ইনকাদের মেঘের দেশের নগরী:মাচু পিচু
মাচু পিচু শব্দটি নেটিভ আমেরিকান কেচুয়া (Quechua) জাতির ব্যবহৃত শব্দ যার অর্থ প্রাচীন পর্বত। পেছনে দণ্ডায়মান ওয়াইনা পিচু পর্বত শৃঙ্গ। ওয়াইনা পিচু অর্থ নতুন পর্বত। মাচু পিচুর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,৫০০ ফুট উচ্চতায়। মেঘের দেশে। অধিকাংশ সময় মাচু পিচু নগরী মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে বলে এমনকি উপর দিয়ে চলাচল করা বৈমানিকদেরও চোখে পড়েনা মাচু পিচু। স্থানটি আবিস্কারের পর থেকে মাচুপিচু সম্বন্ধে এমনসব বিস্ময়কর তথ্য জানা যাচ্ছে যে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন ৭ জুলাই ২০০৭ সালে মাচু পিচুকে আধুনিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ঘোষণা দেয়।
মাচু পিচু নগরীটি কোন ধ্বংসাবশেষ নয় বরং একেবারে অব্যয় ও অক্ষত অবস্থায় মেঘমালার দেশের এ নগরী কোন এক অজানা কারণে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। বর্তমান বিশ্বের কাছে ইনকা সভ্যতা বলতে মাচু পিচুর পরিচিতি সবচেয়ে বেশি। তাই প্রতিবছর পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটক মাচু পিচু দেখতে ছুটে যায় পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ৩৫৭ মাইল দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত কুসকো শহরে। কুসকো শহর ছিল প্রাচীন ইনকা রাজধানী। দীর্ঘকাল ধরেই কুসকো ইনকা রাজধানী ছিল। শেষ সম্রাট আটাউয়ালপার রাজধানীও ছিল কুসকো। স্প্যানীয়দের দখলের পরে ১৫৩৯ সাল থেকে ১৫৭২ সাল পর্যন্ত সম্রাট মানকো কোন এক অজানা দুর্গম পার্বত্য রাজধানী ভিলকা বাম্বা থেকে টানা তেত্রিশ বছর ধরে গ্যারিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, এবং ১৫৭২ সালে স্প্যানীয়দের হাতে বন্দী ও নিহত হন।
স্প্যানীয়রা মানকোর রাজধানী ভিলকা বাম্বা ধ্বংস করে দেয়। ভিলকা বাম্বার অবস্থান কুসকো শহর থেকে ৮১ মাইল পশ্চিমে গহীন অরন্যে যার বর্তমান নাম এসপিরিতু পাম্পা। হায়ার্যাম বিংগাম মাচু পিচু আবিস্কারের আগে ১৯০৯ সালে ভিল্কা বাম্বা তথা এসপিরিতু পাম্পা খুঁজে পান। তবে যেহেতু সম্রাট মানকো কাপাকের পতনের সাথে সাথে স্প্যানীয়রা রাজধানী ভিলকা বাম্বা জ্বেলেপুড়ে ছাই করে দেয় তাই বিংগাম রাজধানী বলে ধরে নেননি এসপিরিতু পাম্পাকে। হায়ার্যাম বিংগাম তার অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন এবং ১৯১১ সালে মাচু পিচু আবিস্কার করেন এবং মাচু পিচুকে ভিলকা বম্বা বলে ভুল করেন তিনি।
১৯৮০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক জিন সেভয় ও ভিনসেন্ট লি ও জন হেমিং এর গবেষণা থেকে অনুমান করা হয় এসপিরিতু পাম্পা ছিল শেষ মুক্তিযোদ্ধা মানকো কাপাকের রাজধানী ভিলকা বাম্বা। মাচু পিচু থেকে এসপিরিতু পাম্পা তথা ভিলকা বাম্বার দূরত্ব আনুমানিক আরও ৫০ মাইল (যাতায়াতের রাস্তার দূরত্ব নয়) পশ্চিমে সুউচ্চ বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত পার্বত্য উপত্যকায়।
কেউ কেউ মনে করেন মাচু পিচু কোন সম্রাটের নিজস্ব এস্টেট ছিল, কারও মতে এটা জেলখানা ছিল বা পবিত্র নারীদের স্যাংচুয়ারি ছিল। মাচু পিচু ছিল জোতির্বৈজ্ঞানিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেউ বলেন এটা ছিল যুদ্ধের জন্য স্ট্র্যাটেজিক্যালি ইমপর্ট্যান্ট গ্যারিসন যা ব্যবহৃত হত সম্রাটের গোপন রিট্রিট বা পিছু হটে পালিয়ে থাকার জায়গা হিসিবে। এক্ষেত্রে মনে করা হত পরাক্রমশালী সম্রাট পাচাকুটি তার রিট্রিট হিসেবে মাচু পিচু নির্মাণ করেছিলেন আনুমানিক ১৪৫০ সালের দিকে। মহামতি পাচাকুটি ১৪৩৮ সালে ক্ষমতায় আসীন হন। পাচাকুটি ছিলেন ইনকাদের সবচেয়ে পরাক্রমশালী সম্রাট। Quechua জনগণ মনে করত পাচাকুটির জন্ম হয়েছিল ইনকা সাম্রাজ্য শাসন করার জন্য। পাচাকুটি সম্রাট ছিলেন, উপরন্তু জনগণের আধ্যাত্মিক গুরু বা গডফাদারও ছিলেন তিনি।
সময় বদলেছে অনেক কিছুই বদলেছে। এখন কুসকো থেকে ট্রেনে যাওয়া যায় মাচু পিচু। এই টেন লাইনটি পৃথিবীর উচ্চতম ট্রেন লাইন। কুসকোর সান পেদ্রো ট্রেন স্টেশন থেকে (৭০ মাইল) ট্রেনে প্রায় চার ঘন্টার ভ্রমন।
মাচু পিচুর প্রস্তর স্থাপত্য
মাচু পিচু নগরকে বর্ণনা করতে প্রথমত দু’ভাগে ভাগ করে নেয়া যায়। কৃষি প্রান্ত ও নগর প্রান্ত।
নির্মাণশৈলী: অ্যাসলার (ashlar)
মাচু পিচুর বেশির ভাগ স্থাপনা নির্মিত হয়েছে আয়তকার পাথরের খণ্ড কোন প্রকার চুন, সিমেন্ট বা মাটির গাঁথুনি ছাড়াই পর পর গেঁথে। এভাবে স্বাধীনভাবে পাথর গেঁথে নির্মাণশৈলীকে অ্যাসলার বলে। অ্যাসলার ছাড়াও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে মাচু পিচুতে যা মাটির গাঁথুনি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাসলার তৈরিতে ইনকা জনগণ ছিল ওস্তাদ কারিগর। এটা তাদের নির্মাণ শিল্পের বিশেষত্ব। দেয়ালগুলো ভিত্তি থেকে উপরের দিকে কিছুটা সরু হয়ে উঠেছে। ফলে দেয়ালগুলো সোজা খাড়াভাবে তৈরি না হয়ে একটু হেলানোভাবে তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পাথরের ব্লকগুলোর বাইরের দিকটা মসৃণ করা থাকে। ভেতরের দিকটা বেশির ভাগ অমসৃণ হয়। একটা পাথরের সাথে আরেকটা পাথর এমনভাবে খাপ খাওয়ানো হয়েছে যে একটা চিকন ছুরিও দুটো পাথরের মাঝখানে প্রবেশ করানো সম্ভব না।
পেরু খুবই ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা স্থাপনাগুলোই বরং ভূমিকম্পে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কোন মর্টার ছাড়া তৈরি পাথরের ভবন ভূমিকম্প প্রতিরোধী। পেরুর কুসকো শহরে ইনকা আমলের কিছু স্থাপনা এখনও টিকে আছে যেগুলো অ্যাসলার ব্যবহার করে তৈরি।
দরজা জানালাগুলো ঘরের ভেতরের দিকে খানিকটা হেলানো। দেয়ালো বাইরের কোনগুলোয় রোমান L অক্ষরের মত কাটা পাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরের কোনাগুলো ততটা তীক্ষ্ণ নয়। পাথর কাটায় লোহার যন্ত্রপাতি বা পাথর ওঠানামায় দড়ি, চাকা, কপিকলের ব্যবহারের কোন চিহ্ন না পাওয়ায় তাদের নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য ঘণীভূত হয়েছে।
মাচু পিচু নগরীতে ১৪০ টি পাথরের স্থাপনা রয়েছে। বাসস্থান, মন্দির, স্যাংচুয়ারি (ধর্মীয় পবিত্র উপকরণ রাখার জন্য), পার্ক ইত্যাদি এসব স্থাপনার অন্তর্গত। একশ'টার মত সিঁড়ি আছে এখানে, যার কোন কোনটা সবগুলো ধাপসহ একটামাত্র গ্র্যানাইট কেটে বানানো। ১৬ টি পানির ঝরণা দিয়ে সম্পূর্ণ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে যেগুলো তৈরি করতে পাথর ছিদ্র করে পানির পথ করতে হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে মাচু পিচুর নগর প্রান্তে তিনটি ভাগ ছিল। সেগুলো হল ১। পবিত্র এলাকা ২। বসতি এলাকা ৩। উচ্চপদস্থ ও পাদ্রীদের এলাকা।
মন্তব্য
লেখা পড়ে তো আমার এখনই যেতে ইচ্ছে করছে
আশরাফুল আলম রাসেল
শেষ?? !!! আর কোন পোস্ট আসবে না?
ভাল্লাগ্লো......
এটা শেষ??? এবার তাহলে মায়া আসতেছে???
আমি ইন্তিহুয়াতানা স্টোন নিয়ে কিছু আশা করেছিলাম।
#ওসিরিস
ইনকা নিয়ে আরও কিছু লেখার বাকি আছে। শেষ হয়নি। মানে শেষ করতে পারিনি। চেষ্টা করছি যত শীঘ্র সম্ভব শেষ করতে।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
শুনে ভালো লাগলো। বাংলায় ইনকা আর মায়া সভ্যতা নিয়ে খুব ভালো কোন বই পাইনি। আপনার লেখা গুলো রেফারেন্স হিসেবে সংগ্রহে রাখছি।
#ওসিরিস
বহুদিন পর ইতিহাসের এই পাতাটা রিভাইসালাম। সব মোটামুটি মনে আছে দেখা যায়...
আচ্ছা, একটা প্রশ্ন। ইয়াংকি এক বেসবল টিম মাচুপিচুতে নাকি বিমান দুর্ঘটনায় আটকে পড়েছিলো ?? উদ্ধার করার পূর্বে নাকি তারা নরমাংস পর্যন্ত খেতে বাধ্য হয়েছে ক্ষুধার জ্বালায় ?? জানেন নাকি এর সত্যতা ??
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!
এই ব্যাপারটা নিয়ে মনে হয় অনেক আগের এক রহস্য পত্রিকায় একবার একটা প্রতিবেদেন এসেছিল
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।
আমি অনার্স কোর্সে যখন আমেরিকান ও এশিয়ান সমাজ নিয়ে তুলনামূলক তাত্ত্বিক আলোচনা পড়ছিলাম তখন একটা অধ্যায়ে এ দু'টো সমাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পড়েছিলাম প্রায় দশ বছর আগে। সে থেকেই আগ্রহটা ছিল। এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং এ নিয়ে লিখতে বেশ আগ্রহ বোধ করছি বলে আপনাদের সাথে যথাসম্ভব শেয়ার করছি।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
আমার জানা নাই (শব্দশিল্পীর মন্তব্যে)। তবে পর্বত চূড়ায় গহীন অরন্যে কেউ বিপদে পড়লে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তাদের বেরিয়ে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। কারণ এখানে গাছপালা এত ঘন সন্নিবিষ্টভাবে জন্মায় যে কোথাও কোথাও সূর্যের আলো পৌঁছোয় না।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
না ভাই, আমারি ভুল। এটা আন্দিজের একটা বিমান দুর্ঘটনা ছিলো। বই-পত্র খুঁজে আবার আজ বের করলাম।
পরে নাকি এই নিয়ে একটা বেস্টসেলার বই ও বেরিয়েছিলো। নাম ছিলো 'আন্দিজের বন্দী' ...
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!
ইশ্... একটা বিশ্বভ্রমণ দিতে পারলে ভালো হইতো...
লেখা ভালো লাগলো...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
আমারও তাই মনে হয়। ধন্যবাদ।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
ইনকা-মায়াদের প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে পড়ছি নিয়মিত...
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
একই কারণে ব্যস্ততার মধ্যেও লিখছি। সবগুলো আমেরিকান ইন্ডিয়ান জাতিই ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। তাদের উর্বর জমি আর খনিজ সম্পদ তাদের শত্রু। কিছুদিন আগে thunderheart নামক একটা ছবি দেখে আবারও মনে হল তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে ইউরোপীয়রা এদেশে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ইউরোপীয়দের আগমনের পূর্বে তাদের ইতিহাসকে অনেক ইতিহাসবিদ ডেলিবারেটলি ম্যানিপুলেট করেছে। কলম্বাসের আমেরিকা জয় এবং তাকে আমেরিকান হিরো হিসেবে যারা প্রতিষ্ঠা করেছে সেসব ইতিহাসবিদরাই তাদের ইতিহাসে নেটিভদেরকে খাট করেছে।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
আগের পর্বগুলোও পড়েছি। চরম আগ্রহের সাথে। এবারের লেখাটায় একটু তাড়াহুড়ো মনে হলো। সামনের বছর পেরু যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
হ্যাঁ, একটু তাড়াহুড়ো আছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে
এই সিরিজের সবগুলোই পড়া হয়ে গেছে দেখামাত্রই
কিন্তু কমেন্ট করা হয়নি
খুবই চমৎকার একটা সিরিজ
ইন্টারেস্টিং সিরিজ৷ পুরোটাই পড়েছি৷ এইটা একটু যেন দায়সারাগোছের লাগল৷ আরেকটু ডিটেলে সিরিজটা চললে ভাল লাগত৷
----------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'
সিরিজ লেখা কিন্তু একটানা পড়া যায়না, এটা পারছি। সেজন্য আগে রেটিং দিয়ে পরে মন্তব্য দিলাম। ভালো লাগলো। কোনএকদিন বেড়াতে যাবো আশা করি।
মাচু পিচু'র কয়েকটা ছবি। আমার বন্ধুর তোলা। আরো ছবি দেখার জন্য এই লিংকে যেতে পারেন।
পাথরের ঘরবসতি
পাথরের গাঁথুনি
ভেঙে পড়ছে গাঁথুনি, কিন্তু পাথরের কাটিংটা খেয়াল করেন।
পাথরের ঘর
ছাদহীন ঘর, যেমনটা লেখকের বর্ণনায় পড়লাম
অতি মনোহর দৃশ্য। দূরে সভ্যতার ভগ্নচিহ্ন। ছবিতে আমার বন্ধু।
উপরের ছবির ডিটেইল ভিউ
মনোরম মাচু পিচু
যেতে মঞ্চায়।
নতুন মন্তব্য করুন