খুলনা নিরালার মোড়ে একটা পলাশ ফুলের গাছ আছে, আমার খুব প্রিয়। তার কথা ভাবতে ভাবতে আরো অনেকের কথাই মনে হয়, আমি তাদের কাছে ছিলাম, এখনো আছি, কিন্তু চোখের দেখায় হয়ত নেই। আমার সেই গাছগুলির কথা আজ কেন জানি সবাইকে বলতে ইচ্ছে করছে। আমার জীবনটা রবীন্দ্রনাথের গানের সেই চাপা গাছের মত। “আমি সদা অচল থাকি, গভীর চলা গোপন রাখি”। বইএর বাইরে যে একটা দুনিয়া আছে, সেখানে চলতে হয় বা চলতে হবে এগুলো আমার মাথায় আগে কখনো আসত না। ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে এখন কর্মক্ষেত্রে চলে এসেছি, সামনে কোথায় যাবো, জানিনা। কিন্তু এখনো যখন খুব একা লাগে, মনে হয় অস্থির সময়ে আমি তলিয়ে যাচ্ছি হতাশার চোরাবালিতে, আমি আমার গাছেদের কথা ভাবি। ভাড়াবাড়িতে কেটেছে সারাজীবন, এখন হোস্টেলে। গাছ লাগানোর কোন সুযোগ ছিল না, কিন্তু গাছদের ভালোবাসার অফুরান সুযোগ আছে আমার। আমার প্রিয় কিছু গাছেদের কথা আজ মনের পুকুরে শোলা গাছের মত ভেসে উঠছে, তাই লিখছি।
খুলনা পিটিআই এর শিমুলঃ
ছোট বেলায় তো দেখেছি, বড় বেলাতেও দেখেছি, “ক্যাপ্টেন প্লানেট” । কার্টুনটির “গায়া” চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের। খুলনা পিটিআই এর ভেতরে একটা বিশাল বড় শিমুল গাছ ছিল, শিক্ষকদের টিন শেড কোয়ার্টারের পেছনে, খান জাহান আলী রোড দিয়ে যাবার সময় দেখতাম গাছটিকে। চোখ ভরে দেখতাম। আমার পুরো স্কুল জীবনধরে আমি এই গাছটিকে দেখেছি। যখন ফুল আসত আমার মনে হত “গায়া”আলো হাতে দাঁড়িয়ে আছে যেন “ আলো হাতে চলিয়াছে আধাঁরের যাত্রী” যদিও জানি, সে বিশাল বৃক্ষ চলতে পারেনা। কিন্তু তার বিস্তৃত ডালগুলো দিয়ে সে যখন বাতাসকে ছুঁইয়ে দিত, সেও হয়ত চলত। ছোট বেলার কত কল্পনা। তারপর একদিন দেখি গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে, শিক্ষকদের জন্য বহুতল কোয়ার্টার হবে। এখন গাছটি নেই সেখানে, কিন্তু সে আছে আমার মনের ভেতর। কঢাকা থেকে খুলনা যাবার পরে যখন রয়েল মোড়ে বাস আমাকে নামিয়ে দেয়, আমি গাছটিকে দেখতে পাই।
স্কুলের রেইন ট্রিঃ
আমাদের স্কুলের দুইটা বিল্ডিং, এল শেপের চার তলা ছেলেদের জন্য আর টি শেপের আড়াইতলা মেয়েদের জন্য। মেয়েদের বিল্ডিং এর সাথে সঙ্গতভাবেই দুইটা মাঠ হয়ে গিয়েছে। একটা অপেক্ষাকৃত বড় যেখানে সকালের সমাবেশ হত, আর ছোট মাঠটিতে বড় মেয়েরা বসে গল্প করত, মাঝে মাঝে টিচাররাও গোল হয়ে বসত। আমরা “রুমাল চুরি” খেলতাম। বড়মাঠের কেন্দ্রের একটু পাশেই আছে আমার রেইনট্রি। আমার শৈশবের খেলার সাথী। আম্মু শিক্ষক হবার কারনে আমার ক্লাস শেষ হলেও এক একা বসে থাকতে হত। আম্মুর ক্লাশ শেষ হলে তারপর একসাথে বাসায় ফিরতে হত কারন আমরা থাকি টুটপাড়ায় আর স্কুল তো খালিশপুরে। দোতালায় বড় মেয়েরা ক্লাস করছে, নিচতলার ক্লাস রুমগুলো বন্ধ। আমি বিশাল গাছটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছি, এইটা ছিল আমার প্রতিনের রুটিন। বেলা এগারোটা থেকে দুইটা পর্যন্ত। গাছ থেকে পাতা পড়ছে, আমি দৌড় দিয়ে পাতা মাটিতে পড়ার আগে ধরার চেষ্টা করি। এটাই আমার খেলা। ক্লাস টু থেকে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত এটাই ছিলো আমার খেলা। ক্লাস ফাইভ, সিক্সে অবশ্য বারোটা ত্রিশ পর্যন্ত ক্লাস হত।
তালি পামঃ
এই গাছটি নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে পত্রিকায়। আমিও পত্রিকা পড়েই প্রথম তাকে দেখতে যাই, তখন কেবল ফুলের আভাস দেখা যাচ্ছিলো। যখন ফুল এলো গাছটিতে আমি দেখতে যেতাম গাছটিকে। যখন ফুল এসেছিল, একদিন গিয়েছি, ক্লাশ শুরুর আগে, গুড়িঁ গুড়িঁ বৃষ্টির মত আমার গায়ে মাথায় ফুল পড়ছিল, এক এক বার বাতাস বয়ে যায় আর ফুল ঝরে পড়ে। আমি গাছটাকে ছুঁয়ে বসে ছিলাম অনেকক্ষন। উপ-উপাচার্যের বাসভবনের দারোয়ান আমাকে চিনে গিয়েছিলো, সপ্তাহে না হলেও দুই সপ্তাহে একবার যেতাম গাছটিকে দেখতে। গত পরশু, ২৭ এপ্রিলে যখন ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি, মনের মধ্যে হু হু করে উঠল, আহারে! আমার গাছটি। খালি দেখাচ্ছে রাস্তা থেকে।
রমনা পার্কের সোনালুঃ
এই গাছটি আমার মন খারাপের গাছ। আমার মন আনন্দের গাছ। অনেক মন খারাপ লাগলে গাছটির নিচেয় বেঞ্চে বসে থাকতাম শুক্রবার সকালে যেয়ে। এখনও আমার ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে গাছটির নিচেয় যেয়ে বসি, সময় পেলে। মনে আছে, ২০১০ এ যখন সে চট্টগ্রাম চলে যায়, এই বিশাল শহরে তখন নিজেকে যে কী রিক্ত লাগত! সসকালে রমনা পার্কে হাটঁতে যেয়ে না হেঁটে গাছটির নিচেয় বসে থাকতাম। প্রাতঃভ্রমণকারীরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। আমি এখনও যাই গাছটির কাছে। উনিভার্সিটি থেকে বেইলী রোদে আসতে রমনা পার্কের মাঝকান্দিয়ে আসতে গাছটিকে একবার চোখ দিয়ে আদর করে যাই।
(চলতে পারে ?)
- ব্যাঙের ছাতা
মন্তব্য
চলুক। সাথে ছবিটবি থাকলে আরো ভালো হতো; নিদেনপক্ষে আপনার ছাতার ছবিটা।
ব্যাঙের ছাতাই যে মাশরুম এইটা জেনেছি অনেক পরে। আমার কল্পনায় একটা দৃশ্য আসে যে অনেক বৃষ্টির শেষের দিকে একটা ব্যাঙ পরিবার ছাতা মাথায় দাড়িঁয়ে আছে রাস্তা পার হবার জন্য। ভেঙ্গে যাওয়া ব্যাঙের ছাতা দেখলে আমার মন খারাপ হত। ভাবতাম, ইশ! ওদের ছাতা তো মাটিতে গজায়, আমাদের মত দোকানে কিনতে পাওয়া যায়না। নিজেকে সংজ্ঞায়িত করি কুয়ার ব্যাঙ হিসেবে যে বাইরের পৃথিবী বিষয়ে অজ্ঞ। যখন সচলে নিবন্ধন করি, খুব ভাবনায় ছিলাম নিক নিয়ে, কুয়ার ব্যাঙ না ব্যাঙের ছাতা।
পরে ব্যাঙের ছাতা হয়ে গেলাম সচলে।
এবার তাহলে নিক পাল্টে ফেলেন
উহু, না, মাশরুম শুনলেই একটা ব্যানার চোখে ভাসে "এখানে মাশরুমের চপ পাওয়া যায়"
আমার ব্যাঙের ছাতাই ভালো
আমার তো ছবি দেবার সুযোগ নেই, সদস্যপদ না পাওয়া পর্যন্ত
সদস্যপদ পেলেই ছাতার ছবি দিয়ে দিব
আমি আপনার লেখা খুব মনযোগ দিয়ে পড়ি, আপনি প্রথমে পড়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। অনেক ধন্যবাদ।
চালিয়ে যান
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
আপনার নিকটা অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ, মন্তব্য করার জন্য। এই কবিতার লাইঙ্গুলো আমার খুব প্রিয়, তাই আপনাকে দিলাম
"কীর্তিনাশা, খুঁড়ে খুঁড়ে চলে বারোমাস
নতুন ডাঙ্গার দিকে-
পেছনের অবিরল মৃত চর বিনা
দিন তার কেটে যায়-
শুকতারা নিভে গেলে কাঁদে কি আকাশ?"
ধন্যবাদ লাইনগুলোর জন্য। খুব ভালো লাগলো।
আচ্ছা এটা কি জীবনান্দের কবিতা? যদি উত্তর হ্যা হয় তবে কোন কবিতা?
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
নিচ্চয় চলতে পারে। চলতেই থাকুক।
গাছপালা নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ অল্প, আমি কাঠখোট্টা মানুষ। কিন্তু ঢাবি আর বুয়েট ক্যাম্পাসের বর্ডারলাইন যে রাস্তাটি উদয়ন স্কুল থেকে পলাশী বাজার পর্যন্ত গিয়েছে তার পুরোটাই দুপাশের গাছে ঢাকা, এই জিনিষটা আমার দারুন লাগত। ওই রাস্তায় বৃষ্টি শুরু হত মিনিট দুয়েক পরে, গাছের পাতায় পানি আটকে যেত কিনা।
..................................................................
#Banshibir.
কাকতালীয় হলেও এই জায়গায় আমি গত শুক্রবারে ছিলাম, দুপুরের রোদে ফুটপথে বসেছিলাম। তবে বৃষ্টির কথাটি অনেক সুন্দর করে বলেছেন। "বৃষ্টি শুরু হত মিনিট দুয়েক পরে"।
খুলনা শহরে এমন একটি রাস্তা আছে, জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে, মন খারাপ লাগলে ঐ রাস্তায় যেতাম, বসে থাকতাম, হাঁটতাম, নইলে রিকশায় করে চক্কর দিতাম।
এগিয়ে চলুন , ভালো লেগেছে , প্রত্যেকের জীবনে ভালোলাগা আর ভালবাসার একটা যোগাযোগ
তরতরিয়ে চলুক।
ধন্যবাদ
পড়ার এবং মন্তব্য করার জন্য।
আমার গাছগুলির কথা মনে পড়ে গেল। ভালো লেগেছে। চলুক।
আপনার গাছগুলির কথাও লিখুননা, পড়ি।
আমার পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ প্রীতি প্রবল!
বাসার সামনে/ পেছনে জায়গা নেই এক ফোঁটাও, গরীবের ছোট্ট একটুকরো রুফ গার্ডেনই সম্বল। সেখানে হাসনুহেনা আর বেলি এমন প্রতিযোগিতায় ফুল ফোটায়, নেশারু হয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
লেখা চলুক।
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
আপনার মন্তব্য দেখে খুব ভালো লাগছে; আর মন্তব্যের প্রথম লাইন পড়েই "পুস্প, বৃক্ষ এবন বিহঙ্গ পুরাণ" এর কথা মনে হল।
ধন্যবাদ, মন্তব্য করার জন্য।
ভাল লাগলো। গাছ নিয়ে আরও লিখুন ।
সচলায়তনে এটা আমার তৃতীয় লেখা। অনেকগুলি বানান দ্রুত টাইপ করতে যেয়ে উল্টায়ে গেছে। যেমন ঢাকার আগে কোথা থেকে একটা ক চলে এসেছে, ইউনিভার্সিটির ই হারায়ে গেছে
তারপরও আপনারা সবাই আমাকে এত উৎসাহ দিচ্ছেন, আমার খুব ভালো লাগছে। অনেক ধন্যবাদ সবাইকেকে, পড়ার এবং মন্তব্য করার জন্য।
ছাতা আপু/ভাই, লেখাটা ভীষণ ভালো লাগলো।
আমারও কিছুটা আপনার অবস্থা। ভাড়া বাড়িতে কেটেছে সারাটা জীবন কিন্তু লাগানোর সুযোগ পেয়েছি টবের মাটিতে, ভালবাসারও সুযোগ আছে......।
চাকরি জীবনে এসে মানি প্ল্যান্ট লাগানোর ভীষণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কোন অংশ টা ছিঁড়ব বুঝতে পারি না।
বলে রাখি আমার টবটা কিন্তু খুব ছোট.........।
চলুক
চাকরী জীবনের মানি প্লান্ট ছেঁড়ার চেষ্টা করিয়েন না, বিপদে পড়বেন। মানিপ্লান্টের বেঁচে থাকার ক্ষমতা ভালো। লাগিয়ে ফেলেন।
আপনার পরামর্শ এর জন্য
মনে পড়ে গেল আমার একান্ত নিজের কিছু গাছ ছিল। নিজের একটা বাগান ছিল। সেই বন বাগানকে খুব মিস করলাম লেখাটা পড়ে। গাছ নিয়ে লেখালেখি অবশ্যই জারি থাকা উচিত। আরো লিখুন।
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
নিরালার পলাশ গাছটি সত্যি সুন্দর। মোড়ে একটা সুন্দর সাজানো বাগান সহ খুব সুন্দর একটা বাড়ী ছিল। পি টি আই এর শিমুল গাছের কথা মনে পড়ছে না, ষাটের দশকে ঐ স্কুলের ছাত্রি ছিলাম, একটা পুকুর ছিল, আর বিড়াট একটা সফেদা গাছ ছিল আমাদের খুব পছন্দের খেলার জায়গা।
এখানে এখন বসন্ত, ফুল আর সবুজের সাজ! বাগান ঢেলে সাজাতে অনেক কাজ, মনে সেই পরিকল্পনা করছি। দেখি কত টুকু পারি। সামনে ফুল, আর পিছন আঙ্গিনায় এক টুকরো বাংলাদেশ,পুঁই, লাউ, কুমড়ো, বেগুন, মরিচ, মনে চায় আরো কত কি লাগাই!!!
আমারও কিছু গাছ ছিলো, প্রিয় গাছ। মনে পড়ে গেলো
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
ভালো লাগলো।
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
লেখা ভালো লেগেছে। নিরালার আর পিটিআইয়ের গাছগুলো তো আমার অতিচেনা আর খালিশপুরের গাছও মনে হচ্ছে চিনেছি। বাইদ্যওয়ে, আমার বাড়িও টুটপাড়ায়।
------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।
আমার বাড়ি টুটপাড়া কবরস্থানের পেছনের দিকে, ঘোষের ভিটা।
খুব ভালো লাগল। গাছ নিয়ে লিখছেন, আবার জিজ্ঞাসা করছেন চলতে পারে কিনা, বলি- চলবে না বরং দৌড়াবে। গাছপালা আর প্রকৃতি নিয়ে কি আর বলব, ভালোবাসা এই একটাই আছে।
ডাকঘর | ছবিঘর
ক্যান ? তোমার কি রূপান্তর ঘটছে ? শাখা প্রশাখা বেরুচ্ছে ?? তাইলে তো ঘটকালি করতে গেলে বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হবে রে ভাই।
----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। গাছ নিয়ে আরো লেখার পরিকল্পনা আছে।
একটু তথ্যগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি, এই আর কি
ভালো লাগলো, আরো লিখুন। গাছের সাথে কথা হয়?
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আর প্রশ্নের উত্তরে বলছি "গোপন কথাটি রবে না গোপনে, উঠিবে ফুটিয়া নীরবে নয়নে"
চলুক
_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩
গাছপালা আমি বেজায় ভালো পাই। তিথীর মত আমারও পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ প্রীতি প্রবল। আর অচেনা নাম না জানা গাছ দেখলে এত অস্বস্তি লাগে। নামটা খুব জানতে ইচ্ছে করে।
লেখা চলুক। সাথে ছবি টবি দিলে বড় স্বাদের হত।
----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি
ধন্যবাদ আপু, পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য। নতুন গাছ দেখলে আমারও অস্বস্তি লাগে, নিজেকে অপরাধী মনে হয় যে আমি তার নাম জানিনা। আবার সমস্যা হল নাম না জানলে পরে সেই গাছ নিয়ে খোঁজ নিতে পারিনা। আবার অনেক লেখায় অনেগ গাছের কথা পড়ি পরে সেই গাছ খুঁজে পাইনা। যেমন একটা গাছে কথা পড়েছিলাম, "লাহুর" এখন নতুন কোন গাছ দেখলেই সেই লাহুরের বর্ণনা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করি, সেই গাছি কিনা। অন্ধের হস্তি দর্শনের মত আর কি
ছাত্রজীবনে ভাবতাম, আগে পড়া শেষ করি পরে গাছ নিয়ে আরো জানার চেষ্টা করব, আর এখন কর্ম জীবনে কাজের চাপে মাসে দুইদিনের বেশি গাছ বিষয়ক সন্ধানে নামতে পারিনা।
আবার 'নিসর্গী ব্যক্তিবর্গের' কাছ থেকে কিছু জানতে গেলে তাদের কাছে যেতে হয়, সময় দিতে হয়, সেটাও ঠিকমত পারছিনা ইদানিং ব্যক্তিগত আর পারিবারিক বিভিন্ন কাজের জন্য।
আরে বাহ, আপনি দেখি আসলেই গাছপালা ভালোবাসেন। আমার বৃক্ষ বিষয়ক জ্ঞান একেবারে খারাপ না। তবে ঢাকাশহরে কিন্তু অনেক অপরিচিত গাছ আছে। কাউকে পাইনা হাতের কাছে যে একটু জ্বালিয়ে সেটার পরিচয় উদ্ধার করব। এক্কাজ করুন না, নতুন গাছ টাছের পরিচয় পেলে আমাকেও একটু মেইল করে জানিয়ে দিয়েন মাঝে মধ্যে। এই যেমন ধরুন কাল গেছলাম ধানমণ্ডির ডিঙ্গি ক্যাফেতে। সেখানে গেট দিয়ে ঢুকেই হাতের ডানে একটা বিরাট গাছ আছে, ওটা আর কোথাও দেখিনি। ঢাবির উপাচার্যের বাসার বাগানেও দারুন সব গাছ আছে। ফুলার রোডের দিকের দেয়াল ঘেঁষে একটা গাছ ছিল, অদ্ভুত ফুল হত, সেটার নাম জানিনি কখনও। তবে কাল আরেকটা দারুন জিনিস দেখেছি। ধানমণ্ডি লেকের পানি ঘেঁষে বিরাট ঝোপালো একটা হিজল গাছভরতি ফুল দেখলাম। এত সুন্দর লাগছিল জানেন। পুরো গাছ ভরে সবজেটে লাল ফুলে জায়গাটা শান্তি শান্তি হয়ে ছিল।
----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি
বহুদিন পর গাছেদের নিয়ে একটা ভাল লেখা পড়লাম।
এমনিতে তো গাছ নিয়ে লেখা মানেই পরিবেশ নিয়ে জ্ঞান কপচানো থাকে।
আপনার লেখার গুণে গাছেরাও মানুষ হয়ে উঠল।
নতুন মন্তব্য করুন