১৯৯৮ সালের ঘটনা । আয়ারল্যান্ডের কেরী উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চল দিয়ে ভেসে যাচ্ছে ইংরেজ নৌবাহীনির একটি জাহাজ । ইংরেজ জাহাজের রেডিওতে একটা সংকেত পান সিগনালম্যান । আইরিশ নৌবাহীনির একজন সদস্য যোগাযোগের চেষ্টা করছে । তিনি সাড়া দিলেন নির্দিষ্ট সাং কেতিক ভাষায় । নিজেদের পরিচয় অদল বদলের পর কথা শুরু হল ।
আইরিশ : আপনাদের গতিপথ আমরা কিছুক্ষন ধরে পর্যবেক্ষন করছি । এই গতি পথে আমাদের সাথে সংঘর্ষ অনিবার্য । গতিপথ ১৫ ডিগ্রী উত্তরে ঘুরিয়ে নিতে অনুরোধ করছি । ওভার ।।
খবরটি জাহাজের ক্যাপ্টনেকে জানন হলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন গতিপথ ঘুরাবেন না । সেই মোতাবেক সিগনালম্যানকে নির্দেশ দেয়া হল আইরিশকে জবাব দেয়ার ।
ইংরেজ : অনুরোধ রাখা সম্ভব নয় । সংঘর্ষ এড়াতে আপনাদের গতিপথ ১৫ ডিগ্রী দক্ষিনে ঘুরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব করছি । ওভার ।।
এক সেকেন্ড বিরতির পরই ...
আইরিশ : negative । আবারো বলছি, আপনাদের গতিপথ ১৫ ডিগ্রী উত্তরে ঘুরিয়ে নিন । ওভার ।।
এই খবর কানে গেলে ইংরেজ জাহাজের ক্যাপ্টেন বেশ বিরক্ত হন । তিনি নিজেই রেডিওতে এসে নির্দেশ দিলেন এবার ।
ইংরেজ : আমি একটি ইংরেজ নৌবাহীনি জাহাজের ক্যাপ্টেন বলছি । আপনাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি আপনাদের গতিপথ ১৫ ডিগ্রী দক্ষিনে ঘুরিয়ে নিতে । ওভার ।।
আবারো মাত্র এক সেকেন্ড বিরতি দিয়েই ...
আইরিশ : আমাদের জবাব আবারো না-বোধক । সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য আপনাদের গতিপথ ১৫ ডিগ্রী উত্তরে ঘুরান । ওভার ।।
ইংরেজ জাহাজের ক্যাপ্টেন এবার রেগে উঠেছেন ভাল মত ।
ইংরেজ : আমি রাজকীয় ইংরেজ নৌবাহীনির দ্বীতিয় বৃহত্তম জাহাজ, এয়ার ক্রাফট ক্যারিয়ার (যুদ্ধ বিমান বহন কারী জাহাজ) ব্রিটানিয়ার ক্যাপ্টেন বলছি । এই মূহুর্তে আমি আরো দুইটি ডেস্ট্রয়ার ও আরো কিছু সাহায্যকারী নৌযান সম্বলিত একটি নৌবহর নিয়ে এগোচ্ছি । এই মূহুর্তেই আপনাদের গতিপথ ১৫ ডিগ্রী দক্ষিনে না ঘুরান হলে আমার জাহাজ এবং নৌবহরের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব । ওভার ।।
কিছুক্ষন চুপ থাকে আইরিশ । মনে হয় ধমকে বেচারা আইরিশ সিগনালম্যানের কলিজার পানি সরে গেছে - ভাবে ক্যাপ্টেন । কিন্তু না । মাত্র তিন সেকেন্ড পরেই জবাব আসে ...
আইরিশ : আমি কেরী উপকূলবর্তী বাতিঘর থেকে বলছি । ওভার ।।
মন্তব্য
এইটা আগে পড়েছি। তারপরও আপনার জন্য জাঝা
কি মাঝি? ডরাইলা?
ধন্যবাদ ।
বাতিঘর হোক আর উপকূলই হোক
আংরেজের সম্মানে গতিপথ মাত্র ১৫ ডিগ্রি ঘোরাতে পারে না?
বাঙ্গালি হইলে পারত হয়ত, আইরিশ বলেই পারল না । ওরা এখনো আংরেজদেরকে সন্মান দেয়ার ব্যাপারটা শিখে উঠতে পারেনি মনে হয় ।
- এনকিদু
- এইটাতো ঐ ট্রাক পাইলটের ব্রীজকে সাইড দেওয়ার মতো গল্প দেখি।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
ট্রাকের পাইলটতো ট্রাকের পাইলট, তাও আবার নেশার ঘোরে । এতো রাজকীয় ইংরেজ নৌবাহীনির দ্বীতিয় বৃহত্তম জাহাজ, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ব্রিটানিয়ার ক্যাপ্টেন । তার অধীনে আবার পুরো নৌবহর । হে হে জলপাইদের মত এদেরও বুদ্ধি মাঝে মাঝে হাঁটুতে নেমে যায় আর কি । এদেরকে কি নামে ডাকে ? নেভি বুলু ? নাকি গাঢ় নীল ?
- এনকিদু
-------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
শক্তিভরে মদমত্ত ইংরেজ...গাধা! মজা পেলাম পড়ে।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!
**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব
হা হা হা !
ইংরেজ ক্যাপটেনই ঠিক। সম্মান বলে কথা !
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
আগে শুনেছি। তবুও আপনার লেখায মজার মাত্রা ভিন্নভাবে পাইলাম। ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ
নতুন মন্তব্য করুন