নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

তার আগে, লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখুন, সে কে? কেন সে বিচার চায়?


যে মুক্তিযোদ্ধা গতপরশু জামাতি মুক্তিযোদ্ধা সংষ্করণের সম্মেলনে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন এই তাঁর ছবি, এই তাঁর সাক্ষাতকার দৈনিক সমকাল। ভাল করে খেয়াল করে দেখুন চেহারাটা আর বক্তব্যটা। লোকটা কি পেইড? সন্দেহ করা, প্রশ্ন করা আমার পেশা এবং অভ্যাসও বটে! সে কি সম্মেলন ভণ্ডুল করতে গিয়েছিল? হতে পারে না? অবশ্যই পারে।
মুক্তিযুদ্ধের দেশে যখন মহান সেক্টর কমান্ডাররা মিউমিউ করে বিচার চান ঘরোয়া চায়ের মজলিশে, যখন ক্যামেরা ছাড়া আর মিনারেল ওয়াটার বিনা তারা সভা করতেই পারেন না। যখন ক্ষমতার জবরদখলকারীদের কাছে গিয়ে আব্দার করেন, ‌'অরা খারাপ স্যার, অগো বিচার করেন স্যার!', যখন বাবু মুক্তিযোদ্ধাদের বেশিরভাগই সফল হতে হতে আকাশে উঠে চলেছেন, আর সেই আকাশে দৃষ্টির অগোচরে জামাতি রাজাকার আর একাত্তরে দখলদারদের সখা মার্কিনীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, তখন নব্বই-এর পরের কয়েক বছরের মতো, হাজার হাজার মানুষ নিয়ে সাঈদি আর গোলাম আজমের সভা প্রতিরোধ করার সময় ও সুযোগ কোথায় তাঁদের? তখন মিছিল না পাঠিয়ে অনুপ্রবেশকারি পাঠানোই সহজ রাস্তা। তাতে কাজের কাজ কিছু না হোক, মিডিয়া মৌতাত চলবে, ইস্যু চাঙা হবে, আখেরে ভোটের বাক্সে কুদরত ফলবে। তাই উড়িয়ে দিই না যে, ওই মুক্তিযোদ্ধা ভণ্ডদের সমাবেশে আরেকজন 'নব্য ভণ্ড' হতেই পারে।
কিন্তু খবরটা পড়েন, আর লোকটার চেহারা দেখেন। লোকটি সভায় বিরাট হৈ চৈ করে নাই, প্রতারিত বোধ করে বেরিয়ে এসে ক্ষোভের কথা বলেছে। লোকও ডাকে নাই, গরম হয়েছে নিজের গরজে। আর সাংবাদিক মওকা বুঝে ব্যবস্থা নিয়েছে, খবর রটেছে। ব্যস, মাঠ গরম করা সংবাদ তৈরি হয়ে গেল! এখন বিবৃতিবাজরা বিবৃতির বোমা মারতে থাকবেন, আর কোথাও না পত্রিকা অফিসে! মিডিয়ায় না উঠলে এদের অনেকের টিকিটিও দেখা যেত না। এরা মিডিয়ার জন্য বিবৃতি দেন, নরম-গরম কথা ছাড়েন!
কিন্তু ওই সাক্ষাতকারটি যারা পড়বেন এবং যাদের এরকম দরিদ্র-বিষন্ন-ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কখনো কথা হয়েছে, তারা বুঝবেন, এই চোখ, এই আঙুল তুলে কথা বলা, এবং এইরকম উত্তাপ মনে ধারণ করা, একজন খাঁটি যোদ্ধাকেই মানায়। শরীরও একটা দলিল, ভাষাও একটা সার্টিফিকেট। একে পাঠ করতে হয়। সেই পাঠ যদি করতে পারি তো মন বলছে, এই লোক আবারো এই কথা বলবে। এরা সুযোগ খোঁজে আবার যুদ্ধ শুরু করার। এরা ভাল করেই জানে, যুদ্ধ ছাড়া কোনো প্রতিকার নাই। তাই এলিট মহলের যে কেউ ডাকলেই এরা আশার পিঁপড়ার মতো গুটিগুটি পায়ে আসে। আসে বিষ ঢালতে, আসে মনের ঘৃণার লাভা উগড়াতে। আমরা বড় জোর লিখতে পারি একটি কবিতা!
এবং খেয়াল করলে দেখবেন, যত সমাজের তলার দিকে যাবেন, তত এই ঘৃণার ঝাঁঝ বাড়তে থাকবে, জেদের উত্তাপ সেখানেই বেশি। আর যত ওপরে উঠবেন, তত মধু আর মিলন। কেন? কারণ বুঝি বা, তাঁরা সব অর্থেই আজো নিজেদের পরাস্থই বোধ করেন। যেটা একাত্তরে যারা তাদের নেতা ছিল তারা করে না। তাই যত ওপরে যাবেন, ঘৃণা, জেদ, দায়বোধের মাত্রা সেখানে ফিকে। নানান আরামের রসে তাদের চেতনা ভিজে আছে। তাতে আর দহন ঘটে না, আরামের পুলক ঘটে। ক্ষমতা-বিত্তের স্বাদ তাদের মধ্যে অর্গ্যাজম ঘটায়। আর কে না জানে, অর্গ্যাজমের সময় তলায় মা না নানী, দেশ না মাটি, একাত্তর না বিরাশি কিছুই খেয়াল থাকে না। তাদেরও আর আজ কিছুই খেয়াল নাই। তারা একাত্তরেও বেশ্যাবাজি, ধান্দাবাজি, ফূর্তিবাজি করেছে ওপারে- ওপারে। আজো তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সেই ফিকিরই চালাচ্ছে। খেয়াল করেছেন, একাত্তরে কোনো থানা বা মফস্বল পর্যায়ের আ লীগের নেতা মারা যান নাই (অনুসন্ধানটি মাহবুব লীলেনের, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা)!
তাই ওই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পথ হাতড়ে বেড়াবেন। যাবেন ভুল সম্মেলনে, ভুল জমায়েতে, ঘুরবেন পত্রিকা অফিসে। চায়ের দোকানে হঠাত ক্ষেপে উঠে চিতকার করবেন। বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ের গালি খাবেন, 'কীসের মুক্তিযোদ্ধা তুমি, কী দিয়েছ আমাদের'? তিনি তখন আবারো বাড়ির বাইরে যাবেন, আবারো কান পাতবেন, মা জননী কি ডাক দিল? তার এই ঘুরে বেড়ানোকে তখন তাকে বেচবে মিডিয়া, তাকে বেচবে সুখী সেক্টর কমান্ডাররা। তাকে বেচবে লেখক-সাংবাদিকেরা। এবং কয়দিন পর ভুলে যাবে। তখন হয়তো জামাতিরা আসবে তার বাড়িতে। টাকার লোভ দেখাবে, ভয় দেখাবে। তিনি বিক্রি যদি নাও হন, ভয় পাবেন। চুপ করে যাবেন। মিডিয়া আর ভদ্রবাবুরা তাঁকে আর খুঁজতে যাবে না। তারা তখন বেচার জন্য আরেকজন মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বার করবে। ব্যবসা চলবে।
কিন্তু শতবার বেচা হলেও, তাঁদের মূল্য ফুরাবে না। তাঁরা শেষ হবেন, কিন্তু তলার শ্রেণী থেকে আবারো মানুষ জাগবে কানসাটে, ফুলবাড়ীতে। কানসাটের ২৭ টি মানুষ, ফুলবাড়ীর তিনটি কিশোরের লাশ গ্রামের মানুষেরা শহীদি মর্যাদা দিয়েই আগলে রেখেছিল। সেই ঘটনাকেও তারা মুক্তিযুদ্ধই বলে, তুলনা করে একাত্তরেরই সঙ্গে। এভাবে একাত্তর বারবার জীবন্ত হবে, কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে না। সামনে সেই অবস্থা আবার তৈরি হবে। কেননা, তাদের যুদ্ধ ফুরায় না। কেননা একাত্তর এত ঠুনকো নয়। তারা আগে শরণার্থি হয়ে সীমান্ত পেরুতেন। এখন দেশের মধ্যে ঘুরে বেড়ান উদ্বাস্তু হয়ে। একাত্তরে উদ্বাস্তু ছিল এক কোটি এখন ছয়/সাত কোটি ভূমিহীন, দারিদ্র্য সীমার নীচে থাকা মানুষ ঘুরে বেড়ায় প্রেতের মতো সারাদিন। একাত্তরে গোটা বাংলাদেশে এই পরিমাণ মানুষই বাস করতো! এইসব শিবিরে আবারো লোক সংগঠিত হবে। কিন্তু দুঃখ তাদের হয়তো আমরা চিনব না। ভাবব, বিশৃঙ্খলাকারী, জঙ্গি বা মাওবাদী। ড্রাগনের পূজারিও ড্রাগন দেখলে পালায়।
আমাদের ভদ্রলোকি মুক্তিযুদ্ধে এদের ঠাঁই নাই, তাদের মুক্তিযুদ্ধেরও কোনো সঙ্গি নাই, নেতা নাই। কিন্তু তারা আছে বলেই প্রশ্নটা আছে, সম্ভাবনাটা আছে। সেই কথাটাই জানিয়ে দিয়ে গেল এক অখ্যাত হতদরিদ্র রং মিস্ত্রি। কত দূর্বল সে, দল নাই, অর্থ নাই, পেছনে সমর্থন নাই কিন্তু কতভাবে নাড়া দিয়ে গেল। কতভাবে প্রশ্ন তুলে গেল। এই ক্ষমতা আজো তাদেরই আছে। কারণ তারা সব হারিয়ে বুঝেছে, তাদের আর হারাবার কিছু নাই। তাই তারা ঝুঁকি নিতে পারে, রাজাকারের মার খেয়েও বলতে পারে, 'আমি বিচার চেয়েই যাব।' আমাদের মৌসুমি সেক্টর কমান্ডারেরা আর তাদের সঙ্গিসাথী আলোকিত মহাত্মন আর সিফিলিস সোসাইটির ব্যাঙাগুলান তাও বলতে পারে না। ছিহ্!


গড় রেটিং
(১৩ ভোট)
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:০৯)
উদ্ধৃতি | ফারুক ওয়াসিফ এর ব্লগ | ৫১টি মন্তব্য | ১১২৩বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, ফারুক ওয়াসিফ. Sachalayatan.com can not be held responsible.

সবজান্তা এর ছবি
২ | সবজান্তা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:৫০

সমাজের সব ক্ষোভ তলানীতেই জমা হয়। নিচের মানুষেরা সেই গরল ধারণ করে নীলকন্ঠ। আমরা শুধু ব্লগে বসে বলতে পারি যুদ্ধের কথা কিংবা নিজেদের পরিচিত পরিমন্ডলে। কেউ কি পারি, অচেনা কোন পরিস্থিতিতেও এই কথাগুলি বলতে ? আমরা অধিকাংশই ভাবি, কী দরকার রাজনৈতিক আলাপ করার, ঝামেলা বাড়ানোর।

আমরা সবাই চাই, বিপ্লব শুরু হোক, আমরা অংশ নিবো। কিন্তু সবাই যদি দাউ দাউ আগুনের প্রতীক্ষায় দিন কাটাই, তাহলে খড়ের গাদায় দিয়াশলাই এর কাঠিটা জ্বালাবে কে ?


অলমিতি বিস্তারেণ

সৌরভ এর ছবি
৩ | সৌরভ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:৪৫

চোখ ভিজে গেলো এই লেখাটা পড়ার পর।
ধিক আমার জন্ম।
কার ঋণে আমার এই জীবনযাপন, মাঝেমধ্যে ভুলে বসি।
প্রিয় যোদ্ধা, আমায় ক্ষমা করে দিও।


আহ ঈশ্বর, আমাদের ক্ষোভ কি তোমাকে স্পর্শ করে?


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৩.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:১৯

সৌরভ, আজ কেন জানি আমারো এরকমটাই হলো লিখতে গিয়ে। আমি গতকাল খবর পড়েছিলাম। ভাবিত হইনি। আজ লোকটার ছবি দেখলাম, ফলোআপ নিউজ পড়লাম। আর নাড়া খেলাম। তার মার খাওয়ায় আমি বিন্দুমাত্র কষ্ট পাইনি। পরাজিত পক্ষ পরজয়ের বেদনা প্রতিদিন পায় না। হয় সেটা অভ্যাস হয়ে যায়, নয়তো বেদনা সঙ্কল্পে গিয়ে জমাট হয়। আউলা হয় না। আমি নড়ে গিয়েছিলাম, তার ওই তাতক্ষণিক প্রতিবাদে। মানুষের সত্যিকার রূপটা চকিতেই বেশি প্রকাশ হয়। ওই লোক কোনো সহায়-সমর্থন ছাড়াই একা আলোড়িত হয়ে যা করা দরকার মনে করেছে, করেছে। এবং সেটা রাজাকারদের বিরাট ব্লো দিয়েছে। আমরা হাজার জনে মিলেও এটা পারতাম না। তার মার খাওয়া নয়, প্রতিবাদ দিয়েই প্রমাণ হয়েছে, সবাই 'নপুংসক' নয়।


অতিথি এর ছবি
৪ | অতিথি (যাচাই করা হয়নি) | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:৫০

ফারক ওয়াসিফ,

আপনি কি বলতে চান ১৯৭১এ আওয়ামি লিগ ও আওয়ামি লিগারদের কোনো ভুমিকাই ছিলনা?

তাদের বর্তমানের কাজ বিতর্কিত হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের propagandaতো ধীরে ধীরে ইতিহাসটাই পালটে ফেলছে।

মুক্তিযুদ্ধকে ভদ্রলোকি আর ছোটলোকি মুক্তিযুদ্ধ বলে দুই ভাগ করা কি একটি সুদুরপ্রসারী জামাতি পরিকল্পনার অংশ নয়?

এভাবেই কি সবাই আস্তে আস্তে জামাত মতাদর্শকে শক্ত সমর্থনযোগ্য করে তুলছে না?


সৌরভ এর ছবি
৫ | সৌরভ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২৩:০৭

@অতিথি
আমার মনে হয় না, ফারুক ওয়াসিফ এরকম কোন কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগারদের কোন ভূমিকা নেই - এই কথাটা তো বলে নাই।

উদ্ধৃতি
একাত্তরে কোনো থানা বা মফস্বল পর্যায়ের আ লীগের নেতা মারা যান নাই

এটা একটা ফ্যাক্ট হিসেবে এসেছে। ফ্যাক্ট থেকে ফারুক ওয়াসিফ কোন উপসংহার টানেন নাই। কিন্তু আপনি একটা উপসংহার টেনে একটা কমেন্ট করলেন।
যুদ্ধ তো আওয়ামী লীগ করে নি। বাঙালি জাতি করেছে। এইখানে তাদের আলাদা করে দেখার প্রশ্ন আসে কেনো?

এখনকার আওয়ামী লীগ এর সাথে সেই সময়ের আওয়ামী লীগকে এক করে দেখলে তো চলবে না।
আজকের এই পরিণতি তো একদিনে আসে নি। ৯১ এই যাদের কবর দেওয়া যেতো, তারা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বদৌলতে খুব ভালোরকম ফ্রাংকেনস্টাইনে পরিণত হয়েছে। হ্যা, ঘাতকদের কথাই বলছি। ঘাতকদের এই দুঃসাহস একদিনে তৈরি হয় নি। আপনি এর জন্যে দায়ী। আমিও। আর সবচেয়ে বেশি দায়ী সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদেরা।
থু সবাইকে।


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৬ | ফারুক ওয়াসিফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২৩:১৪

এ বিষয়ে আমার আগের লেখাগুলায় কিছুটা বলেছি। এখানে সংক্ষেপে বলি:
১. মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক আওয়ামী লীগ। কিন্তু সে সেই কাজ যোগ্যতার সঙ্গে করেনি। আর আওয়ামী লীগের যারা আপসহীন, তাদেরও দলটি ধ্বংস করে দিয়েছে।
২. আওয়ামী ইতিহাস, একাত্তরকে রক্ষা করতে পারেনি। তার অন্তর্নিহিত ত্রুটির জন্যই। যুদ্ধ করেছে গোটা জাতি, দুই যুগের আন্দোলনের চূড়ায় যুদ্ধ হয়েছিল। এর একচ্ছত্র দাবিদার কোনো দল বা গোষ্ঠী নয়।
৩. ভুল-ত্রুটি উন্মোচিত হলে ইতিহাস আরো সবল হয়, চেতনাও সবল হয়। আ লীগ আর একাত্তর যতদিন একাকার থাকবে ততদিন আ লীগের অপকর্ম দেখিয়েই একাত্তরের সঙ্গে তাকে সমার্থক করে দুষতে পারবে জামাতিরা।
৪. বিভিন্ন শ্রেণীর মুক্তিযুদ্ধ তো ভাই তখনও এবং এখনও যে আলাদা। যা ইতিহাসে নাই তা দেখাই কী করে? এটা যদি জামাতি চক্রান্ত হয়, তাহলে ইতিহাস মানে কি রূপকথা বলা?
৫. জামাতি মতাদর্শের বিরুদ্ধে আজো সবচে' বড় বাধা একাত্তর। মানুষ আ. লীগ সম্পর্কে মোহচ্যুত হলেও একাত্তরকে ফেলেনি।
ধন্যবাদ অতিথি।


থার্ড আই এর ছবি
৬.১ | থার্ড আই | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৮:০৮

আপনার যুক্তির সাথে আমি অনেকটাই একমত ।কেউ আওয়ামীলীগের গঠনমূলক সমালোচনা করলে ওরা বলে মধ্যপন্থী সুবিধাবাদী শ্রেনী। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধটা যে একা কোন দলের বা গোষ্ঠীর ছিলোনা সেটা কট্টর আওয়ামী পন্খীরা মানতে রাজী না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন আওয়ামীলীগ ও আর শেখ মুজিবুর রহমান সে সময়ে না থাকলে হয়তো ইতিহাস অন্যভাবে লিখিত হতো।

অণ্যদিকে রাজাকারদের বিচার চাইতে গিয়ে আমরা কখনই টু দ্যা পয়েন্টে থাকিনি। বরং আগে নির্বাচন, রাজাকারদের দল জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ এই সব টেনে এনে একটা প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়ে আর গিট্টু খুলতে পারিনা। তারা সেই সুযোটাই নিয়ে নেয়।

টু দ্যা পয়েন্ট হলো শুধু মাত্র ১৯৭১ সনে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাকী সব কিছু এমনি চলে আসবে।

চমৎকার লেখা উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
---------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৬.১.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৪:৩২

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সার্বজনীন করতে হলে, সেটাকে রাজনীতির বিচারের বাইরে এমনভাবে হাজির করা দরকার যাতে, তা রাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনেই বিচার করা সম্ভব হয়। সেটাই সঠিক কর্মকৌশল হবে। এটুকু অর্জিত হলে, যুদ্ধাপরাধীদের দলকে কোণঠাসা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।


রেনেট এর ছবি
৭ | রেনেট | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২৩:২৬

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী
রেখেছ বাঙালি করে মানুষ কর নি।
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.


১০

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৭.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:১৪

ধন্যবাদ রেনেট।


১১

সুমন চৌধুরী এর ছবি
৮ | সুমন চৌধুরী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২৩:৩২

@অতিথি

বাস্তবের মুক্তিযুদ্ধতো অবশ্যই ছোটলোকের যুদ্ধ ছিল। এইটা হইল ইতিহাস, এর সাথে জাতিরে বিভক্ত করা না করার কি সম্পর্ক? জামাতি প্রোপাগান্ডা মানে? জামাতরে টিকাইয়া রাখছে পয়সাওয়ালা মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা। প্রকাশ্যে আইসা ঐভাবে জামাতের বিরুদ্ধে বা রাজাকারগো বিরুদ্ধে কথা কেউ কইয়া তাকলে ছোটলোকরাই কইছে। তাতে আমার নিজের গালেও একটা চটকানা পড়ে। তো সেইটা তো চুপচাপ কিল চুরি করলেও পড়ে তাই না?



ঈশ্বরাসিদ্ধে:


১২

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৯ | ফারুক ওয়াসিফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২৩:৫২

আমার ম্যাট্রিক কাল বা তারও আগের কথা বলি। জাহানারা ইমাম বগুড়ায় এসেছিলেন, সেটাই আমার প্রথম জনসভায় যাওয়া। সেখানে বেশিরভাগই ছিল মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত। বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠ ভরে গিয়েছিল। হাসিনা-খালেদা ছাড়া অত বড় জমায়েত মফস্বলে হতো না। এবং সেটাই ছিল মধ্যবিত্তের শেষ জমায়েত। এদের বেশিরভাগই ছিল নির্দলীয়। জাহানারা ইমাম ছিলেন নব্বইয়ের পরে এই শ্রেণীর শেষ প্রতিনিধি, যিনি জাতির হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন। একজন ব্যক্তি কত ক্ষমতাধর হতে পারে, যদি সত হয়, যদি ভিশনারি হয়। তিনি একাই সেটা দেখিয়েছেন। তিনি না উদ্যোগ নিলে আন্দোলন হতো হয়তো, কিন্তু এত ব্যাপক হতো না।
তার কিছু পরে বগুড়ায় গোলাম আযম আসতে চায়। সেদিন শহরে হরতাল ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে শহরের কেন্দ্রে সাতমাথায় হোটেল শ্রমিকদের সঙ্গে শিবির ক্যাডারদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে এক রাইফেল কাঁধে, হাতে শান্তির পায়রা নেয়া মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য ছিল। একপর্যায়ে শিবিরের ছেলেরা সেই ভাস্কর্যের হাত ভেঙ্গে ফেলে। দেখামাত্র এক শ্রমিক দৌড়ে গিয়ে যে ভেঙ্গেছে তাকে ধরে মাটিতে ফেলে চিতকার করে ওঠে, 'আমারে একটা দাও দে, আমারে একটা দাও দে।' কেউ দ্যায়নি। দিলে শিবির ছেলেটি জীবিত থাকতো না এটা নিশ্চিত। ওই হোটেল শ্রমিকরা ছিল জাসদভুক্ত। জাসদ ওদের স্বপ্ন দেখিয়ে বেচে দিয়েছে। তা হোক, কিন্তু যতদিন ওরা সংগঠিত ছিল ততদিন বগুড়ায় জামাত বাড়তে পারেনি। মারামারির সময় ওরাই থাকতো সবার আগে। কেননা, শ্রেণী সংগ্রাম কেবল অর্থনৈতিক নয় , আদর্শিক রূপও নেয়।
এরও পরে, একদিন বগুড়ার রাস্তায় দেখি গো আযমের গাড়ি বহর যায়, দেখে অবাক লেগেছিল, এত সোজা একে মারা। একটা বোমা নিয়ে শুয়ে পড়লেই হয় রাস্তায়। কেউ করেনি।
আমি কেন এখন করি না? কারণ গোলাম আযমকে হত্যা করলে সে বীর হবে এবং কিন্তু জনতার শক্তিতে বিচার করলে বা রাষ্ট্রকে বাধ্য করলে তার রাজনীতির সমাধি হবে।
তারপরও ভাবি, একক কোনো ঘটনা ঘটিয়ে যদি সংগ্রামের বিরাট অগ্রগতি ঘটানো যায়, তাহলে করব কি না? নিশ্চিত নই, কিন্তু তার জন্য সাহস সঞ্চয় করতে চাই। তবে তারপরও মনে করি, সংগঠিত হওয়া, জনতার সঙ্গে যোগসাধন করা এবং মুক্তির মতাদর্শ নির্মাণ করা এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ব্যক্তির বিচারের চেয়ে রাজনীতির বিচার বেশি দরকার। ব্যক্তির বিচারের কথা তোলার মাধ্যমে আবার সেই রাজনীতিরও বিচারের কথা তোলা হয়।


১৩

সুমন চৌধুরী এর ছবি
৯.১ | সুমন চৌধুরী | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:১৮

উদ্ধৃতি
ব্যক্তির বিচারের কথা তোলার মাধ্যমে আবার সেই রাজনীতিরও বিচারের কথা তোলা হয়।

দ্যাটস দ্য পয়েন্ট



ঈশ্বরাসিদ্ধে:


১৪

আকতার আহমেদ এর ছবি
১০ | আকতার আহমেদ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:২৫

একদিন বগুড়ার রাস্তায় দেখি গো আযমের গাড়ি বহর যায়, দেখে অবাক লেগেছিল, এত সোজা একে মারা। একটা বোমা নিয়ে শুয়ে পড়লেই হয় রাস্তায়। কেউ করেনি।
আমি কেন এখন করি না? কারণ গোলাম আযমকে হত্যা করলে সে বীর হবে এবং কিন্তু জনতার শক্তিতে বিচার করলে বা রাষ্ট্রকে বাধ্য করলে তার রাজনীতির সমাধি হবে।

মন্তব্যে আপনাকে বিপ্লব ফারুক ওয়াসিফ


১৫

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
১০.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:৪৪

বিপ্লব দিয়েন না আকতার ভাই। কাজটা তো করিনি সাহসের অভাবে। তখন তো এত পাকা চিন্তা ছিল না। তখন ওটা করাই সঙ্গত হতো। আর এখন যা মনে করি, ওপরে বলেছি।


১৬

মনজুরাউল এর ছবি
১১ | মনজুরাউল | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০১:৪৬

যা বলতে চাইছিলাম সবই বলা শেষ। বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছিলাম। ঘেন্নায় লিখিনি। আমার খুব কষ্ট হয়।আমার প্রয়াত বাবা স্বীকৃতিহীন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর ১৩ বছরের ছেলেটি এসএলআর হাতে বাংকারে বাংকারে ছুটে বেড়াত।একদিন বাংকারে খাবার পৌছানোর সময় এ্যাম্বুশে পড়ে গেল। সেকেন্দার নামের এক ইপিআর সদস্য ছেলেটিকে এর পর দায়িত্ব দিল আর্মস-এ্যামুনিশন টেন্টের । ক্লান্ত ছেলেটি একদিন গোলাবারুদের স্তুপের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছিল.....ঘুম ভাঙার পর শুনল লন্ডনের কোন সাংবাদিকরা তার ছবি তুলে নিয়েছে। ক্যাপটেন মাজহার বলেছিল 'লন্ডনের কাগজে ছবিটা ছাপা হয়েছিল....." আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস "শিরোনামে। আরো পরে ছেলেটি মেজর জলিল,মেজর আবু ওসমানদের সংস্পর্শে এসেছিল। সেই একাত্তরের দেখা আর তার পরের ৩৫ বছরের দেখা ভীষণ ভাবে কন্ট্রাডিক্ট করেছে। ঘৃনায় কষ্টে বাবা তো মরেছে.....ছেলেটা আজো বেঁচে আছে ...তার বুকের ভেতরে
উদগিরণ হওয়া গলিত লাভা গলে গলে পড়ছে কাগজের পাতায় পাতায়......স্লিপিং উইথ আর্মস এর সেই মনজুরুল হকের আর কি-ই বা করার ক্ষমতা আছে...?

ফ্যাশনদার সেলিব্রেটি মুক্তিযোদ্ধাদের এই পশ্চাদ্দেশের ধাক্কাটার খুব দরকার ছিল।

আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ।
-------------------------------------------------------------
আমরা একদিন পেট্রোল ঢেলে সব জ্বালিয়ে দেব....
আমরা একদিন পেট্রোল ঢেলে সব আগুন নিভিয়ে দেব..................


১৭

নজরুল ইসলাম এর ছবি
১১.১ | নজরুল ইসলাম | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৮:০০

স্যালুট...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


১৮

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
১১.২ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৪:২৩

অভিবাদন মঞ্জু ভাই। আপনিই সেই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা? কী ভয়ানক, জানতাম না। আমার দাবি এবং সচলের অধিকার রয়েছে 'লন্ডনের কাগজে ছবিটা ছাপা হয়েছিল....." আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস " এর ছবিসহ একটা পোস্ট পাওয়ার। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নাই, আপনাকে দিতেই হবে।


১৯

নজরুল ইসলাম এর ছবি
১১.২.১ | নজরুল ইসলাম | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৬:৫৭

দাবীর প্রতি জোর সমর্থন জানালাম
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


২০

মনজুরাউল এর ছবি
১১.২.২ | মনজুরাউল | মঙ্গল, ২০০৮-০৭-১৫ ০৩:৩৭

অভিবাদন আপনাকেও। দুক্ষিত ফারুক,কাগজ ছবি কোনোটাই আমার কাছে নেই। কাগজটা ফাতাফাতা হয়ে ছিল বাবার কাছে । ৭২ এর জানুয়ারির প্রথম দিকে আমরা মেহেরপুর দিয়ে দেশে ফিরি । কয়েক মাস পরেই 'ফটিক" হিসেবে আমার ট্রান্সফার হয় মামার কাছে,দর্শনায় । বাবা-মা চুয়াডাঙ্গায় । তারপর ৭২ এ বাবা-মা চলে যান দিনাজপুর । আমার সঙ্গে ৫ বছরের ছাড়াছাড়ি। সেই কাগজ শুধু নয়, ওই সাংবাদিকরা আমার কান্না রেকর্ড করা একটা ছোট ওয়াকম্যান ও দিয়েছিল । সব হারিয়েছে । মা বলেন তাদেরকে ৭৬ এ আ্যালোটমেন্ট বা অনুদান পাওয়া বাড়ি থেকে যেদিন উচ্ছেদ করা হয় সে সময় নাকি বাবা কষ্টে রাগে তার-আমার সব স্মৃতিই নষ্ট করে ফেলেছিলেন ! বাবা বলতেন ...থাক কষ্ট বাড়ে । জীবন বাঁচাতে ওই সময় এত বেশী কষ্ট করতে হয়েছে যে প্রাণ ধারণের বাইরে সবকিছুই গৌণ হয়ে গেছিল ।

মুক্তিযুদ্ধ কাকে কী দিয়েছে জানি না, তবে আমাকে দিয়েছিল ম্যাচ্যুরিটি । ১২/১৩ বছর বয়সেই তিন বোন আর মা'কে বাঁচাতে অন্য এ যুদ্ধ করতে হয়েছিল । ২০টাকা ভাতা পেতাম । একাধারে পিতামাতাহীন কিশোরদের ক্যাম্প চালানো,থানা শহর তেহট্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের রেশন আনা,বাংকারে রসদ পৌঁছানো ...........।

এ নিয়ে দু'টো লেখা আছে। সেটা সচলের বন্ধুদের জন্য দিতে পারি।

এই সঙ্গে নজরুলকেও ধন্যবাদ দিয়ে রাখছি ।


২১

স্নিগ্ধা এর ছবি
১১.২.২.১ | স্নিগ্ধা | মঙ্গল, ২০০৮-০৭-১৫ ০৪:০৯

উদ্ধৃতি
এ নিয়ে দু'টো লেখা আছে। সেটা সচলের বন্ধুদের জন্য দিতে পারি।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এই অনুরোধ রইলো ......


২২

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি
১২ | প্রকৃতিপ্রেমিক | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৪:০৪

নাড়া দেয়া লেখা। সাহসের সাথে সত্য উচ্চারণ করেছেন সেজন্য সালাম।


২৩

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি
১৩ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৫:২০

উদ্ধৃতি
প্রতিবাদ দিয়েই প্রমাণ হয়েছে, সবাই 'নপুংসক' নয়।
ধন্যবাদ।
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।


২৪

Fariha এর ছবি
১৪ | Fariha (যাচাই করা হয়নি) | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৫:৪০

Faruq bhai,

Apnar lekha amar borabor e bhalo lage. Onno shomoi shudhu por e chole jai. Shudhu ei lekha niye ekta kotha bolte chai. Amar moton jara english-medium e, private institution gulo te poreche, tader jonno Muktijuddhe'r chetonar baparta khub e ambigious. Ami school pash kori 2000 shal e. 12 bochor er formal education e 1971 er History temon kono gurutto rakheni. Jokhon porano hoyeche, amra 12-13 bochor boyosh eo bujhechi je ei eetihash ta amader k moddhe koto chetona jagabar jonno shekhano hoi ni. Nitantoi jante hobar jonno jana. Amar monehoi na..prithibi te ar kono desh e school er chatro-chatri der boro hoye, text-book baad diye onno boi pore nijer desh er eetihash jante hoi. Kheyal korle dekhben, amader moton shobar eetishash baap-ma, bhai-bon, gurujon der mukh e shona. Kajei, ek ek jon er kache muktijuddhor chetona ek ek rokom.

Apni jei celebrity muktijoddha class er kotha bollen, aamra kintu tader e shontan. Apni ekhon chinta kore dekhen, aamra ki dhoroner ideology niye boro hocchi?

Gotobochor JI Muktijuddho k civil war hishebe label korar cheshta koreche. Nijeder role ta k o awshshikar korbar cheshta koreche. Ebar ghotalo ei ghotona. Dui bochor por e jodi Bangladesh er e kono chatro/chatri Kennedy School of Government theke ekta paper publish kor e bole 1971 was ' a seperatist conspiracy by Mujib and India', apni ki surprised hoben??? Amader desh er mainstream media ki ei aaghaat tar jonno prostut? Amader ki JI er proshar ba 'spehere of influence' niye ekhon full knowledge ache?

Personally, I think not.


২৫

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
১৪.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৪:৪৪

ধন্যবাদ ফারিহা,
আমি একসময় ভেবেছি, না জানার জন্য কাউকে কি দায়ি করা যায়? যে না জেনে ভুল করে, তার জন্য কি তাকে দোষি করা যায়? এখন আমার অবস্থান হচ্ছে, নিজের গরজে আমরা তো যা দরকার তা জানতে যাই, তাহলে ইতিহাসের দরকার হচ্ছে না কেন? এখানেই আপনার মন্তব্যের ভেতর দিয়ে একটা সত্য বেরিয়ে এসেছে, মা-বাবারা ভুল-সঠিক যা-ই হোক ইতিহাস জানাবার প্রয়োজন বোধ করেছে। অর্থাত সমাজ ইতিহাস নিয়ে সচেতন থাকতে চায়, সেকারণে সমাজে ইতিহাস নিয়ে বিরোধি-বিবাদ হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের ইতিহাসের দরকার নাই, কারণ এই রাষ্ট্র জানে একাত্তরের সত্যচিত্র বেরিয়ে আসলে তার অনেক কিছুরই সমস্যা হবে। কিন্তু সমাজ তার বেদনা-স্মৃতি-অর্জন ভুলতে পারে না, তাই সে পরের প্রজন্মকে বলার চেষ্টা করে।
এখন ইংলিশ মিডিয়ামের জগত মোটা দাগে আমাদের সাধারণ সমাজের বৃত্তের বাইরের জগত। সেকারণে সাধারণ মানুষের সমাজের কথা সেখানে পৌঁছে না। কিন্তু ইংলিশ মিডিয়ামে ঠিকই ইংল্যান্ড আমেরিকার ইতিহাস পড়ানো হয়। বাংলা ভাষা পড়ালে বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে যে ধারণা হয়, কেবলই ইংরেজি পড়লে তা হওয়ার সুযোগ কম। আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন জাতি ইতিহাসকে সংরক্ষণ করে। কারণ অতীতই তাকে প্রেরণা দেয়, বলে যে, তোমার একজীবন বা তোমার একার অ