আযাযিল সাহেব একজন বড় লেখক। প্রকাশকরা উনার বই ছাপানোর জন্য বাসার সামনে লাইন দিয়ে বসে থাকেন। কে কার আগে দাঁড়াবেন এ নিয়ে প্রায়শই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। দু-একবার চড়-থাপ্পড়ের আওয়াজও শোনা গেছে ভেতর থেকে। আর দশজন জনপ্রিয় লেখকের মত আযাযিল সাহেবও এগুলো এনজয় করেন। দুই যুগ ধরে তার বই বেস্টসেলার হয়ে আসছে। অবশ্য ইদানীংকালের পাঠকদের অভিযোগ, উনার গল্পগুলো নাকি আর আগের মত জমছে না। একই গল্পকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লিখে চলেছেন তিনি। পাঠকদের অভিযোগ অবশ্য মিথ্যে নয়। এটা আযাযিল সাহেবের চেয়ে বেশি আর কে জানে? আর তিনিও তো মানুষ। এক জীবনে কত আর মৌলিক গল্প লেখা যায়? সত্যি বলতে কি, এখন আর নিজের জন্য লেখা হয় না। প্রকাশকদের মুখের দিকে চেয়ে এইসব অখাদ্য-কুখাদ্য লিখতে বসা। লেখক জীবনের এ এক বড় ট্রাজেডি।
আযাযিল সাহেব তাই এক অলস দুপুরে আত্নজীবনী লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঠিক করলেন, এটাই হবে তার শেষ লেখা। বাকি জীবনটা তিনি বই পড়ে আর ক্লাসিক ম্যুভি দেখে কাটিয়ে দেবেন। আল্লাহর রহমতে খাওয়া-পরার টেনশন তার নেই।
আত্নজীবনী লিখতে গিয়ে আযাযিল সাহেব এক বিচিত্র বিপদে পড়লেন। শৈশবের কোন সুখস্ম্তিই তার মনে পড়ছে না। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে যাঁরাই এ পর্যন্ত আত্নজীবনী লিখেছেন, তার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিলো শৈশবের মজার মজার সব ঘটনা। স্কুল পালানো থেকে শুরু করে বাবার স্নেহমিশ্রিত শাসন আর মায়ের আদর-ভালবাসায় ভরপুর সব জীবন কাহিনী। অথচ শৈশব বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে লম্পট পিতার রাতবিরাতের মাতলামি , দুঃখিনী মার কান্না আর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক বোনের কথা। এই লাম্পট্যের কারণেই তার বাবা লোকটা একদিন হঠাৎ খুন হয়ে যায়। তার লাশটাও পাওয়া যায়নি। পাঠকেরা একে রাজনৈতিক হত্যা বলেই জেনে এসেছে এতোদিন। দু-একটা দুষ্টু লোক যে কেঁচো খুঁড়তে সাপ আবিষ্কার করার চেষ্টা করেনি, তা নয়। বলা বাহুল্য, দুষ্ট লোকেরা কোথাও ভাত পায় না। আর কোথায় আযাযিল সাহেব আর কোথায় এইসব দুই পয়সার সাংবাদিক?
উনার মাও আর বিয়ে-থা করেননি। তাই বলে মা যে তাকে খুব আদর-যত্নে বড় করেছেন, তাও নয়। আযাযিল সাহেব আজ যে অবস্থানে এসেছেন, তা নিজের যোগ্যতাতেই। বাপ-মা তাকে জন্ম দিয়েছেন, এই যা। কিন্তু, এসব কথা কী আত্নজীবনীতে লেখা যায়? অন্য লেখকেরা হয়তো লিখতেও পারেন, তাদের বই তো আর লোকজন চেখেও দেখে না। আযাযিল সাহেবের কথা আলাদা। দুই যুগ ধরে তিনি যে সম্মান আর শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, আত্নজীবনীর কয়েক পাতাতেই তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? লোকে এখন থেকে তাকে একজন লম্পটের সন্তান মনে করবে-ব্যাপারটা তিনি ঠিক মেনে নিতে পারছেন না। অনেক ভেবে চিন্তে তাই তিনি লিখতে শুরু করলেন,
"আমার বাবা ছিলেন খাঁটি ধর্মপ্রাণ মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার মসজিদে আদায় করা চাই-ই চাই। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে, আমাদের দুই ভাই-বোনকে ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য তার সে কি চেষ্টা! "কিরে বেটা (উনি আমাদের দুজনকেই 'বেটা' সম্বোধন করতেন), নামাজ পড়বি না তোরা? উঠে পড় জলদি।" দুজনই ছিলাম অলসের হাড্ডি। বাবার ডাকাডাকিতে ঘুমটা আরো চাগিয়ে উঠতো বৈকি। অগত্যা ব্যর্থ হয়ে বাবা আমাদের দুজনের কপালে দুটো ছোট্ট চুমো খেয়ে মসজিদের পথে রওয়ানা দিতেন।..."
---আশফাক আহমেদ
মন্তব্য
বটেই তো, আযাযিল সাহেব যখন একজন বড় লেখক...
বটে
হুমম........এই তাহলে!
ভাইয়া, আপনি কি কাউকে আযাযিল সাহেব ভেবে বসেছেন নাকি?
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বাস্তবের সাথে এর কোন মিল খোঁজার চেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করা হল।
আচ্ছা!!
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
কী এতো ভাবেন, আপু? কইয়া ফালান।
------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !
------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !
দেবদা, এইসব দুষ্টু হাসির মানে কিন্তু আমরা বুঝি
কয় কি রে বাবা!
-----------------------------------------------
কোন্ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -
-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -
কইতে আর পারলাম কই?
ভাল
মেঘলা
"ভাল" ধন্যবাদের সহিত গ্হীত হইলো।
কিছুই বুঝলাম না।
আমার ব্যর্থতা
যারা আপনার ঐ আযাযিল সাহেবের মতন না তাদের স্মৃতিতে শৈশবের কষ্টের স্মৃতি যেমন আছে, তেমনি ওনার মত এইসব কথা না বলে সত্যি কথাটা বলায় কপালে 'এলিট সামাজিক প্রাণীদের' অনেক কুকথাও জোটে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
সত্যি বলতে কি, আযাযিল সাহেবদের উপর খানিকটা করুণাই হয়।
আপনার শৈশব অভিজ্ঞতা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
আমার শৈশব খুব একটা শোনার মত কিছু না তারপরও শুনতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এখানে পাবেনঃ
http://www.sachalayatan.com/guest_writer/34909
ধন্যবাদ। আমার শৈশবের গল্প উপভোগ্য কিছু নয়। তারপরও দেখতে চাইলে এখানে দেখতে পারেন।
ধন্যবাদ ভাইয়া লিঙ্কটা দেয়ার জন্য। লেখাটা আগেও একবার পড়েছি। আজ আবার পড়লাম।
আপনার পিতার ব্যাপারে কিছু না বলি। এটুকুই বলবো, আন্টির প্রতি শ্রদ্ধা বহুগুণ বেড়ে গেলো।
ভালো থাকবেন
কমেন্টটা দুইবার দেয়ার জন্য দুঃখিত। কেন জানি না, অনেক সময়েই আমার সাবমিশনের পরের কনফার্মেশন আসে না। প্রথমটা যে সাবমিট হয়েছে সেটাই বুঝিনি।
হে হে, ঢেকি দেখি স্বর্গে গিয়াও ধানই ভানে, শেষ লাইনে তা দারুণ ফুটে উঠেছে
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী
শেষ লাইনে না শেষ প্যারায় বস?
বুঝতে ব্যর্থ হলাম।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
আমার ব্যর্থতা
ভালো হয়েছে রে।
তবে একটু টুইস্ট থাকলে কি মন্দ হত?
বাই দ্য ওয়ে, আমি তো আযাযিল সাহেবের সাথে অন্য কারো মিল খুঁজে মরছিলাম।
সাত্যকি
তুই একটা স্যাম্পল এন্ডিং দে না। ঐ যে, রিফাতের ঐ গল্পটার মত
লেখাটা ঠিক ধরতে পারলাম না। এটা আমার অক্ষমতা হতে পারে।
হোম - টুইটার - ফেইসবুক - উইকিপিডিয়া - এ্যাকাডেমিয়া
টুইটার
লেখাটায় ঠিক ধরার কিছু নাই বস। কারো কথা ভেবে আমি গল্পটা লিখি নি।আমার কেন জানি মনে হয়েছে, সাহিত্যকদের যখন লেখার কিছু থাকে না, তখন তাঁরা আত্নজীবনী লিখতে বসেন এবং আত্নজীবনীতে কতোটুকু সত্যতা থাকে, তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে। এই যা।
এটুকু যদি ধরতে পারেন, তাহলেই বুঝবো, আমার লেখা ওকে
চিপটা কার গলাত তা এক্কেবারেই বুঝলাম না! আমারই না জানার দোষ হইব!
কারো গলায় চিপ দেওনের লাইগা গল্প লিখি নাই বস। আমার কেন জানি মনে হয়েছে, সাহিত্যকদের যখন লেখার কিছু থাকে না, তখন তাঁরা আত্নজীবনী লিখতে বসেন এবং আত্নজীবনীতে কতোটুকু সত্যতা থাকে, তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে। এই যা।
এটুকু যদি ধরতে পারেন, তাহলেই বুঝবো, আমার লেখা ওকে
লেখাটা বুঝলাম। তবে সহসচলদের চোখটিপিইমো আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতে বাধ্য করলো
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না
প্লিজ, ভিন্ন কিছু ভাববেন না ভাইয়া। ভিন্ন কিছু ভেবে গল্পটা লিখিনি। হ্যাঁ, শুরুর প্যারাটা পড়ে হয়তো বিশেষ কাউকে মনে পড়তে পারে। কিন্তু, বাকিটা শুধুই গল্প।
এরকমই হয় সাধারণত।
অল্প যে ক'টা আত্মজীবনী পড়লাম, বেশীরভাগের লেখকই (কিংবা লেখকের পিতা-মাতা) ধোয়া তুলসীপাতা।
গল্পটা ভাল লাগল।
- নাসির উদ্দিন খান
লেখক অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো নিজের পাপ-পুণ্য স্বীকার করেন। কিন্তু বাবা-মা মাস্ট বি ধোয়া তুলসী পাতা।
বাবা-মা' রাও তো দোষে-গুণে মানুষ। তাদের বাস্তব জীবন উপস্থাপনে লেখকদের এতো দ্বিধা কিসের?
হয়তো সামাজিকতা, হয়তো মূল্যবোধ
বুঝিনি।
_________________________________________
সেরিওজা
আযাযিল সাহেব আত্মজীবনী লিখতে বসলেন কেন?
_____________________
আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।
আপু, গল্পের মধ্যেই উত্তরটা দেয়া আছে কিন্তু।
বুঝলাম, আমার গল্প আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে
ভাগ্যিস কিছু বুঝি নি !!!
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
ভাগ্যিস কিছু বোঝেন নি !!!
সব লেখকেরাই যে নিজেদের বাবা মা কে ধোয়া তুলসী পাতা বলেন তা কিন্তু ঠিক না।তসলিমা নাসরিনের মেয়েবেলাতে কিন্তু তার বাবাকে বেশ বিতর্কিত চরিত্র হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে আপনার গল্পটা ভাল লাগলো।
'মেয়েবেলা' পড়া হয় নাই। সাজেস্ট করার জন্য ধন্যবাদ। দেখি, সময় করে পড়ে নিতে হবে।
হাঃ হাঃ। নিজের প্রতি সৎ না হয়েও বড় লেখক হওয়া যায় তাহলে!
নিজের প্রতি সৎ না হয়েও জনপ্রিয় লেখক হয়তো হওয়া যায়, কিন্তু মহৎ/কালজয়ী লেখক হওয়া যায় না।
সত্যটাকে পাবলিকলি স্বীকার করার সাহস কারো থাকে, কারো থাকে না। সে লেখক হোক বা অন্য কেউ।
গল্পটা ভালো লেগেছে।
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
ধন্যবাদ আপু
বুঝলাম। গল্পটা আরো একটু বড় হলে হয়তো সবার বোঝায় সুবিধা হত (অনিচ্ছাকৃতভাবে না বুঝলে অবশ্য অন্য কথা)
আচ্ছা, এখানে ইমো কিভাবে দিতে হয়? নূতন তো বুঝতে পারছিনা। সাহায্য করবেন কি?
- মোহনা
এখানে দেখুন
http://www.sachalayatan.com/faq/show/716
নতুন মন্তব্য করুন