এপ্রিলের দুই তারিখে আমার পুত্রের জন্ম। আর সেই এপ্রিলের তিন তারিখে মেজোমামা চলে গেলেন। যেই কথাগুলো তাঁকে বলা দরকার ছিল, তা আর কোনদিন বলা হল না।
এবার দেশে গিয়ে তার রেখে যাওয় জিনিস পত্রের একটা গতি করাটা জরুরী হয়ে পড়ল। হাজার হাজার নেগেটিভ আর প্রিন্ট। ধুলো ময়লা ফাঙ্গাসে যাচ্ছেতাই অবস্থা। ঝেড়েমুছে নেগেটিভের একটা বড় অংশ দৃক ইমেজেসকে দান করে দেওয়া হল এই শর্তে যে, তারা ছবি লাইসেন্স করে "পাঠশালা"-র ছাত্রদের বৃত্তি বা পুরষ্কার দেবার চেষ্টা করবে। লম্বা ছুটি ছিল বলে বাকি জিনিসগুলো দেখবার একটা সুযোগ পেলাম। তালা দেওয়া দেরাজে পাওয়া গেল নগদ সাড়ে পাঁচশ টাকা। ফাইল ক্যাবিনেটের কাপড়ে ওল্টাতে গিয়ে একটা লালসবুজ ফিতে বের হয়ে এলো। ফিতের অন্যপ্রান্তে যে বস্তুটি সেটার ছবি আমি দেখেছি, আধূলির সমান একটা সোনার মেডেল, একুশে পদক। আবার দেরাজে উঁকি। কোনার কাছে একটা অডিও ক্যাসেট, একটু দূরে আরও একটা। এতে কি থাকবার কথা সেটা আমার জানা, ক্ষুদে অক্ষরে লেখা বর্ননা পড়ে নিশ্চিত হওয়া গেল। উত্তেজনা সামলিয়ে আমি আবার মন দিলাম এয়ার টাইট স্লিভে নেগেটিভ ভরায়।
ছুটি থেকে ফিরলেই মন খারাপ থাকে। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। খানিকটা বিষন্ন হয়ে যখন ঘরের কোনায় বসে আছি, তখন মনে হল ব্যাগে আছে ক্যাসেট দুটো। পরক্ষনেই উপলব্ধি, ক্যাসেট প্লেয়ার তো নেই। সেই জিনিসের যোগাড় করতে আরো দুটো দিন। অনেক কায়দা করে প্রথম ক্যাসেটটা ডিজিটাইজ করা গেল। এবার শোনার পালা। কথা বার্তাশুনে মনে হল শুটিং চলছে। এবং তারপর সেই ব্যারিটোন ভয়েস! কিন্তু সত্যজিং রায় যে এভাবে "বান্দর! বান্দর!! বান্দর!!!" বলে চেঁচাবেন সেটা আশা করিনি। একটু পরে বুঝলাম বান্দর আসলে বার্ণ ডোর, সিনেমার লাইটের সামনে বসানো হয়, আলোকসম্পাত নিয়ন্ত্রন করতে। পুরো ক্যাসেট শুনতে শুনতে সারা রাত পার হয়ে গেল। এক পর্যায়ে আমানুল সত্যজিৎকে একটি শিশুর কথা বলতে শুরু করলেন, যে মেঝেতে কান পেতে ছবি আঁকে। আমি জানি সেই শিশুটি কে, তেত্রিশ বছর পর আমার পুত্রটিও যে একইভাবে আঁকে!
১৯৮৩ সালে আমানুল কোলকাতা গিয়ে ছিলেন গুরুর সাথে সাক্ষাৎ করতে। সে সময় সাথে লুকিয়ে একটা টেপ রেকর্ডার রাখতেন। সুয়োগ পেলেই সেটা চলতো। সত্যজিৎ যে টের পাননি তাও না। একবার ক্যাসেট খটাশ করে অটোস্টপ হবার পরে তিনি বলেছিলেন, "তোমার যন্ত্রটা চলছিল নাকি?"। এই সব রেকর্ডিং এ যেমন আছে স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের সাক্ষৎকার, শুটিং স্পটে সত্যজিতের ডিরেকশন, গাড়িতে আলাপ, তেমনি আছে আমানুলের ছবি তোলার বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা ইত্যাদি। সাড়ে তিন ঘন্টার এসব রেকর্ডিং কনভার্ট করা হচ্ছে। সব শোনা যাবে আমানুলের জন্য তৈরি করা ফেসবুক পেজে:
** https://www.facebook.com/amardesh.chitromala **
কবি ফররুখ আহমদ, সাংবাদিক জহুর চৌধুরী
https://youtu.be/zlMyXcYHLy0
বইপড়া, আইজেনস্টাইন, পুডভকিনের বই
https://youtu.be/TF6MF9YCp4g
সত্যজিৎকে নিয়ে লেখা আমানুলের কবিতা
https://youtu.be/6nOiTSTTBvA
"ঘরে বাইরে" এর নায়িক স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের সাক্ষাৎকার
https://youtu.be/1e7zDLPB5uM
শওকত ওসমান, অটোগ্রাফ, রবীন্দ্রনাথ, স্ফুলিঙ্গ
https://youtu.be/29fm_xiOPjM
আর্থার সি. ক্লার্ক, বিবর্তন, বিজ্ঞান ও দর্শন
https://youtu.be/JUYRdz40ygY
ক্রমশ আরো যুক্ত হবে..
১২৩
মন্তব্য
আরে বাহ! দারুণ তো! অফিস সেরে বাড়ি ফিরেই লিংকগুলোতে যাবো। অনেক ধন্যবাদ অরূপ এমন একটি মূল্যবান উপহার দিয়েছেন বলে।
--মোখলেস হোসেন
ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন
অরূপের ব্লগ @ http://etongbtong.blogspot.com
অরূপের ফ্লিকার @ http://www.flickr.com/photos/harvie-krumpet
ভালো একটা কাজ করলেন অরূপ'দা। ইঁদুরের ছবিটা অনেক আগে মনে হয় ফ্লিকারে দিয়েছিলেন? মনে পড়তেছে কোথায় দেখেছিলাম কিংবা হয়ত শুনেছিলাম আপনার কাছেই।
...........................
Every Picture Tells a Story
আপনি দেশে থাকলে কিছু ছবি আপনাকে দেবার একটা সুযোগ হতো
অরূপের ব্লগ @ http://etongbtong.blogspot.com
অরূপের ফ্লিকার @ http://www.flickr.com/photos/harvie-krumpet
পাঠায়া দেন, বান্ধায়া রাখুম।
...........................
Every Picture Tells a Story
ক্যালেণ্ডার বা পত্রিকায় আমানুল হকের 'আমার দেশ' চিত্রমালা সিরিজের ছবিগুলো দেখতে দেখতে বড় হয়ে উঠেছি আমি। একটি গ্রাম্য মেয়ের পুকুর থেকে শাপলা তোলার ছবিটি সম্ভবত বিচিত্রার প্রচ্ছদে প্রথম দেখেছিলাম - এখনো চোখে ভাসে। আমানুল হক মানুষটি কে জানতাম না ছেলেবেলায়, কিন্তু তাঁর ছবি দেখতে দেখতে বড় হয়ে ছবিয়াল হবার একটা স্বপ্ন জুড়ে গিয়েছিল মগজে। না হওয়া সেই স্বপ্নটা এখনো আছে। সত্যজিতকে নিয়ে তাঁর এসব ঘটনা ঘনিষ্ঠতার চিত্র একদমই অজানা ছিল। চমৎকৃত হলাম জেনে।
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
ধন্যবাদ, স্বপ্ন সফল হোক
অরূপের ব্লগ @ http://etongbtong.blogspot.com
অরূপের ফ্লিকার @ http://www.flickr.com/photos/harvie-krumpet
ভাল লাগলো। যে বিষয়গুলো নিয়ে লেখা- আমানুল হক, তার ছবি এবং আপনি- তার কিছু কিছু জানা ছিল, আপনারই এক মামা (সম্ভবত) শুচি সৈয়দ- তার কাছ থেকে।
ধন্যবাদ, তবে শুচি সৈয়দ আমার কাজিন
অরূপের ব্লগ @ http://etongbtong.blogspot.com
অরূপের ফ্লিকার @ http://www.flickr.com/photos/harvie-krumpet
যাক, লিখলেন শেষ পর্যন্ত। লেখাটাকে এখানে না থামিয়ে চালিয়ে যান। আরো অনেককিছু জানার আগ্রহে আছে। প্রয়োজনও আছে।
কতদিনের শীতনিদ্রা থেকে উঠে লিখলেন।
নতুন মন্তব্য করুন