কেন এই মুলা?
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঝুঁকিপূর্ণ পাকিস্তান সফরের প্রাপ্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে বিসিবি প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামালের আইসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সমর্থন লাভ। এই মুলার পেছনে একটা ছোট্ট ইতিহাস আছে। আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ রোটেশনাল সিস্টেমে হয়। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড, ইন্ডিয়া-শ্রীলংকা, বাংলাদেশ-পাকিস্তান, সাউথ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এভাবে দুইদেশ থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হয়। প্রতিনিধির ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে অন্যদের প্রবল আপত্তি না থাকলে পদপ্রাপ্তি নিয়ে ঝামেলা নাই।
এই সিস্টেমে এর আগে ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা ছিলো, তখন পাকিস্তানী এহসান মানিকে মনোনয়ন দেয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই ভদ্রলোকের চুক্তি ছিলো পরের বার প্রতিনিধি মনোনীত হবেন বাংলাদেশ থেকে। সেই পরের বার হলো এবার। সুতরাং বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য ক্ষেত্র আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো। এজন্য বাড়তি কোনো ছাড় দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের মতো একটা জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ সফরে পাঠানোর পেছনে অন্তত আইসিসি ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত না।
সমস্যা হলো, এক্ষেত্রে দুইটা বিষয় ব্যাপারটাকে এরকম বাজে অবস্থার দিকে নিয়ে গেছে। প্রথম কারণ, ভদ্রলোকের চুক্তি ভদ্রলোকেরা মেনে চলতে পারে, পাকিস্তান সেটা মেনে চলে নাই। তারা হয়তো 'পাস্ট ইজ পাস্ট' সিস্টেমে এহসান মানির সেই টার্মের কথা পেছনে ফেলে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করেছে। সেক্ষেত্রে বিসিবির উচিত ছিলো ন্যায্য পাওনা আদায় করা কোনোরকম বাড়তি স্যাক্রিফাইস ছাড়াই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান এখন প্রচন্ড চাপের মুখে আছে। সেদেশে কেউ খেলতে যায় না, অনেকদিন যাবত তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই বন্ধ ছিলো, ফিক্সিং কেলেংকারি, ক্যাপ্টেন্সি নিয়া ক্যাচাল, আইপিএল বন্ধ এবং ফিক্সিং লাইম লাইটে আসায় খেলোয়াড়দের পেছনের ইনকামও বন্ধ - এসব কারণে পিসিবি খুব শক্ত অবস্থান নিতে পারতো না।
দ্বিতীয় কারণ হলো, বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামালের আইসিসি পদের প্রতি ব্যক্তিগত লোভ। বাংলাদেশ থেকে বিসিবি সভাপতিকেই মনোনয়ন দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সফলভাবে তুলে ধরতে পারার মতো ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ লোক বাংলাদেশে বিরল না। কিন্তু বিসিবিকে পেছনে ফেলে মোস্তফা কামাল পাকিস্তানীদের সাথে বৈঠক করে মূলত 'বাংলাদেশের পক্ষে' না বরং 'তার নিজের পক্ষে' পিসিবির সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। এরই ফলশ্রুতিতে দুবাইয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মিটিংয়ের পরে পিসিবি 'মোস্তফা কামাল'-এর পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে। সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোস্তফা কামালের মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত ছিলো না, বিসিবি তাকে মনোনয়ন দেয় এর কয়েকদিন পরে। মূলত দ্বিতীয় কারণটাই এক্ষেত্রে ওই ন্যায্য পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে। মোস্তফা কামালের ব্যক্তিগত স্বার্থের হিসেব করে পাকিস্তানী প্রতিপক্ষ বাড়তি অন্যায্য সুবিধা আদায়ের জন্য চাপ দেয়াই স্বাভাবিক। সিকিউরিটির প্রশ্নে প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের আগেই তার অতি উৎসাহ থেকে বুঝা যায় মোস্তফা কামাল আইসিসির পদে মনোনয়ন পেতে ক্রিকেটারদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে মোটেই পিছপা নয়।
নিরাপত্তার অবস্থা আসলে কেমন?
পাকিস্তানের নিরাপত্তার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, তারা চাইলেও পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। পাকিস্তানের নিরাপত্তার অবস্থা বুঝতে উইকিতে সেখানকার মেজর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখা যেতে পারে। তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই সন্ত্রাসী কাজগুলো অহরহই হয়, এমন না যে, হঠাৎ করে কিছু আকাম হলো, আবার শান্তিপূর্ণ অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বরং পরিস্থিতি শান্তিশৃঙ্খলা বাহিনীরই নিয়ন্ত্রণে নেই। মাত্র কয়েকদিন আগেই আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তায় শিথিলতা থাকতে পারে; কিন্তু তাদের নেভাল বেইজই দখল করে নিয়ে যায় মাত্র কয়েকজন সন্ত্রাসী! নিরাপত্তা সচেতনতার অবস্থা কেমন হলে এমন বেহাল পরিস্থিতিতে পড়ে একটা দেশ, তা ভাবলেও শিউরে উঠতে হয়।
এর বাইরে শ্রীলংকা দলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তো এখনও চোখের সামনে। এই ঘটনা সম্পর্কে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শ্রীলংকা দলের ওপর আক্রমণটা হঠাৎ করেই হয় নি, তাদের সফরের আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা ছিলো। ফলশ্রুতিতে তাদের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি কাগজে-কলমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো, শ্রীলংকান দলকে 'প্রেসিডেনশিয়াল-স্টাইল সিকিউরিটি'র আশ্বাস দেওয়া হয়েছিলো। সেই রাষ্ট্রপতির সমমানের নিরাপত্তার অবস্থা কি, তা আমরা আতঙ্কের সাথে চোখের সামনেই দেখেছি।
তখন নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের আচরণ নিয়েও সঙ্গত প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো। পাকিস্তান দল সাধারণত শ্রীলংকা দলের সাথেই মাঠে যাতায়াত করলেও আক্রমণের দিনে তারা ৭ মিনিট দেরি করেছিলো। ফলে শুধুমাত্র শ্রীলংকা দলই আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণের সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা কিছু গুলিবিদ্ধ হয়, বাকিরা পালাতে চেষ্টা করে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন অনেকক্ষণযাবত কোনো পালটা গুলি চালায়নি বলেও অভিযোগ এসেছে ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রোডের কাছ থেকে। এতসব অভিযোগকে আমলে না নিয়ে জাভেদ মিয়ানদাদের মতো লোকজনও উলটো অভিযোগকারীকেই আইসিসি থেকে ব্যান করার দাবী জানিয়েছে!
এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝা যায়, পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতির কোনো দাম নেই। তারা নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তরিক নয় এবং চাইলেও নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। ঘটনার পরে দায়িত্ব স্বীকার না করে বরং দায়িত্ব এড়াতে উলটো আক্রমণ করাই তাদের স্বভাব।
'পাকিস্তান' সফর করে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটীয় লাভক্ষতি
পাকিস্তান আমাদের চেয়ে শক্তিশালী দল। সুতরাং ক্রিকেটের মানোন্নয়নে তাদের সাথে খেলা ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু সেই খেলাটা পাকিস্তানে গিয়েই খেলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পাকিস্তানে গিয়ে খেলার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো না। রশীদ লতিফের মহাচুরির ঘটনা এখনও ক্রিকেট সম্পর্কে জ্ঞান রাখে, এরকম কোনো বাংলাদেশী ভুলে যাওয়ার কথা না। বাংলাদেশের সাথে খেলা টেস্টে হারের উপক্রম হওয়ায় তারা রাতের আধারে পিচ ডক্টরিংয়ের অভিযোগও উঠেছিলো। যতোদূর মনে পড়ে [২০০৩ সালের ঘটনা], পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ইকোনমি-প্লাস ক্লাসে চড়িয়ে একই ক্লাসে বাংলাদেশ দলকে ইকোনমিতে ভ্রমণের ঘটনাও ঘটেছিলো। এমন মহান আতিথেয়তা আমাদের জন্য কতোটা লাভজনক হবে, তা দুইবার ভাবার বিষয়। পাকিস্তানের বর্তমান হোমগ্রাউন্ড আমিরাতে খেললে এসব আতিথেয়তার বাজে অভিজ্ঞতা এড়ানো যাবে বলেই মনে হয়। পাকিস্তান দলের বিপক্ষে আরো ফেয়ারভাবে খেলার সম্ভাবনা বেশি।
এর বাইরে আরো কিছু ব্যাপার আছে। বাংলাদেশ দলের কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি পাকিস্তানে দলের সাথে যাবেন না। ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানিয়েছেন, পাকিস্তান সফর এখনো নিরাপদ নয়। আইসিসি এখনো ক্লিয়ারেন্স দেয় নি নিরাপত্তার ব্যাপারে। আইসিসির অনেক অফিশিয়ালই এমতাবস্থায় পাকিস্তান সফর করবেন না। কোয়ালিফাইড ম্যাচ অফিশিয়ালের অভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোই যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এ তথ্য বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যানদের অজানা নয়।
ক্রিকেট পলিটিক্সেও 'পাকিস্তানের বন্ধু' হিসেবে বাংলাদেশ একটা অসুবিধাজনক অবস্থায় পড়ে যাবে। যতোটা অনৈতিকই হোক, বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্ব শাসন করে বিসিসিআই। স্বভাবতই পাকিস্তানী বোর্ডের অবস্থা সুবিধার না। তারা বিশ্বকাপ আয়োজনের ডিল হারিয়েছিলো, পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা সবচেয়ে আকর্ষণীয় লীগ আইপিএলে খেলতে পারে না। ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী বোর্ডগুলোও পাকিস্তানে খেলোয়াড় পাঠায় না। মূলত আইসিসিতে পাকিস্তানের তেমন কোনো প্রভাব নাই। এ অবস্থায় বিসিবি পিসিবির সাথে বন্ধুত্বে গলাগলি করলেও দুইদেশ মিলেও আইসিসিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে না। এমনকি লোটাস কামালের কাঙ্ক্ষিত আইসিসি প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতা হ্রাস করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্বে বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই; বরং ক্ষতির সম্ভাবনা ষোলোআনা। বাংলাদেশ দলের মাঠের পারফর্ম্যান্স দিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস ধরে রাখাই কঠিন। ক্রিকেট রাজনীতির প্যাঁচে পড়ে এই স্ট্যাটাস হারালে সেটা প্রতিরোধ করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না। পাকিস্তানকেও তখন পাশে পাওয়া যাবে না (শ্রীলংকার সাথে তাদের ব্যবহার লক্ষণীয়), পাকিস্তানের সমর্থন-অসমর্থনেরও তেমন কোনো বেইল নাই আইসিসির ডিসিশন মেকিংয়ে। কোনোভাবে এই স্ট্যাটাস হারালে বাংলাদেশ ক্রিকেট আর্থিকভাবে প্রচন্ড ক্ষতির মুখে পড়বে এবং সে অবস্থা থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন কাজ হবে।
নিরাপদে সফর শেষ করে যদি আসে?
কয়েকমাস আগে বাংলাদেশ ফুটবল দল পাকিস্তানে গিয়ে খেলে এসেছে। এই উদাহরণ দেখিয়ে কিছু কিছু লোক বলতে চায় যে, ক্রিকেট দলেরও কোনো সমস্যা হবে না। এখানে কয়েকটা বিষয় বিবেচনা করা দরকার। পাকিস্তানের প্রেক্ষিতে ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেট অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসী হামলা তো শুধু কিছু মানুষকে হত্যা করা না। সেই হত্যার মাধ্যমে একটা ইমপ্যাক্ট তৈরির চেষ্টা করা। সুতরাং ক্রিকেটাররা ফুটবলারদের তুলনায় অনেক বেশি হুমকির মুখে থাকবে। এছাড়া ফুটবল হলো একদিনের ২ঘন্টার খেলা। ক্রিকেট কয়েক সপ্তাহব্যাপী সফর।
বাংলাদেশ দল নিরাপদে পাকিস্তান সফর করে এলেই অন্যান্য দেশ পাকিস্তানে খেলতে দল পাঠাবে, এটাও দুরাশা। সুতরাং বাংলাদেশ দলের ভ্রমণ হতে পারে শুধুমাত্র গিনিপিগ বেসিসে। দল যদি অক্ষত অবস্থায়ও ফিরে আসে, তাহলেও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো আর লাভালাভের হিসাবগুলো ভ্যালিড থাকে। মূল প্রশ্ন হলো 'জীবনের ঝুঁকি' নেয়া হচ্ছে কিনা। এবং এই ঝুঁকিটা এড়ানো যায় কিনা। এই ঝুঁকি নিয়ে মোস্তফা কামালের ব্যক্তিগত কিছু লাভের হিসাবকে পাত্তা দেয়া ছাড়া এর পক্ষে যাওয়ার মতো কোনো পয়েন্ট নাই। অন্যদিকে এমন একদল ক্রিকেটারের জীবনের ঝুঁকি নেয়া হচ্ছে, যাদেরকে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তুলতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ ক্রিকেট খেলে না। মাথার ওপর সন্ত্রাসের আতঙ্ক নিয়ে ক্রিকেট খেলা যায় না। আমিরাতে খেলার অপশন যেখানে আছে, সেখানে পাকিস্তানেই যেতে হবে - বিসিবি সভাপতির এই গোয়ার্তুমির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ক্ষমতার লোভে মাতাল এই বদ্ধ উম্মাদ থেকে রক্ষা পাক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তথা ক্রিকেট বিশ্ব।
সংযোজন:
১) আইসিসি মূলত বাংলাদেশের এই পাকিস্তান সফরকে সামনে রেখে ম্যাচ অফিশিয়ালবিষয়ক নোতুন নিয়ম চালু করেছে। অনিরাপদ সিরিজের জন্য আইসিসির নিউট্রাল ম্যাচ অফিশিয়াল দরকার হবে না। এছাড়া আইসিসি পৃথকভাবে পিসিবি ও বিসিবিকে জানিয়েছে, তারা এই ট্যুরকে ছাড়পত্র (গো অ্যাহেড) দিতে পারছে না। স্পষ্টতঃই আইসিসি এই ট্যুরকে অনিরাপদ মনে করে এবং তার আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদেরকে পাঠাবে না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সম্পর্কে এর চেয়ে ভালোভাবে বলা আইসিসির পক্ষে সম্ভব নয়।
২) Federation of International Cricketers' Associations (FICA) আইসিসিকে পাকিস্তান সফর স্থগিত করাতে বলেছে।
মন্তব্য
বিসিবির সভাপতি পদ থেকে এই লোভী মূর্খটাকে কানে ধরে বের করে দেয়া হোক।
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
লোভ এবং মূর্খতাই যে বাংলাদেশে সকল পদের একমাত্র যোগ্যতা সেটা কি আপনার জানা নাই হিমু ভাই?
সাথে অঢেল টাকা এবং তৈল মর্দনের আর্ট জানা থাকা চাই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তান যাবে না!!
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
ফুটবল দল নিরাপদে ফিরে আসছে বলে ক্রিকেট দলও নিরাপদে ফিরে আসবে, এটা একটা আবর্জনা ছাড়া কিছু না। মানুষ দুইবার মরে না।
এক. লোটাস কামাল আসলে কোন ভাষায় কথা বলে/বলবে আইসিসির সহসভাপতি হয়ে বা এই সংক্রান্ত মিটিংগুলোতে? হিন্দিতে? ঊর্দূতে? নাকি বাংলায়? যতোটুকু শুনলাম, সে তো আংরেজী বলতে পারে না, উচ্চারণও না।
দুই. পাকিস্তানীদের স্বাভাবিক চরিত্র থেকেই বুঝতে পারা যায়, পিসিবি লোটাস কামালের মতো মূর্খ বলদকে ন্যায্য পোস্ট আদায়ের সাথেও শর্তে জড়াতে বাধ্য করছে। যাদের নীতি বলেই কোনো জিনিস নাই, যাদের কথার কোনো দাম নেই- তাদের কথার উপর ভিত্তি করেই বলদ লোটাস কামাল কেনো বাংলাদেশ দলকে পাকিস্তানে খেলতে পাঠাবে? নিরাপত্তার কথাবার্তা পরে।
তিন. লোটাস কামালের পাকিপ্রীতির কারণে তাকে কান ধরে বিসিবি থেকে বের করে দেওয়া হোক। ক্রিকেট নিয়ে তার অজ্ঞানতা এবং অযোগ্যতা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তার মতো অযোগ্য লোকের বিসিবিতে থাকার কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নাই।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
ফল নেই জেনেশুনেই প্রতিবাদে যোগদান করছি।
কামাল শেয়ার কেলেন্কারির চিহ্নিত সুবিধাভোগী। পুজিবাজার তদন্ত কমিটি রিপোরটের ৭ নম্বর কেসস্টাডিটি কামাল সাহেবের সি এম সি কামাল টেক্স্টাইল মিল্স এর শেয়ার কারচুপির বর্ণনা আছে।
ঘটনা হল, আগামি নির্বাচনে আওয়ামি খরচাপাতি বহনের যে প্রতিযোগিতা হবে, সেখানে আবুল ও ফারুকের পাশাপাশি কামাল সাহেবকে প্রথম সারিতে দেখা যাবে। আবুলকে যেখানে গ্রামীন ফোন আর ফারুক কে যেখানে বিমানের মধু খাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, কামালকেও তো কোন একটা মধু খেতে দিতে হবে। বিসিবি কামালের সেই মধুশালা।
আসলে আবুল-ফারুক-কামালকে সরিয়ে কিছু হবে না। দরকার খালেদা-হাসিনা-এরশাদ-আজম এর পাকাপোক্ত অপসারন।
আপনি মাইনাস ফোরে চলে গেছেন দেখি।
সরিয়ে আসবে কারা ? তারেক, জয়, সাদ, অথবা ধর্মাশ্রয়ী কোন দল ! আম জনতার সামনে বিকল্প কই ? তাছাড়া, আমরা সাধারন জনগণ এখনও সচেতন নই। এখনও তাঁদের প্রভাব মুক্ত হতে পারিনি। আপনার ক্ষোভের বাষয়টি অনুধাবন করতে পারি।
ভাল থাকুন।
জনগণের সচেতনতা জিনিসটা অনেকভাবে নষ্ট করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকিং ছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টি করা / ধরে রাখা খুব কঠিন। বঙ্গবন্ধুর অপেশাদার দেশ শাসনের পরে একটা দীর্ঘসময় সামরিক শাসনে চলেছে বাংলাদেশ। তারপরে ক্ষমতায় এসেছে হয় সেই সামরিক শাসনের বাইপ্রোডাক্ট বা আচরণে তাদের সাথে তালমেলানো আওয়ামী লীগ।
এরা যা পড়িয়েছে, জনগণ তা-ই পড়েছে। গণমাধ্যমে এরা যা প্রচার করেছে, তা-ই প্রচারিত হয়েছে। জনসচেতনতা আসে কোথা থেকে? এর সাথে যোগ করেন দারিদ্র্য আর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, তাহলে জনগণকে দোষ দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমার মতে, সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিতরাই এইসব অপশাসনের শিকার বেশি হয়েছে। সার্টিফিকেটধারী আমরা আমজনতার তুলনায় বেশি করাপ্টেড, বেশি অসচেতন। জনগণ এখনো আকামের বিরুদ্ধে মন খুলে গালি দিতে পারে, আমরা 'শিক্ষিতরা' সেটা করতে গেলেও কয়েকবার ভাবি, ভেবে চুপ করে যাই।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
অছ্যুৎ বলাই, আপনার সম্পূর্ণ একমত হয়েই বলছি, বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা সচেতন নই। সেটা কেন এবং কি ভাবে হয়েছে, আপনি সংক্ষেপে তা তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশে সুবিধাভোগী একটা সুশীল সমাজ তৈরি হয়েছে। এরা জ্ঞানপাপী। এই বিভক্ত সুশীল সমাজ বা বুদ্ধিজীবীরা সত্য অনুসরন করেন না, দলীয় মতকেই তাঁরা সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
ক্ষমা করবেন, কথার পিঠে কথা চলে আসলো। আমার মত একজন অতি নগণ্য ব্যক্তি, এঁদের সম্পর্কে মন্তব্য করাও ধৃষ্টতা।
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তান যাবে না!!
এইসব লোক দরকারে নিজের পরিবারের লোকজনরেও বেইচা দিতে পারে। ফাযিল জানি কুনহানকার!
ক্রিকেটারদের নিয়ে
চুদুর ভুদুর ছইলতন
এক দফা এক দাবি
তোর সিধান্ত তুই
হিরত নিবি !
---------------------------------
লোডা কামাইল্লা সময় থাকতে ভালা অইজা
খুবই চমৎকার ভাবে পুরো ব্যাপারটাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
লেখাটা খুবই গোছানো, পয়েন্টগুলো যৌক্তিক।
মহাশুন্যে মানুষ পাঠাবার আগে নিরাপত্তার খাতিরে বানর পাঠিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হতো। পরীক্ষাগারে কোন ঔষধ মানুষের উপর প্রয়োগ করার আগে শিম্পাঞ্জি, গিনিপিগ ইত্যাদি প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে দেখা হয়।
আমাদের পদস্থ ব্যক্তিদের সীমাহীন লোভ, দূর্নীতি আমাদের নাগরিকদের বানর, গিনিপিগের পর্যায়ে নামিয়ে এসেছে। এতকিছুর পরও আমরা এদেরকেই ভোট দিব। এদেরকেই নির্বাচিত করে নিজেদের বানর, গিনিপিগ বানাবো। দিনের পর দিন। বছরের পর বছর।
উপায় কি ? ভোটের সময় মাথা ঠিক থাকেনা যে। কাউকে না কাউকে তো ভোট দিতেই হবে। আর সব দলের প্রার্থীই ফুলের মত পবিত্র।
আমার তো মনে হয় ভুটাভুটির বাদেও এখানে লোটাস কামাল নামক কুত্তাটার কিছু অর্থযোগের ব্যাপারও আছে।
ড়াইট গেস।
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
_________________
[খোমাখাতা]
খেলাধূলার দুনিয়া সম্পর্কে জ্ঞান কম, আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের রোটেশনাল সিস্টেমে কি সবসময়েই বাংলাদেশ-পাকিস্তানকেই জুটি হতে হয়? এইটাই নিয়ম? পরিবর্তন হয়না? আর কীসের বেসিসে এই নিয়মটা?
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।
এটা সম্ভবত অঞ্চলভেদে নির্ধারণ করা। প্রথম লিংকে আছে,
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
দেখেছি লিংক, কিন্তু অঞ্চলটা কী করে ডিফাইন করলো ঐটাই ভাবছিলাম, পাকিস্তান তো বাংলাদেশের খুব কাছে না, ভারত-পাকিস্তান হলে কিছুটা বুঝতাম।
লেখাটা অনেক গোছানো হয়েছে।
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।
এর বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।
অসাধারণ বিশ্লেষণ
বিসিবি'র শুভবুদ্ধি হোক এই দুরাশা করছি।
ধন্যবাদ এই বিষয়টা নিয়ে লিখার জন্য। যেদিন পত্রিকাতে লোটাস কামালের মিটিং এর খবর দেখলাম সেদিন থেকেই বেশ কয়েকজনকে বলেছিলাম কেউ খুব একটা চিন্তিত মনে হলো না। হয়তোবা বাংলাদেশ দলের নিয়মিত ব্যর্থতায় তারা হতাশ ছিলেন!
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
_____________________
Give Her Freedom!
একটি মন্তব্য করতে গিয়ে দেখছি কোথাও এক জায়গায় ওয়ার্ড ভ্যারিফিকেশান করতে বলছে। কিন্তু পুরো পাতার কোথাও সেই জায়গাটি খুঁজে পাচ্ছি না...
খুবই গোছানো ও যুক্তিপূর্ণ লেখা
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
আমাদের ক্রিকেটদল পাকিস্তানে যাবে না।
যে দেশে দিনে দুপুরে মন্ত্রী-গভর্ণর খুন হয়, সেই অরাজক দেশে আমাদের ক্রিকেটারদের পাঠানো কোনওমতেই চলবে না।
------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।
এক দফা, এক দাবি,
লোটাস কামাল, তুই কবে জাবি?
এই সরকারের যে হারে শনির দশা চলতেছে, খোদা না করুক, পাকিদেশে দলের কিছু একটা হলে কী যে হবে!
অছ্যুৎ বলাইকে ধন্যবাদ, দারুন গোছালো আর সময়োপযগী হয়েছে লেখাটা, ফেসবুকে দিলাম।
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
-------------------------------------------------
ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !
আইসিসি মূলত বাংলাদেশের এই পাকিস্তান সফরকে সামনে রেখে ম্যাচ অফিশিয়ালবিষয়ক নোতুন নিয়ম চালু করেছে। অনিরাপদ সিরিজের জন্য আইসিসির নিউট্রাল ম্যাচ অফিশিয়াল দরকার হবে না। এছাড়া আইসিসি পৃথকভাবে পিসিবি ও বিসিবিকে জানিয়েছে, তারা এই ট্যুরকে ছাড়পত্র (গো অ্যাহেড) দিতে পারছে না। স্পষ্টতঃই আইসিসি এই ট্যুরকে অনিরাপদ মনে করে এবং তার আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদেরকে পাঠাবে না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সম্পর্কে এর চেয়ে ভালোভাবে বলা আইসিসির পক্ষে সম্ভব নয়।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করার ষোলকলা পূর্ণ করেছে বিসিবি সভাপতি। কি আর বলবো!!!
বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।
পাকিস্তানে আমাদের ক্রিকেটারদের মরতে পাঠানো যাবে না।
[আমার চারপাশ]-[ফেবু]-[টিনটিন]
অবশেষে লোটাস তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। দল নির্বাচন নিয়া ক্যাচালেই বুঝতে পারছে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দেরকে চাপ দিতে পারবে না।
কিন্তু পাকিস্তানী মুখপাত্র পাকি-আলু আবার বিসিবির গাদ্দারি নিয়া পিসিবির ক্ষোভ প্রকাশ করছে। পুরা নিউজটাই কোট করার মতো।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩
নতুন মন্তব্য করুন