এটি একধরণের ক্ষমা প্রার্থনা। কাদের কাছে জানি না।
আমরা অনেকেই ইতিমধ্যে জানি গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নূরুল ইসলাম কী ভয়াবহভাবে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। মহাজোট নামে 'কৌশলগত' যে জোট হয়েছে তার পক্ষে নোয়াখালীর একটি আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল নূরুল ইসলামের। তবে 'কৌশলগত' জোটের ভিতরে বিলীন যে 'আদর্শগত' জোটটি রয়েছে, সেই ১৪ দলের একটি নূরুল ইসলামের গণতন্ত্রী পার্টি। আমরা অনেকেই এই পার্টির নামটি শুনিনি। তাই একধরণের পাটী-গণতান্ত্রিক তাচ্ছিল্য আমাদের মাথার মধ্যের কাজ করবে, বিচিত্র নয়। কৌশলের মধ্য যে আদর্শ বিলীন হয়ে যায় - একেও আমরা ধ্রুব মানি।
তাই একজন নূরুল ইসলাম টেলিভিশনের শিরোনাম হয়ে যান ঠিকই, কিন্তু সেটি আমাদের রাজনৈতিক কৌশলনাট্যের একটি না-চাইতেই-পেয়ে-যাওয়া জমজমাট অংক হিসেবে। যারা এই তীক্ষ্মদৃষ্টির এই মানুষটিকে জানতেন না, একটি ক্ষুদ্র, যথার্থই অবহেলার যোগ্য রাজনৈতিক দলের নেতা হিসবেও নন - ওই উত্তেজক বাক্সটি তাদের কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করে না। কয়েকযুগের ছাত্র- আর শ্রমিকরাজনীতির রক্ত-ঘাম-সঞ্চয় নিতান্ত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় তাদের কাছে।
এভাবেই একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিক, আক্ষরিক অর্থে পোড়ার পর পরিণত হন মহাজোটের প্রার্থীতে। এইতো চমক ! আমি গণমাধ্যমকূলশিরমণি অসরকারী টেলিভিশনের একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে এই চমকপ্রদ সাংবাদিতকতার প্রতি আমার নিন্দা জানানোর কোন জায়গা আছে কিনা, বা থাকলে লাভ কী - এগুলো ভাবি। আর টিভিতে দেখি বীভতসভাবে পুড়ে যাওয়া, মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর একজন মানুষের সাক্ষাতকার নিতে কীভাবে হামলে পড়ি আমরা, একদল পেশাদার খবরসংগ্রাহক।
কী খবর দেবেন তিনি? কী খবর আছে তাঁর কাছে? শরীরের ষাটভাগ পুড়ে যাওয়া একজন মানুষের কাছে আমাদের কী জানার থাকতে পারে? আমাদের নির্বোধ মাইক্রোফোনগুলোর কি এতই ক্ষুধার্ত? এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করি 'আপনার ছেলে কি করেন?'। নূরুল ইসলাম জবাব দেন 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছে'। নূরুল ইসলাম কি জানেন তাঁর ঐ সন্তানটি একই দুর্ঘটনায় (বা হামলায়) জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে? সাংবাদিকের জানার কথা। তাই জানিও। আরো জানি, এই ড্রামটিক আইরনিটা জমাতে পারলে তার আইটেমটা আরো চমকপ্রদ হয়। আর ডাক্তার জানান, নূরুল ইসলামের শ্বাসনালীটাও কী বিশ্রীভাবে পুড়ে গেছে। আমাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য, স্বীকার করি, তাঁর কণ্ঠনালীটি হলেও আপাতত চলবে।
না। আমি নূরুল ইসলামের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী নই। একজন মুমুর্ষ মানুষের কাছে আমার গা-বাচানো ক্ষমাপ্রার্থনার কোনো মূল্য নেই। তবু , আমি জানি এটি একধরণের ক্ষমাপ্রার্থনা।
মন্তব্য
ভাই, আপনি সাহস হারাবেন না। এই সময়গুলি মাঝে মাঝেই জীবনে ঘুরে ফিরে আসে, আমাদের টুঁটি টিপে ধরে। শক্ত করে ধরুন নিজেকে। আপনি একা নন, আমরা সবাই আছি আপনার সাথে।
নূরুল ইসলামের আশু আরোগ্য কামনা করি।
হাঁটুপানির জলদস্যু
প্রচন্ড ভীত হয়ে পড়ি এসব পড়লে। তাই বাস্তবতাকে এড়িয়ে ডুবে থাকি ফ্যান্টাসির জগতে। কিন্তু তারপরও আশা রাখি মানুষের মনুষত্ব্যের বিকাশের উপর।
আসা করি উনি সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
___________________________________
অন্তর্জালিক ঠিকানা
আপনার লেখাটি পড়ে কিছুদিন আগে দেখা 'মুম্বাই মেরি জান' ছবিটির কথা মনে পড়ে গেলো... হিমু ভাইয়ের মতো বলি সাহস হারাবেন না...কারন, মানুষের কাছে সত্য পৌছে দেয়ার দায়বন্ধতা অন্যদের চেয়ে আপনাদের অনেক বেশি... এজন্য বাস্তবতাকে অনেক সময় মেনে নিতেই হয়...
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
খুঁজে যাই শেকড়ের সন্ধান...
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যাক্তিগত ব্লগ | আমার ছবিঘর
দুঃখজনক ঘটনা... আর লজ্জাজনক সাংবাদিকতা। তবু এই বোধ গুলো থেকেই আমরা শিখি। লেখাটি সেই দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাক আমাদের।
------------------------------------------------------------------------
The philosophers have only interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it.
[MARX : Theses on Feuerbach]
রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক
সহমত... পাশাপাশি মনে হয় দর্শক হিসেবে আমরা কতোটা সংবেদনশীল সে ব্যাপারটাও ভাবার প্রয়োজন আছে...একটি খবরে আমাদের সংবেদনশীলতা কতটুকু স্থায়ী হয়...?
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
খুঁজে যাই শেকড়ের সন্ধান...
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যাক্তিগত ব্লগ | আমার ছবিঘর
ঠিক। দায়িত্বটা উভয় পক্ষেরই। দেখায় বলেই আমরা দেখি, আবার আমরা দেখি বলেই দেখায়। দেখতে না চাইলে জোর করে দেখানো হয়, আবার না দেখালে খুঁজে-পেতে দেখতে হয়।
বাইরে আছি বলেই এই ব্যাপারগুলো চোখে পড়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ বিবেকের বশে কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলে। দু'জন মানুষ জড়ো হলেই লাইন হয়ে যায়। কেউ অশ্রাব্য কিছু বললে সেটা সংবাদে সরাসরি প্রচার হয় না। বীভৎস কিছু ঘটলে মানুষ আগে সাহায্য করে, পরে পেশাগত কাজ। এই ব্যাপারগুলো একটু একটু করে হলেও আমাদের সংস্কৃতিতেও প্রবেশ করুক, এটাই চাওয়া।
অনিন্দ্য
আমার একটু ভিন্ন মত।
পুঁজিবাদী সমাজ সবকিছু নিয়ে ব্যবসা করে, মুনাফা করে।
সবকিছু মানে আসলেই সবকিছু। আবেগ, অনুভুতি, প্রেম, মায়া-মমতা সব বিক্রি হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের কাজ হলো নিয়ন্ত্রণ করা।
আমাদের দেশ, এত দ্রুত আগাচ্ছে যে সরকার তাল দিতে পারছে না।
জনি নামের যে শিশুটি তার মার লাশের পাশে পড়েছিল, সাংবাদিকেরা যার ভিডিও/ছবি তুলেছিল, কোন একটা চ্যানেল খবরে সেটি দেখিয়েওছিল, সেটি হবার কথা নয়। দুর্ঘটনার খবর সবার আগে পাবার কথা পুলিশের, ঘটনাস্থলে পৌঁছার কথা তাদের সবার আগে। সেটা তারা পারেনা।
সাংবাদিকেরা পটু হয়েছে, কোনটা পাবলিক খাবে, তা জানে। নগ্ন লাশের পাশে হামাগুড়ি দেয়া শিশুর ছবি ভাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
আরো দরকার, কোনটা প্রকাশ করা যাবে আর কোনটা যাবে না। এক সময় খবরের কাগজে ধর্ষিত মেয়ের ছবি ছাপা হত। পরে সেটা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আসে। কোন এক সম্পাদক উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন, ছবিই যদি না দেয়, তো খবর পড়বে কোন বেকুবে? এই ছিল যুক্তি।
সভ্য সমাজে সরকারই যে সব করবে তা না। স্বনিয়ন্ত্রণও হতে পারে, সবগুলো চ্যানেল, পত্রিকা একজোট হয়ে নিজেদের জন্যই নীতিমালা বানাতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সেটা দূরাশা।
এই পর্যবেক্ষণটাই যা বলার বলে দিয়েছে। পুলিশের আগে মিডিয়া ভ্যান গিয়ে হাজির হয়। সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশের দেখা মেলে... এফডিসির 'সামাজিক অ্যাকশন' মুভিগুলো সমাজের দর্পণ হিসেবে খুব একটা খারাপ না, দেখা যায়। কবে যে বদলাবে এই দেশ।
কোন "সুশীল" কমেন্ট করতে পারছিনা বলে দু:খিত !
কাল রাতের খবরে এইটা দেখার পর থেকে মাথা গরম হয়ে আছে । চুদির্ভাইরা একদিকে বলতেছে ওনার জীবন সংকটাপন্ন.. তারাই আবার মাইক্রোফোন নিয়া হুড়োহুড়ি করতেছে ওনার লগে অই অবস্থায় । ওনার ছেলে কী করে তা এই আবাল সাংবাদিকেরা জানেনা এমন না.. তারপরও ওনার মুখ থেকেই তাদের শুনতে হবে । হোক তিনি মুমুর্ষু..
নূরুল ইসলামের আশু সুস্থ্যতা কামনা করি ।
আমার কী মনে হয় বলি, কোনো সাংবাদিক নুরুল ইসলামের ওই সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে সংবদেনশীল হয়ে যদি তার কোনো কথা টিভি পর্দায় না আনতে পারে, তাইলে তাকে বলা হবে আবাল সাংবাদিক। বার্তা সম্পাদক হয়তো বলবে, তুমি মিয়া কোনো কাজের না। রিপোর্টে নুরুল ইসলামের একটা মন্তব্য থাকলে রিপোর্টটা কত রিচ হতো! পাবলিক খাইতো। আবার অনেক সাংবাদিক আছে, তারা হয়তো ওই অবস্থাতে তার সঙ্গে কথা বলে, পরে গর্ব করে সে কথা সবাইকে বলে বেড়াবে।
টিভি সাংবাদিকদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত মানবিক ব্যাপারগুলো কাভার করার ক্ষেত্রে। ব্যাপারটা আসলেই দুঃখজনক।
আমার সারাদিন কেমন যাবে সেটা আমি ভাবিনা । আমার ভাবনার সবটুকু জায়গা দখল
করে থাকে সকালবেলা। আজকে সকালবেলায় আমার বাবার মুখ থেকে সংবাদটা শুনে মনটা খারাপ লাগছে।
সাবেক presidentবদু চৌধুরির বাসায় আগুন দিয়েছিলো যারা, সেই investigation ও শেষ করতে পারে নাই আমাদের সোনার ছেলে পুলিশ ।
নূরুল ইসলামের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
নূরুল ইসলাম দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
সুস্থ হয়ে উঠুক আমাদের সেই "সাংবাদিকদের" মানসিকতা।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
একলা পথে চলা আমার করবো রমণীয়...
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু?
....
নূরুল ইসলামের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছিলো একবার। তিনি একটি 'ছোট' পার্টির নেতা হলেও মানুষের সাথে কাজ করার স্পৃহা ছিলো অনেক বড় যা অনেক 'বড়' পার্টির নেতৃত্বের মধ্যে দেখা যায় না। সেই স্পৃহা তিনি আমাদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
অনিন্দ্য রহমানের রিপোর্টটি পড়ে খুব খারাপ লাগলো। এটিও কি এক ধরনের টর্চার নয়? সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতাও তো যুগে যুগে বদলায়। এ সময়ে কি এমন কোনো নিয়ম চালু আছে যে, মৃত্যুপথযাত্রীকে আবোলতাবোল প্রশ্ন করতে হবে? কিংবা সাংবাদিকতার খাতিরে যন্ত্রণা দিয়ে হলেও তাকে প্রশ্ন করতেই হবে?
অন্যকে বদলানোর কথা যারা বলেন, কিংবা বদলানোর মতো উপাদানগুলো নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদেরও যে নিজেদের বদলানো দরকার, সেই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
.........................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
ব্লগস্পট ব্লগ ::: ফেসবুক
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
আমাদের গোটা সংবাদ-ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সামগ্রিকভাবে সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে।
খুব ব্যস্ততা যাচ্ছে কাজের... তাই কদিন ধরে সচলে সিরিয়াস লেখা ধরেও দেখছি না। তবু এটাকে এড়াতে পারলাম না। আর বলতেও পারলাম না কিছু...
.......................
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
অনিন্দ্য, আপনার মত সাংবাদিকরা যে এখনও আছেন সেটা আশার কথা। আপনার লেখাটি আমাদের অন্তরকে স্পর্শ করেছে।
_________________________________________
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ
আমি আজ চোর বটে!
মিডিয়াদানবের স্কুপ দরকার, মানুষ নয়।
আবার লিখবো হয়তো কোন দিন
গতকাল ব্যস্ততায় সারাদিন খবর দেখা হয় নি। শুধু রাতে খাওয়ার সময় নিউজ স্ক্রলে দেখেছিলাম খবরটা। আজ সকালে খবরটা পড়ার পর প্রচন্ড হতাশ লাগছিলো, আবার সেই বার্ন পেশেন্ট। একজনের কথা ভুলতে না ভুলতেই আরেকজন। দেশের সর্ববৃহৎ মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে কোন আই সি ইউ নেই, এই সত্য আজও খুব পীড়া দিলো।
অলমিতি বিস্তারেণ
অলমিতি বিস্তারেণ
আমরাইতো মুখিয়ে থাকি, দেখা ও শোনার জন্য। সাংবাদিকদের দোষ দিয়ে লাভ কী?
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!
তাও ভালো টিভি রিপোর্টার সাহেব বার্ণ ইউনিটে শুয়ে থাকা নূরুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করেনিন ---- আপনার বাসায় কি হইছে ? কিংবা আপনার ছেলে মারা গেছে এ ঘটনায় আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?
নূরুল ইসলাম মারা গেছেন।
তীব্র ক্ষোভ নিয়ে এই অগ্নিকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করি।
হাঁটুপানির জলদস্যু
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!
.............
খুব কাছ থেকে দেখা লড়াকু একজন মানুষ হারালাম।
.............................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা
প্রয়াত নেতার জন্য শ্রদ্ধা।
---
এভাবেই একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিক, আক্ষরিক অর্থে পোড়ার পর পরিণত হন মহাজোটের প্রার্থীতে। এইতো চমক ! আমি গণমাধ্যমকূলশিরমণি অসরকারী টেলিভিশনের একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে এই চমকপ্রদ সাংবাদিতকতার প্রতি আমার নিন্দা জানানোর কোন জায়গা আছে কিনা, বা থাকলে লাভ কী - এগুলো ভাবি। আর টিভিতে দেখি বীভতসভাবে পুড়ে যাওয়া, মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর একজন মানুষের সাক্ষাতকার নিতে কীভাবে হামলে পড়ি আমরা, একদল পেশাদার খবরসংগ্রাহক।
কী খবর দেবেন তিনি? কী খবর আছে তাঁর কাছে? শরীরের ষাটভাগ পুড়ে যাওয়া একজন মানুষের কাছে আমাদের কী জানার থাকতে পারে? আমাদের নির্বোধ মাইক্রোফোনগুলোর কি এতই ক্ষুধার্ত?
প্রিয় অনিন্দ্য, আপনার এই অনুভূতি অনেক বছর ধরে আমাকে তাড়া করে ফিরছে।...এইসব গ্লানি যেনো এখন স্থায়ীভাবে মনের গহিনে লেপ্টে আছে আলকাতরার মতো।
... লাশকাটা ঘর -এ আমি এ কথাই বলতে চেয়েছি!
---
সচলে আপনাকে স্বাগতম। নিয়মিত লিখবেন প্লিজ। অনেক ধন্যবাদ।
একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...
একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...
কিন্তু সর্বশেষ মর্মাহত খবরটা হলো, কিছুক্ষণ আগে তিনি মারা গেছেন।
আমাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাজনীতির মধ্যে থেকেও ফিনিক্স পাখির মতো যে সব শুদ্ধ রাজনীতিকদের জন্য আমাদের বিশ্বাসের এবং আশার সম্ভাবনাগুলো শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে, শেষপর্যন্ত তারাই আজ শিকার হয়ে যাচ্ছেন এক অজানা রহস্যময় অন্ধকারের নির্দয় আঘাতের। এই লজ্জা, এই অসহায়তা, এই অক্ষমতা রাখবো কোথায় !!!
আমার সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে প্রয়াত নুরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
আমি মর্মাহত। এই হত্যার বিচার করতেই হবে।
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?
বিষয়টি হয়তো শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কৌশল নয় ।
আমার চোখে মনে হয় এটি আসলে মেধাহীন মানুষদের কারন ।
দেশে কাক আর কবির চাইতে মিডিয়া বেশি । মোট বাংলা টিভি চ্যানেল কয়টা , কয়টা আসছে আর আসতেছে , আল্লাহর কসম আমি জানি না ।
পত্রিকাগুলো তো রয়েই গেল ।
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে স্বল্প স্বাক্ষরজ্ঞান জনপদে এতো মিডিয়া থাকার প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন আলোচনার বিষয় , কিন্তু এ কথাটি সত্যি যে মেধাবী সাংবাদিক আসছে না । এখন এসব টিভি চ্যানেলগুলো আর পত্রিকায় একটু সুন্দর ছাগলকে দেখলেই রংচং করে সাংবাদিক বানিয়ে দিচ্ছে ।
বিশ্বাস করুন আমি এমন লোকজনকে মিডিয়াতে চিনি ( বিপ্লব রহমান অথবা নজরুল ইসলামেরও স্মরণ থাকতে পারে ) যাদের কন্ট্রিবিউটর হওয়ারও যোগ্যতা ছিল না একসময় ।
মজার বিষয় হচ্ছে তারা এখন স্টার সাংবাদিক ।
এসব মূর্খ সাংবাদিকরা কোন সদ্যমৃত মানুষের মায়ের কাছে বুমটা এগিয়ে দিয়ে ক্লোজশটে মায়ের মুখ রেখে প্রশ্ন করে -" আপনার অনুভূতি কী ?"
ছেলে মারা গেলে মায়ের অনুভূতি কী হতে পারে , এটা প্রশ্ন করে যে ইডিয়ট সে কয়েকদিন পরেই নতুন টিভি চ্যানেলে নিউজ এডিটরও হয়ে যায় ।
কথা সত্য বস... একটা পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখতে ক্যান পারে না ঠিকমতো এই বইলা যাদের গালি দিছি বছর কয়েক আগেও... ইন্টারভিউ নিতে পাঠাইলে প্রশ্ন লেইখা দিতে হইতো... এখন তাদের জনাকয়েককে দেখি বিরাট সাংবাদিক... টক শো করে...
হয়তো তারা এখন বড় হয়েছে... আমাদের চোখ বড় হয় নাই... এই ভেবে নিজেরে সান্তনা দেই।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
সবচেয়ে হতাশ লাগে যখন দেখি রীতিমতো অশুদ্ধ উচ্চারণে রিপোর্টাররা কথা বলছে!
দুনিয়ায় তো ট্রেনিং বইলা একটা জিনিস আছে!
আমি তো জানতাম থিয়েটারগুলোতে উচ্চারণের জন্য রীতিমতো "জঙ্গী" ট্রেনিং লেভেলের খাটাখাটনি করানো হয় .... টিভি কোম্পানীরা তো থিয়েটারের লোকজনদের সাথেই কাজ করে ... মানুষের তো আশপাশ থেকেও কিছু শেখার কথা
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
আজকালকার থিয়েটারে এইসব হয় না ভাইজান। আমি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় করতাম। এর মেম্বার হইতে চায়া ২ বছর আগে এপ্লিকেশন দিতে হইছে... পরীক্ষা দিতে হইছে... প্রায় শখানেকের মধ্য থেকা আমরা ১৫ জন টিকছিলাম। কিন্তু তখন নাগরিকের অভিনেতা লিস্টে আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত, খালেদ খান থেকে শুরু করে বিরাট যে সুঅভিনেতার লিস্ট... সেই তলে বছর পাঁচেক চা বিলাইছি আর ওয়ার্কশপ করছি। শিখতে শিখতে জীবন পার হইলো...
এখন আপনের পরিচিত কাউরে নাগরিকের মেম্বার বানাইতে হইবো? বলেন আমারে... খালি একটা ফোন করবো... পরের দিন থেকে সে নাগরিকের... আর সর্বোচ্চ ৫/৬ মাসের মাথায় সে নাটকে অভিনয় করতে পারবে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
অনিন্দ্য রহমানকে ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য। এই ধরনের কার্যক্রমকে আর যাই হোক সাংবাদিকতা বলতে আমি নারাজ। ঘটনাটির পরপরই আমি গাজীউল হকের "বাংলাদেশের গণমাধ্যম আইন ও বিধিমালা" বইটা পড়লাম। পুরো ঘটনাটা শুধু অমানুষিক না, এটা একটা অপরাধ এবং আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য। বাংলাদেশের গণমাধ্যমসমূহ স্বাধীনতার নামে অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অপরাধ করছে।
এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...
চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...
হত্যা বিচার চাচ্ছি না, শ্রদ্ধাও জানাচ্ছি না। তাতে এই মানুষটির কিছু আসবে যাবে না। শুধু জানতে চাই কবে এই আধুনিক মধ্যযুগ শেষ হবে?
আজকের পত্রিকায় পড়লাম, নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়
নুরুল ইসলামের আর তাঁর ছেলের আত্মার শান্তি কামনা করি।
অবাক লাগে, বেছে বেছে ভালো মানুষগুলো মরবে কেন?
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
নতুন মন্তব্য করুন