কাম্পোফনতানা(campofontana)এক পাহাড়ি জনপদ যেখানে একাধিক গুচ্ছগ্রাম(contrada)মিলিয়ে সর্বমোট ১১২ জন মানুষের বসবাস। পাহাড়ের ঢালে ৫/৬টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠে এক গুচ্ছগ্রাম। জীবিকার তাগিদে এই পরিবারগুলি বংশ পরস্পরায় করে আসছে পশুপালন আর কৃষিকাজ। আদিম এই পেশায় নেই কোনও ধরাবাঁধা ঘণ্টাসূচী, শহুরে মানুষদের মতন উইকএন্ডের সকালে লেপমুড়ি দিয়ে বিছানায় একটু আড়মোড়া দেয়ার অবকাশ নেই কাম্পোফনতানাবাসির। দুধ ধোয়াতে উঠতে হবে বছরের প্রতিটি দিন ভোরের আলো না ফুটতেই।
আমি গোয়ালার কাছ থেকে দুধ কিনতে যাইনা সেই কাম্পোফনতানা। তবুও যাই, সুযোগ পেলেই ছুটে যাই সেই গুচ্ছগ্রামগুলিতে। আমাকে চুম্বকের মত টানে এই জনপদের পাহাড়গুলি। কাম্পোফনতানা নিজেই তো সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১২২৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে এই জনপদের সর্বচ্চ শৃঙ্ঘ মন্তে লব্বিয়া(monte lobbia)তাঁর ১৬৭২ মিটার উঁচুতে সূর্যের আলো ফেলে ডাকে আমাকে কাছে পেতে। ঘড়িবাঁধা জীবনের গৎবাঁধা রুটিনকে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ মিললেই শখের সেই ট্র্যাকিং জুতোজোড়া আর কাঁধের ঝোলা চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অন্বেষণে।
কাম্পোফনতানা
গুচ্ছগ্রাম
গোধূলির আলো
পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোর নেশা আর ভালোবাসা নিয়ে কিছুমিছু লিখেছিলাম অতীতের এক পোষ্টে। ঝকঝকে দিন আর আকাশের রঙ নীল থাকলেই মন গুনগুন করে উঠে কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা।
নীল আকাশ যত দূর দেখা যায়
পাহাড়ি উপত্যকার তৃণভূমি গ্রীষ্মে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয় মাস দুয়েকের জন্য। হাজার মিটার উঁচুতে দিন-রাত অবাধে ঘুরে বেড়ায় একটুখানি ছুটির আনন্দে, শীতের শুরুতেই ফিরে যেতে হবে খোঁয়াড়ের সেই বদ্ধ জীবনে। হিমাঙ্কের ২৫ ডিগ্রী নিচে নেমে গিয়েছিল কাম্পোফনতানার তাপমাত্রা ১৯৮৫ সালে। একটু বেশী উষ্ণতার জন্য তো মনে হয় খোঁয়াড়ের সেই গাদাগাদি করে বেঁচে থাকা জীবনটা খুব মন্দ নয়।
বিশ্রাম
মিতালি
যুদ্ধের ডামাডোল অনেক বেজেছে শান্ত-সুন্দর এই উপত্যকায়। শত বছর আগে দুই পরাশক্তি অস্ট্রিয়া আর ইতালির টানটান উত্তেজনায় ঘেরা সীমান্তবর্তী এই গুচ্ছগ্রামগুলি পরিণত হয়েছিল মৃত্যু উপত্যকায়। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের অনেক হিংস্রতার ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে এখনও বেঁচে আছে প্রবীণেরা। সম্মুখযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে মেঠো পথের ধারেই স্থাপিত হয়েছে স্মৃতিস্থম্ভ।
হলুদ রঙের এই ফুলগুলির ছবিখানা আমার বেশ কাজে এসেছিল। হপ্তাদুয়েক আগে গিন্নী কোথা থেকে ডালপালা নিয়ে এসে বলল এইগুলি ফুলগাছ যাতে হরেক রঙের ফুল হবে ভবিষ্যতে। ভালো কথা...তো লাগাও বাগানের সীমানা ঘেঁষে, আমার আবার ফুলগাছ লাগানোর বাতিক নেই। গিন্নীর আবদার তাকে আগ্নেয় মাটি যোগাড় করে দিতে হবে যাতে হবু ফুলগুলি সেই লৌহ আকরিক মিশ্রিত মাটির কৃপায় গাঢ় নীলাভ বরন ধারণ করবে!!!! ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি আমার বাসা থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে......গ্যাঁড়াকল থেকে আমাকে বাঁচায় ১৬ কিলোমিটার দূরের এই পাথুরে ফুলগুলি। প্রকৃতির উদারতায় সুন্দর ফুল ফোটাতে মাটির প্রয়োজনীয়তা যে বড্ড নগণ্য সেই থিউরির অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গিন্নীর সামনে উপস্থাপন করি ছবিখানা।
অনেকেই বলেছে কাম্পোফনতানা যেতে তুষারপাতের পরেরদিন। স্কি রিসোর্ট হিসেবে পরিচিতি আছে এই উপত্যকার। আমার সাহসে কুলায় না, ঢাকার মহল্লার বেড়ে উঠা এই আমি হয়ত টেপটেনিস বলে ছক্কা মেরেছি অনেক...... ফুটবল মাঠেও ছুটে বেরিয়েছি হরদম......তাই বলে কি সাদা মানুষদের এই স্কি আমাকে দিয়ে হবে? এর থেকে ভালো বরফের জুতো পায়ে লাগিয়ে হাঁটতে বেড়ানো। এই সামারের এক প্রত্যূষে তুলেছিলাম ভোরের আলোর প্রত্যাশায় থাকা একটি অচিন বৃক্ষের ছবি কাম্পোফনতানার এক পাহাড়ি বাঁকে।
ভোরের অপেক্ষা
বন্ধু মার্কোকে ইমেইল করে পাঠানোর মিনিট দশেক পরেই আমার ছবিটা যেন রিপ্রসেস হয়ে ফিরে আসে অন্যরূপে মার্কোর প্রতুত্তরে।
অচিন বৃক্ষ ছবি(মার্কো)
শীতের এক সকালে অবশ্যই যেতে হবে আবার সেই পাহাড়ি বাঁকে, প্রকৃতির এই রঙের খেলা দেখতে হবে স্বচক্ষে।
…….জিপসি
মন্তব্য
____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?
.....জিপসি
সব কটি ছবি-ই খুব সুন্দর। কয়েকটি তো অসাধারণ হয়েছে।
লেখাও ভাল লেগেছে (যেমন লাগার কথা - কি কন)।
- একলহমা
মুই কি আর কমু?
.....জিপসি
প্রথম ছবিটাতো শিরোনামের ঠিক নীচে থাকার কথা ছিল……এভাবেই তো ড্রাফট জমা দিয়েছিলাম। কি জানি বাপু কি হতে কি হল……
.....জিপসি
প্রথম প্যারা পড়লাম আর ছবিগুলো দেখলাম। ভাল লেগেছে।
একটা বানান চোখে পড়ল, দুধ ধোয়া, এইটা মনে হয় দোয়া হবে।
বাহ বাহ! চলুক হাইকিং
facebook
হাইকিং চলবে......পাদুকার তলি অক্ষত থাকে যতক্ষণ......
……জিপসি
দারুণ লাগল।
……জিপসি
……জিপসি
……জিপসি
সুন্দর! পাম্পেই নিয়ে কিছু লেখুন না ভাইয়া
তারেক অণু বহুত আগেই পম্পেই নগরী চইসা ফালাইছে... নতুন কইরা আমি আর কি লিখমু
……জিপসি
তারেকাণু'দা তো খালি পম্পেই এর হারেমখানা ঘুইরা আসছে
... পম্পেই তে কি আর জায়গা নাই? লিখা ফালান... কি আছে জীবনে?
____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?
তারেক অণু দেখেছেন ওর চোখ দিয়ে, আর আপনি আপনার চোখে(অণুর লেখাটা আমি পড়িনি)।
লিখে ফেলুন দেখি দু'জনের দেখায় কতটুকু মিল-অমিল আছে।
আমার আগ্রহ আসলে পাম্পেইয়ের উপর থেকে টুরিজ্যমের চাপটা কমানোর ব্যাপারে
একটা সার্ভে হয়েছিল ওটার কতটুকু কী হলো সেটা নিয়ে। মানে টুরিষ্ট স্পট হিসেবে
কী সাইটটা খোলা রাখার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে নাকি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে?
আমি বন্ধের পক্ষে বলেছিলাম
পিওর জিপসি -----
____________________________
জিপসিরা ঘর বাঁধে না,
ভালোবাসে নীল আকাশ।
……জিপসি
চমৎকার
--------------------------------------------------------
আমি আকাশ থেকে টুপটাপ ঝরে পরা
আলোর আধুলি কুড়াচ্ছি,
নুড়ি-পাথরের স্বপ্নে বিভোর নদীতে
পা-ডোবানো কিশোরের বিকেলকে সাক্ষী রেখে
একগুচ্ছ লাল কলাবতী ফুল নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি
.....জিপসি
বাহ্, কী সুন্দর। এইখানে ঘুমোবার সাধ ভালোবেসে অলস মাছির মতো কাটিয়ে দিতে পারতাম!
শেষের দুইটা ছবি দেখে মুগ্ধ। কালচে বাদামী ঘোড়াটারে দারুণ পছন্দ হইছে।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
সত্যি বলতে কি আমার একটু ভয় লাগছিল এত উচু পাহাড়ে একদল ছাড়া গরু-ঘোড়ার সামনে একা দাড়িয়ে থাকতে, দাবড়ানি দিলে সচলে আর এই পোস্ট লিখা হতোনা
.....জিপসি
নিঃসঙ্গ বসে একটি মেয়ের আপন সুরে গান গাইবার কথা ছিল!
পোস্ট খুবই ভাল লাগলো। আরও লিখুন। জিপসি নিকটাই দারুণ পছন্দ হয়েছে ভাই, এই নামে একটা ব্যান্ড ছিল আমাদের একসময়, বহুদিন আগে।
পোস্টে গানের লিংক সংযুক্ত করে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!
জিপসি নিকটা আমারও বড্ড পছন্দের, আফসুস এইজন্মে সত্যিকারের একজন জিপসি হতে পারলাম না!!
.....জিপসি
ছবিগুলো অসাধারণ লাগলো! লেখাও তেমন!
-এস এম নিয়াজ মাওলা
......জিপসি
দারুণ! বিশেষ করে গোধূলির আলো ছবিটা। চলুক।
---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।
ছবিটা আমারও অতিপ্রিয়
.....জিপসি
নতুন মন্তব্য করুন