ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

বলিউড: সিং ইজ কিং


লিখেছেন অমিত আহমেদ (তারিখ: বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১২:৫৪)
ক্যাটেগরী: | | |

পূর্বকথা

‘সিং ইজ কিং’ এর রিভিউ লেখার আগে সিনেমাটি দেখার প্রেক্ষাপট আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। সিনেমাটি দেখেছি থিয়েটারে। জ্বী!

টরন্টোতে দু’টি ভারতীয় থিয়েটার আছে। ‘অ্যালবিয়ন সিনেমা’ আর ‘উডসাইড সিনেমা’। ভারতীয় ক’জন বন্ধুর পাল্লায় পড়ে ‘উডসাইড সিনেমা’তে একবার যাবার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সেই ২০০২ সালের কথা। তখন হিন্দি সিনেমায় আমার জ্ঞান ছিলো শূন্য। থিয়েটার দেখেও পছন্দ হয়নি। টরন্টোর অন্য থিয়েটারে যখন পঁয়ষট্টি ফিটের নিচে স্ক্রিনই দেখা যায় না, তখন বিশ ফিটের স্ক্রিনে সিনেমা দেখায় মজা ছিলো না। ছোট্ট থিয়েটারে আসন সংখ্যা ছিলো কম। দর্শকও হাতে গোনা। ওই থিয়েটারে আর যাবো না সিদ্ধান্ত নিয়েও আমার ভালো লেগেছিলো এই জেনে যে টরন্টোর মতো মেগাসিটিতেও ভারতীয়দের একটি নয়, দু-দু’টি সিনেপ্লেক্স আছে!

এবার যেতে হলো এক ভারতীয় বান্ধবীর সাথে। যাবার আগে সিনেমাটি নিয়ে পড়ে বেশ মুগ্ধ হয়েছিলাম। প্রথম সপ্তাহে শুধু ভারতেই নেট গ্রসের রেকর্ড ভঙ্গ (আগের রেকর্ড ছিলো ‘ওম শান্তি ওম’ এর)। টানা কয়েক হপ্তা হাউস-ফুল। দেশের বাইরে ৯০-১০০ ভাগ দর্শক উপস্থিতি। উইকএন্ড গ্রস রেকর্ড ভঙ্গ। শিখ কমিউনিটির সিনেমা নিয়ে বাঁধ ভাঙা উচ্ছাস। পাকিস্তানে রেকর্ড গ্রস! ‘সিং ইজ কিং’ ভারতে ‘সুপার হিট’ আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘হিট’! এসব দেখে কোন বুরবক বলবে সিনেমা মন্দ?

ভারতীয় দর্শক

এই ছ’বছরে দেখলাম ‘উডসাইড থিয়েটার’ আমূল বদলে গেছে। আগে কেমন নোংরা ছিলো, এখন বেশ পরিচ্ছন্ন। ফুডকোর্টের পপকর্ন-ও মুখে দেবার মতো। ভেতরে ঢুকে আরও চমকালাম! কোথায় সেই কবুতরের মতো খোপ? বেশ বড় স্ক্রিন আর হাজারের মতো দর্শক ক্যাপাসিটি। জয় হিন্দ!

চারপাশে হরেক রঙের পাগড়ি দেখে সিনেমা যে শিখদের নিয়ে তা বেশ বোঝা যায়। দর্শকদের বেশির ভাগই শিখ ছিলেন। আগে ভারতীয় দর্শক এভাবে যাচাই করার সুযোগ হয়নি। এবার দেখলাম ওরা সপরিবারে সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। ‘সিং ইজ কিং’-এর ওন্টারিও রেটিং ‘পিজি’ মানে ‘প্যারেন্টাল গাইডেন্স’। এই রেটিং-এর সিনেমায় বাবা-মা’রা সাধারণত ছ’-সাত বছরের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে আনেন না। আর একদম গ্যান্দা বাচ্চা থিয়েটারে না আনার ব্যাপারটি তো ভদ্রতাজনীত। কেউ চান না বিশেষ কোনো মুহূর্তে বাচ্চার কান্না সিনেমার সব উত্তেজনা নষ্ট করে দিক। কিন্তু ভারতীয়রা দেখলাম সদ্যপ্রসূত থেকে শুরু করে বিবিধ বয়সী সন্তান সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। অনেকে আবার এসেছেন বৃদ্ধ বাবা-মা’কে নিয়ে। একদম সত্যি কথা বলি – সিনেমা দেখতে গিয়ে এইটিই আমার বেশি ভালো লেগেছে। মন কেমন হু হু করে উঠেছে নিজের পরিবারের কথা ভেবে। আর পাঞ্জাবি মেয়েগুলোও এত মায়াকাড়া! সিনেমা চলার সময় মুহুর্মুহু হাত তালি, হাসি, বাচ্চার ট্যাঁ-ট্যাঁ কান্না, উত্তেজনার সময় ‘ও-হয়-হয়-হয়’, ‘সাত্তিয়ানাশ হো গ্যায়া ইয়ার’ চিৎকার। থিয়েটারের এমন প্রানবন্ত রূপ আমি আগে কক্ষনো দেখিনি!

[স্পয়লার অ্যালার্ট]

পাঞ্জাবের ছেলে লাকি সিং (সনু সুদ) অস্ট্রেলিয়া গিয়ে অপরাধ জগতের সম্রাট হয়ে বসেছে। সবাই তাকে কিং নামে চেনে। সিনেমা শুরু হয় বহুতল হোটেলে কিং এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। যেই অনুষ্ঠানের ডামাডোলে চলে লাকিকে হত্যার প্রচেষ্টা। প্রচেষ্টা পরিকল্পনা বিফলে গেলে আততায়ী পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে মোটরবাইকে চড়ে। আর স্ময়ং কিং আততায়ীর পিঁছু নেয় প্যারাস্যুটে করে। না, ভুল পড়েননি। প্যারাস্যুটে করেই! তবে বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দিতেই স্যুটেড-বুটেড-পাগড়িওয়ালা লাকির দেহে কিভাবে প্যারাস্যুট গজিয়ে গেলো তা আমার কাছে রহস্যই থেকে গেছে। অন্যদিকে লাকির ছয় সঙ্গী - গুরুজী (কামাল চোপড়া), জুলি (নেহা ধুপিয়া, একে আবার আমার বিশেষ ভাল্লাগে), মিকা (জাভেদ জাফরি, কিং এর আংশিক অন্ধ-বধির ছোট ভাই), রাফতার (সুধাংসু পান্ডে), দিলবাগ (মনোজ পাহয়া) আর পঙ্কজ (ইয়াশপাল শর্মা) আততায়ীর পিঁছু নেয় মার্সিডিজে চড়ে। অনেক হল্লার পর কিং আততায়ীকে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে তুলে নেয় আকাশে। এরপর মাঝ আকাশ থেকে পাষাণের মতো ধরণীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।

অপরাধ জগতে কিং এর পদার্পনের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এভাবে, বিনা দোষে সাজা খেটে কিং অসৎ পথে এসেছে। মানে আদপে সে যে মন্দ নয় তা বোঝানোর চেষ্টা। কিন্তু কিং যে ছয়জন পান্ডা নিয়ে ঘোরেন, যাদের মধ্যে তার ছোট ভাইটিও আছে, তারা কেনো এই পথে? তাদের সাথে তো কোনো অবিচার হয়নি। কিং আবার থাকেন প্রাসাদপম বাড়িতে। সেই বাড়ি পাহাড়া দেয় মেশিনগান হাতে অসংখ্য প্রহরী। তবে কিং আসলে কি করেন, অপরাধজগতে কেনো তিনি কিং, আর কেনোই বা তাকে খুন করতে সবাই এত উৎসাহী তার নমুনা কোথাও পাওয়া যায় না। খুট করে শব্দ হলেই ওরা সবাই ঝটপট পিস্তল বের করে ফেলেন। এছাড়া ওরা যে অপরাধী তার ছাপও কোথাও নেই। সিনেমার শেষ পর্যায়ে কেবল জানা যায় বাচ্চা কিডন্যাপিং, পেটাই করার কথা। তবে এই করতে কি কিং লাগে?

যাই হোক। পরের গল্প শুরু হয় পাঞ্জাবের গ্রামে। যে গ্রামে লাকি (কিং) আর মিকা সিং এর বাবা-মা থাকেন। আর থাকে ওদের চাচাতো ভাই হ্যাপি সিং (অক্ষয় কুমার)। হ্যাপি হলো গ্রামের অঘটনঘটন-পটীয়সী। মানুষের ভালো করতে গিয়ে মন্দ করে ফেলে। এই নিয়ে পুরো গ্রাম ওর উপর মহানাখোষ। আর সবচেয়ে নাখোষ হলো হ্যাপির ন্যাংটাকালের বন্ধু রঙ্গিলা (ওম পুরি)। কারণ হ্যাপির কারণে ওর প্রেম কেঁচে গেছে।

একদিন হঠাৎ লাকি-মিকার বাবার হার্ট অ্যাটাক হলে রঙ্গিলা গ্রামের সবার সাথে ঘট করে। হ্যাপিকে যদি বলা হয় লাকি-মিকার বিরহ যাতনায় ওদের বাবার এই অবস্থা, তাহলে সে নির্ঘাত ওদেরকে আনতে অস্ট্রেলিয়া রওনা দেবে। একবার গেলে গ্রাম মোটামুটি কিছুদিনের জন্য নিশ্চিন্ত। এই ফাঁকে হয়তো রঙ্গিলার বিয়েটিও হয়ে যাবে। সবাই রাজী হয়ে যায়। সবার ষড়যন্ত্রে হ্যাপি গ্রামের পঞ্চায়েতে ঘোষণা দিয়ে বসে সে লাকি-মিকাকে ফিরিয়ে আনবে। ওদের ছাড়া আর ফিরবে না। গ্রামে আনন্দের স্রোত বয়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সবাই বলে সাথে আরেকজন গেলে ভালো হয়। এতো দূরের পথ। মানবতা বলেও তো একটি ব্যাপার আছে। ঠিক হয় গ্রামের সবচেয়ে নিষ্কর্মা মানুষটিকে সাথে পাঠানো হবে। সেই মানুষটি আবার রঙ্গিলা! নিজের পরিকল্পনা ব্যাকফায়ার করে, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ‘ইয়েস-নো’ ইংরেজি জানা রঙ্গিলা মহিষের গাড়িতে করে রওনা দেয় হ্যাপির সাথে। এয়ারপোর্টে দু’জনের বোর্ডিংপাস বদলে যায় আরেকজন যাত্রীর সাথে। ভুল করে দু’জনে উপস্থিত হয় মিশরে। এটি আদপে কিভাবে সম্ভব তা পরিচালকই জানেন। তাও হ্যাপি-রঙ্গিলা দুইজন, অন্যদিকে যাত্রী একজন। সেই একজন যাত্রীর কেনো দু’টি বোর্ডিং পাস সেটিও আরেক রহস্য!

যাই হোক। মিশরে হ্যাপির দেখা হয় সোনিয়ার (ক্যাটরিনা কাইফ) সাথে। ক্যাটরিনা দেখতে যে কি অসাধারণ সুন্দর তা বিগস্ক্রিনে দেখে প্রথম বুঝলাম! আর ও আসা মাত্রই থিয়েটারে তরুনদের একটানা হাত তালি বলে দেয় দলে আমি একা নই! মিশরে সোনিয়ার সাথে নাচগান করে হ্যাপি প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু দায়িত্ব বলে কথা। সোনিয়াকে ফেলে হ্যাপি-রঙ্গিলা রওনা দেয় অস্ট্রেলিয়ায়। এবার এয়ারপোর্টে আর কোনো ভুল হয় না।

সিডনিতে নেমেই হ্যাপি-রঙ্গিলা দেখা করে কিং এর সাথে। কিং আর ওর পান্ডাদেরকে বোঝায় অনেক হয়েছে। এবার এসব ছেড়ে চলো সবাই গ্রামে ফিরে যাই। কিং সে কথায় কান দেয় না, বরং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় দু’জনকে। ব্যর্থ হয়ে হ্যাপি রঙ্গিলাকে বলে গ্রামে ফিরে যেতে। ফিরে না যাবার ওয়াদা হ্যাপি করেছে, রঙ্গিলা তো করেনি। হ্যাপিকে গ্রামে ফিরিয়ে নিতে রঙ্গিলা এবার ওকে ওদের পরিকল্পনার কথা বলে দেয়। হ্যাপি তবুও যাবে না - ‘মার্দ কি বাত হাঁতি ক্যাঁ দাঁত’। রঙ্গিলা খুব আবেগ নিয়ে বলে বন্ধুকে একা ফেলে সে যাবে না, যেতে পারে না। রাইট! এতো পরিকল্পনা লাকিকে গ্রাম ছাড়া করার, লাকির আসতে হবে বলে যার এতো হম্বিতম্বি - তার এই আবেগ ঠিক মানায় না!

ওরা আশ্রয় পায় রাস্তার ধারের ফুল বিক্রেতা রোজ আন্টির (কিরণ খের) কাছে। একদিন রোজ আন্টি হ্যাপি-রঙ্গিলাকে পাঠান একটি ইয়াট ফুল দিয়ে সাজাতে। সেই ইয়াটে গিয়ে জানা যায় ওটি আসলে কিং লাকির। সেখানে আবার লাকিকে হত্যার চেষ্টা চালায় শত্রুপক্ষ। লাকির শরীরে গুলি লাগে। হ্যাপি লাকির জীবন বাঁচাতে তাকে কাঁধে তুলে নেয়। এরপর তাকে কাঁধে নিয়েই দুর্দান্ত মারামারি চলে। সেই মারামারির সময় মাথায় চোট লাগে লাকির। সেই চোটের দরুন স্থবির হয়ে যান কিং - কথা বলতে পারেন না, চলতে পারেন না। ঠিক হয় সুস্থ হয়ে না ওঠা পর্যন্ত হ্যাপিই কিং এর দায়িত্ব পালন করবে।

ওই দিকে রোজ আন্টি জানতে পারেন তার মেয়ে আসবে মিশর থেকে (নিশ্চই ধরে ফেলেছেন এই মেয়েই হচ্ছে সোনিয়া, ক্যাটরিনা কাইফ), সাথে হবু জামাই। মেয়ে জানে না তিনি এতো দরিদ্র হয়ে গেছেন। তিনিই জানতে দেননি। কারণ অবস্থা পড়ে গেছে শুনলে মেয়ে হয়তো লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে মা’র কাছে চলে আসতো। এখন মেয়ের হবু জামাই যদি দেখে মেয়ের মা গরীব তাহলে হয়তো বিয়ে করতে চাইবে না। উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে হ্যাপি। সে রোজ আন্টিকে কিং প্যালেসে নিয়ে তোলে। আর কিং এর সব পান্ডাদেরকে ভৃত্যের অভিনয় করতে বলে। একবার বিয়ে হয়ে গেলে তো আর কিছু করার নেই। ব্যাপারটি আমার কাছে বেশ নোংরা লেগেছে। অর্থনৈতিক অবস্থা লুকিয়ে, ভুল তথ্য দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেয়াতে কি গৌরব আছে তা মোটেই বোধগম্য নয় (ভুল ভ্যালু গ্লোরিফাই করার অভ্যেস বলিউডের আর গেলো না)। মেয়ে আর তার হবু জামাই পুনিত (রানভির শোরে) এসে কিং এর প্যালেসে ওঠে। আর লে হালুয়া। মেয়ে কত্ত ভোলাভালা, এই ক’বছরে মা’র প্যালেস, শপিং মল, রেস্টোর্যাযন্ট, নাইট ক্লাব, এতো দৌলত হয়ে গেছে তা তার কাছে মোটেই অবিশ্বাস্য ঠেকে না। হ্যাপিকে মা’র সাথে আবিষ্কার করে মেয়ে বরং খুশি হয়ে ওঠে। আর নানান ভাঁড়ামোর ফাঁকে, পুনিতের ঈর্ষাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, চলতে থাকে দু’জনের বন্ধু-বন্ধু খেলা। মানে মেয়ে বুঝতেই পারছে না তার প্রেম হয়ে গেছে।

যা হোক। কিং এর দায়িত্ব যেহেতু নেয়া হয়েছে, কিং এর কাজগুলোও তো হ্যাপিকে করতে হবে। সেই কাজগুলো আড়ালে হ্যাপি জনসেবা চালাতে থাকে। যেমন, একটি বাচ্চা মেয়ে কিডন্যাপ করার পর হ্যাপি তার চোখের অপারেশন করে দেয়। ভালো কাজগুলো করলে যে বেশি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পাওয়া যায় তা বুঝতে পেরে কিং এর পান্ডারা সবাই বদলে যেতে থাকে। নানান তুলকালামের পর বিয়ের দিন চলে আসে। ততোদিনে কিন্তু মেয়ে ছাড়া আর সবাই বুঝে গেছে ওদের দু’জনের প্রেম হয়ে গেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার কিংকে হত্যার চেষ্টা চলে। আর সেই ফাঁকে হিন্দিসিনেমীয় স্টাইলে মারামারির ফাঁকে হ্যাপি আর সোনীয়ার আগুন ঘিরে সাত পাঁক দেয়া হয়ে যায়। নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবো না, তবে আমার জানা মতে হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী এভাবে বিয়ে হয় না। বিয়ে যাদের হবে তাদের কুষ্টি-ঠিকুজি মিলিয়ে বিয়ের লগ্ন ঠিক করা হয়। বিয়ে ঠিক সেই লগ্নেই হতে হবে। লগ্ন আবার বিবাহিতব্যদের জন্মদিন-সময় অনুসারে ভিন্ন হয়। মানে পুনিত-সোনিয়ার লগ্ন আর হ্যাপি-সোনিয়ার লগ্ন এক হবে না। তাই পন্ডিত কিভাবে বললেন ওদের দু’জনের বিয়ে হয়ে গেছে?

ক্লাইমেক্সে জানা যায় কিং এর ছোট ভাই মিকাই বড় ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে, নিজে কিং হবার জন্য। মাথায় আবার চোট খেয়ে (মাথায় চোট খাওয়া ছাড়া মনে হয় বলিউডে আর কোনো চিকিৎসা নেই) কিং ভালো হয়ে যায়। আর ভালো হয়েই সে বেশ আবেগঘন ভাষণ দেয় - হ্যাপি কিভাবে সবাইকে বদলে দিয়েছে। এরপর সবাই একসাথে গ্রামে ফিরে যায়। গল্প শেষ!

কারিগরি

সিনেমাতে পাঞ্জাবি ডায়ালেক্ট প্রকট ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বই পড়ে হিন্দি শিখেছি, তাই খুব সমস্যা হয়েছে কথা বুঝতে। সাবটাইটেল (দর্শকদের মাথার ভিড়ে পড়তে খুব কষ্ট হচ্ছিলো) আর সঙ্গীর সাহায্যে যতোটুকু পেরেছি বুঝেছি। একই সমস্যা হয়েছিলো বিহারের ডায়ালেক্টে ‘ওমকারা’ দেখার সময় (সেক্সপিওরের ‘ওথেলো’র ভারত অ্যাডাপটেশন, অসাধারণ, আমার দেখা সেরা সিনেমাগুলোর একটি, পারলে অবশ্যই দেখবেন)।

টাকা খরচ যে কি পরিমানে করা হয়েছে তা ‘সিং ইজ কিং’-এ প্রবল ভাবে দৃশ্যত ছিলো (বাজেট পঞ্চাশ কোটি রুপি!)। সবচেয়ে আকর্ষনীয় জিনিস ছিলো লোকেশন (কায়রোর পিরামিড, সিডনি হারবার, ইত্যাদি) আর ক্যামেরার কাজ। দুর্দান্ত ফ্রেমিং, আর লাইটিং। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে কোনো শব্দ না থেকে শুধু ছবি দেখালেই মনে সিনেমাটি বেশি ভালো লাগতো। ডিরেক্টিং (আনিস বাজমী) নিম্ন মানের। সস্তা স্ক্রিপ্ট। এমন স্ক্রিপ্ট ভদকা-চানাচুর নিয়ে এক রাতেই নামিয়ে ফেলা যায়। মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন এক্স-চন্দ্রবিন্ধু প্রিতম। আমাদের বাঙালি ভাই। ইদানিং দেখছি সে বলিউডে সেরম হিট। পরে আবিষ্কার করলাম প্রিতম বলিউডের নতুন আনু মালিক হয়েছেন। নানান দেশের নানান সঙ্গিত মেরে-কেটে মিউজিক করছেন। তবে প্রিতমের মিউজিক সেন্স যে অসাধারণ তা স্বীকার করতেই হবে। সেই মিউজিক সেন্সের কিছুই এ সিনেমায় দেখলাম না। কোরিওগ্রাফিতে কার্নিভালের ছাপ। এমন কোরিওগ্রাফি একটি-দু’টি সঙ্গীতে ভালো লাগে। সবগুলোতে দিলে চোখের উপর অত্যাচার করা হয়।

সিনেমায় অ্যানিমেশনের কাজ আছে। বেশ কিছু প্রবাসী স্পেশালইফেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ভারতে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের প্রতিভা কিভাবে সিনেমায় ব্যবহার করতে হবে তা মনে হয় এখনো বলিউড বুঝে উঠতে পারেনি। তাই যেখানে দরকার নেই সেখানে স্পেশালইফেক্টের কারসাজী। খুবই বিরক্তিকর।

অভিনয় নিয়ে বলার কিছু নেই, কারণ এমন কোনো চ্যালেঞ্জিং রোল ছিলো না কারও। অক্ষয় কুমার একটি ফাঙ্কি মোজো গ্রহন করেছেন, সেটি তাকে ভালোই মানায়। বড় স্ক্রিন জুড়ে দেখতেও মজা লাগে। তবে সাম্প্রতিক কালে আমার দেখা তার অন্য তিনটি সিনেমাতেও (‘ভুলভুলাইয়া’, ‘হেই বেইবি’ আর ‘তাশান’) তার একই রকমের চরিত্রচিত্রণ দেখেছি। এভাবে চললে একটি সময় দর্শক বিরক্ত হয়ে যাবে নিশ্চিত। বেশ ভালো অভিনয় করেছেন কিরণ খের, আর দুর্দান্ত করেছেন ওম পুরি (এই ভদ্রলোকের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে)। নেহা ধুপিয়া আর ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে আশা করার মতো কিছু নাই। তাদের দু’জনের যে অবস্থা দেখছি, নায়িকা থেকে অভিনেত্রী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। পুনিত, ওরফে রানভির শোরে যে ভালো অভিনয় জানেন তা প্রমান করেছিলেন ‘আজা নাচলে’তে। কিন্তু এই সিনেমায় তাকে মোটেই ভালো লাগেনি। সিনেমায় উপরি হিসেবে ছিলো জাভেদ জাফরির নাচ (চমৎকার নাচেন লোকটি) আর স্নুপ ডগের গান (রাইট অন ডগ!)।

‘সিং ইজ কিং’ কে আমি পাঁচে দেবো এক।

© অমিত আহমেদ

ফুটনোট: ‘সিং ইজ কিং’ এর ইংরেজি বানান জানেন তো? Singh Is Kinng। Kinng-এ দু’টো ‘n’ লক্ষ্য করেছেন? কারণ জানেন? গননা! পন্ডিত গননা করে বলেছিলেন দু’টো ‘n’ দিলে নামের সংখ্যা শুভ হয়। কথা কিন্তু ফলেছে! রদ্দি কাহিনী-অভিনয়-ডিরেক্টিং নিয়েও সিনেমা কিন্তু সুপার হিট। থিয়েটারেও তালি-হাসি-হুইসেল-চিৎকারে এর প্রমান পেয়েছি। জয় বাবা নম্বরনাথ!

ব্যবহৃত ছবি: http://im.sify.com


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন অমিত আহমেদ (তারিখ: বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১২:৫৪)
উদ্ধৃতি | অমিত আহমেদ এর ব্লগ | ২৬টি মন্তব্য | ৩৯৭বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, অমিত আহমেদ. Sachalayatan.com can not be held responsible.

নজমুল আলবাব এর ছবি
১ | নজমুল আলবাব | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:১৬

সিনেমায় একটু আধটু আন্দু ধান্দু ব্যাপার না থাকলেতো জমেই না।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল


সবজান্তা এর ছবি
২ | সবজান্তা | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:২৮

পরিচালকের ছবি বানানোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবসা করা। শিল্পমান সম্মত ছবি বানানোতে হ্যাপা অনেক, মাথার খাটনিও অনেক বেশি। সে তুলনায় কিছু পপুলার মসলা ব্যবহার করলেই সিনেমা হিট করানোটা অনেক বেশি সহজ।

যেমনঃ অক্ষয় কুমার এখন টপ ফর্মে আছেন এই ফাঙ্কি ইমেজ দিয়েই, সেই সাথে অক্ষয়-ক্যাটরিনা জুটি বেজায় হিট ( ক্যাটরিনা অভিনয় জানে না তো কি হয়েছে ! ), প্রীতম আপাতত বাজার মাত করার মত মিউজিক দিচ্ছেন - এ সব দিয়েই ছবি হিট করে ফেলা যায়। সেই সাথে যদি জমকালো লোকেশনে শুটিং হয়, অ্যাকশনধর্মী ছবি হয় তাহলে তো পোয়াবারো। মোদ্দা কথা হচ্ছে, পাবলিক খায় এমন চালু ফর্মুলাতে ছবি বানাতেই এরা আগ্রহী বেশি - এবং অবশ্যই একজন ব্যবসায়ীর দৃষ্টিকোণ থেকে এক দোষ দিতে পারবেন না। শিল্পকে আপাতত নির্বাসনে পাঠান।

রিভিউ ভালোই লাগলো, একটি-দুটি জায়গা ছাড়া।

আরো লিখুন, অনেক গম্ভীর লেখার ভীড়ে এসব পড়তে ভালোই লাগে।


অলমিতি বিস্তারেণ

অমিত আহমেদ এর ছবি
২.১ | অমিত আহমেদ | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:৩২

আপনার কথা অস্বীকার করার কোনো উপয়ায় নেই। জনপ্রিয় ফর্মুলায় সিনেমা বানালে সহজে টাকা তুলে আনা যায়।

রিভিউ কোন জায়গায় ভালো লাগেনি তা জানালে পরবর্তীতে শুধরে নিতে পারতাম।

ধন্যবাদ হাসি


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফেসবুক | ইমেইল


সবজান্তা এর ছবি
২.১.১ | সবজান্তা | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:৫১

এহহে ! ইমোট ছাড়া পোস্টানোর এই এক বিপদ। রিভিউ ভালো লাগেনি তা কিন্তু একবারো বলি নি, বেশ ভালো লেগেছে। আসলে, একটা জায়গা পড়তে যেয়ে খটকা লেগেছে,

উদ্ধৃতি
রঙ্গিলা খুব আবেগ নিয়ে বলে বন্ধুকে একা ফেলে সে যাবে না, যেতে পারে না। রাইট! এতো পরিকল্পনা লাকিকে গ্রাম ছাড়া করার, লাকির আসতে হবে বলে যার এতো হম্বিতম্বি - তার এই আবেগ ঠিক মানায় না!

এটা খুব সম্ভবত অবাস্তব কিছু না, অ্যাট লিস্ট সিনেমাটিক বাস্তবতায়, এটুকু ছাড় মনে হয় দেওয়া যায়। এইটুকু অন্তঃস্থিত ভালো লাগাই হয়তো, দর্শকের মনে একটা পজিটিভ ভালো লাগার আমদানী করে,যা সে অর্থে 'ততোটা গাঁজাখুরি না' তাই এটুকু অংশে আমি ঠিক আপনার সাথে একমত নই।

আরেকটা ব্যাপারে আমি একটু ভিন্নমত প্রকাশ করবো - সেটা অবশ্য পারস্পেক্টিভেরও ব্যাপার। আপনি সিনেমাটাকে বিশ্লেষণ করেছেন খুব ধারালো ভাবে। কিন্তু আমি আগের একটা পোস্টেই বলেছি, টিপিক্যাল বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে ( আগের পোস্টে বলেছিলাম শুধু হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে। এবার কথাটা আরো স্পেসিফিকলি বললাম যদিও, বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমা আসলে মূল ধারার হিন্দি সিনেমার সমার্থক প্রায় ) আমার এক্সপেক্টেশন শূন্য। তাই এ ধরণের হিন্দি সিনেমা যখন আমি দেখতে বসি, তখন নিশ্চিত এই ফাঁকগুলি থেকে আমি বিনোদন পাই। তাই আপনার সমালোচনার প্যাটার্ন যেটা আসলে সিরিয়াস কোন চলচ্চিত্রের( তারে জামিন পার, ব্ল্যাক কিংবা ওমকারা ) জন্য খুব চমৎকার একটি
প্যাটার্ন, কিন্তু ট্র্যাডিশনাল ফাঙ্কি কমার্শিয়াল হিন্দি ছবির জন্য ঠিক সঠিক না। কারণ যারা ছবি বানায় তারাও এগুলি বিবেচনা করে না, এই খুঁতগুলি দিয়েই ছবি বানানো হয়, আম জনতাকে এক ধরণের শস্তা বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যে।

যাই হোক ভাই, বটমলাইন হইলো, আপনার লেখা ভালো লাগছে।


অলমিতি বিস্তারেণ

টিটো রহমান এর ছবি
৩ | টিটো রহমান | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:৪৫

sing derb niye kaj korlei cimema hit


টিটো রহমান এর ছবি
৪ | টিটো রহমান | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:৪৫

sing der niye kaj korlei cimema hit


কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি
৫ | কিংকর্তব্যবিমূঢ় | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৩:৫৯

প্রীতমের মিউজিক প্রথমে বেশ ভালো লাগছিল, কিন্তু চুরিচোট্টামির ব্যাপারটা ধরে ফেলার পরে এখন মেজাজ খারাপ হয় ...

দ্যাখেন প্রিতমের সুপারহিট ভুল্ভুলাইয়া মিউজিকঃ


এইবার দ্যাখেন মেইন কপিঃ


................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...


কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি
৬ | কিংকর্তব্যবিমূঢ় | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৪:০২

আরেকটা দ্যাখেনঃ

প্রিতমের কাজঃ


অরিজিনালঃ



................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...


কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি
৭ | কিংকর্তব্যবিমূঢ় | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৪:০৪

তবে প্রিতমের মিউজিক সেন্স ভালো, কোন জায়গায় কোন মিউজিক মানাবে সেইটা খুব ভালো বুঝে ... আর ইংলিশ থেকে মারে না, কোরিয়ান-ইন্দোনেশিয়ান থেকে মারে, মনে হয় ভাবে কেউ ধরতে পারবে না ... ইউটিউব বইলা যে একটা জিনিস আছে সেটা ওরে বোঝানো দরকার ...

বাই দ্য ওয়ে, রিভিউ খুব ভালো হইছে ... যদিও এই সিনেমা জীবনেও দেখুম না ...
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...


১০

কনফুসিয়াস এর ছবি
৭.১ | কনফুসিয়াস | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৭:৫৮

কিংকং এর দেয়া ভিডিওগুলো দেখে আমি রীতিমতন মাননীয় স্পীকার ...... হয়ে গেলাম! এ তো বিরাট মারিং কাটিং প্রতিভা! একদম দাড়িকমা সহ মেরে দিয়েছে!
আমি আরও ভাবলাম, বেশ ট্যালেন্টেড লোক। মন খারাপ
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...


১১

পরিবর্তনশীল এর ছবি
৮ | পরিবর্তনশীল | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৪:৩৬

নাম শুনলেই তো মেজাজটা গরম হইয়া যায়। তয় রিভিউ মজাক হইছে।
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল


১২

সুমন চৌধুরী এর ছবি
৯ | সুমন চৌধুরী | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৪:৪০

দেখি নাই।



অজ্ঞাতবাস


১৩

গোপাল ভাঁড় এর ছবি
১০ | গোপাল ভাঁড় [অতিথি] | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৫:০৪

এই ক্যাটরিনা কাইফই মারলো। নাইলে বইডা দেখার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা নাই

--------------------------------------------
ইয়ান্না রাস্কালা, মাইন্ড ইট


১৪

আরিফূর রহমান এর ছবি
১১ | আরিফূর রহমান [অতিথি] | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৫:০৭

জব্বর এনালাইসিস!


১৫

দৃশা এর ছবি
১২ | দৃশা | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৫:৪৫

এই বালকের ধৈর্য্য ক্ষমতা দেখে আমার মুগ্ধতা এইবার আকাশ পর্যন্ত যাইয়া ফাইটা যাইব মনে হইতাছে। এ সিনেমা ২০ মিনিট দেইখা আর বসে থাকতে পারি নাই...তয় এই সিনেমার একখান গান আমার বেশ মনে ধরছে। কমেডি কি এতোই সস্তা! আমার দেখা মজার সিনেমাগুলা হইল "মুসকুরাহাট" আর "হেরাফেরি ১"। এখনও দেখলে হাসতে হাসতে পেট ফাইটা যায়।
------------------------------
দুঃখ তোমায় দিলেম ছুটি...
বুক পাঁজর আজ ফাঁকা।
দুঃখ বিদায় নিলেও সেথায়...
দুঃখের ছবি আঁকা।


১৬

অনিশ্চিত এর ছবি
১৩ | অনিশ্চিত [অতিথি] | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৬:৩৫

আপনি পারেনও বটে! প্রথমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে সিনেমা দেখেন। এই অসম্ভব ধৈর্য্যের জন্য আপনাকে স্যালুট। আমার তো একটা সিনেমা দেখতে কমপক্ষে মাসখানেক সময় লাগে। এখন বোধহয় ১২দিন ধরে দিল চাহতা হ্যায় দেখছি।

তবে আপনাকে পুরষ্কার দিতে হবে অন্য কারণে। তিন ঘণ্টা ধরে সিনেমা দেখার পর সেটা নিয়ে রিভিউও লিখতে বসেন!

আমি যদি পৃথিবীর ধৈর্য্যশীল মানুষদের তালিকা বানাই, তাহলে সেখানে আপনার নাম থাকবে।


১৭

তানবীরা এর ছবি
১৪ | তানবীরা | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৭:২৯

কিন্তু ভারতীয়রা দেখলাম সদ্যপ্রসূত থেকে শুরু করে বিবিধ বয়সী সন্তান সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। অনেকে আবার এসেছেন বৃদ্ধ বাবা-মা’কে নিয়ে। একদম সত্যি কথা বলি – সিনেমা দেখতে গিয়ে এইটিই আমার বেশি ভালো লেগেছে।

হাহাহাহাহ, রিভিউ ভালো হয়েছে অমিত।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


১৮

বিপ্রতীপ এর ছবি
১৪.১ | বিপ্রতীপ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১৮ ০২:২৮

এইটা সিনেমা না সিনেমা হলের রিভিউ চোখ টিপি

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
http://biprodhar.com


১৯

দেবোত্তম দাশ এর ছবি
১৫ | দেবোত্তম দাশ | বুধ, ২০০৮-০৯-০৩ ১৭:৫৩

উদ্ধৃতি
আর পাঞ্জাবি মেয়েগুলোও এত মায়াকাড়া!

আমার দিল্লী বাসের সময় একই কথা মনে হতো, আর একটু হলে তো ওদের একটার খপ্পরেই পডে যেতাম

------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি