H. Khimani, Regina Hofmann-Lehmann, Alice Ng Fink, Josef Vlasak, and Ruth M. Ruprecht. AIDS Research and Human Retroviruses. March 1999, 15(5): 445-450. doi:10.1089/088922299311196.
ডারবান ঘোষণা: The Durban Declaration
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
ব্যাপক আপত্তি আছে অবশ্যই বানরে এইডস হয় ভাবা আর মানুষ বানর থেকে আসছে দুইটাই কাছাকাছি টাইপের ভুল।আপনি চাইলে এই বিষয়ে ডজনখানেক রেফারেন্স দিতে পারি
বিষয়টা এমন যে বড়জোর এইডস'এর মত কিছু সিনড্রোম দেখাতে পারে কিন্তু অবশ্যই এইডস না।এইডস পুরোপুরি মানুষের।
উইকি দেখুন।
বানরের শরীরে সংক্রামিত করা যায়। কিছু বানরের নিজেদেরই SIV আছে। এইডস হয় না। এইটা একটু দেখেন sciencedaily
কোন এনিম্যাল মডেলে এইডস পুরোপুরি তৈরি করা যাচ্ছে না বলে এমনিতেই বিজ্ঞানীদের দুঃখের শেষ নেই।গবেষনার জন্য মডেল তো লাগবে। কি আর করা। ইদুর ,বানরের শরীরে কৃত্রিমভাবে মানুষের immune system তৈরি করে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এইডস বানানোর।
অনুবাদ এমন করলেই হয়ে যাবে। পরীক্ষাগারে কিছু বিশেষ বানরের শরীরে সংক্রামিত করা একই ধরনের ভাইরাস (SIV) এইডস'এর মত হালকা পাতলা সিনড্রোম সৃষ্টি করে।
ইফতি
আপনার ব্যাখ্যাটা কষ্ট করে ন্যাচারে পাঠিয়ে দেন। ডারবান ঘোষণা ভুল প্রমাণ করেছেন আপনি। ন্যাচার এই ব্যাখ্যা স্পেশাল এডিশন বের করে ছাপবে।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
এইসব তো আমার মনগড়া ব্যাখ্যা না । বানরে এইডস হয় না এটা ফ্যাক্ট। এটা ডারবান ঘোষণার সাথে সম্পর্কিত না।
এই অপেক্ষা শেষ হবে না কারন ডুয়েসবার্গের গবেষণা ভুল হয়েই আছে।
ন্যাচার এই ব্যাখ্যা স্পেশাল এডিশন বের করে ছাপবে'' আপনার এই মন্তব্যটা কেমন হয়ে গেল একটু দেখেন। আর কমেন্ট করছি না। আপনারা বিজ্ঞান নিয়ে লিখেন বলেই আপনাদের সত্য জানাতে চাই।জানার আগ্রহ বাদ দিলে কিছু করার নাই। ডুয়েসবার্গ এমনিতেই বিতর্কিত বাতিল গবেষক এই লাইনে । Medical Hypotheses'এ প্রথম এইটা পাবলিশ করে যেটাকে বলা হয় world's most controversial medical journal।peer-review ছাড়াই পাবলিশ করে। কিন্তু গ্রহনযোগ্যতা,প্রমানের অভাবে তখনি ওই জার্নাল থেকেইএটা বাতিল হয়। পরে এতবছর পর বাতিল এই জিনিস কেন ইতালিয়ান একটা জার্নালে এইটা রিপাবলিশ করা হল,secures publication বলতে এইটা প্রকাশিত হওয়ার যোগ্য না তবু কেন রিপাবলিশ হল ন্যাচারে এই বিষয়েই নিউজ দিছে। আগের পেপারটাকেই ঘষেমেজে পাবলিশ করা হইছে ইতালিয়ান ওই জার্নালে। সেই একই কথা,ড্রাগ ,এইচআইভি সংক্রামিত না হলেও মানুষের এই রোগ।।এটা কোন সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র না। বিজ্ঞানমহল যেগুলোর উত্তর আগেই দিয়েছে তবু কেন এমন ভুল,ক্ষতিকর বিষয় পাবলিকেশনে আসল এইটা নিয়েই ন্যাচারের মাথাব্যথা। আপনি মানেন আর নাইবা মানেন আপনার লেখায় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বিষয়গুলো। অন্য লিংক বাদ দিয়ে আপনার দেয়া নেচারের নিবন্ধেই বারবার লেখা আছে ,
এই লাইনগুলো খেয়াল করে দেখেছেন? scientific nonsense,these arguments have been rebutted before। হ্যা ,ডারবান ঘোষণা এখন এই সময়ে একটা সায়েন্টিফিক ননসেন্স যেমনটা এখন কেউ যদি বলে DNA বংশগতির ধারক না অনেকটা তেমন। সত্যি বলতে কি অনেক আজাইরা গবেষনা হয়। আর বাজারে সব ধরনের তথ্যই থাকে। ড্রাগের কার্যকারিতা নিয়ে রেফারেন্স চাইলেই অনেক পাবেন ভাল ভাল জার্নালে কিন্তু ড্রাগের অকার্যকারিতা নিয়ে খুজতে গেলে Medical Hypotheses'এর মত জার্নালে কিছু পেতে পারেন। NCBI লিংক নইলে শুধু উইকি দেখুন। লেখকদের তাই একটু সর্তক হওয়া উচিত। আপনার এই লেখা পড়েই কোন এইডস রোগী হয়ত সিদ্ধান্ত নিবে ড্রাগ নিবে না। কতটা ভয়ংকর হতে পারে বিষয়টা ভাবতেই পারি না।
চারপাশে শুধু ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। আফসুস লাগে।
ইফতি
আমি বলিনাই এইসব আপনার মনগড়া ব্যাখ্যা। আমি বলেছি আপনার ব্যাখ্যা (তথ্য প্রমাণসহ) ন্যাচারে পাঠিয়ে দিতে। বলেছি, ন্যাচার এই ব্যাখ্যা স্পেশাল এডিশন বের করে ছাপবে।
আমার মন্তব্য আমার ভালো লাগে নি। আপনি বললেন,
আপনি মন্তব্য না করলে সেটি আপনার ইচ্ছে। কিন্তু আপনি যেহেতু অনেকগুলো কথা বলে ফেলেছেন সেহেতু আপনার মন্তব্যের জবাব দেয়া জরুরি। তা নয়ত, অন্য যেসব পাঠক এই মন্তব্যগুলো পড়বেন তাঁরা বিভ্রান্ত হবেন।
আপনার সঙ্গে কথা থামিয়ে আপনার যুক্তি ন্যাচারে পাঠিয়ে দিতে বলার কারণ রয়েছে। কারণ হচ্ছে, আমি কী বলেছি সেটা না বুঝেই আপনি আমার লেখার ভুল খুঁজে বের করছেন।
বলে রাখি, আমার লেখার ভুল খুঁজে বের করতে আপনি সবসময় স্বাগতম। আমার জানাশোনা মারাত্মক কম এবং আমি অসংখ্য ভুল করি। যে কেউ আমার লেখার ভুল দেখিয়ে দিলে আমি দুঃখপ্রকাশ করব এবং ভুল শুধরে নেব।
কিন্তু তার আগে দয়া করে আমার লেখাটি পড়ুন। এই লেখার শুরুতেই আমি কী বলেছি দেখুন:
এই লেখাটি মোটামুটিভাবে ডুয়েসবার্গের প্রবন্ধের অনুবাদ এবং যাঁরা এই সম্পর্কে কম জানেন তাঁদের জন্য খানিকটা ব্যাখ্যা। আপনার প্রথম মন্তব্যটি পড়ে মনে হয়েছে আপনি এই লেখার মন্তব্যগুলো পড়েছেন। ধারনা করছি আপনি এটাও পড়েছেন যে, যদিও এইখানে আমি আলোচনার খাতিরে ডুয়েসবার্গের যুক্তির পক্ষে কথা বলছি তবুও আমি তাঁর মতের উপর তাঁর বিরোধীদের মতকে প্রাধান্য দেই। তবে ডুয়েসবার্গ কে তা আমি জানি। আপনার মত ওনাকে বাতিল করে দেয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
ডুয়েসবার্গের লেখায় কী কী ভুল রয়েছে সেটা আলোচনা করতে আপনি স্বাগতম। ডুয়েসবার্গ নিজে কী যুক্তি দিতেন সেটি আমি বলার চেষ্টা করব। আমি আপনার প্রথম মন্তব্যের জবাবেই বললাম, আপনি যে লাইনটি কোট করেছেন সেটি ডারবান ঘোষণার বক্তব্য। আমি অনুবদ করেছি কেবল। আমি আপনাকে ডারবান ঘোষণার লিঙ্ক দিলাম। ডারবান ঘোষণায় যে প্রবন্ধের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে সেটিও দিলাম।
কিন্তু আপনি বললেন আপনার ওতে আপত্তি রয়েছে। বেশ তো। আপনি ডারবান ঘোষণার বিরোধিতা করে একটা লেখা দিন। সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রবন্ধ আপনি কেন মানছেন না সেটি যুক্তি দিয়ে বলুন। যদিও সেটা যে আপনি করবেন না তা আমি মোটামুটি নিশ্চিত।
"Monkeys inoculated with cloned SIV DNA become infected and develop AIDS"
আপনি এই লাইনের অনুবাদ করতে বললেন, "পরীক্ষাগারে কিছু বিশেষ বানরের শরীরে সংক্রামিত করা একই ধরনের ভাইরাস (SIV) এইডস'এর মত হালকা পাতলা সিনড্রোম সৃষ্টি করে"।
আমি সেটি করব না। আমি আমার অনুবাদের সঙ্গেই থাকলাম। এতে চারপাশে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলে আপনার আফসোস হলে আমি দুঃখিত। ওই আফসোসের বেদনা আপনাকে একাই বহন করতে হবে।
আপনি বললেন,
আপনাকে ন্যাচারে পাঠানোর কারণ হচ্ছে এই। বিজ্ঞানের লেখায় ভুল বের করা মজার একটা কাজ। আপনি ওই মজা পেতে উদগ্রীব সেটা বুঝেই আপনাকে আমি ন্যাচারে পাঠিয়ে ছিলাম।
আপনি আমার লেখাটি পুরোপুরি পড়লে বুঝতে পারতেন এই লেখাটির আগেই ন্যাচারের ওই প্রবন্ধ আলোচনা করে আস্ত একটি লেখা আমি লিখেছি। সেখানে ডুয়েসবার্গ এবং তার বিরোধীরা কে কী বলছেন সেসবও আছে। সেই লেখার পরে এসেছে আমার এই লেখা। এখানে ওই লেখার লিঙ্কও আছে। আপনার চোখে পড়েনি।
এইসব কথাবার্তা পড়লে পাঠকের উপর ভক্তি চলে যায়। বিরক্তি তৈরি হয়।
ন্যাচারে ডুয়েসবার্গ বিরোধীদের উদ্ধৃতি নিয়ে আগের একটা আস্ত লেখাতে আলোচনা করেছি, আপনি লক্ষ্য করার সময় পাননি, সেটা তো বললামই।
আর এখন এটা বুঝতে পারলাম আপনি আমার লেখাটি ঠিকমত পড়েনও নি। ডারবান ঘোষণাকে "সায়েন্টিফিক ননসেন্স" বলার আপনার স্পর্ধা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। ডারবান ঘোষণা কী সেটাই আপনি জানেন না। এটা কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়।
নোবেল বিজয়ী বৈজ্ঞানিকবৃন্দ, দুনিয়া সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ, আমেরিকান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমি, দ্য মেডিসিন, মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট, ইউরোপিয়ান মলিক্যুলার বায়োলজি ইন্সটিটিউট, পাস্তুর ইন্সটিটিউট, লণ্ডনের রয়্যাল সোসাইটি, এইডস সোসাইটি অব ইন্ডিয়া, সাউথ আফ্রিকার জাতিয় ভাইরোলজি ইন্সটিটিউট ইত্যাদি একাডেমী, মেডিকেল সোসাইটির ৫০০০ এর বেশি স্কলারের সাইন করা ডারবান ঘোষণাকে আপনি বললেন "সায়েন্টিফিক ননসেন্স"! আপনার সঙ্গে বিজ্ঞান সম্পর্কিত সকল আলোচনা আমার এখানেই বন্ধ করা উচিত। এই মন্তব্যটি অন্য সেসব পাঠকের জন্য যাঁরা আপনার মন্তব্য পড়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
মেডিকেল হাইপোথেসিস কী ধরনের জার্নাল সেটি আমি আগেই আলোচনা করেছি। আপনি মজার লোভে বুঝে ওঠেন নি। ন্যাচার কি আপনার মনে হয় ভালো জার্নাল? আপনার সায়েন্টিফিক ননসেন্স ডারবান ঘোষণা সেখানেই প্রকাশিত। লিঙ্ক দিয়েছিলাম, লক্ষ্য করেননি। তবে এটা নিন্মমানের পত্রিকায় ছাপালেও কিছু যায় আসত না। আলোচনার জন্য সেটা কেবল উল্লেখ করে দিলেই চলত।
অর্ধেক পড়লে নাও নিতে পারে। সেরকম হলে তার সিদ্ধান্তে আমার কষ্ট বাড়বে না।
আমার বরং কষ্ট বাড়ে জ্ঞানের বোঝা নিয়ে মজা নেয়ার জন্য পাঠক লেখকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে।
পাঠক আলোচনা করতে চাইলে ভালো লাগে। ভুল ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞতা জাগে। খারাপ লেখার সমালোচনা করলে ভালো লেখার প্রচেষ্টা বাড়ে। বুঝতে না পেরে জানতে চাইলে আরো স্পষ্ট করে লেখার ইচ্ছে তৈরি হয়। আজেবাজে লেখা নিয়ে কৌতুক করলে অপমান বোধহয় কিন্তু সেটাও পাঠকের অধিকার।
কিন্তু যে পাঠক লেখা না পড়ে, বুঝতে চেষ্টা না করেই বিদ্রুপের মজা নিতে চায় তার উপর আর শ্রদ্ধা থাকে না।
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
ভাবছিলাম লাল জামাকে হেয় করার জন্য অনার্যের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলবো ! কিন্তু মন্তব্য-আলোচনা এতো গম্ভীর লাইনে চলে গেছে যে, আপত্তি ভুলে উদাস হয়ে গেলাম !
তয় সবকিছু মিলিয়ে পোস্টটা ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সবাইকে।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
সত্যি কথা হইলো, কমেন্ট পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গেলাম। সব পড়তে পারিনি। তাই আমার কথার কিছু হয়তো আগে অন্য কেউ বলে থাকতে পারেন।
সারফেস লেভেল এ কথা না বলে আমার প্রশ্নটা সরাসরি মলিকুলার লেভেলে। এইচ, আই, ভি, জন্ম না মৃত্যুর জন্য দায়ী তা বাদ দিলাম।পরীক্ষা প্রমাণিত যে এটি টি কোষের সাথে ইন্টারেক্ট করে , এরপর কোষে ঢোকে, এরপর টি কোষের সারফেসে এইচ, আই, ভি'র প্রোটিন প্রকাশ পায়, দেহ একে এন্টিজেন ভাবে, এরপর ফোর্স পাঠিয়ে মারতে চায়। কিন্তু মরে কে? হোস্ট টি কোষগুলোই। এর ফলে দেহ তার বাহিনী হারায় বিপুল পরিমাণে। দেহ হয় অরক্ষিত।অন্য সবাই সুযোগ লুটে ভাগে-জোকে খায়। পরিস্কার বায়োলজি। কোন কাপঝাপ নাই। প্রশ্ন আসে, কেন ৫-১০ বছর লাগে? অনেকের ক্ষেত্রে কিছুই হয়না। কারণ ঐ যে টি কোষের মধ্যে ঢুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, সেখান থেকে বের হইতে সে কিছু ট্রিগারের অপেক্ষা করে (এগুলা ব্যাখ্যা করতে উরাধুরা বায়োলজি লাগবে; বাদ দিলাম তাই)। কিছু রেয়ার সময় এই অপেক্ষা আর শেষ হয়না। ব্যস।
এইগুলা এতো বেশি শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত যে , রেফারেন্সের কষ্ট না করেই আমি পগার পাড়। এইখানে উনি কি ভুল দেখাচ্ছেন? উনি কোন ধাপে এইচ, আই, ভি কে নিরীহ দাবী করছেন? এটা ব্যাখ্যা না করে শুধু স্ট্যাট দেখালে লাভ খুব একটা নাই। (তার মধ্যে প্রথম অনেক বছরের ডাটাকে আমি বাদ দিতেই পারি ভাইরাসের ৫-১০ বছরের কারিগরির মধ্যে ফেলে। লেখকও বলেছেন একই কথা।)
আর AZT তো কাপঝাপ করবেই। কারণ, সে রিভার্স ট্রান্সকিপ্টেজকে আক্রমণ করে। তাই স্টেম সেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্ত উৎপাদন, জনন কোষ উৎপাদনসহ আরো অনেক কিছুই প্রভাবিত হবে। ক্যান্সারে এটা ব্যবহার করা হয় একারণেই, যাতে নতুন কোষ তৈরি বন্ধ হয়। আর এইচ,আই,ভি যেহেতু রেট্রোভাইরাস, তাই তার রিভার্স ট্রান্সকিপ্টেজকে প্যাঁদাতেই এটা দেয়া হয়, বোনাস হিসেবে শরীরের নিজের রিভার্স ট্রান্সকিপ্টেজ়ও রক্ষা পায়না এই আর কি।
লক্ষণ দেরি তে দেখা দেয়াই শুধু নয়, ডুয়েসবার্গের আরো কয়েকটা যুক্তি রয়েছে। আপনি সেল-প্যাথোজেন ইন্টার্যাকশনের পরবর্তী যে পর্যায়গুলোর কথা বললেন সেগুলো কি ইন ভিভো ঘটে তা প্রমাণিত? (ইনফেকশনের অংশটা কেবল ইন ভিট্রো প্রমাণিত জানি)। আমি এই বিষয়ে আসলে খোঁজও রাখতে পারি না।
প্রসঙ্গত, মানুষের শরীরে রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ থাকে নাকি? বলেন কী!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
নতুন মন্তব্য করুন