এটি একটি অতিশয় অপ্রয়োজনীয় বিরক্তিকর আর ঘ্যানঘেনে ধরনের লেখা। একেবারেই নিজের বা বলা ভালো একেবারেই আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে লেখা যা অন্যদের কোনও কাজে আসবে না। সুতরাং পাঠক, পড়তে হলে নিজ দায়িত্বে পড়ুন, পড়বার পর কেউ নালিশ করলে আমি তার সালিশ করতে অক্ষম। এই দূর পরবাসে (আমাদের এলাকার মানুষের কাছে আশেপাশের দু’চারটা জেলা বাদে বাকি সব জায়গা ‘বিদেশ’) একলাটি পথ হাঁটতে হাঁটতে আমার যে বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে সকাল দুপুর বা রাত্তিরের তোয়াক্কা না করে, সে কথাটা সর্বজনবিদিত। আর আজকাল বাড়ি, স্বজন, ছেলেবেলা বাদেও আর একটি জিনিস খুব টানে, খুব পোড়ায়-তা হলো আমার ছোটবেলার বিচিত্র সব শব্দ যেগুলো শুনতে শুনতে বলতে বলতে আমরা ভাইবোনেরা বেড়ে উঠেছি কিংবা তারও আগে আমার বাবা, কাকু, পিসি, ঠাকুরদা’, ঠাম্মাও।
একটা সময় পুরোপুরি প্রমিত ভাষায় কথা বলতাম; আমার অতি প্রিয় রুমমেট বিপাশাদি’ বলত-“… ভাইয়া, তুমি এত শুদ্ধ ভাষায় কথা বলো কেন?” কী এক অজানা কারণে বিপাশাদি’ আর ওর বন্ধু নার্গিস আপু আমার ডাকনামটার শেষে ভাইয়া শব্দটা বসাতো। যা হোক, সেই সম্বোধনের রহস্য উন্মোচন এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, কথা বলছিলাম ভাষা নিয়ে; যে আমি এককালে প্রমিত ভাষায় কথা বলাকে দারুণ গর্বের মনে করতাম সেই আমিই কি না আজকাল হাঁসফাঁস করি প্রায় অনুচ্চারিত শব্দগুলো একটুখানি বলবার জন্য। বুকের ভেতরটা ভীষণ পোড়ে, ভীষণ পোড়ে। অতি সম্প্রতি নিজের ‘স্থায়ী ঠিকানা’ দেশের অন্যপ্রান্তে স্থানান্তরিত হওয়ায় পোড়াটা বেড়েছে অনেকগুণ।
আমার বাড়ি, আমার ছোট্টবেলার ঠিকানা রংপুর। আমার বেড়ে উঠতে থাকার ঠিকানা রংপুর, মাত্র কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমার স্থায়ী ঠিকানা রংপুরই ছিল। সেই রংপুরের আঞ্চলিক ভাষাটাও আমাকে প্রাণপণে টানে তার আর সবকিছুর মতো। ভয় নেই, রংপুরের ভাষার গুণকীর্তন করতেও বসিনি, কেবল সেই ভাষার আমার প্রিয় দু’চারটে মজার নমুনা দিতে চাই। উইকি বলছে, এখন পৃথিবীতে আছে সাত হাজারের কিছু বেশি ভাষা যেগুলোর ৯০%-ই ২০৫০ সালের মধ্যে বিলুপ্তির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। অবশ্য তারা কোনো অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার কথা বলেনি বরং জনগোষ্ঠিভেদে ভিন্ন ভাষাগুলোর কথা বলেছে। তাই যতদিন বাংলা টিকে আছে আর রংপুর জেলাও টিকে আছে ততদিন অন্তত রংপুরের ভাষাটা মোটামুটি রকমে হলেও টিকেই থাকবে এটা ধরে নিতে পারি। কিন্তু টেলিভিশন, অভিবাসন নিদেনপক্ষে শহরের সাথে যোগাযোগ আরও এটা সেটা কারণে সেই ভাষাতেও নানারকম বদল এসেছে।
দেখলেন, আমি মানুষটা আসলেই বকবক করি বেশি-ধান ভাঙতে রীতিমতো শিবের গান গাওয়ার দশা। এবার বরং কাজের কথাটা বলি; রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার বয়ান নয় বরং যে শব্দগুলো আমার কাছে অন্যরকম মনে হয়, হয়তো শব্দগুলো আর কোথাও এভাবে ব্যবহৃত হয় না, সেগুলোর দু’চারটে নমুনা দিই। অবশ্য বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চল ধরলে সে জায়গার প্রায় সবখানেই এই শব্দগুলোর কাছাকাছি উচ্চারণ পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গ ১: আমাদের ঘর, বাড়ি
এই লেখার সাথে আমাদের সবার পরিচিত ঘর বা বাড়ির কোনো সম্পর্ক নেই। আবার ঘর বা বাড়ি শব্দগুলো রংপুরের আঞ্চলিক শব্দ-এ কথা বলার মতো ধৃষ্টতাও করছি না। তাহলে? বা রে, এই তাহলে ব্যাপারটাই তো মজার। আমাদের অঞ্চলে ঘর আর বাড়ির প্রচলিত ব্যবহারের সাথে নিজস্ব ব্যবহারও আছে। সে আবার কেমন-ভাবছেন তো? আসুন তাহলে দেখি-
প্রথমেই আসা যাক ‘ঘর’ প্রসঙ্গে। ঘর মানে ঘর, মানে থাকার জায়গা, মানে ইট, রড, সিমেন্টই হোক আর বাঁশ, কাঠ, টিন দিয়েই হোক বিভিন্ন মাপের মোটামুটি নিরাপদ একটা আবদ্ধ জায়গা যেখানে থাকতে আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করি-এ সবই জানা কথা। অজানা কথাটা হলো আমাদের এলাকায় ‘ঘর’ মানে আরও একটা আছে-কারো নামের বহুবচন। একটু সহজ করে বলি, ধরুন, তমা নামের কা্রো সাথে আরও কাউকে বোঝাতে চাচ্ছেন, প্রমিত ভাষায় বলা হবে-‘তমারা’, আমাদের এলাকার মানুষ বলবে ‘তমারঘর’। দেখলেন তো, তমার থাকার জায়গার সাথে এর কোনও মিল নেই। তেমনিভাবে ‘তমারঘরের’ মানে হলো ‘তমাদের’।
এবার ‘বাড়ি’-র কথা বলি। বাড়ির ব্যাপারটা আবার এত সহজ নয় মানে এর একরকম নয় বরং কয়েক রকমের অর্থ আছে। কথা কম বলে আসুন অর্থগুলো দেখি-
বাড়ি (জায়গা)-খুলিবাড়ি (বাইরের উঠোন), জলবাড়ি (জলে ভরা জায়গা)
বাড়ি (খেত/বাগান)-শাকবাড়ি (শাকের খেত), গোমবাড়ি (গমের খেত)
বাড়ি (বড়/অনেক)- এতবাড়ি (এত বড়/এত করে)
বাড়ি (নির্দিষ্ট অর্থ নেই)-গোল্লাছুটবাড়ি (গোল্লাছুট), খ্যাতবাড়ি (খেত)
এই হলো আমাদের ঘর, বাড়ির সমাচার। একদম অপ্রয়োজনীয়, ঘ্যানঘেনে আর বিরক্তিকর সমাচার। কী করা বলুন তো-আজকাল আমার সাথে এইসব বাড়ি, ঘর নিয়ে কথা বলার তেমন কেউ নেই তাই মোবাইলে যখনই বাড়িতে কথা বলি কী বোনেদের সাথে, এগুলোই আমার প্রিয় শব্দ/শব্দাংশ হয়ে যায় বলবার জন্য।
প্রসঙ্গ ২: শব্দগুলো ভিন্নতার
এতক্ষণ বকবকাইলাম পুরো এলাকায় ঘর আর বাড়ি-র ব্যবহার নিয়ে, এবারে বলি একই এলাকায় উচ্চারিত একই উচ্চারণের ভিন্ন ভিন্ন শব্দ নিয়ে। অনার্স ফোর্থ ইয়ারে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড কালচার’ কোর্সে ক্লাস শুরুর আগেই স্যার এ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলেন ভাষার সাথে সামাজিক বিভিন্নতার সম্পর্ক নিয়ে, সেই এ্যাসাইনমেন্টেও এই বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম তখন। স্যার একটু অবাক হয়েছিলেন বিষয়টি জেনে। এহ্ হে, সুযোগ পেয়েই আবার সেই বকবকানি!
আমাদের এলাকায় কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো হিন্দু আর মুসলমান মানুষেরা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে। আমাকে কি এইবার সাম্প্রদায়িক মনে হচ্ছে নাকি? তাইলে মাফ চাই কিন্তু ব্যাপারটা ভাবায় খুব। সেই শব্দগুলো জল/পানি বা বাবা/আব্বার মতো নয়। ‘কাঁথা’ শব্দটা অনেক অঞ্চলেই ‘ক্যাতা’ বা ‘খ্যাতা’ হিসেবে পরিচিত হবার কথা। কিন্তু এই ‘ক্যাতা’ আর ‘খ্যাতা’-র উচ্চারণ থেকেই রংপুরের মানুষ বুঝে নেবে আপনি হিন্দু না মুসলমান। রংপুর অঞ্চলের হিন্দুদের কোনদিন ‘খ্যাতা’ বলতে শুনিনি, তেমনি খুব কম মুসলমানকেই উচ্চারণ করতে শুনেছি ‘ক্যাতা’ শব্দটি। আমি বলছি না এই ভিন্নতা বা ভিন্ন পরিচয় হওয়াটা খুব জরুরি, আমার মতে এই ভিন্নতাটুকুও সুন্দর।
আবার আসুন ‘খাওয়ানো’ শব্দটিতে। হিন্দুরা বলবে ‘খোওয়া’, মুসলমানরা ‘খিলা’। খাইয়ে দেয়া হয়ে যাবে ‘খোয়ে দেওয়া’ আর ‘খিলি দেওয়া’, ‘খাওয়ানোর/খাওয়াতে’ শব্দটি হয়ে যাবে ‘খোয়ের’ আর ‘খিলি দিবার/খিলির’। এর অন্যথা হবে না।
আসা যাক ভাষার স্থানিক ভিন্নতায়। ভাষাবিদরা বলেন, কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে ভাষার চেহারা বদলে যায়, বদলে যায় ব্যবহার, উচ্চারণ। এর দারুণ প্রয়োগ আমি দেখেছি আমাদের ভাষাতেও। রংপুর অঞ্চলের বহুল পরিচিত শব্দ ‘খাং/খাও’ ‘যাং/যাও’ আমাদের পাশের থানাতেই হয়ে গেছে ‘খাংচেল’ আর ‘যাংচেল’। আমার ছোট মেসো পাশের থানার মানুষ, কলেজশিক্ষক এই ভদ্রলোক প্রমিতের সাথে আঞ্চলিক মিলিয়ে এখনও বলেন-“তুই চিন্তা করিস না, মুই যাংচেল!”
এরকম আরও অনেক শব্দ , শাব্দিক ভিন্নতা আমাকে টানে, টানতেই থাকে। সারাদিনে আমি, তুমি, আপনি আর দশটা বাংলার সাথে তিনটে ইংরেজি মিশিয়ে (আমাদের অফিসে অনেকেই ইংরেজি স্কুলে আর তারপর বিদেশে পড়া, তাছাড়া ইংরেজি না বলা মানে কোনো কোনো বসের কাছে চরম আনস্মার্ট, তাই অল্পস্বল্প বলতেই হয়) কথা বলতে বলতে চরম বিজাতীয় অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে এই শব্দগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করি আমি। মোবাইলে বাড়িতে কথা বলার সময় সব বাদ দিয়ে মুই, তুই, তোমরা (আপনি)-য় ফিরে যাই। এই অন্যরকম আর নিজের শব্দগুলো আমাকে নিজের জগত থেকে, আমার ছোটবেলাটা থেকে ঘুরিয়ে আনে আবার, আবার, বারবার।
দেবদ্যুতি
মন্তব্য
এত ইতস্তত করার কিছু নাই। বৈচিত্র্যেই প্রাণ, শক্তি ও সৌন্দর্য্য। তা বিবর্তনীয় ফেল্টুশ ইক্যুয়স এ্যাসিনুস বা প্যান ট্রগ্লোডাইটস হেজিমোনিস্টদের দল যতই চোখ রাঙাক বা তড়পাক না কেন!
****************************************
ইতস্তত করার কথাটা কোন প্রসঙ্গে বললেন-ঐ হিন্দু আর মুসলমানদের ভিন্নভাবে শব্দগুলো উচ্চারণ করা প্রসঙ্গে? আসলে ঐ ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগে এই কারণে যে আমাদের আঞ্চলিক ভাষাটা এত সমৃদ্ধ যে একটাই শব্দ একেক দল একেকভাবে উচ্চারণ করছে। এর খুব বেশি উদাহরণ নেই যদিও। আর আপনার এই হেজেমনিক ব্যাপারটা বুঝি নাই।
দেবদ্যুতি
যান্ত্রিক হয়ে যাওয়া জীবনে অনুভুতি ফিরিয়ে আনতে কত জনে কত কি করে, আপ্নি না হয় শব্দের মাধ্যমে অনুভূতি কে দাওয়াত ই করলেন ফেরার জন্য । ক্ষতি কি চলুক না দাওয়াতি কার্যক্রম (একটু শিবিরি ডায়ালগ হয়ে গেল যে ) যা হোউক যা বলছিলাম তা হলো চলুক লেখা তার আপন গতিতে আমরাও অংপুরি ভাষার শব্দগুলি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ করি
মোস্তফা কামাল
হয়, দাওয়াতের কতা কয়া কিন্তু তোমরা হ্যানা ভয় দেকাইছিনেন পোতথোমে রংপুরের ভাষায় ‘তোমরা’ মানে জানেন তো? তোমরা্=আপনি/আপনারা, তোমার=আপনার/আপনাদের, ওমরা=ওরা/ওঁরা, ওমার=ওদের/ওঁদের
দেবদ্যুতি
অংপুর বিষয়ে কিছু বল্লেন না?
------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল
কী জানেন, রংপুর যতটা না ‘অংপুর’, তার চাইতেও ঢের বেশি ‘অমপুর’। মানে যে কারণে ‘র’ হয়ে গেছে ‘অ’, সেই একই কারণে ‘ং’ হয়ে গেছে ‘ম’-মানে কোমলতর/সহজতর উচ্চারণরীতির কারণে
দেবদ্যুতি
আহ্, রংপুরে কেটেছিলো অপূর্ব এক জোনাক জ্বলা রাত। এতো অজস্র অগুনতি জোনাক পোকা আর কখনো দেখিনি আমি, কোনোদিন না। এতো অদ্ভুত সুন্দর সময়ও আমার জীবনে কম এসেছে। মনটা উদাস হয়ে গেলো শুধু রংপুরের স্মৃতিতেই...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
রংপুরে কেটেছে আমার অগণন জোনাক জ্বলা, ঝিঁঝি ডাকা রাত, একটিমাত্র তারার ঝাপটা হাওয়ার ভোর আর মন খারাপের, মন ভালোর একেকটা আলাদা দিন। আমার কাছে রংপুর সবচে’ সুন্দর শহর। তা আসুন না আরেকবার রংপুরে বেড়াতে, হয়ত আরেকবারও জোনাক জ্বলা রাত দেখা হবে। এবার আসুন নিধি আর আপুকে নিয়ে, সপরিবারে
দেবদ্যুতি
এখন কি আর আগের সেই রংপুর আছে? বদলায়া গেছে না সব?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
বদলানো রংপুরকেই না হয় দেখলেন আরেকবার। আমাদের গ্রামটা অনেক বদলের পরও কিন্তু এখনও সুন্দর, রাত্তিরে উঠোনে শুয়ে শুয়ে এখনও তারা গোনা যায়, নেমতণ্ন তো আমাদের বাড়িতেই করলাম
দেবদ্যুতি
নেমন্তন্ন গৃহীত হলো, আশা রইলো
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
দেবদ্যুতি
২০০৮ সালের লেখা। এটা খুঁজে বের করে পড়ে আরো উদাস হয়ে গেলাম। আগে কতো আড্ডা দিতাম ব্লগে।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
আগের অনেক লেখায়ই আপনারা কমেন্ট ঠেলে বক্সের বাইরে ফেলে দিতেন, এই দুষ্ট পোলাপানগুলো সব ভদ্রলোক হয়ে গেল
হ, সে এক দারুণ মজার খেলা ছিলো। মন্তব্য করতে করতে সচলায়তনের দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলা। ২০০র বেশি মন্তব্য করে মন্তব্যের দুইটা পেইজ বানানো... দুষ্টামির কোনো শেষ ছিলো না
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
চাইলে এখানে একবার দেয়ার ভাংগার টেরাই মারা যায়।
------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল
লেখাটা পড়লাম, আড্ডাও পড়লাম কিঞ্চিত, কমেন্ট যে সচলায়তনের দেয়ালের বাইরে চলে যেত তাও একটু দেখা হলো উদাস হয়েই না হয় আবার সিদ্ধান্ত নিলেন রংপুরে ঘুরে আসবার
দেবদ্যুতি
রংপুরের যেই দুই একজনের সাথে পরিচয় আছে তারা সবাই শুনি এরশাদের আত্মীয় কিংবা এরশাদের বাসা থেকে এইতো পাঁচ মিনিট হাঁটলেই বাসা।
আপনার লেখাটা খুব ইন্টারেস্টিং লাগলো। একটা সিরিজ করে ফেলুন শব্দের সাথে উদাহরণ হিসেবে পূর্ণ বাক্য দিয়ে।
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস
আমিই তাহলে ‘এরশাদ কোটামুক্ত’ প্রথম কেউ?
এইটা নিয়ে সিরিজ? লোকে যদি পিট্টি দেয়, তখন?
দেবদ্যুতি
কয়বার যে পড়লাম! দ্যুতিদিদি, যদি কোনদিন বাংলাদেশে যাওয়া হয়, অমপুর তোমাদের বাড়িত যাংবার লাগবই লাগব। হয়ত তোমাদের পাশের গ্রামবাড়িতও যাংচেল। তুমি ত মধু খোয়ের দাওয়াত দিয়া রাখছনই!
--------------------------------------------------------
এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।
এক লহমার... টুকিটাকি
‘যদি’ আবার কী, দা’ভাই? কোনো যদি টদি নাই, তোমাক আসিরে নাইগবে একবার হামার বাড়ি। মধু তো থাইকপেই, অমপুরের টেডিশনাল দুই চারখান খাবার আচে, সেইলাও খোয়ামো, ঠিকাচে? (অমপুরের ভাষা থাকি অনুবাদ করির নাইগবে নাকি? )
বুদ্ধদেব গুহের একটা ছোট গল্পে পড়েছিলাম, ছেলেবেলায় তাঁদের রংপুরের বাড়িতে এক মজুর শ্রেণীর লোককে জিজ্ঞেস করা হলো,
- করেন কী বাহে?
- না করি কোন!
এই 'না করি কোন' বলার মধ্যে যেমন 'কিছু করি না' বোঝায় তেমন 'কিছু করার ইচ্ছেও নেই' অমনটাও বোঝায়। আঞ্চলিক ভাষাগুলোর শক্তি, মাধুর্য, সৌন্দর্যও এখানে।
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।
জানেন, রংপুরের বেশিরভাগ মানুষ আবার ‘না করি কোন’ বলবার সময় উদাস হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাসও ফেলবে!
হু, আঞ্চলিক ভাষাগুলোর এত শক্তি, এত ব্যঞ্জনা। আমার তো কষ্ট হয় যখন গ্রামে বড় হয়ে ওঠা কেউ বলে ‘আমি তো আঞ্চলিক ভাষাটা শিখিইনি!’ বেচারা, কী যে শিখল না, তা জানতেও পারল না!
দেবদ্যুতি
মজা পেলেম পড়ে রানাপুর সাথে ইকো তুললেম সিরিজ হোক এটা।
রংপুরের রাস্তাঘাট নাকি সবচে' ভালু কথাটা সত্যি নাকি হে? তুমি কবে রংপুর যাবে?
গেলে ওখানকার জেলখানার একটা ফটুক তুলে আনতে পারবে আমার জন্য?
এ হেঁ, আমি জেলখানা ডরাই যে! রংপুরের পশ্চিম দিক থেকে শহরে ঢোকার মুখে একদিকে জেলখানা আর একদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ-আমার বুক ধড়ফড় করে জায়গাটায় গেলেই তবে তুমার জন্য ফটুক তুলে আনব একখান, কত দূর থেকে তুমি একখান মাত্র ফটুক চাইছো আমার যাওয়ার দেরি আছে-আমার বোন ক’দিন পর বাড়ি আসবে, ওর কাছ থেকে তুলে নেব, ঠিকাছে?
রংপুরের রাস্তাঘাট সবচে’ ভালু কথাটা একটা মিথ মনে লয়। তবে হাইওয়ে ভালু খুব-এইটা সত্যি কথা।
দেবদ্যুতি
রংপুরে প্রচুর সময় কাটিয়েছি ২০০০ - ২০০৪ পর্যন্ত। থেকেছি হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট), সৈয়দপুর, (চিরিরবন্দর, খানসামা) দিনাজপুর, জলঢাকা (নীলফামারী), ঘুরে বেড়িয়েছি এখানে সেখানে। এই এলাকাগুলো আমার দারুণ পছন্দ, যেমন পছন্দ এলাকার মানুষগুলোকে।
ভাওয়াইয়া গান শুনে কত সন্ধ্যা আর রাত যে কেটে গেছে, ভাওয়াইয়া গানের যে আকুতি, যে বিরহ আর নিত্যরূপ আবেগ -- এটাই মনে হয় ‘অমপুর’ এলাকার শাশ্বত আর সব ‘হাকাও’ বাহে!
লেখা পড়ে সব স্মৃতি কলরব শুরু করে দিল!
রংপুরের মানুষের অভাব আছে, তথাকথিত ‘মঙ্গা’ আছে, নদীভাঙ্গা কান্না আছে। তবে সব ছাপিয়ে রংপুর এলাকার একটা অকপট সরলতা আছে, আবেগে ভেসে যাওয়া মন আছে যার গৎ ঠিক ভাওয়াইয়ার মতই।
আর একবার গাড়ি হাঁকানো যায় রংপুরের উদ্দেশ্যে?
দেবদ্যুতি
নতুন মন্তব্য করুন