রাগিবের পোস্ট থেকে দিগন্ত, তানভীর, আলমগীর, স্নিগ্ধার মন্তব্য হয়ে সুবিনয় মুস্তফীর নতুন পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টা বেশ জমেই উঠেছে। ভাল কথা আরো কথা টানে, আমাকেও টেনেছে। বারো হাত কাকুরের তের হাত বিচি হওয়া বাদ ছিল, কাজেকাজেই সে কাজে নামলাম। আমিও অর্থনীতিতে আনপড়্। কিন্তু লেম্যান হয়েও যখন রাজনীতি, ইতিহাস, ধর্মশাস্ত্র মায় সাহিত্য পর্যন্ত কথা চালাচালি চলতে পারে, তাহলে অর্থনীতি বা পেটশাস্ত্র নিয়ে বললে দোষ কী?
বিনিয়োগ, উন্নয়ন, সম্পদ পাচার ইত্যাদি রোগই বলি বা স্বাস্থ্যই বলি, তার লক্ষণ। মূল প্রশ্নটাকে এভাবে দেখতে চাই যে, আমাদের জাতীয় উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা কী এবং কেমন করে কী কী শর্তে তা হওয়া উচিত। আমি খারিজিপন্থি নই যে, বস্তু এলে না দেখেই রায় দেব, ইহা পরিত্যাজ্য। এমন সাহস নাই। তবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে নিও-লিবারেলিজমের উচ্চাশা ও অতিভক্তিতে কিছু সন্দেহ আছে।
বাংলাদেশে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বিনিয়োগ দুই রূপ নিচ্ছে: এক. ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই), এটা হয়ে থাকে দীর্ঘমেয়াদে উতপাদনশীল খাতে। দুই. ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই), এর দেখা সাধারণত মেলে অল্পসময়ে বিপুল মুনাফা কামানোর স্টক এক্সচেঞ্জে।
অনেক দেশেই এফপিআই বিরাট অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৭-৯৮ সালে এশীয় বাঘগুলো রাতারাতি ভেজা বেড়ালের দশাপ্রাপ্ত হলো এরই সুবাদে। যাহোক, মোবাইল বা ইপিজেড ও অন্যত্র যে বিনিয়োগগুলো হয়েছে বাংলাদেশে তা মূলত এফডিআই। আমার কথা আপাতত এর ফল নিয়ে।
বাংলাদেশে এফডিআই ঢুকবার প্রধান খাতগুলো এরকম : ক. মোবাইল ও সেবাখাত , খ. এনার্জি সেক্টর, গ. ইপিজেড এবং ঘ. ব্যাংক।
অনেকের সঙ্গে আমিও সতর্কভাবে একমত যে, মোবাইল-খাত অর্থনীতিতে কিছুটা গতি এবং বিপুল কর্মসংস্থান এনেছে। একে ভর করে বিজ্ঞাপন, মিডিয়াসহ বিরাট কালচার ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে গেছে ইত্যাদি। কিন্তু যে হরিলুটটা এটা করছে তার কোনো তুলনা হয় না। আজ আমরা গড়ে যে মিনিটে এক টাকায় কথা বলি তা যখন পাঁচ টাকা ছিল তখনও এই এর পেছনে তাদের ব্যয় হতো ১৫-২০ পয়সা। এখন বাজার বেড়েছে তাই হার কমেছে, কিন্তু মুনাফা মোটেও কমে নাই। তারা তা করুক কিন্তু লাইসেন্স ফি ছাড়া, শেয়ার মার্কেটে আসা ছাড়া, সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব দেয়া ছাড়া এটা আর কে করতে পেরেছিল? হ্যাঁ, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তারই নব্য ক্লাইভ কাম মীরজাফর কে তা বানান করে লিখলে গুনা হবে, তাই নাম নিচ্ছি না। আমি এদের চলে যেতে বলি না, বরং বলি সরকার এর থেকে প্রাপ্য রাজস্ব ও অন্যান্য ফি নিয়ে সেই টাকা দিয়ে শিল্প গড়ুক, কৃষিতে ভর্তুকি দিক। তবেই এর সুফল আমরা পাব, নচেত নয়।
এনার্জি: এক কথায় এনার্জি সেক্টরে পাছা উদোম করা ছাড়ের কারণে এফডিআই এখানে বিরাট সর্বনাশ করেছে। প্রথমত আমরা আমাদের গ্যাসের মালিকানা ও জ্বালানী নিরাপত্তা হারিয়েছি এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় তি করতে দিয়েছি।
ইপিজেড: ইপিজেডগুলোয় শ্রমিকদের দাস্যবৃত্তি বাদ দিলে কিছু কর্মসংস্থান হয়েছে এবং সরকার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চীন বা মালয়েশিয়ায় লাভের পঞ্চাশভাগই নানান সরকারি বাধার কারণে দেশের ভেতরেই থেকে যেতে পারে, আমাদের চলে যায় সিংহভাগ। উপরূন্ত অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে দেশীয় শিল্প-কাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে। অথচ খোদ আমেরিকা বা ব্রিটেনে এমনটি সম্ভব নয়।
ব্যাংক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জেফারসন বলেছিলেন, জনগণের বিত্তের তদারকি ব্যাংকগুলোর হাতে দেয়ার থেকে আহাম্মকি আর কিছু হয় না। আমি তার সঙ্গে একমত।
এই চারটা ক্ষেতের উন্নতির নমুনা এই যে, এখনও জাতীয় বাজেটের অর্ধেক টাকা আসে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যত্র দাসত্ব করা আমাদের শ্রমিকদের পাঠানো টাকা থেকে। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে এফডিআই যত আসে, চলে যায় তার থেকে বেশি। এসব প্রশ্নে না গিয়ে তাই, এফডিআইকে উপকারী বলা ধর্মবিশ্বাসের মতো হয়ে যায় না কি?
আমাদের এখানে যেভাবে বিনিয়োগ হয় তা আফ্রিকার মতো। আফ্রিকায় পাঁচশো বছর ধরে এফডিআই যাচ্ছে এবং আফ্রিকা আমাদের থেকে বেশি বিশ্বায়িত কিন্তু তার পরিণতি কী আজ? আফ্রিকার অর্ধেক মানুষ প্রায় সত্তর কোটি দিনে এক ডলারেরও কম আয়ে বাঁচে। এর প্রায় তিন কোটি মানুষ এইডস আক্রান্ত।
আমাদের দরকার ছিল ভারি শিল্পে বিনিয়োগ চাওয়া, দরকার ছিল উন্নত প্রযুক্তিঘন শিল্প আহ্বান করা। এবং দিগন্তের কথামতো দরকষাকষির মতো রাজনৈতিক মেরুদণ্ড অর্জন করা।
এফডিআই বিশ্বায়নের একটা চালিকাশক্তি। কিন্তু এর কল্যাণে ১৯৪৫ সালে যেখানে বিশ্বে ধনীদের ২০ শতাংশের সঙ্গে দরিদ্রদের ২০ শতাংশের আয়বৈষম্য ছিল ৩০: ১ এখন তা হয়েছে ৮২: ১ এবং এই ফারাক ক্রমশ বাড়ছে।
তাই এফডিআইয়ের মাল্টিপ্লাইয়ার ইফেক্টের এই নেগেটিভ কনসিকোয়েন্সেসের দিকেও নজর দেয়া চাই। সুবিনয়ের বিগ পুশ মডেলের মধ্যে কৃষি ও শিল্পের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সমীকরণটি কোথায়? কৃষকের হাতে টাকা এলে সে শিল্পের পণ্য কিনবে, ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার প্রসারিত হবে। ফলে শিল্প শক্ত ভিত্তি পেয়ে বিশ্বেও প্রতিযোগিতা করবে। হ্যাঁ, মোবাইল ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনছে যোগাযোগের গতি বাড়িয়ে। ইংরেজ যখন রেললাইন আনে তখনও তেমন হয়েছিল। কিন্তু আখেরে ফল কী হয়েছিল, মনে আছে? বিপুল সম্পদ পাচার হয়েছিল এবং যে ভারতবর্ষ ১৮১৮ এর আগে ছিল বিশ্বের বৃহত রপ্তানিকারক দেশ সে হয়ে পড়লো বিশ্বের বৃহত আমদানীকারক দেশে। উতপাদনী ভিত্তি ধ্বংস হয়ে গেল।
দুনিয়ায় একটা দেশও পাওয়া যাবে না, অবাধ-অনিয়ন্ত্রিত বিদেশী বিনিয়োগে উন্নত হয়েছে। জাপান মেইজি যুগ থেকে কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিল্প ভিত্তি গড়ে তোলে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরও সেই নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করে দূর্বল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে। চীনের কথা আগে বলেছি। ভিয়েতনাম বা কোরিয়াও কিন্তু রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের মডেল। দৃঢ় ভিত্তি অর্জনের পরই তারা কিছুটা খোলা করেছে বাজার কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন নয়। আর আমরা ৩০ বছরের কাঠামোগত সংষ্কার কর্মসূচি শেষে এখন আইনও পাল্টাচ্ছি, যাতে কোনোভাবে বিদেশি কোম্পানির লুণ্ঠনে বাধা না আসতে পারে। ফুলবাড়ীতে রাষ্ট্র যখন কৃষিজনপদ ধ্বংস করে রপ্তানির জন্য কয়লালুণ্ঠনে মদদ দিচ্ছে তখন সেখানকার মানুষ জীবন দিয়ে তা রা করেছে। আমাদের রাষ্ট্র আমাদের নয়, আমাদের শাসকরাও আমাদের নয়। তারা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার ইউনিয়ন পরিষদ আর আমাদের শাসকরা তার চেয়ারম্যান। আমার মন্তব্য সেই বিশ্বায়িত মধ্যবিত্তের দিকে, যারা সার্ভিস সেক্টর বুম দেখে কিন্তু পাটখাতের ধ্বংস, কৃষির পুনঃঔপনিবেশিকরণ, শিল্পভিত্তি নড়বড়ে, খনিজ লুণ্ঠন দেখে না। দেখে না যে, ভারতে এসব ঘটছে বিরাট এক শিল্পভিত্তির পাশাপাশি। আমরা যদি স্বেচ্ছায়ও বিদেশিদের এসব দিয়ে থাকি, সেটা আমাদের সাংস্কৃতিক দূর্বলতা। এই দূর্বলতা ঘটাবার জন্যই বিরাট কালচার ইন্ডাস্ট্রি ও গবেষণা বাণিজ্য চালু রাখা হয়। বড় করা হয় মধ্যবিত্তকে, যারা সম্পদ লুণ্ঠনের দূতিয়ালি করবে এবং নিজভূমি আজন্ম পরবাসী হয়ে গরিব আর লুণ্ঠকের মাঝখানে বাফার জোন বানাবে। আর তা না চললে পাড়ি জমাবে বিদেশে।
গার্মেন্ট বিদেশি বিনিয়োগের সাহায্য নিয়েই হয়েছিল ঠিক, কিন্তু কেন তার ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ তৈরি করে তাকে স্বয়ংস্বম্পূর্ণ করা গেল না? কেন তাতে রাষ্ট্রসহ এডিবি, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক ত্রয়ীর বাধা? বিষয়টা কেবল তত্ত্বে ঘটে না, রাষ্ট্রীয় দমন, অবরোধ এমনকি বৃহত পুঁজির দারোয়ান স্থানীয় সেনাবাহিনীকে দিয়ে ১/১১ ঘটানো পর্যন্ত ঘটে। আশির দশকে মার্গারেট থ্যাচার বলেছিলেন, টিনা'য় (দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ) ইমান আনো। সেই টিনা হলো মুক্তবাজার এবং বিদেশি বিনিয়োগ। কিন্তু আজ কৃত্রিমভাবে খাদ্যশস্যের দাম বাড়ানো এবং ফটকাবাজি করে তেলের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরও কী বলবো দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ?
শেষ করি রাগিবের লেখার উধ্বৃতি দিয়ে:
তাই বাংলাদেশের মোবাইল ফোন আর তার কল্যাণে গাড়ি বাড়ি হাঁকানো প্রকৌশলীদের চকচকে চেহারা দেখে ভয় হতে থাকে, গাড়ির কাঁচের ফাঁক দিয়ে কেনো যেনো দেখতে পাই ছিবড়ে হয়ে যাওয়া কলিমুদ্দিনের রক্ত চুষতে থাকা নরওয়েজীয়/জাপানী/মিশরী ভ্যাম্পায়ারগুলোকে। নীলচাষীদের রক্তখেকো নীলকরেরা লজ্জ্বায় মুখ লুকোয়, কিন্তু হায়, দীনবন্ধু মিত্র কোথায় আজ, নীল দর্পন কে লিখবে?
আজ আপাতত এই-ই। ধন্যবাদ।
হ্যাঁ, আমি সংশোধন করে নিচ্ছি অরূপ।
তড়িঘড়ি লিখে বাসায় এসে আপনার কমেন্ট পড়ে দেখলাম, মোবাইল নিয়ে কোনো পজিটিভ কথা বলা হয় নাই। এখানে এক কথায় বলে রাখি, এর পার্শ্বফল যে কিছু কর্মসংস্তান এবং সামাজিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি তা ঠিক। কিন্তু এটা গুণগত কিছু নয়, কিন্তু উপেক্ষণীয়ও নয়।
এর বাইরে ভূমিকায় যেটা বলেছি,
তবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে নিও-লিবারেলিজমের উচ্চাশা ও অতিভক্তিতে কিছু সন্দেহ আছে
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
অরূপ,
আমাকে ডিফেন্ড করার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তবে ফারুক ভাইয়ের সাথে আমার ভালো সৌহার্দ্য আছে বলেই আমি ভাবতে পছন্দ করি। উনি অর্থনীতির লোক না হয়েও যেই পরিমাণ খোঁজ খবর রাখেন যেই পরিমাণ কেয়ার করেন, সেটা কয়জন করে? ওনার মতাদর্শ আমার থেকে ভিন্ন। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি যে পাবলিক যাই ভাবুক আমি pure capitalism-এ বিশ্বাস করি না, কখনোই করিনি। নিওলিবারেল তো একেবারেই না! আমার গুরু হিসাবে আমি জর্জ অরওয়েল-কে মানি যিনি 1984 আর Animal Farm লেখা ছাড়াও স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফ্রাংকোর বিরুদ্ধে সোশালিস্টদের সাথে লড়েছিলেন। এবং সারাজীবন ন্যায়ের পক্ষে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে লিখেছেন।
যাই হোক, ফারুক ভাইয়ের সাথে আমার মূল তফাত হলো আমি বিশ্বাস করি glass is half-full, উনি দেখেন glass is half-empty. উনি যতবারই বোঝান যে বাজারের জন্যে সব রসাতলে যাচ্ছে, আমার হাতও প্রতিবারই নিশপিশ করে ডজনখানেক লিংক দিয়ে প্রমাণ করে দিতে যে আফ্রিকায় গত ৫ বছরে কেমন তড়িৎ উন্নয়ন হচ্ছে বা বাজারের সঠিক প্রয়োগের কারনে অন্যান্য দেশ আমাদের থেকে কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
যাক, ডায়ালগটাই আসল। শাহবাগের গুজবিত কাহিনী শুনে হাসি পেলো। এতদূর দেশে থেকেও যদি গালিগালাজ খাই, সেটাকে badge of pride হিসাবেই দেখে নেব! তবে অর্থনীতি আর উন্নয়ন বলতে আমি যা বুঝি, তা নিয়ে তো আর লেখা বন্ধ হবে না। আজিজ়ীয়রা চান কি না চান
সকলকে ধন্যবাদ।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর
আপনি আর কী, আমারই আপনার এবং সুবিনয়ের মন্তব্যের ধার ও সৌন্দর্য দেখে হাততালি দিতে ইচ্ছা হচ্ছে। এটাও বলতে ইচ্ছা করছে, আপনার এই ঝাঁপিয়ে পড়ায় আলোচনাটা আর এগোবে না।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
এই বিশ্ব-ব্যবস্থাই ইতিহাসের শেষ ধাপ নয়। দুনিয়ার এভাবে চলা সম্ভব নয় আর বেশিকাল।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
সত্যি কথা সহজ করে বলাটাই ভালো ।
তত্ব ও তথ্যের জালে না জড়িয়েই সোজা সাপ্টা ধরে নেয়া হলো বিদেশী বিনিয়োগের ফলে দেশের বিরাট লাভ হলো । আমার সোনাদিয়া দ্বীপ বাহরাইনের রাজপুত্র লীজ নিলো,ক্যাসিনো হলো বিরাট স্বর্গ গড়ে উঠলো। সেই স্বর্গে আমার প্রবেশাধিকার থাকবেনা, কেনো থাকবেনা সেটা নিয়ে ও না হয় প্রশ্ন তোললাম না ।
সবকিছু মেনে নেয়া হলো এই নিশ্চয়তা পেয়ে যে, এসবের ফলে কাড়ি কাড়ি বিদেশী অর্থ আসবে দেশে ।
আসলো ও । কিন্তু তাতে আমার কি হলো?
এই বিদেশী বিনিয়োগের টাকায় সংসদ ভবন আরো আলোকিত হলে, সেনাবাহিনীর জন্য আরো আধুনিক অস্ত্র কেনা গেলে, পোলাপাইনের পকেটে পকেটে আইফোন থাকলে-এটাকে বলা হবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন?
হাসপাতালে ঔষধের প্রাপ্যতা বাড়বে তো? সারের দাম একটু কমবে? সেচের সময় বিদ্যুৎ মিলবে? চাষের জমি হারিয়ে পরাজিত সৈনিকের মতো মাথা হেঁট করে কৃষক এসে ভীড় করবেনা শহরে তার শ্রম বিক্রী করতে?
যদি হয় এইসব তাহলে বিদেশী বিনিয়োগ হোক, শুধু সোনাদিয়া কেনো পুরো মানচিত্রই কেউ লিজ নিয়ে যাক ।
-------------------------------------
বালক জেনেছে কতোটা পথ গেলে ফেরার পথ নেই,
-ছিলো না কোন কালে;
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এইসব ক্ষুদে শাদ্দাদের বেহেশতকেই উন্নতি ঠাউরাতে হবে। এবং জিকির করতে হবে। না করলেই বামপন্থি। আরে শাদা চোখে দেখা যায়, কারা উন্নতি করছে। তারাই উন্নয়নের ভেল্কি দেখিয়ে বলে বিশ্বায়ন এসে গেছে, বাচ্চা লোক তালিয়া বাজাও। ক্যাসিনো ইকোনমি, বিনা পয়সার চিপস বানিয়ে কয়েকশ গুণ লাভ করা, যুদ্ধ, পর্ণোগ্রাফি আর ফটকাবাজির অর্থনীতির দুর্গতিকে বলতে হবে প্রগতি। এয়া ক্যামন মশকরা?
পরিসংখ্যান দিলে বলে, সোর্স ঠিক করো, সোর্সসহ দিলে বলে সমাজতন্ত্রী কী আজিজ মার্কেট। আরে বাজার ব্যবস্থার ব্যর্থতা দেখালেই কি বামপন্থি হতে হবে নাকি? কয়টা মোবাইল দেশের লোকের হাতে পড়েছে আর এলান হলো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও এগিয়ে যাচ্চি। গাজি ট্যাংক আরকি!
: আজকের প্রথম আলোতে আছে: সিপিডির মতো বিশ্বব্যাংক লাইনের গবেষণা সংস্থাও বলছে, গত আড়াই বছরে দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাওয়া লোকের সংখ্যা শতকরা সাড়ে আট শতাংশ বেড়েছে। এই তথ্যটাকে ব্যাখ্যা করা দরকার না?
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
আমরা আসলে প্রতিক্রিয়াশীলতা বলতে কী বুঝি? বুঝি যখন কোন নির্দিষ্ট সময়ে বর্তমান কোন ব্যবস্থা বা অবস্থার সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠি তার ঐ মুহুর্তে প্রাপ্ত সুবিধায় টান পড়ার আতঙ্কে পরবর্তী পরিবর্তন অথবা ঐ সময়ে বর্তমান ব্যবস্থার যেকোন ধরণের সমালোচনার বিরুদ্ধে মহাজন সমর্থিত গরম সহকারে আস্ফালন করে ওঠে। সেই দিক থেকে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা সমাজতন্ত্রের(আমার মতে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের) স্থবীর দশার আমলারা আর পার্টির নেতা কর্মীরাও প্রতিক্রিয়াশীল। সমস্যা সেখানে না। সমস্যা হচ্ছে পুঁজিবাদের ড্রাগনের হিংস্রতর হওয়া বন্ধ হয়নি। সেটার মধু যারা খাচ্ছে তাঁরা সর্বদা আতঙ্কিত থাকে এই বুঝি তাঁর মধুর ডিব্বা কেউ নিয়া দৌড় দিলো। এইটা অস্বাভাবিক কিছু না। পেটের টানেই তো ওয়াফাদারী নাকি? পুঁজিবাদী সম্প্রসারণের যেকোন ধরণের সমালোচনা তাই কেন্দ্রীভবনে মনোপোলাইজ করা কোন কোম্পানির ওয়াফাদার কর্মচারীর আঁতে কুটুস করে ঘা দেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে তো ঐ ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ থাম্বে না কত্তা! ক্ষতিগ্রস্থেরও কিন্তুক বহুৎ স্তর আছে। কর্পোরেট কাঠামোর মাঝামাঝির নিচের দিকে ঝুলতে থাকারাও লাভের খাতার হিসাব নিকাশে ক্ষতিগ্রস্থ। (যারা গোয়ার ব্যাথা টের পায় না তারা হয় আভাইগা নাইলে সিরিয়াস মানসিক রোগী।) এদের গোয়ায় অ্যানাস্থেশিয়া দিতে পারো নতুন নতুন পণ্য ব্যবহার করাই আধুনিকতা ইত্যাদি কইয়া। কিন্তু কতক্ষণ? তুমি যতই বেতন দেও না ক্যান গোয়া যে মারা হইছে এবং প্রতিমুহুর্তে হইতেছে সেইটার রেকর্ড শেষ পর্যন্ত থাইকা যাইতাছে। সুতরাং সে চান্স পাইলেই চিল্লাইবো। সেই চিল্লানি সকলের ভালো লাগবো না সেইটাই স্বাভাবিক। সেইক্ষেত্রে বরং ভালো কায়দা হইতেছে বিষয়টারে তর্কাতর্কির দিকে আরো বেশী কইরা ঠেইলা দেওয়া তাতে অন্তত দৃশ্যত কয়েক কূল(সবকূল না) রক্ষা পায়। যেইটা সত্তরের তেল সঙ্কটের সময় ভিলি ব্রান্ডট্ করছে, আরেক্টু অন্য কায়দায় ঐ সময়টারেই মিতেরঁরা ক্যাপিটালাইজ করছে। কিন্তু যেইখানে দারিদ্র্য মানে হাড্ডিসার মানুষের বুভুক্ষা সেইখানকার মহাজনরা ঐ কালচার ফলো করতারে নাই। তারা ধইরা দিছে মাইর। চড় থাপ্পড়ে কাম না হইলে গণহত্যা। তো সেইসব দেশের যেই সব ভাগ্যবান শিম্পাঞ্জি কোনভাবে বড় মাহাজনের বেশী বেতনের চামচা হয় তারা কোনমতেই দেখা যায় জোতদারী ছাড়তে পারে না। মহাজনের বাড়ির বিলাইরে গাইল দিলেও দেখা যায় তার কইলজায় লাগে।
এখন কথা হইল, লাগলে কী করা যাইবো? কখনো হয়তো ব্যক্তিগত পরিচয় থিকা আপনার মাতমে চমৎকৃত হইয়া (মর্মাহত না) আমি কইলাম, না রে ভাই কান্দিস না মাথু মহাজনের বিলাই অতীব রূপবতী। তাতে কি কিছু হইল? বিলাই শেষমেষ বিলাই ই থাইকা গেল। মাঝখান থিকা কমদামী মদের আড্ডায় আপনে বা আপনারা (মহাজন আর তার চামচারা) স্যটায়ারের কেন্দ্রীয় চরিত্র হইয়া বাধিত হইলেন। এই যে দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটার কথা কইলাম এইটা ঠেকানোর কোন কায়দা আপনার বা আপনার সহকর্মী-সহমর্মীদের বেতনদাতা জানেনা। খুব খিয়াল কৈরা।
সুতরাং মহাজনের আক্রমনের সমালোচনা হৈবো, না হৈবো না এইটা কোন অবস্থাতেই মহাজনের নিয়ন্ত্রণভুক্ত বিষয় না। অনেক মহাজন সেইটা মনে করে এবং ভুল করে। ইনভেস্ট করলে আর বেতন দিলেই মগজ কেনা যায় না। যে আইজকা বিক্রি হইলো বা হইবার ঢং দেখাইলো সে আসলে যে কোন দিন যে কোন মুহুর্তেই ল্যাং মারতে পারে কায়দা মতো। তার ল্যাং মারা কারণ আপনেই সৃষ্টি কইরা রাখছেন লাভের চাক্কা মরাফত।
মোবাইল টেলিফোন দেশে আইসা যোগাযোগের ব্যপ্তি হইছে সত্য। প্রকৌশলীরা চাকরি পাইছে, ফরফর কইরা ইংলিশ কওয়ারা টু'রে ঠু কইয়া একধরণের ইনফারা এশটারাকচার বানাইছে তাও সইত্য। মানে হইল আরো কিছু লোকের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো হইছে। এইখানে লাভ কিন্তু একটাই। সেইটা হইলো যোগাযোগের ক্ষেত্র বড় হইছে। তো যোগাযোগের ক্ষেত্র বড় হইলে বাকি সব পণ্যের মতো তথ্যের সরবরাহও বাড়বো। আর সেইখানে তথ্য নামের পরিভাষার আড়ালে মহাজনের পছন্দ নিরপেক্ষ উপকরণও সরবরাহ হইবো। তাই না? এই দুই নম্বর পয়েন্টটা তো আপনে মহাজন এই খাতে টেকা লাগানোর আগে লোকে ছাপা লুঙ্গী পড়তো কি না ইত্যাদি সামাজিক ছবি দিয়া চাপা দিতে পারবেন না! তার মানে কি? মানে হইলো আপনের বসে গোয়ামারতে ভালোবাসে ভালো কথা, কিন্তু যে মারা খায় সে মুখ খুললে আপনে চুপ থাকেন। নাইলে কোনদিন গ্যাংব্যাঙে পড়েন ঠিক নাই..........
সুমন চৌধুরীর মন্তব্য পড়লাম, তবে কারে তিনি মহাজন আর মহাজনের চামচা হিসাবে চিহ্নিত করলেন, হলফ কইরা কইতে পারলাম না। যাউজ্ঞা, এই যে আদ্যিকালের একটা রব - 'আমরা ভিক্টিম! আমরা ভিক্টিম!' - এই জিনিসটা আর কয়দিন চলবো, সেইটাই চিন্তা করি। কাছের দেশের লোক যদি পারে দুই প্রজন্মের ভিতরে গরীবের তকমা ফালায় দিতে, তাইলে আমরা কেন পারি না, সেইটাও ঠিক বুঝি না। এই তলায় পইরা থাইকা 'বিপ্লব বিপ্লব' চিল্লাইতেই মনে হয় বেশি আরাম।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর
ছিল একটা রুমাল হয়া গেল বিড়াল। ছিল মোবাইল হয়া গেল ঢিল। আলোচনা এতক্ষণে পাশের দ্যাশ পর্যন্ত আসছে। এখন দেশে ঢুকে গেলেই একটু দেশি ভাইয়ের মতো আলাপ-সালাপ চলতে পারে। সুকুমার রায়ের হযবরলতে একজনের আর্ধেকটা বাঘে খেল, বাকি আর্ধেকাটা সেই দু॥খে মারা গেল। এখন অরূপের হয়েছে সেই অবস্থা। আমি একে বলব ভীমাবস্থা। ভীম কোনো অমঙ্গল করতে চান নাই, কিন্তু তাঁর মনে হয়েছে এই জগতের ভার তাঁহার ওপর। তাই সকলের হইয়া লড়াই করিতে গেলেন আর আরো অনিষ্ট করিলেন। এনার ধরেছে সেই দূরাশায়।
তাই বলেই ফেলেন,
আমি আপনার আর সুবিনয়ের "বিনিময়" খেয়াল করছি বহুদিন ধরে। আপনার ঘোড়া একটু বেশী চঞ্চল হয় সুবিনয়ের গন্ধে । মনে হয়েছে সেই পুরোনো খেলার আরেক ইনিংস হয়ে যাচ্ছে আজকে
ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন:
হ্যাঁ আছেই তো এবং এই বলাটা দোষণীয় নয়... নিওলিবারেল অর্থনৈতিক মতবাদটা ঠিকই আছে আমি মানছি না[ quote]
পরপরই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন,
বুঝলাম, আপনিই ঠিক, বাকিরা ভুল। নাকি অন্য কিছু?
অথচ আমি বলেছি,
তবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে নিও-লিবারেলিজমের উচ্চাশা ও অতিভক্তিতে কিছু সন্দেহ আছে
হ্যাঁ আছেই তো এবং এই বলাটা দোষণীয় নয়। কিন্তু ভুল হতে পারে দুটো ক্ষেত্রে: হয় নিওলিবারেল অর্থনৈতিক মতবাদটা ঠিকই আছে কিন্তু আমি মানছি না বলে। নতুবা সুবিনয়কে এর সঙ্গে একাকার করে দেখার ভুল ঘটিয়েছি বলে। আপনি কোনটার কথা বললেন বুঝলাম না। আমি সুবিনয়ের লেখার এবং বিশ্লেষণের সমঝদার।
এখন বলেন ক্যামতে কী?
ঘটনা নিয়া কথা বলেন, জায়গায় দাঁড়াইয়া আওয়াজ দিব। ফাও ঝোলাঝুলি করেন ক্যালায়? এই খানে আলোচনা করা বৃথা। তাই এক খান গল্প বলি,
এইটা মাও সে তুংয়ের গল্প।
মাও বলেন যে, ঘরের কোণার ওই বেড়ালকে মরিচ খাওয়াবে কীভাবে। এক কমরেড দুধের মধ্যে মরিচ ভর্তি করে দিল। বেড়াল খেল না। তারপরে মাছের মধ্যে মরিচ পুরে দিল আরেকজন। বেড়াল মাছ থেকে কাঁটা বেছে খায়, আর মরিচ! এবার আরেক তরুণ গিয়ে বেড়ালের পাছায় মরিচ ঘষে দিয়ে আসল। এবং বেড়ালটা কিছুক্ষণের মধ্যে সেই মরিচ জিভ দিয়ে চেটে চেটে খেল। যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ডিফেন্ড করা হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো কথা না বলে সেটাকেই কি আরো বিপন্ন করা হলো না? তো এই হল দেশের অবস্থা। কী করা যাবে?
এখন ইতিবাচকতার ঢেউ লেগেছে। আগুনের মধ্যে বসিয়া পুষ্পের হাসি হাসতেই হবে। এবং প্রতিষ্ঠিকে পূজা করতে হবে। রূপকথায় ইমান আনতে হবে। ব্যাপারি বৃক্ষ দেখলে কাঠ দ্যাখে ইনারা অর্থনীতি দেখলৈ তার কেন্দ্রে মুনাফা বসাবেনই। এইটা অব্যর্থ! কিন্তু ওয়াজটা কিঞ্চিত শীতকালে করা হচ্ছে যে! চালের দাম পঁয়তাল্লিশ টাকা। ঢাকা শহরের ফুটপাথ ভরে যাচ্ছে তাজা তাজা গরিব মানুষে। এখনও তাদের গায়ে গ্রামের তাজা ঘাম শুকায় নাই। আর আসন্ন বন্যায় যখন আরো লোক আসবে আর না খেয়ে থাকবে তখনও মোবাইলের বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে. মাঝ রাত্রিরে দুই তরুণ পালিয়ে যাবে রাতের গোপন অভিসারে। কিংবা বিজ্ঞাপনে আমাদেরই কারো ছবির নীচে লেখা থাকবে, শিপনের ছোট ভাই আমাদের কাস্টমার ম্যানেজার। আহা জীবনটা এমন রঙ্নি নাকি? এনে দ্যান চেখে দেখি।
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
আরো ঘাঁটুন আরো পাবেন। আপনি আপনার সমগ্র মন্তব্যে বিষয় নিয়ে একটা কমেন্টও না করে একের পর এক আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে মেতে আছেন তো আছেনই। এবং এ কাজে নানান জনকে জড়ানোরও চেষ্টা করছেন। আমি সে পথে যাব না। আমার উক্তিতে কিছুটা ঝাঁঝ থাকার জন্য আমি স্নিগ্ধার কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছি। কিন্তু আপনার দ্বিতীয়বার তা প্রাপ্য নয়।
তবে ঠিক ধরেছেন, যুক্তি ও চিন্তা নিয়া আমার কবারবার এমনকি তার ত্রুটি ধরিয়ে দেয়াও, আর আপনার কাজ আপনি বলেছেন, চরিত্রবিচার। আপনি মনুষ্য চরিত্র বিচার করিতে থাকেন, একদিন কামিয়াব হইবেন।
কিংবদন্তী আছে যে, একবার ক্রিকেটের প্রবাদপুরুষ ডব্লিউ জি গ্রেস অন্যায়ভাবে কিংবা সঠিকভাবেই (এ নিয়ে বিতর্ক এখনো জারি আছে) আউট হয়েছিলেন। তখন তিনি অ্যাম্পায়ারকে বলেছিলেন, দর্শকরা খেলা দেখতে এসেছে, অ্যাম্পায়ারগিরি দেখতে নয়।
আপনাকেও শুধাই এই চাকরি আপনি কীভাবে পাইলেন?
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
সেটাই তো দেখছি, বিষয়ের ভেতরে এ ইঞ্চি না ঢুকেও আলোচনা করার মারেফতি আমার জানা নাই। সে পথে হাঁটবার জন্য আপনার আরো কোশেশ করার সামর্থ্য আসুক।
ও হ্যাঁ, আলোচনা করতে চান না তাতো গোড়া থেকেই বুঝতে পারছি, তাইলে কেন বারবার আছাড়ি-পাছাড়ি খেয়ে পড়ছেন? আমি তো আপনাকে আর নিচ্ছি না, সেটা দেখতেই পারছেন না কেন? কেন ভাই আপনি তো আর পাহাড়ের ঢাল থেকে গড়িয়ে পড়েন নাই। একটু থামতে শেখেন।
আপনাকে আবার একটা গল্প শোনাতে মন টানছে।
এক ভদ্রলোক বাজারে ঢুকতেই আরেক লোক এসে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, ’ভাই আপনি কি জাপানি?
: না তো?
: না, আমি ভেবেছিলাম আপনি জাপানি।
এই বলে উটকো লোকটা চোখ টিপে চলে গেল।
ভদ্রলোকটি তখন সব্জির বাজার ছাড়িয়ে মাছ কিনতে ঢুকেছে। সেখানেও সে হাজির। জামা টান দিয়ে পেছন থেকে বলে,
: না ভাই, সত্যি করে বলেন আপনি কি জাপানি?
: বললাম তো, আমি জাপানি না?
উটকো লোকটা আবার কেমন করে তাকিয়ে চলে গেল।
এরপর বাজার শেষে ভদ্রলোকটি যখন সে চলে যাবে তখন সে আবার হাজির। এবার কোনো ধানাইপানাই না করে, একেবারে হাত টেনে ধরে বলে,
: না না, বলতেই হবে আপনি জাপানি, ঠিক না?
এই শুনে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে বাজারি লোকটা তাকে ঝাঁকুনি দিয়ে সরিয়ে দিল। ঝাঁকুনির ধাক্কায় নাকি পলকা ছিল বলে লোকটা শেষমেষ পড়ে গিয়ে কাঁদতে লাগলো, ‘আমাকে মেরেছে রে!’
যথারীতি লোক জমল কিছু হল্লাচিল্লা হল। এবং লোকজনকে সে বললো যে, জাপানি কিনা জিজ্ঞাসা করায় ঐ ভদ্রলোক তাকে ফেলে দিয়েছে। একজন এসে তখন ভদ্রলোককে জিগায়, ‘তাই তো ভাই, বললেই হয় যে, আপনি জাপানি কি-না!’
এখন ভদ্রলোক কী করে, হতাশার শেষ প্রান্ত থেকে সে বলে উঠলো, ’হ্যাঁ হ্যাঁ আমি জাপানি। হইছে!’
এইবার আদন্ত বিকশিত হলো সেই উটকো লোকটা। মাটি থেকে উঠে অমায়িক ভাবে সে বলে,
‘না ভাই, আপনাকে দেখে কিন্তু মনেই হয় না যে. আপনি জাপানি।’
তো এই হলো কাণ্ড। আর যাহা তাহা বলিবার নহে...সকলই জানেন বিধি। ওমা, বিধি দেখি আবারো বাম।
শুভেচ্ছা এবং আখেরি বিদায় অরূপ। টাটা বায় বায়।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
ধন্যি আপনার অধ্যাবসায়। 'বায় বায়' কে 'বাই বাই' না করে দিলেও আপনার চলে না। এই অধ্যাবসায় যদি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ভাল বা মন্দ এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও তেল সংকট ও মন্দা আসার পেছনে মুক্তবাজারের একস্ট্রা মার্কেটীয় হস্তক্ষেপ ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনায় নিয়োজিত করতেন, তাহলে আমরা কিছুটা উপকৃত হতাম।
আমি ভাল বা মন্দের বাইরে, সাদা ও কালোর মধ্যিখানে ধুসর অঞ্চলে বাস করি। এইটা আমার স্টেটমেন্ট।
বাই দ্য ওয়ে, আছেন কেমন?
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
সিদ্ধান্ত নিলাম এখন থেকে আপনার সাথে খালি ত্যাড়ামিই করুম... আর কোনও সোজামি না...
(আমি চোখ টিপি দেওয়া ফটো দিতে অপারগ)
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
মনে হওনের তো কিছু নাই... দিতে থাকেন। (এইখানে চোখ টিপি)। আর রেডি হন পইড়াই খুশিতে আটখান হইছিলাম... পরে দেখি প্রুফ দেখনের জন্য... ঠিকাছে... সেইটার জন্যও প্রস্তুত... পাঠায়ে দেন। আর কবে জানি ঢাকায় আসতেছেন আবার? (এইখানেও চোখ টিপি)
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
খাওয়াবেন কিন্তু কলাম
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
আমারো জ্বর ছেড়ে যাচ্ছে মনে হয়। মনে হয়, দেশটা ময়রার ভিয়েন আর 'কেমন আশার মতো মনে হয় রোদের পৃথিবী'। আর দেখেন ক্যামন হাসিয়া উঠিতেছি।
যান- সব কিছু পাল্টায়া ফেললাম, কেবল নামটা এইটাই থাকুক নাকি : 'ফারুক ওয়াসিফ'?
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বরের কথা মনে আছে? ১৮ তারিখে খবরের কাগজে আহতদের তালিকায় নাম আসছিল একইসাথে দুই চিত্রনায়কের...ফারূক আর ওয়াসীম............
হ, মনে আছে। দেখছি, বহুকাল লাগে নিজেরে খাওয়াইতে, সবখানে।
জাহাঙ্গীরনগর নিয়া একবার ধরুম মনে লইতাছে...
.......................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে। আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
সব শুইনা যা বুঝলাম তাতে মনে হইলো - আমি এখোনো স্কুলে ভর্তি হই নাই।
ভাগ্যিস! আর আমি দাখিল হইয়াও যে কামিয়াব হইতে পারি নাই, তাহার নমুনা এই খানে পরতে পরতে রাখা।
......................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
ফারুক ওয়াসিমের লেখাটা পড়ে আবার সুবিনয়ের লেখাটা পড়লাম; আবার এ লেখাটা পড়লাম।
এ লেখাটার ভাষা আমার কাছে কিছুটা অবোধ্য লাগছে; কারণ জানিনা, হতে পারে সমাজতন্ত্র নিয়ে আমার জ্ঞানের অভাব। (মার্কস বুঝতে হলে নাকি প্রথমেই অর্থনীতি বুঝতে হয়)
মোবাইল নেটওয়ার্ক সব বন্ধ করে দেন। এটা দিয়ে পুলাপাইন সব প্রেম করে ।
ইন্টারনেট দিয়ে পুলাপাইনে পর্ন দেখে। এটাও বন্ধ করা দরকার। খামোকা বিদেশীদের টাকা দিব কেন?
@আলমগীর।
আমার ব্যাখ্যা করবার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছি। কিন্তু বাংলাদেশে বাজার, বিনিয়োগ, বিশ্বব্যাংকের উদারীকরণ লাইন নিয়ে যে কথা ও যুক্তি দিয়েছি, সেটা ধরে কথা বললে বুঝতে পারতাম সমস্যাটা কোথায়?
আমার গায়ে লাল জামা না সাদা জামা, তার থেকে আমার কথার দিকে মনোযোগ দিলে আমার সুবিধা হতো। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যা বুঝতে হলে মার্কস বুঝতে হবে, তাও বলি নাই এবং কোনো মার্কসবাদী টার্মও আমি ব্যবহার করি নাই। সাদাকে সাদা বললে দোষটা কোথায়? বুঝতে পারছি, মুক্তবাজার ও পুঁজিবাদ নিয়ে সমালোচনাকে কেউ কেউ অপরাধ বলে গণ্য করেন।
পুরনো সমাজতন্ত্রের ভুত আমরা ঝেড়ে ফেলতে পারলেও এখনও অনেকের কাঁধে তা চেপে থাকে কীভাবে এ এক রহস্য বটে!
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
পুরনো সমাজতন্ত্রের ভুত আমরা ঝেড়ে ফেলতে পারলেও এখনও অনেকের কাঁধে তা চেপে থাকে কীভাবে এ এক রহস্য বটে!
"নিও-লিবারেলিজম" শব্দটা বিশেষ অভিধানের শব্দ বলেই জানতাম।
আপনি অরূপকে বলছেন:
আপনাকেও শুধাই এই চাকরি আপনি কীভাবে পাইলেন?
এই সাইট চালাতে মাসে কত টাকা খরচা হয়, এবং সেটা কে বহন করে, নিজেকে প্রশ্ন করেছেন কখনো? সাইটা বানাতে কত ঘণ্টা শ্রম ব্যয় হয়েছে, এবং কে তার মূল্য দিয়েছে, জানেন?
এবার বলুন সমাজতন্ত্রের ভুত কার ঘাড়ে?
(এই লেখার আগেপরে ভূমিকা বা শানে নুযূল পড়ি নাই। তাই কথার লাইন খাপছাড়া হইলে গুরুজনেরা মাইন্ডে নিবেন না।)
দ্যাশের মোবাইল কোম্পানিগুলার বিগবুমকে যারা সোনার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্যদের বিরাট কর্মসংস্থানের উপায় ভেবে 'দেশ এগিয়ে যাচ্ছে', 'বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে' ইত্যাদি স্বপ্নে বিভোর হয়ে যান, আমি তাদের দলে পড়ি না। নিজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, দেশে থাকলে এখন দেড়-দুই লাখ টাকা বেতনে বাংলালিংক-একটেল-গ্রামীণের কামলা খাটতাম, বন্ধুবান্ধবদের বেশিরভাগই তাই করছে। পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরে চাকুরীর অনিশ্চয়তার প্রেসারও অনেক কম এই মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর কল্যাণে। সারমর্ম হলো, এদের বিগবুম ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্যও লাভজনক।
কিন্তু দেশের প্রেক্ষিতে এটাকে অকল্যাণকর মনে হয়। কারণগুলো এক এক করে বলি:
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন:
আগে টিএনটির লাইন নিতে ঘুষ দিয়েও মাসের পর মাস বছরের পর বছর ঘুরতে হতো। সেলফোন বুম সেই সমস্যার একটা বিরাট সমাধান। কিন্তু টিএনটির ঝামেলাটা হতো যতোটা না প্রয়োজন-সরবরাহের অসম সমীকরণের কারণে, তারচেয়ে বেশি দুর্ণীতির প্র্যাক্টিসে। এখন তাদের মনোপলি সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে, দুর্ণীতির সুযোগও হয়তো কমেছে; কিন্তু (প্রকৃত)প্রয়োজন-সরবরাহের সমীকরণে বড়সড় হেরফের হয় নি। [রাত জেগে ফ্রি টকটাইমে প্রেমের গল্পকে অর্থনৈতিকভাবে দেশের জন্য লাভজনক প্রয়োজন মনে হয় না]। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পেছনের কারণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি। সেটা বিজনেস সার্ভিস হতে পারে, কাঁচামাল পরিবহন হতে পারে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যাপারও হতে পারে। সেলফোন বুম এদিক দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতোটা ভূমিকা রেখেছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। টক টাইমের শতকরা কতভাগ ব্যবসায়িক যোগাযোগে আর কতভাগ রাতজেগে প্রেমালাপে ব্যয় হয়, তার পরিসংখ্যান এক্ষেত্রে সঠিক ধারণা দিতে পারে।
উৎপাদক ও ভোক্তা:
অর্থনীতির বই পড়া শিক্ষা আমার শূন্য, ব্যবহারিক শিক্ষাও শূন্যের কাছাকাছি। কিন্তু কমনসেন্সে যেটা বুঝি, কোনো পণ্যের ভোক্তা হওয়া মানেই টাকা আমার পকেট থেকে অন্যের পকেটে যাচ্ছে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর ভোক্তা এদেশের মানুষই। কর্মসংস্থানের যে যুক্তি দেয়া হয়, একটু তলিয়ে দেখলেই তার দুর্বলতা ধরা পড়ে। রিক্সাচালক সলিমুদ্দির ১০০ টাকা মোবাইল ফোনের কল্যাণে পকেট বদল হয়ে ইঞ্জিনিয়ার সফিক সোবহানের পকেটে ঢোকে ৫ টাকা আর বাকি ৯৫ টাকা যায় নরওয়ের টেলিনরের অ্যাকাউন্টে। জনগণের কোটি কোটি টাকার এসএমএস থেকে সালমা পায় ১০ লাখ। বাকি টাকা কই যায়? যে পণ্য আমরা বেঁচতে পারি না, যার পুরোটাই - দরকারে এবং অদরকারে - আমরাই ভোগ করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা কিছু যোগ করে বলে মনে হয় না।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
রাত জেগে ফ্রি টকটাইমে প্রেমের গল্পকে অর্থনৈতিকভাবে দেশের জন্য লাভজনক প্রয়োজন মনে হয় না
কথা তো ঠিকই কইসেন! আসেন, বাংলাদেশের বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে কম্প্রিউটার যন্ত্রনা খানাও তাইলে বিদায় কইরা দেই। পোলাপান তো গান শোনা, গেম খেলা আর পর্ণোগ্রাফি কইরা আইটি তে উন্নতি করতে পারবে বইলা মনে হয় না।
মাথার যন্ত্রনায় মাথা কেটে বাদ দেয়াটা একটু বেশী সহজ সমাধান হয়ে গেল না!
কম্পিউটারের কাজ শুধু আইটিতে উন্নতি করা না। কামের কাম কিছু না হলে কম্পিউটার যন্ত্রখানা বিদায় করে দেয়াও দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।
মাথা কেটে বাদ দিতে কোথায় বললাম, এটা বুঝতে পারছি না। মোবাইল ফোন আসার সুবিধার দিকগুলোওতো কিছু বলেছি। সমস্যা বিদেশী বিনিয়োগে যেখানে আমরাই ভোক্তা, লাভের অংশের সিংহভাগই যেখানে বিদেশে চলে যায়।
বিদেশী বিনিয়োগে শিল্প কারখানা স্থাপন করে তাতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা এবং টেলিনরের টাকা নিয়ে গ্রামীণের টাওয়ার বানিয়ে সলিমুদ্দিন মোবাইলে কথা বলা - দুটো একেবারেই ভিন্ন বিষয়। কারণ, প্রথম ক্ষেত্রে ভোক্তা অন্যরা, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভোক্তা আমরা। প্রথম ক্ষেত্রে রপ্তানিকৃত পণ্য থেকে যে আয় হবে, তার একটা লাভের অংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীকে দিলে ক্ষতি নেই। কারণ, তাতে দেশের পকেটেও কিছু থাকছে। কিন্তু আমাকে ১০ টাকার কথা বলিয়ে ১ টাকা বেতন দিয়ে বাকি ৯ টাকা নিয়ে গেলে আমার পকেট থেকেই (= দেশের পকেট থেকেই) ৯ টাকা লস হচ্ছে।
---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো
শত ফুল ফুটতে দাও
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
---------------------------------------------------------
ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.
বিরাট মন্তব্য লিখে ফেললাম কিন্তু ভুলে tab লেগে হয়ে গেল হাওয়া ।
ফারুক আর অরূপ এর নতুন মন্তব্য বুঝা গেল " কার্ফু" নেই "পরিস্থিতি"
স্বাভাবিক হয়েছে ।
মেঘের কোলে রোদ হেসেছে কিন্তু অরূপ মিয়া শুধু ফারুককে বিদেশী মদের দাওয়াত দিয়েছে । তার এই বৈষম্যমুলক আচরনের তী্ব্র প্রতিবাদ করছি । নজরুল তৈরী থাইকেন ।
তয় ফারুকের লেখা -মন্তব্য এর ঝাঝটা এবার বেশীই ছিল , অতি আবেগীও বটে কারন হিসেবে এসেছে " কিঞ্চিত অসুস্থ্য হয়ে গিয়েছিলাম, ক'দিন ধরে তা-ই আছি" । আচ্ছা , আবেগী ঝাঝ আর অসুস্থ্যতা মধ্যকার সর্ম্পক নিয়ে গবেষনা (Regression Analysis can be used ) করলে কেমন হয় ?
অরূপ মিয়ার ভুমিকাও একটু বেশি বেশি ( সুমন চৌধুরি যাকে প্রতিক্রিয়াশীলতা বলেন ) ছিল ।
যা হোক , এবার ফারুক আর অরূপ মিয়া মিস্টি-সন্দেস বিলানোর বন্দোবস্ত করুন । কই নজরুল মিলাদের জন্য হুজুর ধইরা আনেন ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
এই যে, ঘটক সাহেব আইছেন নতুন কাজিয়া লাগাইতে। পুরুষে পুরুষে হুজুর ডাকনের কী দরকার। তারপরে আবার ঝামেলা লাগব যে, কে আপার কে লোয়ার কিংবা প্যারালাল হইলেও তো এজাজতের প্রয়োজন থাকে নাকি?
তয় বিষয়টা যদি এম্নি এম্নি হয় তাইলে বিদেশি রস গোলাইতে কার না ভাল লাগে? দাঁড়ান আমিও নওগাঁর সিদ্ধির জন্য অর্ডার দিতাছি। মহাস্থান থাইকা কল্কির কারিগরও আনা ব্যাপার না। কিন্তু দুর ছাই, ভুইলা গেলাম! কী নিয়া যেন কথা হইতেছিল। S
আর সুবিনয়ের কী দোষ আর কী গুণ। তারে উসিলা কইরাইতো সব। আবার আজ তার লেখা ছাপা হইছে পি আলোয়। তারেও ডাকেন। রীতিমতো কাঙালি ভোজের এন্তজাম সবদিকে।
আজ মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ, কেবল একটি বালক (আমি নিজে) ভার্চুয়াল টাকিলা চাইখা ইমান ভাঙিব কী ভাঙিব না, তাহা লইয়া পেরেশান আছি। ওরে আমারে নে রে
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া নয়টায় এনটিভিতে 'মফস্বল' বিষয়ে কিছু বকাবকি হবে। আমি ও আজফার হোসেনে। জানইলাম আর কি।
...............................................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে। আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
মানিক ভাই... এক নদী রক্ত পার হয়া ঈদ আসলো... আপনে কেন ব্লগ খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসেন? ছাড়ান দেন বস... মিলাদের ডাক দেই চলেন... গোলাপ জল তো অরূপদা আনতেছেই... আর নওগাঁ থেকে আগরবাতি আনতেছেন ওয়াসিম (এইখানে চোখ টিপি) ভাই। আর কি চাই?
আমি অবশ্য মন্তব্য লিখিতেছি খুবই খুশিমনে। কারন এখন প্রডিউসার আসতেছে বাসায়... সাথে এইচ কবির থেকে সুধারস...
আহ্... উহার শ্রাদ্ধ করতে করতেই নাহয় মফস্বল বিষয়ক বকবকানি শুনবোনে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
আর কি চাই?
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
হুহ্... আইছে... যান মিয়া এনটিভিতে মফস্বলি বক্তিমা দেনগা...
আমার ঘরেতে স্মিরনফ আসতেছে... একটু পরে বুঝবো ঝুমুর কে বা কাহারা...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
যাই হোক, সভা শেষ, আপনার রসরেশও নিশ্চয়ই অবসিত, এখন বলা যায়:
বিতর্কের শেষ হয় বুঝি মশকরাতেই!
............................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে। আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
ভালো বলছেন...
তবে যেটা চলতেছিলো সেইটা ঠিক বিতর্ক ছিলো বলে ভাবিনা। মশকরাতেই আমার অংশীদারিত্ব। বিদ্দুত সংকটের কারনে কাল রাতে আপনাকে টিভিতে দেখা থেকে বঞ্ছিত হয়েছি। তবে রসে বসে ছিলাম বেশ।
অন্যপ্রসঙ্গ...
আমার পোস্টে আমি ঢাকায় থাকি কি না জানতে চেয়েছিলেন। সেটার উত্তরটা বোধহয় আপনার চোখ পর্যন্ত পৌঁছায়নি... এইখানে ছোট্ট করে বলে রাখি যে আমি ঢাকাতেই থাকি... উত্তরায়। আপনার সাথে একদিন ফোনালাপ হয়েছিলো যখন সমকালে ছিলেন। দেখা হওনের তীব্র ইচ্ছা নিয়া আমি ঢাকায় ঢাকায় ঘুরি।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
নজরুল কে দেখছি পিচ্চিকাল থেকে মানে ঐ যে নাটক ফাটক ( ইনামুল হকের মতে ) থুক্কু থিয়েটার আবার থুক্কু নাগরিকে ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
বুঝি নাই... মাথার উপর দিয়া গেছে... আপনার সাথে কি আমার পরিচয় ছিলো বা আছে?
পিচ্চিকালে না... নাগরিকে ছিলাম ৯৭ থেকে... তবে এখন যাওয়া হয় খুব কম।
অবশ্য আমার চেহারাটা বেশ পিচ্চি পিচ্চি আছে... আচার আচরনেও... আমি আসলে পিচ্চিই থাকতে ভালোবাসি... বুড়াদের ভীড়ে আমি ডরাই
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
@ নজরুল ইসলাম
বুঝি নাই... মাথার উপর দিয়া গেছে...ইয়ার্কি করলাম আর কি !
না , আমার সাথে আপনার পরিচয় ছিল না কিন্তু আমি আপনাকে চিনতাম ।
পিচ্চিকালে না... নাগরিকে ছিলাম ৯৭ থেকে... তবে এখন যাওয়া হয় খুব কম।১১ বছর আগের ঘটনা তো তাই বলেছি পিচ্চিকাল । আমি চয়ন এ ছিলাম ৯০-৯১ এ (শংকর সাওজাল , ইস্রাফিল শাহিন, মাসুম , কল্লোল আর নাম মনে পড়ছে না )
একদম আমার কথা । দেখলেন আমার সাথে আপনার কত মিল ? তাও বলছেন চিনেন না ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
হু... তাই তো দেখতেছি... আপনার আমার ব্যাপক মিল... সচলায়তনে চেনা লোক আবিষ্কার হচ্ছে প্রতিনিয়ত... বেশ মজা লাগে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
মন্তব্য
আমি by definition মনে হয় এই (অনুক্ত কিন্তু নির্দেশিত) সুবিধাবাদী 'বিশ্বায়িত মধ্যবিত্ত'এর দলে পড়ি - এবং মধ্য মেধার, মধ্য চিত্তেরও বটে
তবে আপনার সাথে কিছু ব্যাপারে যে দ্বিমত পোষণ করি সেটার দৈর্ঘ্যের এবং আমার সময়ের অনুপাতটি বিষম বলে এই মূহুর্তে খুব গুছিয়ে তা প্রকাশ করতে পারছি না, তবে শুধু এটুকু বলি -
আমি এটা মানি যে আজকের বিশ্বায়নের যুগে তৃতীয় বিশ্বের কোন রাষ্ট্রের সেই সাধ্য নেই যে সে কোন সিদ্ধান্ত একক ভাবে নিতে পারবে - অর্থাৎ যতই তা জাতীয় স্বার্থের পরিপূরক হোক না কেন World System (বাংলা জানি না) বা Geo-political structure এর যে স্তরে তার অবস্থান তা দিয়ে নির্ধারিত হয় কোন সিদ্ধান্তটি সে নিতে 'allowed'। আমি তা মানি। কিন্তু সুবিনয়ের সাথে যে ব্যাপারগুলোতে আমি একমত তা হলো -
globalization is a reality now. এটাকে বাদ - যদি দেওয়া যেত ভালো হত, কিন্তু...... - যেহেতু এই মূহুর্তে তা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে 'এখন', 'আজ থেকে আগামী দুই, চার, পাঁচ বছরের মধ্যে' কি করা উচিৎ আমাদের?
এবং সেখানেই আসে মেরুদন্ড সম্পন্ন নীতিনির্ধারক আর government (সরকার কথাটা এক্ষেত্রে ঠিক transliteration হয় না) এর ভূমিকা। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশ গুলোতে যার অভাব - এবং তা সুদীর্ঘ সময়ের system, structure, historical conditions and the specific socio-cultural norms, সবকিছুর যোগফল। অতএব রাতারাতি সবাই আমার মত না হয়ে 'বিবেকসম্পন্ন' হয়ে উঠবে ( ) তা বলছি না - কিন্তু সেটার process টা এখনই শুরু না করলে আর উপায় নেই। অর্থনীতি চলেই 'মুনাফা' র ওপর ভিত্তি করে - যার যেখানে যত power আছে সে তাই দিয়ে চেষ্টা করে লাভ বাড়ানোর।
কাজেই এইসব সীমাবদ্ধতা আর সুবিধাবাদ নিয়ে the best possible scenario - given the circumstances কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
ঐটা নিজেকে শাসানি দেয়া, বাবা নিশান ও নিশানা ভুল করো না। একটা বর্গ হিসাবে শ্রেণী হিসাবে বিশ্বে যেমন অনেক ভিন্নতা সত্ত্বেও একটা বিশ্বায়িত মধ্যবিত্ত হয়েছে তেমনি একটা বৈশ্বিক মালিক শ্রেণীও হয়েছে। এগুলা কথা না। কথা হলো এই, ঊনিশ শতকে ইংরেজের হাতে যে বাবু শ্রেণীটি গড়ে উঠেছিল, তারা যেমন ইংরেজ শাসনের মধ্যেই নিজের ও দেশের মঙ্গল দেখেছিল, তেমনি এই বিশ্বায়িত শ্রেণীটিও নব্য উপনিবেশের ফল এবং এর দ্বারা সুবিধাগ্রস্থ। আমি ব্যক্তি পর্যায়ে বলছি না, বলছি ঘটনাটা কী বলে আমি মনে করি।
এবং এই কাজের একটা সাংস্কৃতিক দিকও আছে। গত তিন দশকে সংস্কৃতি লড়াই-বাণিজ্য এবং বশ্যকরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অতএব আমরা তার দ্বারা কতটা প্রভাবিত তার পরিমাপ হওয়া প্রয়োজন।
quote]আমি এটা মানি যে আজকের বিশ্বায়নের যুগে তৃতীয় বিশ্বের কোন রাষ্ট্রের সেই সাধ্য নেই যে সে কোন সিদ্ধান্ত একক ভাবে নিতে পারবে
কেউই কখনো তা পারে না, যদি না তারা অভ্যন্তরীণভাবে জনগণকে এবং নিজেদের বস্তুগত সামর্থ্যকে নতুন ভাবে সংগঠিত করে রাষ্ট্রকে সত্যিকারভাবে স্বাধীন না করে। সেই স্বাধীন রাষ্ট্র যদি বিপ্লবী না হয়ে নেপাল বা ভেনেজুয়েলার মত কিছু ছাড় দিয়ে বেশি পাওয়ার পথেও যায়, তাতে পরিস্থিতি এখনকার থেকে অনেক ভিন্ন হবে। (দেখুন, আমি যেহেতু নিয়তিবাদী নই, সেহেতু মনে করি এই বিশ্ব-ব্যবস্থাই ইতিহাসের শেষ ধাপ নয়। দুনিয়ার এভাবে চলা সম্ভব নয় আর বেশিকাল। তার লক্ষণ ফুটছে।) আমার অনুরোধ লড়াইয়ের আগেই আমরা যাতে মনের বাঘের থাবায় মনের মধ্যে মরে না থাকি। আপনাদের লেখা পড়ে বুঝতে পারি, অর্থশাস্ত্রটা আপনারা ভাল বোঝেন, আমি নিতান্তই আদার ব্যাপারি।
globalization is a reality now. এটাকে বাদ - যদি দেওয়া যেত ভালো হত, কিন্তু...... - যেহেতু এই মূহুর্তে তা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে 'এখন', 'আজ থেকে আগামী দুই, চার, পাঁচ বছরের মধ্যে' কি করা উচিৎ আমাদের?
ঈশ্বরের বাইরে কিছু নাই, আর বাস্তবতা লঙঘন করা যায় না, দুটোই সমান ধর্মবিশ্বাস। আমি তো এই রিয়েলিটির দিকেই তাকাতে বলছি। এই গ্লোবালাইজেশন কী পরিমাণ বিপর্যয় তৈরি করছে সেটা দেখতে বলছি। সেটা আপনারাও জানেন। এর বাইরে যাওয়া দুই-পাঁচ বছরের মধ্যে সম্ভব নয়। কিন্তু যেখানে যা কিছু অসামঞ্জস্য এবং পরাধীনতা তার বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করবো না? এই চাপের কারণেই দেশের গ্যাস ও কয়লা রপ্তানি ঠেকেছে। আবার অসম উতপাদন অংশীদারীত্ব চুক্তি ঠেকানো যায়নি বলে, গ্যাস উত্তোলনের সুবিধা বেহাত হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুত তৈরির গ্যাসের অভাব ঘটছে। যে রাষ্ট্র জনগণের ভাল করবে এভং বেশিরভাগের স্বার্থের জায়গা থেকে চিন্তা করবে সেই রাষ্ট্র গঠন ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নাই। এটা বাংলাদেশের সমস্যা। কিন্তু ভারতে হয়তো ব্যাপারটা ভিন্ন (?)। বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক লেনদেনে চোরাই জিনিষ বেচে দিচ্ছি সস্তায় এমন দুবৃত্ত মানসিকতার জায়গায় আরো দৃঢ় হলে এদেশে মার্কিন সেনা নেমে আসবে না। কিন্তু সেটার জন্য শাসক কই, দল কই? এজন্যই তো বলছি সমস্যাটা আমাদের আরো গোড়ায়।
আগে দেখা দরকার, এ মুহূর্তে আমাদের হাতে কী আছে। জনসম্পদ আছে, কিছুটা বিদেশে পাঠাব আর বড় অংশটাকে দেশের ভেতরে শিল্পে ঢোকাব। সেই পরিমাণ শিক্ষার বিস্তার এখানে আছে। কৃষিকে অধিক মনোযোগ দেব, কারণ আগামী দিনে এ ছাড়া কেউই বাঁচবে না। কৃষির পাশাপাশি এগ্রি ইন্ডাস্ট্রি বানাব। এর প্রযুক্তি আমাদের আছে। খনিজগুলোকে ধীরে ধীরে তুলব এবং রপ্তানী করার থেকে সেটাতে মূল্য সংযোজন করে বেচব, দেশে-বিদেশে। কালো টাকা ও খেলাপী ঋণ উদ্ধার এবং ধনীদের আয়ের ওপর আরো বেশি কর এবং বিদেশিদের অবাধ বাণিজ্যে আরো প্যারিফ ইত্যাদি ধরে পুঁজি গঠন করবো এবং তা শিল্পায়নে দেব।
কিন্তু এগুলোর কিছুই সম্ভব নয়, এই দালাল শাসকশ্রেণী, ভাড়াটে আমলা আর পাচাটা বুদ্ধিজীবীদের জায়গায় জনগণের বৃহত্তর আলোড়নের মধ্যে দিয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি না হলে। আর সেটা হয় যখন মানুষ বিকল্প ভাবে, খোঁজে এবং তার জন্য কাজ করে। অর্থাত বর্তমান ইমান ও নিশান ফেলে নতুন তরিকা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করলে। নেপালে তা হচ্ছে, ল্যাটিন আমেরিকায় তা হচ্চে। খোদ পাশ্চাত্যেও ভিন্ন ধারার মানুষ কম নেই। কিন্তু আমাদের চোখ ফোটে না, আমাদের অপমান ও অভাববোধ জাগে না।
মাফ করবেন, লম্বা লেকচার দিলাম। আপনারাও দেশের লোক, যেমন ভারত-দেশের লোক ভারতের প্রবাসীরা। কিন্তু তারা তো পশ্চিমা বাজারি ব্যবস্থায় এ পরিমাণ হজম হয়ে যায়নি! আমি মনে করি, দৈত্যের ছিপি খূলে দিয়েছে এ সামিরক-কর্ফোরেট শাসন। জনগণ আর ১/১১ এর পেছনে যাবে না। এ যুগ যখন শেষ হবে, এদেশের মানুষ তখন আরো সাবালক ও প্রত্যয়ী হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস সেদিকে যাচ্ছে, দিব্য দেখতে পাচ্ছি।
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।
ফারুক ওয়াসিফ - আমি ব্যক্তি হিসেবে যেমনই হই না কেন আমি যখন কোন পাবলিক ফোরামে আলোচনায় অংশ নেই তখন কয়েকটা ব্যাপার আমি মেনে চলি তার একটা হচ্ছে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা । আপনার ওপরে উদ্ধৃত কথাটা পড়লে মনে হয় আপনি আমাকে বলছেন যে ভারতীয় অনাবাসীদের আদর্শ অনুসরণ করে না চলে আমি পশ্চিমা বাজারী ব্যবস্থায় বিক্রি হয়ে গেছি। যদি সেটা বলে থাকেন তাহলে আপনার সাথে এই আলোচনার এখানেই ইতি - আমি শুধু বিক্রিত কেন, আরো বিশেষণে বিশেষিত হতেও রাজি কিন্তু অনর্থক বিতর্কে গিয়ে আয়ুক্ষয় করতে রাজি নই।
আপনি যে 'ধর্ম বিশ্বাস' আর 'ইমান' বাদ দিয়ে চিন্তা করার কথা বলছেন - আমি নিজে কাজই করছি তার ওপর। আমি মনেই করি 'উন্নয়ন' একটা created project, এবং এটা আমাদের সবার চিন্তার ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে এর বাইরে যে কিছু হওয়া সম্ভব আমরা বহুকাল পর্য্যন্ত তাই ভাবতে পারি নি। এখন যে সব তাত্ত্বিক রা উত্তর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছে আমি তাদের যুক্তি পুরোপুরি মানি। আর যাহা development তাহারই next paradigm হলো globalization কাজেই এটা বিশ্বায়নেরও কথা।
কিন্তু তার মানে এই না যে আমি আজকে বাংলাদেশে বসে একটা সুবিধাজনক শ্রেনীতে বাস করে - যার কারণে আমি যথেষ্ট পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়ে এসব চিন্তা করতে পারছি, আমার নিকটজনেরা কেউ তাদের তাজা শরীর দিয়ে ফুটপাথ ভরাচ্ছে না, আমি ক্ষতিকারক জেনেও বিদেশী মোবাইলগুলোর কোনটা কিনবো আর কোনটা কিনবো না সেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখি, এবং আরো ...... - আজকে যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিৎ বলে আমি মনে করি আমি উন্নয়ন/উত্তর উন্নয়ন/বিশ্বায়ন/ পূঁজিবাদ/নারীবাদ এসব নিয়ে বা না নিয়ে আগে দেখবো এখন এই মূহুর্তে কি করলে সেই তাজা তাজা শরীর গুলোর ফুটপাথে আসা বন্ধ হয় এবং তারপর দেখবো কি করলে সেই বন্ধ হওয়াটা অব্যাহত থাকে - ভবিষ্যতেও। তার চেয়েও বড় কথা যদি কখনও মনে হয় যে আমার আজকের এই অবস্থান বা চিন্তার পথটা ভুল, আমি সেটা স্বীকার করে নেব। এবং বদলাবো ।
আমার ওপরের কথাগুলো বলার কারণ আমি নিজেকে ওই সুবিধাবাদী শ্রেনীর স্বীকার করে নিয়েই বিতর্কে অংশ নিচ্ছিলাম - কিন্তু আপনি আমার সে কথা উদ্ধৃত করে ওপরের মন্তব্য করেছেন - মন্তব্যটার মানে আমার কাছে পরিষ্কার নয়।
আমার ভাষার দখল খুব সাংঘাতিক না হতে পারে তবে তারপরও এটুকু আছে যে আমিও তীব্র শ্লেষাত্মক ভঙ্গি এবং ঝাঁঝালো শব্দের
আবহ তৈরী করে আমার বক্তব্যকে স্থাপিত করার চেষ্টা করতে পারি যেটা অনেক সময়ই এরকম মতপার্থ্যকের ক্ষেত্রে করা হয় এবং এই বিতর্কেও হয়েছে। না, আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি offensive কিছু বলেছেন তা না, কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন এই পুরো আলোচনার সুরটা একটু বাঁকা দিকে চলে গেছে। তবে ভালো হোক খারাপ হোক - আমি সেটা এই পাবলিক ফোরামে করব না। অতএব আমার এই attitude কে 'সুশীল' কি 'মধ্যবিত্ত ন্যাকামি' কি অন্যকিছু মনে হলে বলবেন - আমি তৎক্ষণাৎ ইতি টানবো।
আমি মানছি, আমার ভাষায় একটা সমস্যা থেকে গিয়েছিল। এটা (লেখার পর আর সম্পাদনার সুযোগ পাইনি, কিঞ্চিত অসুস্থ্য হয়ে গিয়েছিলাম, ক'দিন ধরে তা-ই আছি) যাকে বলে নৈর্ব্যক্তিক কাঁটায় কাঁটায় তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছি মন্তব্য করতে এসে। পরে ঘটনা অন্যদিকে চলে গেল এবং নিজেকে ডিফেন্ড করতে দাঁড়িয়ে যেতে হলো। ঐটা নিজেকে শাসানি দেয়া, মানে নিজেকেই বলা যে, আমরাও পরিস্থিতির ভাগীদার। এ জাতীয় ভঙ্গিমা তাই প্রত্যাহার করছি। প্রবাসী ন্যাশনালিটিরা ভারতের জন্য একটা বিরাট ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, আমাদের জন্যও তা নতুন উদ্যোগের উতস হতে পারে। এটাই কেবল বলার ছিল। কিন্তু কথার ধাঁচে সেটা হারিয়ে গেছে। আবারও বলছি, আক্রান্ত হবার আগে পর্যন্ত এবং লেখার মধ্যে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না। বরং উতসাহী আলোচনার প্রস্তাব ছিল।
২.
দেখুন, এই আলোচনাটা যদি আরো অগ্রসর ও গভীর করা যেত, তাহলে আপনাদের কাছ থেকে আমার সত্যিই শেখার ছিল। এবং তখন কিন্তু এই প্যারাডাইমের সমস্যা এবং আমার মতো হিতবাদী অ্যাপ্রোচের ভেতরের দূর্বলতা ইত্যাদিও চলে আসতো। মোদ্দা কথা আমাদের বিশ্বদৃষ্টি বা ভিশনের মধ্যেকার ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকতো। সেটার রেশ আমার লেখায় ও এ পর্যন্তকার মন্তব্যে যেভাবে ছিল, তাকে হয়তো ব্যক্তিগত আক্রমণ মনে হয়েছে। বিশেষত এখানে,
একে মনে করার সুযোগ রয়েছে ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে। কিন্তু লেখা যেহেতু সম্পাদনা করা অসততা হবে, তাই এখানেই বলছি, টোনটা উপেক্ষা করে বা এর সমালোচনা করে হলেও এর নির্যাসটাকে আমলে নিতে।
৩. আবারও মনে হচ্ছে, যা হবার নয় তা-ই হলো। দুঃখিত।
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।