নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

পুনশ্চ অভিজিত: কার্ল পপারের মার্কস দর্শন কী মতে সঠিক?


আমার দৃষ্টিতে অভিজিত বাবু বারবার যে ফোক্করে পড়ে আলোচনার অথনেটিসিটি খর্ব করছেন, সেই ফোক্করের অপর নাম সামান্যের (স্পেসিফিক) মধ্যে অসামান্যকে (জেনারেল) দেখবার তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা! মার্কসবাদী দর্শনের একটি দুটি প্রত্যয় বা প্রতিমা দেখে তিনি সাধারণীকরণ করে ফেলছেন, আর তাতে উধোর পিণ্ডি শুধু বুধোর ঘাড়েই পড়ছে না, বেচারা মার্কসের চরিত্রনাশও ঘটছে। তাঁর যুক্তি পদ্ধতিটা অনেকটা এরকম:

১. মার্কসবাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক উপাদান থাকার দাবিকে তিনি নিজেই মার্কসবাদ বিজ্ঞান এমন বলে আবার সেটাকেই খণ্ডন করতে লেগেছেন। এবং তা করতে গিয়ে ভিয়েনা সার্কেলের খ্যাতনামা বিজ্ঞানের দার্শনিক কার্ল পপারের বিতর্কিত পদ্ধতিরও আশ্রয় নিয়েছেন। ২. শ্রেণীকে নিজেই নিছক অর্থনৈতিক ক্যাটাগরি ধরে নিয়ে সেই ক্যাটাগরির সীমাবদ্ধতা আবিষ্কারে নেমেছেন, যদিও মার্কসের বিচারে শ্রেণী একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক ক্যাটাগরি ৩. মার্কসবাদের ঐতিহাসিক দান্দ্বিক বস্তুবাদী ব্যাখ্যাকে মোটা দাগে ঐতিহাসিক নির্ধারণবাদ (হিস্টরিসিজম) গণ্য করে তার বিরুদ্ধে তরোয়াল তুলেছেন। ৩. পুঁজিবাদের বাস্তব ইতিহাস ও গতিপ্রকৃতির মধ্যে না গিয়ে একে চিরন্তন, অপরিবর্তনীয় এবং সর্বরোগহর স্ট্যাটাস দিয়ে তার তুলনায় কমিউনিজমকে ঊনতর দেখাবার চেষ্টা করেছেন। ৪. মার্কসবাদকে চিহ্নিত করায় ‘যা ইচ্ছা তা’ পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়েছেন, মার্কসের অরজিনাল সাইটেশন না করেই। টেক্সুয়াল রেফারেন্সের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে গুলিয়ে দিয়ে বিদ্বেষের ঘোল বানিয়েছেন। আর এসবই করেছেন, কমিউনিজমের ঘোষিত বিরোধী সোলঝিনিৎসিনের মৃত্যুর একমাস পূর্তি উপলে (সেটা সোলঝিনিৎসিনের দোষ, তা বলছি না, তিনি বড় লেখক। এ নিয়ে আমি অন্যত্র বলেছি)। অর্থাত গোড়াতেই তিনি মার্কসবাদের একজন শত্র“র মৃত্যু উদযাপনের বলি করতে চাইছিলেন মার্কসবাদকে। এখানেই তাঁর সত অভিপ্রায় নিয়ে আমার সন্দেহ।

অভিজ্ঞাতাবাদী নমুনা দিয়ে খারিজ করতে গিয়ে একদিকে সকল মহাদেশে দেড়শ বছর যাবত বিভিন্ন বাস্তবতায় সৃষ্টি হওয়া বহমান বিপ্লবী চিন্তাগুচ্ছের ধারাবাহিকতা থেকে মার্কসকে আলাদা করে নিয়ে একদিকে মার্কসের চিন্তাকে স্ট্যাটিক ধরে নিয়েছেন, আবার দার্শনিক পদ্ধতিকে দার্শনিক পদ্ধতি দিয়ে মোকাবেলা না করে তার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক মতের জের টেনে গিয়েছেন।

আমি এখন একটি একটি করে আমার অভিযোগগুলো প্রমাণের চেষ্টা করবো।
মার্কসের চিন্তার মধ্যেকার ‘সায়েন্টিফিক নেচার’ থাকার দাবি করা আর তা নিজেই বিজ্ঞান এই দাবির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাতটি অভিজিৎ ধরতে পারেননি। বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলে কিছু কিছু বিষয়কে যেভাবে অন্য জ্ঞানশাখার তুলনায় ‘এলিট’ করা হয়, জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে তা বৈধ হয় না। এটাও বিজ্ঞানকে ধর্ম বানাবার সামিল। মানবীয় প্রগতি সকল শাস্ত্রের মিলিত ফসল। অতএব বিজ্ঞানকে অন্য সব কিছুর ওপরে মাপকাঠির মর্যদা বিজ্ঞান ও মানবপ্রগতি সম্পর্কে অস্বচ্ছ ধারণারই প্রতিফলন মাত্র। যে কোনো শাস্ত্রের মধ্যে কিছু কিছু ‘বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য’ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ ছাড়াও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সায়েন্টিফিক নেচারের নিদর্শন থাকতে পারে। সুতরাং মার্কসের চিন্তার মধ্যে সায়েন্টিফিক নেচার রয়েছে বলে এঙ্গেলস কোনো ভুল করেননি। আর এ বলা থেকেই মার্কসবাদ বিজ্ঞান বা অবিজ্ঞান কোনোটাই প্রমাণিত হয় না। তবে কি এঙ্গেলস ‘ইউটোপিয়ান ভার্সাস সায়েন্টিফিক কমিউিনিজম’ নামের বই লেখেননি? লিখেছেন। সেসময়ের কাল্পনিক সমাজতন্ত্র থেকে নিজেদের মতবাদকে আলাদা করবার জন্য এঙ্গেলসকে যুক্তিতর্ক করার খাতিরে ওটা বলতে হয়েছিল। বলাটা সেসময়ের বিচারে খুবই সঙ্গত। ওর থেকে আমার চিন্তা বিজ্ঞানমনস্ক, এ বলা থেকেই আমি বা আমার চিন্তা নিজেই সায়েন্স হয়ে যায় না, কিন্তু আমার প্রবণতাটা বোঝায়Ñ এটা বোঝা উচিত।

মার্কসবাদ নিজেকে বা জগতের কোনো কিছুকেই স্থির বিষয় হিসেবে দেখে নাই। নিজের নিরন্তর নবায়ন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট বিশ্লেষণই তার দাবি। আর দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি অনুসরণের কারণে এখানে চিন্তাগত জড়তা আসবার কোনো সুযোগ থাকে না।

এবার আসি কার্ল পপার এবং তাঁর দাবি মার্কসবাদের বেলায় কতটা প্রযোজ্য, সে বিষয়ে। প্রথমত, পদার্থবিজ্ঞানে বা বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের কোনো পদ্ধতিকে মানবিক বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে হুবহু বসাতে যাওয়া কেবল কপটতাই নয়, বিভ্রান্তিকর। এরকম চিন্তা থেকেই কিন্তু সামাজিক ডারউইনবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। রাসায়নিক গবেষণা বা গাণিতিক মডেল সবেেত্র মানবীয় বাস্তবতা ও তার চেতনার গড়নকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণই বৈজ্ঞানিক মানসিকতার লণ। এই সত্য অস্বীকার করা থেকেই অভিজিত বাবুর যাবতীয় ভুল বোঝার উৎপত্তি। এটা হলো পয়লা মামলা।

বিজ্ঞানের দার্শনিক কার্ল পপারের বরাতে মার্কসবাদকে ভুল প্রমাণের উৎসাহ এখান থেকেই তিনি পেয়েছেন। কার্ল পপারের অবদান বিজ্ঞানের যথাযথ মেথড কী তার পর্যালোচনার বেলায়। পপার দাবি করেছেন, বৈজ্ঞানিক থিওরির বেলায় ইনডাক্টিভ পদ্ধতি শ্রেয় নয়। কাক কালো এটা তাঁর কাছে সত্যবচন নয়, যে সকল কাক দেখা যায়, সেগুলো কালো এই-ই তাঁর পদ্ধতি। যদি দেখা যায় যে, একটি কাক সাদা, তাহলে আগের বলা সত্য বদলে যাবে। সংক্ষেপে এটাই তাঁর ফলসিফায়েবিলিটির তত্ত্ব। কিন্তু বিজ্ঞানের ইতিহাসে দেখা যাবে, সকল আবিষ্কারই এই পদ্ধতিতে হয় নি। উল্টোভাবেও অর্থাৎ কাক কালো ধরে নিয়েও যাত্রা হয়েছে। অনেক আবিষ্কারই ঘটেছে একেবারে উল্টো জিনিষ ধরে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আবার নিউটন যেভাবে গতিবিদ্যা বুঝেছেন, আইনস্টাইন এসে সেটাকে ভুল প্রমাণ করলেন। তার মানে কি নিউটন বাতিল হলেন? না, তা হলেন না, পার্থিব মাত্রায় তিনি তখনও ঠিকই থাকলেন, কিন্তু মহাবৈশ্বিকমাত্রায় তাঁর গতিবিদ্যা ও অভিকর্ষ তত্ত্ব বাতিল হয়ে গেল নিউটনের আপেকিতার তত্ত্বের কাছে। এরপর কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এসে আরেকটা প্যারাডাইম শিফট ঘটালো। এই তিনটি রদবদলই কি পরস্পরের ত্রে তৈরি করেনি? আবার একইসঙ্গে এদের মধ্যে দ্বান্দ্বিক বিরোধও পাওয়া যায় না কি? এদের জন্য অভিন্ন মেথড কীভাবে সম্ভব?

এরপর তিনি এসেছেন অবজেকটিভিটি তত্ত্বে। কিন্তু আসলেই কি জ্ঞান ও পর্যবেণ মানবীয় চেতনা ও ইন্দ্রিয়ের প্রভাব নিরপে হতে পারে? আমাদের জাগতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিপার্শ্ব আমাদের বেড়ে ওঠার কোনো প্রভাবই যদি বিজ্ঞানের আবিষ্কারে না থাকে, তাহলে আজ যা আবিষ্কৃত হচ্ছে, তা কেন ৫০০ বছর আগে হলো না। কেন ঠিক মিসরেই ইউকিডের আবির্ভাব হলো আর পরমাণু তত্ত্ব ভারতবর্ষে জš§াল। এর অন্যথা হলো না কেন? এ বিষয়ে দারুণ কাজ করেছেন পল ফেয়েরাবেন্দ (চধঁষ ঋবুবৎধনবহফ)। তিনি কোনো অভিন্ন সার্বজনীন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিপক্ষে অবজেকটিভিটি নয় সাবজেক্টিভিটি, মেথড নয় অসম বিকাগের মাধ্যমে বিজ্ঞান এগিয়েছে। যেমন গ্যালিলিওর সময় অপটিক্যাল থিওরির সঙ্গে টেলিস্কোপে দেখা জিনিষের তেমন সম্পর্ক ছিল না। ওটাকে বিজ্ঞানীদের অ্যাড হক হিসেবে ধরে নিতে হয়, যতই না অপটিক্যাল থিওরি দিয়ে সেটাকে প্রমাণ করা গেছে। আরেকটি উদাহরণ দিই: লাভোয়েসিয়ের এবং প্রিয়েস্টলি দুজনই অক্সিজেনের সন্ধান করেন। কিন্তু প্রিয়েস্টলি পুরাতন প্যারাডাইম অনুসরণ করার কারণে অক্সিজেন দেখে ভেবেছিলেন একধরনের বাতাস। অন্যদিকে ল্যাভোয়েসিয়ের অক্সিজেনকে অক্সিজেন হিসেবেই চেনেন। কারণ তাঁর প্যারাডাইম তুলনায় আধুনিক ছিল। সুতরাং মানবীয় পর্যবেণ একটা ফ্যাক্টর বিশুদ্ধ নৈর্ব্যক্তিকতার বিপরীতে। এটা পপারের বিরুদ্ধে যায়।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ দিই: মানুষ মরণশীল। এই বাক্যকে কি পপারের ফলসিফায়াবিলিটি দিয়ে অপ্রমাণ করা সম্ভব? কারণ আমরা তো জানি না, অজস্র বছর পরে অজস্র মানুষের মৃত্যুর পরে কোনো একজন মানুষ তো অমর হতে পারে! তাহলে তো ‘মানুষ মরণশীল’ কথাটা ভুল প্রমাণিত হবে। তারপরও পপারকে আমলে নিয়েও এ ব্যাপারে আমরা তাঁর দ্বারস্থ হব না, আমরা বিশ্বাস করব আমাদের ত্র“টিপূর্ণ পর্যবেণকে।
যাই হোক, থমাস কুন, জেডি বার্নাল প্রমুখ বাঘা বাঘা বিজ্ঞানের দার্শনিক তাঁদের ভুরি ভুরি পৃষ্ঠা ব্যয় করেছেন পপারের প্রপঞ্চকে পাতলা করে দিতে। সেগুলো দেখতে পারেন।
এখন পপারের মার্কসবাদ বিরোধিতার বাতিক নিয়ে কথা বলা যাক।

পপারের সূত্র ধরেই আপনিও বলেছেন যে, কেন পশ্চিমে শ্রমিক শ্রেণীর অবস্থা আরো খারাপ না হয়ে তারা বরং মধ্যবিত্তের কাছাকাছি চলে আসছে। কথাটা পূর্ণ সত্য নয়। পশ্চিমে ব্ল– কলার শ্রমিকরা তুলনায় ভাল আছে সত্য। মানলাম সেটাই আপনার বিচারে চাওয়ার শেষ দিগন্ত, কিন্তু কীসের বিনিময়ে সেটা হচ্ছে? সেটা হতে পারছে, তৃতীয় দুনিয়াকে নিঃস্বকরণ/সর্বহারাকরণের বিনিময়ে। মার্কস যেমন ম্যানিফেস্টোতে বলেছিলেন, পুঁজি গোটা দুনিয়াকে তার আপন আদলে সাজাবে, গোটা বিশ্বকেই এক আধারে নিয়ে আসবে। সেটা সত্য হয়েছে এবং পশ্চিমের শোষণ চালান হয়ে এসেছে তৃতীয় বিশ্বে। পশ্চিমের মাইগ্রান্ট ওয়ার্কারের সঙ্গে মিলেছে পশ্চিম থেকে চালান হয়ে আসা পুঁজির শোষণের শিকার তৃতীয় বিশ্বের অজস্র মানুষ। এখানকার মুনাফা দিয়েই তারা তাদের দেশের শ্রমিকদের ভাল রাখছে। এঙ্গেলস স্বয়ং এটা খেয়াল করেছিলেন যে, উপনিবেশিক শোষণের বরাতে ব্রিটিশ শ্রমিকের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আজকেও যদি ব্রিটিশ-আমেরিকান-জার্মান ইত্যাদি পুঁজি তৃতীয় বিশ্বে যা করছে তা হিসেবে ধরি, তাহলে শ্রমিক শ্রেণীর আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার শোষণের মাত্রাও বেড়েছে এবং তার বরাতে ‘উন্নত দুনিয়ায়’ আপনারা ভাল থাকছেন। এই দেশ-বৈরি অবস্থানের তারিফ করতে দেখে আপনার মানবদরদ নিয়ে সত্যিই সন্দেহ হলো অভিজিত।
পপার তাঁর ‘এনিমিজ অব ওপেন সোসাইটি’ বইয়ে এঙ্গেলস এর এই পর্যবেণের সত্যতা স্বীকার না করে উল্টো অভিযোগ করেছেন, এঙ্গেলস চান যে শ্রমিক শ্রেণী খারাপ থাকুক, তাহলে বিপ্লব হয়। পপারের মতো আপনিও শ্রমিক শ্রেণীর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার বিপ্লব তত্ত্ব আবিষ্কার করে মার্কসবাদের মূল সূত্রায়নকেই বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। এটা নিয়ে আপনার পোস্টে বিস্তারিত আমি ও পি মুনশি বলেছি, ফলে আর এগোলাম না।

পপারের মতো আপনিও মার্কসবাদী ঐতিহাসিব বস্তুবাদকে ঐতিহাসিক নির্ধারণবাদ বানিয়ে ছেড়েছেন। (আপনাদের মুক্তমনায় বিপ্লব পালও তা-ই করেছেন, অথচ কিঞ্চিত পরিশ্রম করে মার্কসের ‘এইটিনথ ব্রুমেয়ার’ কিংবা ‘পভার্টি অব ফিলসফি’ ইত্যাদি পড়ে দেখতে পারতেন। পড়ে দেখতে পারতেন এ বিষয়ে ফ্রেডরিক জেমসনের লেখা) এবং দেখেন কীভাবে পপার নিজেকে ভুল প্রমাণ করছেন নিজেই:
Furthermore, although the misery imposed upon the natives through colonization is one of the darkest chapters in the history of civilization, it cannot be asserted that their misery has tended to increase since the days of Marx. The exact opposite is the case; things have greatly improved. And yet, increasing misery would have to be very noticeable there if the auxiliary hypothesis [about the effects of colonialism and imperialism] and the original theory [of Marx] were both correct.” (Popper, p. 189, emphasis added here)
আসলেই কি সাবেক কলোনিগুলোর অবস্থা ভাল হয়েছে? আপনি বলবেন কিছুটা তো ভালই। কিন্তু এশিয়া-আফ্রিকা-ল্যাটিন আমেরিকা থেকে যে পরিমাণ সম্পদ চোষণ করা হয়েছে, যে পরিমাণ মূল্য তারা পুঁজির ভাণ্ডারে জমা করেছে তার তুলনায় তাদের অবস্থান আরো খারাপ হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কল্যাণে, কৃষিতে কর্পোরেটাইজেশন এবং ভর্তুকির শিকার হয়ে বিশ্বের তিনশ কোটি গ্রামীণ মজুর-কৃষকের বাঁচবার পথ বন্ধ করে ফেলা হয়েছে।

আর গণতান্ত্রিক ট্রনজিশন দিয়ে কি ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ও রিফর্মেশন, ভারতবর্ষ-আফ্রিকা দখল, আমেরিকা দখল ও দাসপ্রথা উচ্ছেদ, অস্ট্রেলিয়াকে শ্বেতাঙ্গকরণ ঘটেছিল? দু দুটি বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া কেন পুঁজিবাদ চলতে পারছিল না, আজকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের বিস্তার কেন শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন দিয়ে ঠেকানো যাচ্ছে না?
বিশ্বয়ান নিয়ে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে মার্কস বলেছিলেন দেড়শ বছর আগে: National differences and antagonism between peoples are daily more and more vanishing, owing to the development of the bourgeoisie, to freedom of commerce, to the world market, to uniformity in the mode of production and in the conditions of life corresponding thereto.
বিশ্বের বৈষম্য কীভাবে বাড়ছে, মার্কসের কথা অনুযায়ী কীভাবে বিশ্ব পরিণত হচ্ছে দারিদ্র্য আর অমানবিকীকরণের এক দোজখে, তা দেখুন:
১৯৮০’র দশকে ব্রিটেনের তুলনায় ব্রিটেনের জিডিপি পার ক্যাপিটা ছিল ভারতের ৩৫ গুণ বেশি, ফ্রান্সের ছিল সেনেগালের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি, হাইতির তুলনায় আমেরিকার ছিল ৪০ গুণ বেশি। আইএমএফের স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট কর্মসূচির পর এই ব্যবধান আরো বেড়েছে। তৃতীয় বিশ্বকে উদোম করে যতভাবে পারা যায় লুণ্ঠনেরই অপর নাম হয়েছে উন্নয়ন। পুঁজিবাদ এসব দেশে আসবার আগের থেকে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মাইকেল ডেভিস তাঁর প্লানেট অব স্লামস-এ এই চিত্র কিছুটা বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় দুনিয়ায় তারা কারখানা বসিয়েছে। সেখানে কী হয় বর্ণনা করছেন নো লোগো বইয়ের লেখক নাওমি ক্লেইন: Regardless of where the EPZs are located, the workers stories have a certain mesmerizing sameness: the workday is long [up to 14 hours]. The vast majority of the workers are women, always young, always working for contractors or subcontractors from Korea, Taiwan or Hong Kong. The management is military style, the supervisors often abusive, the wages below subsistence and the work low-skill and tedious.
এর মাঝেই খেয়াল করতে হবে আপনাকে, মানুষ কীভাবে জানোয়ারের মতো বাঁচতে হয়, কীভাবে নারীদের বিরাট অংশকে মাংস বেচে চলতে হয়, শিশুদের চার ভাগের এক ভাগকেই মরে যেতে হয় ১০ পেরবার আগেই। এই জঘন্য অকহতব্য বাস্তবতায় মানবতার অলীক ফুল ফোটানোর গল্প শোনানো এক মাহীন নৃশংসতা। আশা করি আপনি তা শোনাতে বসবেন না। রাগ না হোক, আমার ঘুম পেয়ে যাবে যে!
অভিজিত, পপারের থিসিসের বিপ্লব পাল (মুক্তমনার পোস্ট) লিখিত নোটের হুবহু অনুকরণ করতে গিয়ে আপনি খেয়াল করেননি যে ১৯৪৫ সালে যেখানে বিশ্বের শীর্ষ ২০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে তলানির ২০ শতাংশ মানুষের আয়বৈষম্য ছিল ৩০: ১, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৮২: ১-এ। এবং এটা বাড়ছে কেবল জাতিতে জাতিতে নয়, একই জাতির ভেতরেও। যদি কোম্পানির সিইও-দের সঙ্গে তুলনায় মার্কিন শ্রমিকদেরও বেতন বাড়তো তাহলে তাদের বর্তমান ঘন্টাপ্রতি ৫.১৫ ডলারের জায়গায় দিতে হতো ২২ ডলার। আর বর্তমান বাৎসরিক ১০,৭০০ ডলারের জায়গায় তাদের পাওয়া উচিত হতো ১১০,০০০ ডলার। তারা তা পাচ্ছে কি?

আর এটা তারা করছে নতুন উপনিবেশনায়নের মাধ্যমেই কেবল নয়, নিজ দেশে নয়া লিবারেল ব্যবস্থাদির মাধ্যমে। সুসান জর্জ তাই ঠিকই বলেন, The US Treasury recognizes, quite correctly, that the combination of debt plus structural adjustment plus massive privatization is a far more efficient instrument than colonialism ever was for keeping countries in line.
পাশাপাশি কৃষকরাও পড়েছে নিঃস্বকরণের নিশানায়। বাংলাদেশের ১০০ জনে ৭০ জন কৃষিকাজে জড়িত। ব্রিটেন কিংবা আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিকাজে জড়িত মানুষের হার জনসংখ্যার মাত্র .০১ শতাংশ (ওপেন ডেমোক্রেসি)। কিন্তু নিজ রাষ্ট্রের মদদে ওই বাণিজ্যায়িত কৃষির .০১ শতাংশ ধনী কৃষকরাই হয়ে উঠল বিশ্বের কৃষি বাণিজ্যের বিরাট অংশের চালক।

এসব প্রকাণ্ড খামারের যান্ত্রিক কৃষির উৎপাদনশীলতার ধারে-কাছেও আমাদের সনাতন কৃষকেরা যেতে পারে না। সেখানে একজন কৃষিমজুর বছরে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার কুইন্টাল শস্য ফলায়। আর আমাদের দেশের একজন কৃষক সবুজ বিপ্লবের পরও ফলায় মাত্র ১০০ থেকে ৫০০ কুইন্টাল। আর যে কৃষকের জীবনে সবুজ বিপ্লবও আসেনি তার উৎপাদন বছরে মাত্র ১০ কুইন্টাল। তাহলে অনুপাত দাঁড়াল ২০০০: ১। ১৯৪০ সালের আগে এ অনুপাত ছিল ১০ : ১ (সামির আমিন: দ্য লিবারেল ভাইরাস)। এর ফলে আগে যার আয় ছিল পাঁচ টাকা এখন সে পায় এক টাকা। অর্থাৎ ঐ কৃষকের আয় কমে গেছে পাঁচগুণ। এর সঙ্গে রয়েছে রাষ্ট্র, ব্যাংক, বাজার ও রাজনীতির নানান বাধা। কৃষকের নিঃস্বকরণের এ সময়ে, ১৯৭৪-২০০৫ পর্যন্ত খাদ্যের দাম কমেছে ৭৫ শতাংশ। আর বাণিজ্যিক কৃষির রমরমা সময়ে অর্থাৎ ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত খাদ্যের দাম বেড়েছে সেই ৭৫ শতাংশ। আমাদের উৎপাদন কম হওয়ার জন্য নিশ্চয়ই আমরা দায়ি। পুঁজিবাদের অসম বিকাশ দায়ি নয়, আমাদের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর না করা দায়ি নয়, তাদের কৃষিপণ্যকে ডব্লিউটিও দিয়ে একচেটিয়া ছাড় দেয়া দায়ি নয়? প্রভুর প্রশস্তি গাওয়া আর নিজেদের নিরন্তর দোষী ভাবাও কিন্তু একটা কলোনিয়াল মানসিকতা। এটা আপনাকে বলিনি, ওরা আমার আপনার উভয়েরই প্রভু।
প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ অর্থাৎ মানবজাতির অর্ধেকই আজও গ্রামে থাকে। আধুনিক সমাজের আগের সব সমাজের ভিতও ছিল গ্রামে ও কৃষিতে। সেই সমাজের ধ্বংসের ওপরই আধুনিক পুঁজিবাদ দাঁড়িয়েছে। একদিকে এই ৩০০ কোটি পরিত্যক্ত মানুষ অন্যদিকে মাত্র কয়েক কোটি ধনী পরিবার। বর্তমান মুনাফাখোরি ব্যবস্থায় এই ৩০০ কোটি মানুষের বাঁচার কোনো সুযোগ তারা রাখেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ২০০ কোটি শহুরে শ্রমজীবী (সামির আমিন: দ্য লিবারেল ভাইরাস)।
এই হলো পুজিবাদের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের সহিংস ফল। পপারের মতোই মিথ্যে উন্নতির আশা রেখে একে আদর করে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকতে যদি কারো আরাম লাগে, তাহলে আর কী করবার আছে? কেবল এটা বলতে হয় যে, পপারের ভবিষ্যদ্বানী ফলেনি, মার্কসেরটাই ফলেছে। মার্কস তাঁর পুঁজিতে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে একদিকে পুঁজিবাদ পর্বতসমান সম্পদ সৃষ্টি করে এবং একইসঙ্গে এর অপর পিঠে সৃষ্টি করে বিশাল মাত্রায় নিঃস্বকরণ। এ থেকে পুঁজিবাদের রেহাই নাই। এটা সম্পদ বন্টনের সমস্যা নয়, এটাই পুঁজিবাদের স্বভাব। আর এই দ্বন্দ্বের পিঠে জন্ম নেয় এক বিশ্বজনীন শ্রেণী, যার নাম প্রলেতারিয়েত। সে নিজেই হয়ে ওঠে জাতির মধ্যে জাতি, শ্রেণীগুলোর মধ্যে প্রধান শ্রেণী। সে তখনই জয়ী হতে পারে, যখন সে নিজেকে ধ্বংস করার মাধ্যমে অর্থাত তার সর্বহারাত্ব ঘুচানোর মাধ্যমে গোটা মানবজাতিকেই মুক্তি দেয়া বৈষম্য থেকে। নিজের স্বার্থের কারণেই প্রলেতারিয়েত সমগ্র মানবজাতির স্বার্থের প্রতিনিধত্ব না করে পারে না। কারণ, একদিকে সম্পদ আরেকদিকে নিঃস্বকরণ; এই বিকৃতি থেকেই তার জন্ম। তাই নিজেকে ধ্বংস না করে, অর্থাত শ্রেণী হিসেবে তার অগ্রণী ভূমিকার বিলোপ বিপ্লবের মাধ্যমে না করে, সে নিজেকেও মুক্ত করতে পারে না। সেকারণেই আজো মার্কস ও তাঁর প্রলেতারিয়েতের প্রাসঙ্গিকতা স্বমহিমায় বহাল। স্ট্যালিনিজম বা সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নাই। যা নষ্ট তা গেছে, যা জায়মান তা প্রস্তুত হচ্ছে ইতিহাসের গর্ভে।

পুনশ্চ: আমি মার্কসের শ্রেণী তত্ত্ব, ইতিহাস বীক্ষা ইত্যাদিতে আজ গেলাম না, কারণ উচ্চতর বিতর্কের আগে আমাদের বাস্তব অবস্থা এবং সংজ্ঞা নিয়ে একমত হওয়া দরকার। কোনটা মার্কসবাদ আর কোনটা মার্কসবাদ নয়, সেটা পরের পর্বে দেখানো যাবে আশা করি। দেখানো যাবে, কীভাবে মার্কসবাদ একটা কর্মকাণ্ডের দর্শন হয়ে উঠেছে, আর তা দেখিয়েছে মানুষের অনন্ত সম্ভাবনা। সেকারণেই মার্কসবাদ মানুষের মুক্তির ও সম্ভাবনার তত্ত্ব হিসেবে আজো জায়মান ও সৃষ্টিশীল গ্রহণ বর্জনের ধারায় টিকে থাকতে সক্ষম। ধন্যবাদ।


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: রবি, ২০০৮-০৯-০৭ ২৩:২৬)
উদ্ধৃতি | ফারুক ওয়াসিফ এর ব্লগ | ৩৭টি মন্তব্য | ৫৪২বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, ফারুক ওয়াসিফ. Sachalayatan.com can not be held responsible.

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
১ | ফারুক ওয়াসিফ | রবি, ২০০৮-০৯-০৭ ২৩:৩৮

ডাবল পোস্টিং যাতে না হয় সেজন্য গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ড. খলিকুজ্জামানের গবেষণার সারসংক্ষেপটি প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরিয়ে আমার নিজের ব্লগে নিয়ে গেলাম। আগ্রহীরা সেটা পাবেন এখানে

''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।


ধ্রুব হাসান এর ছবি
২ | ধ্রুব হাসান | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ০০:২৬

উদ্ধৃতি
একদিকে পুঁজিবাদ পর্বতসমান সম্পদ সৃষ্টি করে এবং একইসঙ্গে এর অপর পিঠে সৃষ্টি করে বিশাল মাত্রায় নিঃস্বকরণ। এ থেকে পুঁজিবাদের রেহাই নাই। এটা সম্পদ বন্টনের সমস্যা নয়, এটাই পুঁজিবাদের স্বভাব। আর এই দ্বন্দ্বের পিঠে জন্ম নেয় এক বিশ্বজনীন শ্রেণী, যার নাম প্রলেতারিয়েত। সে নিজেই হয়ে ওঠে জাতির মধ্যে জাতি, শ্রেণীগুলোর মধ্যে প্রধান শ্রেণী। সে তখনই জয়ী হতে পারে, যখন সে নিজেকে ধ্বংস করার মাধ্যমে অর্থাত তার সর্বহারাত্ব ঘুচানোর মাধ্যমে গোটা মানবজাতিকেই মুক্তি দেয়া বৈষম্য থেকে। নিজের স্বার্থের কারণেই প্রলেতারিয়েত সমগ্র মানবজাতির স্বার্থের প্রতিনিধত্ব না করে পারে না। কারণ, একদিকে সম্পদ আরেকদিকে নিঃস্বকরণ; এই বিকৃতি থেকেই তার জন্ম। তাই নিজেকে ধ্বংস না করে, অর্থাত শ্রেণী হিসেবে তার অগ্রণী ভূমিকার বিলোপ বিপ্লবের মাধ্যমে না করে, সে নিজেকেও মুক্ত করতে পারে না। সেকারণেই আজো মার্কস ও তাঁর প্রলেতারিয়েতের প্রাসঙ্গিকতা স্বমহিমায় বহাল।

বোল্ড করা অংশে নেয়া সিদ্ধান্তটাই এই মতবাদের মনে হয় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা; বাকী যেসব শোসনের কথা বলেছেন তা আজকের রিয়ালিটি বলে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে প্রলেতারিয়েতদের যে সমগ্র মানবজাতির পজিটিভ প্রতিনিধি হিসেবে ধরে নেয়া হচ্ছে গোলমালটা ঐ জায়গায়! এমন কি 'মানবজতি' শব্দের মধ্যেও যে পজিটিবিটির বীজ বপনের ঐতিহাসিক কসরত তাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ! সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের অবকাঠামোগত দুর্বলতাও ঐ জায়গায়। মানুষকে শুধু সমষ্টি বা ব্যক্তি হিসেবে ধরে আগালে সমস্যা বাড়ে বৈ কমতে দেখিনি এখনো! আর পুজিঁবাদের বিকৃতি থেকে জন্ম নেয়া জনগোষ্টি কতখানি পজিটিভিটির ধারক-বাহক হতে পারে তাও একটা বিরাট প্রশ্ন! তবুও একটা ব্যাল্যান্সড পরিস্থিতি আসুক গোটা বিশ্বে এই কামনাই করি।

(যা লিখলাম তা একান্তই ব্যক্তিগত মতামত এবং পোষ্টটি পড়ার পর একধরনের তাতক্ষনিক প্রতিক্রিয়া। কোন রকম আতঁলামীর ইচ্ছে নাই এতে। এমন কি ইচ্ছে থাকলেও বাস্তবতার কারনে উপায় নেই।)


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
২.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ১২:২৪

সময়াভাবে বিস্তারিত আমিও বলতে পারছি না। তবে আপনার চিহ্নিত ওই বক্তব্যের অপর পিঠের দিকে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেটা হচ্ছে: শ্রমিক শ্রেণী কেবল নিজের মুক্তির জন্যই লড়ে না, পুঁজিবাদের অ্যান্টিথিসিস হিসেবে সেই পুঁজির '‌তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে' ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সে গোটা মানবজাতিরই প্রতিনিধিত্ব অর্জনের দায়ে পড়ে। ফলে অন্য শ্রেণীর আন্দোলনগুলি কেবল নিজ শ্রেণীস্বার্থে হলেও, প্রলেতারিয়েত দাঁড়ায় সভ্যতার পক্ষে, মানুষের পক্ষে। সবচে বঞ্চিত মুক্তি পেলে অর্ধবঞ্চিতদের মুক্তিও নিশ্চিত হয়ে যায়, তাই না? আর সমস্যা যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি, সেখানে যে সর্বহারা সেই এই ব্যবস্থার প্রতি সবচে মোহহীন।
এ নিয়ে পরে আরো কিছু বলবার আশা রাখি। আপনাকে ধন্যবাদ, দারুণ একটি পয়েন্টে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।


জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি
৩ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ০১:৩০

কঠিত বাৎচিৎ বুঝিনা বইলা কমেন্টও করতে পারি না।
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।


জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি
৪ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ০১:৩০

কঠিন বাৎচিৎ বুঝিনা বইলা কমেন্টও করতে পারি না।
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।


তানবীরা এর ছবি
৫ | তানবীরা | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ০২:২৯

এতো জ্ঞান যাদের তারা কি মাথা বালিশের উপড়ে দেয় না বালিশ তাদের মাথার উপড়ে থাকে বড্ড জানতে ইচ্ছে করে। জবাব দিবেন কি???

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৫.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ১২:২৭

তারা মনে হয় বালিশে ঘুমায় না, দাঁড়িয়ে ঘুমায় ঘোড়ার মতো। কিংবা পাহাড়ের মতো আকাশে হেলান দিয়ে থাকে। তাদের বড্ড কষ্ট। নজরুল তো এদের নিয়াই কইছে, ‌'আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই।'


তানবীরা এর ছবি
৫.১.১ | তানবীরা | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ১৩:৫৪

তুমি কোনটা, পাহাড় না ঘোড়া?

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
৫.১.১.১ | ফারুক ওয়াসিফ | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ১৪:৩৭

পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ঠ্যাঙ ভাঙ্গা ঘোড়া।


১০

অভিজিৎ এর ছবি
৬ | অভিজিৎ | সোম, ২০০৮-০৯-০৮ ০২:৩৭

উদ্ধৃতি
আমার দৃষ্টিতে অভিজিত বাবু বারবার যে ফোক্করে পড়ে আলোচনার অথনেটিসিটি খর্ব করছেন, সেই ফোক্করের অপর নাম সামান্যের (স্পেসিফিক) মধ্যে অসামান্যকে (জেনারেল) দেখবার তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা! মার্কসবাদী দর্শনের একটি দুটি প্রত্যয় বা প্রতিমা দেখে তিনি সাধারণীকরণ করে ফেলছেন, আর তাতে উধোর পিণ্ডি শুধু বুধোর ঘাড়েই পড়ছে না, বেচারা মার্কসের চরিত্রনাশও ঘটছে।

ভুল। মার্ক্সের চরিত্রনাশ করে আমি কিছু লিখিনি। বরং আমার লেখা খন্ডন করতে গিয়েই অনেকে আমার লেখায় 'লোভ' দেখেছেন, কেউ আমার 'উদ্দেশ্য' নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কেউবা আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে 'ছাগল' বলেছেন। আমি মুলতঃ বিষয়ভিত্তিক লেখা লিখেছি - সমাজবিবর্তনের ব্যাখ্যায় মার্ক্সের অসঙ্গতি দেখিয়েছি। খুব ভাল ভাবেই দেখিয়েছি পৃথিবীর গতি-প্রকৃতি মার্ক্সের দেখানো পথে যায়নি। পুঁজিবাদ থেকে সমাজতন্ত্র আর তা থেকে সাম্যবাদে উত্তোরিত হয়নি। বরং পুর্বতন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোই ফিরে গেছে পুঁজিবাদের পথে। সমাজ বিবর্তন হয় সত্য, কিন্তু তা মার্ক্সের দেখানো পথে হয়নি। এইটাই ছিলো আমার বক্তব্য।

উদ্ধৃতি
. মার্কসবাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক উপাদান থাকার দাবিকে তিনি নিজেই মার্কসবাদ বিজ্ঞান এমন বলে আবার সেটাকেই খণ্ডন করতে লেগেছেন। এবং তা করতে গিয়ে ভিয়েনা সার্কেলের খ্যাতনামা বিজ্ঞানের দার্শনিক কার্ল পপারের বিতর্কিত পদ্ধতিরও আশ্রয় নিয়েছেন।

আমি আমার বক্তব্যে স্থির আছি। মার্ক্সের তত্ত্বে ফলসিফায়াবিলিটির অভাব তো আছেই। তবে ফলসিফায়াবিলিটিই একমাত্র কথা নয়, আমি সেই সাথে আরো অন্ততঃ ৯ টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছি যেগুলোকে যথার্থ ভাবে খন্ডন করতে দেখিনি।

উদ্ধৃতি
২. শ্রেণীকে নিজেই নিছক অর্থনৈতিক ক্যাটাগরি ধরে নিয়ে সেই ক্যাটাগরির সীমাবদ্ধতা আবিষ্কারে নেমেছেন, যদিও মার্কসের বিচারে শ্রেণী একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক ক্যাটাগরি

শ্রেনীকে আমি কিন্তু অস্বীকার করিনি। শ্রেনী সচেতনার গুরুত্ব অবশ্যই আছে। তবে, মার্ক্স যেভাবে তার নিজস্ব ছাঁচে ফেলেএ কে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, এখন সেভাবে আর করা হয় না।

Attemts to explain things in terms of class are many times reductionist and wrong. There are significant sources of identity and conflict such as gender, ethnicity, sexual preference etc.

উদ্ধৃতি
৩. পুঁজিবাদের বাস্তব ইতিহাস ও গতিপ্রকৃতির মধ্যে না গিয়ে একে চিরন্তন, অপরিবর্তনীয় এবং সর্বরোগহর স্ট্যাটাস দিয়ে তার তুলনায় কমিউনিজমকে ঊনতর দেখাবার চেষ্টা করেছেন।

এটাও আপনার ভুল ধারনা। আমি কোন কিছুই 'চিরন্তন, অপরিবর্তনীয় এবং সর্বরোগহর' দেখানোর চেষ্টা করি নি। ক্যাপিটালিজমের সাফাই গাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। এ ধরনের ফোরামে বিতর্কে এটা একটা সমস্যা। আওয়ামিলীগের সমালোচনা করলেই হয়ে যায় বিএনপির দালাল, বিএনপির সমালোচনা করলেই হয়ে যায় আওয়ামী-বাকশালী, ইসলামের সমালোচনা করলেই হয়ে যায় হিন্দুত্ববাদি, বিজেপির সমালোচনা করলেই হয়ে যায় 'সুডো-সেক্যুলার'। কমিউনিজমের সমালোচনা করলেই হয়ে যায় পুঁজিবাদের দালাল। এ ধরনের উদাহরণ দেয়া যায় বহু। এ ধরনের 'simplistic bipolar frame of mind ' বিতর্কের জন্য সুস্থ নয়। এটা আসলে 'ফ্যালাসি অব বাইফারকেশন'। মার্ক্সের তত্ত্বের কিছু অংশ যদি আমার কাছে 'বৈজ্ঞানিক' ন