আমি যে লেখাটিতে হাত দিয়েছি, সেটি লেখার মত পুরোপুরি যোগ্যতা আমার হয়ত নেই। কিন্তু চোখের সামনে Plagiarism করার ভয়াবহ কিছু ফলাফল দেখার পরে অনেকটা বাধ্য হয়ে লিখতে বসলাম।
লেখালেখির ক্ষেত্রে, সহজ ভাষায় Plagiarism হল অন্য কারও লেখা, মতামত বা বক্তব্য নিজের নামে চালিয়ে দেয়া । এমনকি পুরাতন কোনো আইডিয়া নতুনভাবে উপস্থাপন করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়াও Plagiarism(১,২)।
কখন আপনি Plagiarism করেছেন। লেখার কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়ে বলা যাবে আপনার লেখাটি Plagiarism এর দোষে দুষ্ট কিনা (১)।
১।কারো গবেষনা, লেখা বা কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেয়া
২।যোগ্য লোককে স্বীকৃতি না দিয়ে তার লেখা বা চিন্তা নিজের নামে চালিয়ে দেয়া
৩।লেখার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত জায়গায় কোটেশান চিহ্ন না দেয়া
৪।লেখার উৎস দেয়ার সময় ভুল এবং অসম্পূর্নভাবে উৎস দেয়া
৫।উৎস না দিয়ে এবং কিছু শব্দ এদিক সেদিক করে অথচ বাক্যের মূল গঠন পরিবর্তন না করে লেখা, এমনকি শুধুমাত্র বাচ্যের পরিবর্তন্ করে বাক্যটাকে পুনরায় লেখাও Plagiarism
৬।লেখার বেশিরভাগ শব্দ অন্য জায়গা থেকে কপি করে লেখা এমনকি এক্ষেত্রে যদিও উৎস উল্লেখ করা হোক বা না হোক।
মোদ্দা কথা হল, আপনার পেপারটা বা রিপোর্টটা হতে হবে অন্যের লেখা বা কাজ থেকে পড়ে, জেনে, নিজের অভিজ্ঞতা এবং গবেষনালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সেটাকে নিজের ভাষায় লেখা এবং অতি অবশ্যই, প্রয়োজনীয় সূত্র উল্লেখ করে।
লেখার উৎস বা সূত্র উল্লেখ করাকে বলা হয় সাইটেশান। কারো গবেষনালব্ধ ফল, লেখা বা কাজকে যদি আপনি আপনার পেপারে বা রিপোর্টে লিখতে চান তাহলে সেই লেখা আপনার নিজের ভাষায় হতে হবে (একে বলা হয় paraphrasing) এবং বাক্য লেখার শেষে আপনাকে বন্ধনীর মধ্যে লিখে দিতে হবে এর উৎস বা কোথা থেকে পেলেন। উৎস বা Reference লেখা হয় সাধারনত বন্ধনীর ভিতরে নাম্বার যা লেখার শেষে পরিপূর্নভাবে লেখা হয় অথবা লেখকের নাম উল্লেখ করে। এই ব্যাপারটা আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য নয় বলে বিস্তারিত লিখছিনা।
Plagiarism কিভাবে করা হয়? এখানে একটি উদাহরন দিলাম(৩)।
“The original passage:
Students frequently overuse direct quotation in taking notes, and as a result they overuse quotations in the final [research] paper. Probably only about 10% of your final manuscript should appear as directly quoted matter. Therefore, you should strive to limit the amount of exact transcribing of source materials while taking notes. Lester, James D. Writing Research Papers. 2nd ed. (1976): 46-47.
A plagiarized version:
Students often use too many direct quotations when they take notes, resulting in too many of them in the final research paper. In fact, probably only about 10% of the final copy should consist of directly quoted material. So it is important to limit the amount of source material copied while taking notes.
A legitimate paraphrase:
In research papers students often quote excessively, failing to keep quoted material down to a desirable level. Since the problem usually originates during note taking, it is essential to minimize the material recorded verbatim (Lester 46-47).” (৩)
খুব সহজ যে Plagiarism এর সাথে আমরা পরিচিত তা হল, কোনো পেপার বা রিপোর্ট লেখার সময় কোনও ওয়েবসাইট যেমন উইকিপিডিয়া বা অন্য কোনো বই থেকে প্রতিটা শব্দ কপি করে লিখে ফেলা এবং কোনো সূত্র উল্লেখ না করা। আমি এখানে যে উদাহরনটা দিয়েছি তা ওয়েবসাইট থেকেই নেয়া।
Plagiarism ধরার ওয়েবসাইটঃ
আমার ব্যক্তিগত মত, মানব ইতিহাসে অ্যাটম বোমা যতটুকু বিদ্ধংসী, ঠিক পড়াচোর ছাত্রদের জন্য ততটুকু বিদ্ধংসী হল একটি ওয়েবসাইট, www.turnitin.com (৪)।ভয়ংকর এই ওয়েবসাইটের আছে পৃথিবীর দেড়শত মিলিয়নেরও অধিক জার্নাল, ১৪ বিলিয়নেরও বেশি ওয়েবসাইট। আমি নিজে এই ওয়েবসাইটে ফোন করে জেনেছি, প্রতিদিন ২৫০,০০০ ওয়েবসাইট ওদের ডেটাবেসে যোগ হয়। ব্যাপারটা তিনি আমাকে ভড়কে দেয়ার জন্য বলেছেন না সত্যি সত্যি বলেছেন আমি জানিনা কিন্তু আমি অন্তত কানে ভুল্ শুনিনি।
ধরুন আপনি কোনো টার্ম পেপার লিখলেন এবং সেটা আপনার কোর্স শিক্ষকের কাছে জমা দিলেন। আপনার শিক্ষক সেটা নিজের turnitin account এ চেক করে দেখবেন।আপনার ফাইলটা upload করে দিবেন তার অ্যাকাউন্টে। এরপর সেটা রান করলে মুহুর্তের মধ্যে লাখ লাখ পেপার আর ওয়েবসাইট এর মধ্যে খুজে বেড়াবে কোন কোন বাক্যের কতগুলো পাশাপাশি শব্দ আপনি কপি করে লিখেছেন। এই ওয়েবসাইটটা মূলত ফলাফল দেখায় আপনার লেখার কত পারসেন্ট অন্য লেখা থেকে কপি করা। আপনি যদি লেখার মধ্যে কোনো ছবিও কপি করে থাকেন তাহলে আপনার ছবির উৎসও উল্লেখ করা উচিত কেননা ছবিও যে কপি করে নিয়েছেন সেটাও খুঁজে বের করবে এই ওয়েবসাইট।
প্রশ্ন হলো কিভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে এই ওয়েবসাইট পারসেন্টেজটা দেখায়। উত্তর আমার পুরো জানা নেই। আপনার লেখার প্রতিটা শব্দের সাথে এর ডেটাবেসের মিল খুজে দেখা হয়, অন্তত তিন বা চার শব্দ পাশাপাশি হলেও খুব সম্ভবত বের করে ফেলতে পারে। খুব সম্ভবত বললাম কারন আমার নিজের turnitin এ account নেই। আমি এটা জেনেছি যাদের অ্যাকাউন্ট আছে তাদের কাছ থেকে , আমার ইউনিভার্সিটির প্রফেসরদের সাথে কথা বলে, turnitin কে ফোন করে, আমার ইউনিভার্সিটির turnitin ট্রেইনারদের সাথে কথা বলে এবং স্টুডেন্টদের জন্য turnitin এর যে সাইট ব্যবহার করার সুযোগ আছে সেটা ব্যবহার করে(পরে এটা নিয়ে বলব)।সাধারনত ইউনিভার্সিটির টার্ম পেপার অথবা রিভিউ পেপার লেখার সময় একটা Threshold level দিয়ে দেয়া হয়। যেমন ২০% অথবা ৩০% ।
Plagiarism এর শাস্তিসমূহঃ
বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র (যার Plagiarism এর সম্পর্কে ধারনা থাকার কথা বেশ কম) থেকে শুরু করে আমেরিকার অনেক বড় বড় প্রফেসরও Plagiarism এর দোষে দুষ্ট। ইউ এস এর গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের এথিক্স ক্লাস করতে হয় এবং মজার ব্যাপার হল, আমাদের যিনি এই ক্লাসটা নিয়েছেন এবং Plagiarism এর সম্পর্কে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছিলাম , তাঁর নিজের রিসার্চ গ্র্যান্টই নাকি একবার Plagiarism এর দোষে দুষ্ট ছিল। অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি, প্রফেসররা ক্লাস নেয়ার সময় অনেকেই সরাসরি উইকি থেকে কপি করে দিয়েছেন অথচ নিচে সোর্স উল্লেখ করেননি। অথচ এরাই বড় বড় কথা বলে আর ছাত্রদের দোষ ধরে। এ যেন কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা আর আমি করলে দোষ।
যাই হোক, বলছিলাম Plagiarism এর শাস্তির কথা । আমি কিছুক্ষন আগে একটা লেভেল এর কথা বলেছিলাম। এটাকে অ্যাকসেপ্টেবল লেভেলও বলতে পারেন। এর বেশি হলে আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন যার চূড়ান্ত শাস্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এটি বেশ কমন একটি ঘটনা। তবে অনেক সময় সেটা ক্লাস শিক্ষকের উপরে নির্ভর করে । যদি শিক্ষক আপনাকে মাফ করে দেন এবং ভার্সিটিকে না জানান তাহলে আপনি বেঁচে যাবেন। আর যদি মাফ না করেন তাহলে আপনাকে লাদেন হয়ে ঘুরতে হবে।শাস্তির কিছু ধাপ আছে এবং সেটা নির্ভর করে আপনি কত মারাত্নক Plagiarism করেছেন এবং কিভাবে করেছেন তার উপরে। যদি ব্যাপারটা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জেনে না যায় এবং আপনার Plagiarism এর লেভেল ক্ষমাযোগ্য পর্যায়ে থাকে তাহলে আপনি হয়ত সাময়িক warning পেতে পারেন। আবার যদি একটু বেশি থাকে এবং আপনার পূর্বের কোনো খারাপ রেকর্ড থাকে তাহলে আপনার অবস্থা আরেকটু খারাপ হতে পারে যেমন কিছুদিন এর জন্য suspension অথবা আপনাকে probation এ রেখে দিতে পারে। আর সর্বশেষ শাস্তি হলো, ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দিবে, একেবারে dismissal । এটা হলে আপনার বেশ ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রতি বছরই বেশ কিছু ছাত্র বের হয়ে যায় শুধু Plagiarism এর জন্য।আমি এমনও শুনেছি পি এইচ ডি ডিগ্রীর ডিফেন্স হয়ে যাবার পরেও সেই ছাত্রকে ডিগ্রী দেয়া হয়নি Plagiarism এর কারনে। কথা প্রসঙ্গে বলি , আমি এই শাস্তির মাপকাঠিটা লিখলাম আমার বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মাথায় রেখে। আবারো বলছি, আপনার শাস্তি পাবার সম্ভাবনা থাকবে আপনি কোন শিক্ষকের পাল্লায় পড়েছেন অথবা আপনার দোষের মাত্রাটা কতটুকু পর্যায়ে গিয়েছে।
যেভাবে Plagiarism রুখবেনঃ
যদি আপনি সরাসরি কোনো বাক্য কপি করে লিখতে চান তাহলে অবশ্যই কোটেশন চিহ্ন ব্যবহার করবেন আর সুত্রের কথা উল্লেখ করবেন। এবার আসুন পেপার লেখার ব্যাপারে। আমি যতটুকু জানি, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্রদের জন্য turnitin.com এর অ্যাকাউন্ট নেই। কোনো পেপার, টার্ম পেপার অথবা থিসিস পেপার তাই সরাসরি কোর্স শিক্ষক অথবা সুপারভাইজর এর কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু তার আগে আপনি নিজে দেখবেন কিভাবে। www.turnitin.com এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন একটা অপশন আছে Products নামে। ওখানে ক্লিক করে পাবেন writecheck for students নামে আরেকটি অপশন। এটি তৈরী করা হয়েছে মূলত ছাত্রদের জন্য অথবা যেসব শিক্ষকের turnitin এ অ্যাকাউন্ট নেই তাদের জন্য। আমি ওদের সাথে কথা বলে এবং এই ওয়েবসাইট থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি তা হল, writecheck মূলত turnitin এর ডেটাবেস-ই ব্যবহার করে। তাহলে turnitin এর অ্যাকাউন্ট থাকার বাড়তি সুবিধা কোথায় ? বেশ কিছু আছে, যেমন আপনি যদি writecheck এ গিয়ে কোনো পেপার ম্যাচ করতে দেন তাহলে আপনাকে কোন কোন শব্দ পাশাপাশি ম্যাচ হয়েছে সেগুলো দেখাবে যাতে আপনি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নিতে পারেন। কিন্তু turnitin আপনাকে দেখাবে আপনি কোথাথেকে কপিটা করেছেন। এমনকি যদি একাধিক যায়গা থেকে কপি করে থাকেন তাহলে শব্দ সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে কত পারসেন্টেজ কোথা থেকে ম্যাচিং হয়েছে তাও দেখাবে। প্রতিবার চেক করার ক্ষেত্রে writecheck আপনার কাছ থেকে নিবে ৪.৯৫ ডলার তাও আবার এই টাকায় ৫০০০ শব্দের বেশি পেপার চেক করতে পারবেননা। তারপরও, ছাত্রদের পিঠ বাঁচানোর জন্য এটি ভাল একটি উপায়। writecheck ব্যবহার করার একটি সুবিধা হলো, এখানে চেক করা পেপারগুলোর অ্যাক্সেস turnitin এর থাকেনা। সুতরাং আপনার সুপারভাইজর অথবা শিক্ষক জানতে পারবেননা যে আপনি আগে পেপারটা চেক করে নিয়েছেন কিনা।
আপনার কাছে ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড নাও থাকতে পারে, তারা কি করবেন? যদি সম্ভব হয়, তাহলে কার্ড আছে এমন কোনো বন্ধুকে বলুন সাহায্য করতে। আর যদি একেবারেই কোনো সাহায্য না পান তাহলে একটা অতি সহজ সরল বুদ্ধি দেই। পেপার লেখার সময় বাক্যগুলো গুগল এ দিয়ে সার্চ দিন। দেখুন ম্যাচিং কতটুকু আসে। আমার পরিচিত এক পোস্টডক-যার নেচার সহ বেশ ভালো কয়েকটি জার্নালে পেপার আছে, এভাবে কাজ করতে দেখেছি। উনি পেপার লেখা থেকে শুরু করে গ্র্যান্ট লেখার কাজটিও এভাবে করেন। এই বুদ্ধিটা কিছুটা হলেও কাজে দেয়।
একটা সাবধানবানী দিয়ে রাখি। ধরুন আপনার পরিচিত কারো turnitin এ অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনার পেপার সাবমিট করার আগে তাকে দিয়ে চেক করাবেননা। কারন কোনো পেপার turnitin এ দেয়ার পরে সেটা ওদের ডেটাবেসের অংশ হিসেবে থাকে। এরপরে আপনার শিক্ষক যদি আবার আপনার পেপার রান করেন তাহলে ম্যাচ ত পাবেনই এমনকি কোথায় এটি রান করা হয়েছে সেটিও দেখতে পারবেন। তখন উলটো সমস্যা হবে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, Plagiarism মূলত বেশি করে উপমহাদেশের ছেলেমেয়েরা। কারন আমাদের আন্ডারগ্র্যাডের রিপোর্ট জমা দেয়াটা ছিল অনেকটা নেভার মাইন্ড টাইপের। আমরা মুখস্থ করার জন্য যে শ্রমটুকু দেই, মাথা খাটিয়ে লেখার ব্যাপারে সেই শ্রমটুকু দেইনা। ছোটবেলা থেকে আমাদের Plagiarism এর শিক্ষাটাও তেমনভাবে দেয়া হয়না বা এর জন্য আমাদের শাস্তি বেশ কম পেতে হয়। আমেরিকার ছেলেমেয়েরা এই কাজটা একটু কম করে।মনে রাখবেন, Plagiarism যদি করেন, আজ হোক কাল হোক আপনার ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। অতএব, সাধু সাবধান।
শেষ কথা হলো, চুরিবিদ্যা করে ধরা পড়লে এই বিদেশ বিভুঁইয়ে বেশ খবরই আছে। তার আগে সতর্ক থাকাটা বেশ জরুরী। মুহুর্তের মধ্যে আপনার ক্যারিয়ার ধবংস হয়ে যেতে পারে শুধুমাত্র plagiarism এ ধরা পড়ার কারনে। আমার এই লেখাটা পড়ে অন্তত একজন ছাত্রও যদি সাবধান হতে পারেন তাহলে সেটাই আমার জন্য অনেক পাওয়া।
সূত্রঃ
১. http://www.plagiarism.org/plag_article_what_is_plagiarism.html
২.http://www.merriam-webster.com/dictionary/plagiarizing
৩.http://owl.english.purdue.edu/owl/resource/619/01/
৪.http://www.turnitin.com/static/index.php
মন্তব্য
খুবই ভালো তথ্যবহুল একটা আর্টিকেল। লেখককে অনেক ধন্যবাদ এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার অত্যন্ত সহজ সুন্দর ভাষায় গুছিয়ে লিখবার জন্য। শুধু কয়েকটা ব্যাপার।
১। আমি আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছি। আমার টার্ন ইট ইন অ্যাকাউন্ট আছে। আমার একজন শিক্ষক আমাকে বলেছেন যে টার্ন ইট ইন খুবই ভালো একটা ওয়েবসাইট। কিন্তু টার্ন ইট ইনকেও ফাঁকি দেয়া সম্ভব। আমি নিজে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের পেপার চেক করতে গিয়েও ব্যাপারটা টের পেয়েছি। আপনি পরপর কতগুলো শব্দ বা বাক্য অন্য পেপার থেকে কপি করেছেন, টার্ন ইট ইন সেটা ধরতে পারে। কিন্তু বুদ্ধিমান কেউ যদি নকল করে টার্ন ইট ইনে ধরা না খেতে চায়, তবে সে মূল লেখার শব্দগুলো সরাসরি ব্যবহার না করে প্রতিশব্দ ব্যবহার করবে এবং সব বাক্য প্যারাফ্রেজ করে লিখবে। সরাসরি মিল না থাকলে টার্ন ইট ইন plagiarism ধরতে পারে না। টার্ন ইট ইন ব্যবহার করার সময় এই সীমাবদ্ধতাটা মাথায় রেখে কাজ করা উচিত।
২। আমার সেই একই প্রফেসরের মতে কোন শিক্ষক যদি তার শিক্ষার্থীদের পেপার টার্ন ইট দিয়ে চেক করে দেখতে চায়, তার উচিত স্টুডেন্টদের আগে থেকেই সেটা ইনফর্ম করা। কারণ টিচার টার্ন ইট ইন ব্যবহার করা মানে হলো, তিনি তার শিক্ষার্থীদের ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি ওই ওয়েবসাইটের সাথে শেয়ার করছেন (টার্ন ইট ইনে কোন কিছু রান করা মানে সেটি টার্ন ইট ইন ডেটাবেজের অংশ হয়ে যাওয়া)। কোন স্টুডেন্ট এতে অমত জানাতে পারে কিনে তা আমার জানা নেই। তবে আমার ইউনিভার্সিটির এথিক্স ওয়ার্কশপে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টদেরকে যেন জানানো হয় যে তাদের পেপার টার্ন ইট ইনে চেক করা হবে। শিক্ষকের পক্ষ থেকে এই স্বচ্ছতার একটা পরোক্ষ কূফল আছে। নকল করতে চাওয়া স্টুডেন্ট তখন সচেতনভাবে অন্যের আইডিয়া শুধু সব শব্দ ও বাক্যের প্যাটার্ন পরিবর্তন করে টার্ন ইট ইনে ধরা খাওয়া এড়িয়ে যেতে পারবে।
@ বিভা, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
১। শুধু শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করা আর প্যারাফ্রেজ করা কিন্তু এক না। আমার উদাহরণটা লক্ষ্য করুন ।ধরুন আপনি কোন রিসার্চ পেপার থেকে কপি করার সময় প্রতিশব্দ ব্যবহার করলেন এবং একটা জার্নাল পেপার লিখলেন, আপনার সেই রিসার্চ পেপার যদি রিভিউ এর জন্য সেই আগের পেপার রাইটার এর কাছে যায় তখন কি অবস্থা হবে? turnitin ধরতে না পারলেও কিন্তু তিনি ঠিকই পাব্লিশারদের জানিয়ে দিবেন ব্যাপারটা।
২। ঠিক বলেছেন, আমেরিকাতে ক্লাসের সময় জানিয়ে দেয় যে জমা দেয়া টার্ম পেপারটা turnitin এ চেক করা হবে। কিন্তু আপনিও জানেন আর আমিও জানি, এরপরও অনেকেই এইটুকু সতর্কও হয়না, আর তাদের জন্যই আমার এই পোস্ট।
ধন্যবাদ
পড়াচোর
জবাবের জন্য ধন্যবাদ। আমি বোধহয় ব্যাপারটা ঠিক পরিষ্কার করে লিখতে পারিনি। আপনি plagiarized version and legitimized version-এর যে উদাহরণটা দিয়েছেন, সেটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটা উদাহরণ এবং সেটা অনেক কনফিউশন দূর করবে। আমি শুধু বলতে চেয়েছি যে plagiarize করে অথবা যথাযথভাবে প্যারাফ্রেজ করার পরে কেউ যদি রেফারেন্স উল্লেখ না করে এবং অন্যের আইডিয়া নিজের বলে চালিয়ে দিতে চায়, সেটা অনেক সময় টার্ন ইট ইন ধরতে পারে না। হুবহু কয়েকটি শব্দ পরপর ব্যবহার করা হলে টার্ন ইট ইন শুধু সেটা ধরতে পারে। জার্নাল পাবলিকেশনের যে উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, সেটা একদম ঠিক। জার্নাল পাবলিকেশানের সময় শুধু টার্ন ইট ইনের ভয় থাকে না। পিয়ার রিভিউ বোর্ডের সদস্যরা একেকজন জ্ঞানের জাহাজ এবং তাদের আছে ধরা পড়লে অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার শেষ! কিন্তু মনে করুন আন্ডারগ্র্যাড লেভেলের খাতা দেখার কথা। আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি - আন্ডারগ্র্যাড স্টুডেন্টদের পেপার গ্রেড করার সময় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা অনেক সময় সরাসরি বই থেকে কোন কনসেপ্ট নিচ্ছে কিন্তু সেটার রেফারেন্স উল্লেখ করছে না। কিন্তু নিজের ভাষায় গুছিয়ে লেখার কারণে টার্ন ইট ইন সেগুলো মার্ক করছে না। আমার পড়া বই বা আর্টিকেল থেকে কনসেপ্ট লিখলে আমি সেগুলো মার্ক করে বলছি যে রেফারেন্স উল্লেখ করা উচিত। কিন্তু আমি যা যা পড়িনি, সেগুলো থেকে কনসেপ্ট নিয়ে সেটা নিজের ভাষায় বদলে লিখলে (প্রতিশব্দ বা প্যারাফ্রেজ যাই হোক) সেটা বোঝার কোন উপায় আমার থাকছে না।
স্টুডেন্টদের মধ্যে নীতিবোধ তৈরি করা তাই খুব বড় ব্যাপার। শাস্তির ভয়তো থাকবেই। তবে তার চেয়েও বড় ব্যাপার হলো শিক্ষার্থী-গবেষকদের মধ্যে এই বোধটা তৈরি করা যে অন্যের কনসেপ্টকে অ্যাকনলেজ না করে নিজের কনসেপ্ট বলে চালিয়ে দেয়া একটা পাপের পর্যায়ে পড়ে। দেশের বাইরে পড়তে আসলে মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপ থেকেই হোক আর ঠেকেই হোক, সেটা খুব তাড়াতাড়ি বুঝে যায়। কিন্তু দেশের ভেতরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের এই ব্যাপারগুলো সম্পর্কে জানবার খুব বেশি উপায় নেই। আমার মনে আছে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময় প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষে ধুমিয়ে ওয়েবসাইট থেকে কপি পেস্ট করেছি কোন ধরণের রেফারেন্স ব্যবহার করা ছাড়াই। তৃতীয় বর্ষে উঠবার পর এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ব্যাখ্যা করলেন কেন এই কাজগুলো করা যাবে না এবং কীভাবে সঠিকভাবে অন্যের কাজের রেফারেন্স দিতে হবে। আপনার এই ব্লগটা আমি যদি তার আগেই হাতে পেতাম, তাহলে আমার সেই শিক্ষককে আমার রেফারেন্স ছাড়া কপি-পেস্ট করা লেখা দেখে দুঃখ পেতে হতো না। যারা উচ্চশিক্ষার পথে মাত্র হাঁটতে শুরু করেছেন, তাদের সবার এই লেখাটা পড়া উচিত। কারণ অফিসিয়ালি ইউনিভার্সিটি থেকে এই ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার সুযোগ আমাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই নেই।
আপনার উদ্যোগকে তাই অনেক অনেক সাধুবাদ!
ধন্যবাদ একটা তথ্যবহুল লেখা দেয়ার জন্য।
এইরকম একটা পোস্ট আশা করছিলাম। প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল পোস্টের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আশফাক এবং তানিম আহসান। আমি মন্তব্যের জবাবে লিখতে পারছিনা। তাই নতুন করে মন্তব্য লিখলাম।
পড়াচোর
বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য অনেক বেশি সমস্যা কারণ আমাদের শিক্ষার শুরুই হয় প্লেজারিজম দিয়ে - আমাদের সম্মানিত(!) শিক্ষকরাই আমাদের নোটবুক থেকে মুখস্থ করে লেখা শিখিয়েছেন যেটা সম্পূর্ণভাবেই প্লেজারিজম।
তবে আনইন্টেনশনাল প্লেজারিজমের ক্ষেত্রে কিন্তু কড়া শাস্তি দেয়া হয় না। জেনেশুনে প্লেজারিজম করলে তার শাস্তি সোজা ঘাড় ধরে বের করে দেয়া, আমি ঠিক জানি না কোন বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিনা যেটা এই ক্ষেত্রে বের করে দেবে না। কিন্তু না বুঝে করলে সেটা অন্য ব্যাপার।
অনেক ধন্যবাদ ব্যাপারটা নিয়ে লেখার জন্য। তবে প্লেজারিজমের ব্যাপ্তি কতখানি সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে উদাহরণ সহ আলাদা আলাদা করে যতগুলো সম্ভব পরিচিত প্লেজারিজমের বর্ণনা দিলে ভালো হতো।
দয়া করে লেখার শেষে নিজের নামটা দিয়ে দেবেন
কী খাঁটি একখানা কথাই যে বলেছেন!
হায়, আবারও নামহীন লেখা? হা হতোস্মি!
লেখাটা ভালই লেগেছে, তবে আপনি ওই সাইটটিকে আলোচনার একটা বিশাল অংশ দিয়েছেন, সেটা একটু কমানো যেত হয়ত। ব্লগ-এর লেখা চুরির জন্য কিছু সার্ভিস আছে, যেমন www.copyscape.com, তাদের কথাও একটু আনলে মন্দ হত না।
আমার একটা প্রশ্ন আছে - আমার দুই ছাত্র যদি একজন আরেকজনের লেখাটা কপি করে সামান্য বদলে জমা দেয়, তাহলে সেটা ধরার কি কোনো উপায় আছে? মানে ওদের ডেটাবেসে নেই এমন দুটো লেখা পরষ্পর মেলানোর কোনো উপায় আছে কি?
কৌস্তুভ, উপায় আছে। কিন্তু সেটা কোথাও ইমপ্লিমেন্টেড আছে কিনা বলতে পারবো না। যদি খাওয়ান তো হয়তো এ ধরনের একটা কিছু আপনাকে বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি
আছে। Doc cop (doccop.com) ব্যবহার করা যায়, দুইটা ফাইলই <৫০০০ শব্দের হতে হবে। অবশ্য বেশ কয়েকটা ফাইলের মধ্যে ক্রস-চেক করা যায়।
-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...
খুব গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...
ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্য।
@ অপছন্দনীয়, লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছিল। আর আমি মনে হয় নামটা দিয়েছিলাম। আসেনি কেন বুঝতে পারছিনা।
এবার নাম দিয়ে দিলাম।
পড়াচোর
আপনের নিকটাতো চমৎকার লাগলো, এই নিক নিয়া আপনি ‘পড়াচুরির’ বিরুদ্ধে যে ষ্ট্রং একটা স্ট্যান্ড নিছেন সেইটারে সাধুবাদ জানাইলাম, আপনের সাথে আছি
উনি স্ট্যান্ড নিয়েছেন লেখা চুরির বিরুদ্ধে।
অনেক তথ্যনির্ভর একটা লেখা। আশা করি সবার উপকারে আসবে...ফেইসবুকে আর টুইটারে শেয়ার করলাম...
----------------------------------------
কেউ যাহা জানে নাই- কোনো এক বাণী-
আমি বহে আনি;
@কৌস্তুভ, আমার নামটা আসলোনা কেন আমি বলতে পারিনা। আমি মনে হয় দিয়েছিলাম।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অন্তত একটা উদাহরন দেয়া ভালো হবে বলে ওয়েবসাইটের লেখাটা টেনেছি।
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেই। Turnitin এ কোনো পেপার সাবমিট করার পরে সেটা ওই ডেটাবেসের অংশ হয়ে যায়। আপনি প্রথম ছাত্রের লেখা দেয়ার পরে যদি দ্বিতীয় ছাত্রের লেখা পেপারটা দেন , তাহলে মিল দেখানোর কথা। কিন্তু কে কার লেখা কপি করেছে সেটা বের করতে পারবেনা কারন এটা আপনি কোন ছাত্রের পেপারটা আগে দিয়েছিলেন এটার উপরে নির্ভর করবে। আর যদি তারপরো বের করতে চান তাহলে আপনাকে নিজেই ছাত্রদের ডলা দিয়ে বের করতে হবে (যদি মিল পেয়ে যান)।
পড়াচোর।
কৌস্তুভ এবং রিজভী, আপনাদের মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
@কৌস্তুভ, Turnitin এ কোনো পেপার দিয়ে দেয়ার পরে সেটা এর ডেটাবেসের অংশ হয়ে যায় বলেই জানি। সেক্ষেত্রে প্রথম ছাত্রের পেপারটা দেয়ার পরে দ্বিতীয় ছাত্রের ক্ষেত্রে ধরা পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
ওয়েবসাইটটিকে লেখার একটা বড় অংশ দেয়ার কারন এটা যে কত বড় ভয়ংকর একটা জিনিষ, সেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সতর্ক করে দেয়া।
পড়াচোর
@কৌস্তুভ এবং রিজভী, ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্য।
@ কৌস্তুভ, Turnitin এ কোনো লেখা পেপার সাবমিট করলে সেটা এর ডেটাবেস এর অংশ হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রথম ছাত্রের পেপার দেবার পরে দ্বিতীয় ছাত্রের পেপার মিল থাকার কথা।
পড়াচোর।
@ তানিম এহসান, " সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ " *
* সূত্রঃ এনটিভির বাংলা রাতের খবর
পুরো কথাটাকে কোটেশানের মধ্যে দিলাম কারন বাংলা রাতের খবরে এটি বলত। ওখান থেকে কপি করেছি। হে হে... বাই দ্য ওয়ে, ওরা কি এখনও বলে ? অনেকদিন দেশী টিভি চ্যানেল দেখা হয়না।
দরকারী লেখা।
এই লেখায় তো লেখকের নাম নাই... মেরে অন্য ব্লগে দিয়ে দেই... নাকি?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
জার্মানীর দুজন মিনিষ্টার এই কাজে ধরা খাইছে। পি.এইচ.ডি পেপারে কপি মারছিলো
নজু ভাই, আমারেও ভাগে রাইখেন !!
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
@বইখাতা, ধন্যবাদ
@ফ্রুলিক্স.. , শুধু মিনিস্টার কেন, অনেক প্রফেসররাও এখন ধরা খাচ্ছেন।
@নজরুল ইসলাম এবং রণদীপম বসু,
একটা প্রশ্ন, সচলের মডারেটর কি এখন চাইলে পারেন আমার নিক আর ইমেইল আইডি টা লেখায় যোগ করে দিতে ? যদি পারেন তাহলে করার জন্য অনুরোধ থাকলো।
পড়াচোর
Very much helpful and informative.Thnx a lot for this wonderful post.
অনেক পরিশ্রম করেছেন
আমার মাস্টার্সের প্রথম দিনে সবার আগে আমাদেরকে এই বিষয়ে সাবধান করা হয়েছিল। বলা যায় ভয় দেখানো হয়েছিল!
এই দু'সপ্তাহ আগে আচমকা হই হই পড়ে গেল ল্যাবে। শুনলাম ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর জরুরী মিটিং ডেকেছেন। ল্যাবের মশা-মাছিগুলোকেও হাজির থাকতে হবে। গিয়ে শুনি কোথায় যেনো চুরি করে ধরা খেয়েছে কে! আমাদেরকে আবারও সাবধান করার জন্য ডাকা হয়েছে...
অন্যের লেখা/তথ্য/গবেষণা চুরি ছাড়া চুরির তালিকায় আছে নিজের গবেষণা ভুলভাবে/বদলে উপস্থাপন করাও! এ বিষয়েও একটা লেখা দিতে পারেন।
চুরি কাজটা ছাত্রেরা কেনো করে বুঝিনা! চুরি ধরা পড়বেই! কখনো কখনো সময় লাগবে কিন্তু ধরা পড়বেই। লোকে চুরি করে প্রেম করতে গিয়েই লেজেগোবরে করে ফেলে আর এতো গবেষণা প্রবন্ধ!!!
______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন
প্ল্যাজারিজম খুবই বড় সমস্যা আমাদের দেশে। সমস্যা হোলো ছাত্ররা এই চোথাবাজী তাদের অধীকার বলে মনে করে। শিক্ষকরাও এটাকে খুব সহজে গ্রহন করে। একবার একটা এসাইনমেন্ট দেয়া হলে আমি তিন/চারদিন ধরে মাথা খাটিয়ে সমাধান বের করি, প্রোগ্রামিং করে ফলাফল উপস্থাপন করি। সেটা পুরো ক্লাসের কেউ সমাধান করতে না পারলে এক বন্ধুকে সমাধানটা দেখাই। পরের দিন দেখি সেই "বন্ধু" আমার সমাধানটাই তার সমাধান হিসেবে বিলি করছে। ফাওয়ের উপর সবাইকে জানিয়েছে যে আমি সেটা কাউকে দেইনি। আর আমার ক্লাসমেটরা আমার সমাধান আমি কেনো ওদের আগ বাড়িয়ে দেইনি সেই দোষে আমাকে গালাগালি করছে।
আমেরিকায় এসে দেখলাম প্ল্যাজারিজমের শাস্তি কি ভয়ানক হতে পারে। পুরো ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেশে ডিপোর্ট করে দেয়া হয়। আসলেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কাছাকাছি একখানা ঘটনা ছিলো - তবে ইংরেজী কোর্সে। কিছু একটা অ্যাসাইনমেন্ট ছিলো সেখানে, একটা বিশাল লেখা লিখতে হবে। তিনদিন বেশ খেটেখুটে একদিন রাতে না ঘুমিয়ে করলাম সেটা। সাবমিশনের আগের দিন এক ক্লাসমেট এসে একটু চাইলো, কথা দিলো সে কপি করবে না, স্রেফ একটু দেখবে কেমনে লিখেছি। আমি বরাবরই বোকা মানুষ, দিয়ে দিলাম, কিন্তু কেন যেন গ্রাফগুলো ডিলিট করে দিলাম। সাবমিশনের সময় দেখি বাহ, একেবারে প্রথম আর শেষটা নিজের প্যারাগ্রাফ, মাঝখানে পুরোটাই আমার লেখা - গ্রাফগুলো খালি আলাদা। সেটা বলতে আবার উপদেশ শুনলাম "নিজের মনটা একটু বড় করতে শেখো"...
ল্যাবে এক ইরানি ছেলে আসলো বছরের শুরুতে। তখন আমরা একটা কনফারেন্স আয়োজন করছি। সেটার এবস্ট্রাক্ট আর একই সাথে আলাদা একটা জার্নাল বের হচ্ছে। তো সে এসেই রীতিমতো ধুমধাম ফেলে দিলো। অল্পদিনের মাঝেই ক্যান্সার সেল ডেস্ট্রাকশন নিয়ে একটা এবস্ট্রাক্ট আর একটা আট পাতা জার্নাল পেপার নিয়ে হাজির...
আমি লুক ভালো না। একটু চেক করার খায়েশ জাগলো। প্রতিটা অক্ষর হুবুহ কপি পেস্ট। তারে জিজ্ঞেস করার পর উত্তরঃ আমি তো আর মানুষ খুন করিনাই...
http://www.articlechecker.com/ এইটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। টাকা পয়সার কোনো ঝামেলা নাই। ভালো কাজ করে।
@ধৈবত,Krish,মিলু ,নৈষাদ- ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্য
@অনার্য সঙ্গীত, ধন্যবাদ আপনাকে। Self plagiarism টা আসলে ৭ নং পয়েন্টে লেখা যেত। আলাদা করে লেখাটা খুব গুরুত্ব বহন করবেনা মনে হয়।
@এস এম মাহবুব মুর্শেদ ... "ছাত্ররা এই চোথাবাজী তাদের অধীকার বলে মনে করে"...
@রায়হান আবীর, ধন্যবাদ। "আমি তো আর মানুষ খুন করিনাই" !!! ব্যাটারে একটা থাবড়া দেন নাই ??
অনেক ধন্যবাদ আপনার লিংকটা দেয়ার জন্য। আমার পোস্টকে এটা অনেক সমৃদ্ধ করলো । আমি এটার কথা জানতামনা ।
পড়াচোর
১. দারুণ লেখা। বিষয়টাও দারুণ। অনেক ধন্যবাদ।
২. Plagiarism চেক করার জন্য আমি http://plagiarismcheck.org/ ব্যবহার করি। ভালো সার্ভিস দেয়- টাকাপয়সা ছাড়াই।
৩. ...কিন্তু একটু সমস্যাও আছে। সেদিন আমার একটা লেখা http://plagiarismcheck.org/-এ চেক করার জন্য দিলাম। ব্যাটা দেখি ৮% Plagiarism আছে দেখায়। আমি ভাবি এমন তো হওয়ার কথা না! সোর্স এবং বাক্য চেক করতে গিয়ে দেখি - On the other hand, I would like to ইত্যাদি বাক্যকেও মার্ক করেছে।
৪. টাকাপয়সা ব্যয় ছাড়া ভালো কোনো Plagiarism checker আছে? কোনো অফলাইন ভার্সন আছে?
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ
আমার থিসিস পেপার! (
**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।
মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।
@ গৌতম,
১। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যের জন্য
২। লিংকটার জন্য ধন্যবাদ
৩। আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন সেটি কোনো সমস্যা না বলে আমি মনে করি। কারন এটি একটি সফটওয়্যার। এর কাজই হলো মাচ্যিং দেখা । আপনাকে শেষ পর্যন্ত judge করবে কিন্তু একজন মানুষ। আমি writecheck এর যে কথা বললাম , আমার নিজের ক্ষেত্রেও কিন্তু ঠিক এরকম শব্দগুলোই ধরেছে , এক্ষেত্রে দোষের কিছু নেই। পেপার লেখার ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো ছাড়া লেখা কঠিন।
৪। ব্লগার রায়হান আবীর একটি লিংক দিয়েছেন। সেটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
ভালো থাকবেন।
পড়াচোর
খুবই কাজের লেখা। অনেক ধন্যবাদ পড়াচোর।
আপনি এখানে প্লেজিয়েরিজমের একটা দিক অর্থাৎ একাডেমিক দিকটা নিয়ে বলেছেন। কিন্তু প্লেজিয়েরিজম নাই কোথায় ... সংগীত, চিত্রকলা, এমনকি রাজনীতিতেও। আরো একটা লক্ষ্যণীয় বিষয় - সেল্ফ প্লেজিয়েরিজম (Self-plagiarism) ... কেউ যদি নিজেই নিজের পুরোন প্রকাশনা থেকে লেখা মেরে নতুন রিসার্চ পেপার, আর্টিকেল তৈরী করে ! এইটার সীমারেখা নিয়া অবশ্য কিছু বিতর্ক আছে।
কিন্তু এখন নাহয় প্লেজিয়েরিজম ধরার জন্য গুগল এবং আরো অনেক ওয়েব সাইট চলে এসেছে, কিন্তু ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগে কী অবস্থা ছিল?
ধন্যবাদ ইস্কান্দর বরকন্দাজ,
@ তাওহীদ আহমদ, Self Plagiarism এর সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক আছে বলেই হয়ত এটির শাস্তি আসল plagiarism এর মত ভয়ানক হয়না।
ইন্টারনেট আসার আগে যারা plagiarism করে ডিগ্রী হাতিয়ে নিয়েছিল তাদের কেউ কেউ এখন ধরা খাচ্ছে বলে জানা যায়।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
নতুন মন্তব্য করুন