ঐ গল্পটা শুনেছ?
বহুকাল আগের কথা। উত্তর আটলান্টিকের তীর ঘেষে দিগন্তে মিশে গেছে পশ্চিমের সাহারা। সাগরের ঢেউ থেকে উঠে আসা দামাল বাতাস সাহারার কোল ছুঁয়ে গরম আর নরম হলে দূর-পূবের অ্যাকাশিয়া বনের পাশে ঐ শান্ত গ্রামটার দিকে চলে যায়। সেই গ্রামে থাকত দুই বন্ধু; আনাসি আর নাথিং। আনাসি ছিল অনেক গরীব আর দুষ্ট প্রকৃতির, ও কেবল বন্ধুত্বের ভান করত। আর নাথিং ছিল খুব সৎ, ধনী আর সহজ সরল স্বভাবের। সত্যিকারের একজন বন্ধু আর ভালো মনের মানুষ ছিল এই নাথিং। একদিন আনাসি আর নাথিং মিলে ঠিক করলো শহরে যাবে মেয়ে দেখতে, পছন্দ হলে বিয়ে করে বাড়ি ফিরবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিন ভোরে সাজগোছ করে বের হলো ওরা; আনাসি’র পরনে ছেঁড়া আর মলিন কাপড়, নাথিং পড়েছে ঝকমকে কেন্টির দাশিকী, সাথে মানানসই ছোট পাজামা, সাতরঙা কাঠের পুঁতি দিয়ে কারুকায করা জুতো জোড়া উঠে গেছে হাঁটুর সামান্য নিচ পর্যন্ত। তাতে অস্ট্রিচের পালকের লাইনিং।
শহরের পথ ধরে দুই বন্ধু। কিছু দূর যেতেই দুষ্ট আনাসি ফন্দি আঁটে; কিভাবে নাথিং এর পোশাক ও পরবে, তাহলে মেয়েরা ওর চকমকে পোশাক দেখে মুগ্ধ হবে। সে প্রস্তাব করে, “বন্ধু, এক কাজ করি। তোমার দাশিকী টা আমি পরি, আমারটা তুমি পরো, দেখি কেমন দেখায়, খানিক্ষন বাদেই আবার যার যার টা ফেরৎ নিয়ে নেব।” বন্ধুর প্রস্তাবে রাজি হয় নাথিং।
আবার কিছুদূর গিয়ে আনাসি বলে “দেখিতো, পাজামাটা অদল বদল করে পড়লে আমাদের কেমন দেখায়।”
তারপর কিছু দূর গিয়ে বলে, “আসো বন্ধু, আমরা আমাদের জুতা জোড়াও বদলে ফেলি।"
এভাবে শহরে পৌঁছতে পৌঁছতে আনাসি ভালোমানুষ নাথিং এর সব পোশাক পরে ফেলল আর ওর ছেঁড়া কাপড় নাথিং ওপর চাপিয়ে দিল।
ওরা একেবারে শহরের প্রধান চত্বরে এসে পরেছে। ভদ্র প্রকৃতির লোক নাথিং, তাই পোশাক বদলাতে আনাসিকে আর নিজে থেকে কিছু বলার সুযোগও পেলনা। সমাবেশ ভালোই জমে উঠেছে। সুশ্রী সুদর্শনাদের কলকাকলীতে চারপাশ মুখরিত। দূর-দূরান্ত থেকে সঙ্গী নির্বাচন করতে এসছে সবাই। মেয়েরা কেতাদুরস্ত আনাসি কে দেখে ওর চারপাশে হেসে খেলে বেড়াতে করতে শুরু করল। ওদের মধ্যে থেকে দুজন কে সঙ্গী করে নেয় আনাসি। আর নাথিং এর গায়ে গরিবী পোশাক আশাক দেখে কোনো মেয়েই ওর ধারে কাছে আসছিলনা। অবশেষে এক হত দরিদ্র নারী এসে নাথিং কে বলল তার মেয়েকে সে ওর হাতে তুলে দিতে চায়।
দিনশেষে দুই বন্ধু তাদের সঙ্গীদের সাথে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এলো। টিলার পাশের বাজার টা পার হলে একটা সরু রাস্তা। রাস্তাটা কিছুদূর গিয়ে মিশেছে অ্যাকাশিয়ার বনে। বনের মাঝ দিয়ে পায়ে চলা মাটির পথ দু ভাগ হয়ে গেছে শেষ মাথায়। বাঁয়েরটা ধরে গেলে নাথিং এর বাড়ি, আর ডানেরটা রাস্তায় কিছুদূর গেলে আনাসির কুঁড়ে।
অ্যাকাশিয়া বন পেরোতেই গান বাজনার আওয়াজ কানে আসলো। নাথিং এর নতুন বৌ বিন্টা যত এগোচ্ছে তত অবাক হচ্ছে। বড় এক প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নব দম্পতি। সেজেগুজে প্রাসাদের মুখে বাড়ির কর্মচারীরা বাদ্য-বাজনা করছে আর অপেক্ষায় আছে ভূস্বামী নাথিং এর সস্ত্রীক ফিরে আসার। আলো দিয়ে, ফুল দিয়ে দরজা দেয়াল সাজিয়ে, রকমারি খাবারের থালা আর রেইন ডেইজির মালা হাতে ওরা বধূ বরণ করে নিল।
অন্যদিকে আনাসির বাড়ি পৌঁছে ওর বউদের তো মাথায় আকাশ ভাঙ্গার দশা। কি ভেবছিল আর কি হলো। বাড়িতে খাবার নেই, আরাম আয়েশের ব্যবস্থা তো দূরের কথা, ঘুমানোরও জায়গা নেই।
‘হায় হায় একি হলো, আনাসি এভাবে আমাদের ধোঁকা দিল!’ বউরা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়।
নাথিং এর বৌ বিন্টা নরম মনের মেয়ে, যেমন সংসারী তেমনি স্বামী ভক্ত। সৎ, সুন্দর মনের, কর্মঠ স্বামীর প্রতি তার ভীষন শ্রদ্ধা ভালবাসা। শুধু বিন্টা কেন, গ্রামের সবাই দরদী সহমর্মি স্বভাবের নাথিং কে শ্রদ্ধা করে। মিষ্টি মেয়ে বিন্টা আনাসির বউদের দুঃখ দেখে একদিন ঠিক করল বাড়িতে ওদের নিমন্ত্রন করবে। যেই ভাবা সেই কাজ; খাবার দাবার, ফল-ফলান্তি, উপহার দিয়ে বিন্টা আনাসির বউদের দুঃখ কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এত সুন্দর বাড়ি, রাজভোজ, ঘরদোর দেখে আনাসির বউরা আর ফেরৎ যেতে চাচ্ছেনা, তারা নাকি এ বাড়িতেই থেকে যাবে। কি আর করা, বিন্টা ওদের তাড়িয়েও দিতে পারলোনা।
ওদিকে, বউদের আর ফিরে না আসার অপমান আনাসি সইতে পারছেনা। মনে মনে ফন্দি আঁটে কি করে প্রতিশোধ নেয়া যায়। সিদ্ধান্ত নিল নাথিং কে সে মেরেই ফেলবে। একদিন রাতে, সবাই ঘুমিয়ে গেলে, রাতের অন্ধকারে নাথিং এর বাড়ির সদর দরজার সামনে গর্ত বানিয়ে ভাঙ্গা বোতল, কাঁচের টুকরো সব দিয়ে ফাঁদ পাতে আনাসি। লতা পাতা দিয়ে গর্তের মুখ ঢেকে, চেঁচাতে লাগেঃ
“নাথিং, নাথিং... একটু বেরিয়ে আসো বন্ধু, একটা দরকার ছিল.... নাথিং, নাথিং...।”
খটকা লাগে বিন্টার। সে নাথিং কে কিছুতেই বাড়ি থেকে বেরোতে দেবেনা। কিন্তু তার সহজ সরল স্বামী বন্ধু কোনো বিপদে পড়েছে ভেবে বেরিয়ে এলো। বেরোতেই ধপ করে গিয়ে পড়ে ঐ ভয়ঙ্কর ফাঁদে। এমন ক্ষত বিক্ষত হলো সে যে ওকে আর বাচানোই গেলোনা!
স্বামী হারানোর শোকে বিন্টা নাওয়া খাওয়া ভুলতে বসলো। প্রিয় স্বামীর জন্য ভালবাসা যে তার কোনোদিনও কমবেনা। কাঁদতে কাঁদতে বিন্টা’র চোখের জল গেল শুকিয়ে। অবশেষে, বিন্টা ঠিক করলো পৃথিবীর সমস্ত শিশুকে খাওয়াবে সে। যাতে ওর দুখে দুঃখী হয়ে শিশুরাও ওর হয়ে কিছুটা কেঁদে দেয়।
সেদিন ও নিজ হাতে রান্না করলো, সুস্বাদু মজার সব খাবার। বিশাল বিশাল গামলা ভর্তি খাবার নিয়ে দলবল সহ বেরোলো শিশুদের খাওয়াতে। যেখানে যত শিশু পেল, সবাইকে অনেক আদর করে নিজ হাতে খাইয়ে দিল। শিশুরাও বিন্টার ভালোবাসায় বেজায় খুশি, তারা একজোট হয়ে শপথ নেয় বিন্টা’র পাশে থাকবে।
তাই সাধারনত যদি কোনো শিশুকে কাঁদতে দেখ, তা সে পৃথিবীর যেখানেই হোক, কান্নার কারন জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাবে, ‘ক্রায়িং ফর নাথিং’!
[মূল গল্পঃ উইলিয়াম এইচ বার্কার এর ‘আনাসি অ্যান্ড নাথিং’]
-জে এফ নুশান
মন্তব্য
আপনার লেখা আমার ভালো লেগেছে। আরও লিখবেন আশা করছি।
---মোখলেস হোসেন
অনেক ধন্যবাদ।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
বাহ, চমৎকার গল্প। লেখা চলুক।
---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।
ধন্যবাদ। চলবে, কথা দিলাম।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
জে এফ নুশান, আপনার অনুবাদ/রূপান্তর সাবলীল। লেখা চালিয়ে যান।
গল্পটার ইংলিশ ভাষ্যের কৃতিত্ব উইলিয়াম এইচ বার্কারের সাথে সেসিলিয়া সিনক্লেয়ারও আছেন (Barker, William H. and Cecilia Sinclair. West African Folk-tales. Lagos, Africa: Bookshop, 1917)।
দরিদ্র, পাজী লোকটার নাম 'আনানসি', আনাসি নয়।
আমার খটকা লাগে একটা পোলিসারিও মানুষের নাম 'Nothing' হয় কীভাবে?
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।
অনুপ্রেরণার জন্য অনেক ধন্যবাদ, কারেকশনের জন্যও । রেফারেন্স নিয়ে দ্বিধাতেই ছিলাম। বইটাতে দুজন লেখকের গল্পই আছে তবে আনান্সির এই গল্পটা উইলিয়াম এইচ বার্কার এর অনুবাদ। আমার দুজনের নাম লেখাই সমীচীন ছিল। লিব্রাভক্স এ শোনার সময় আনানসি’র ‘ন’টা শুনতেই পারিনা, ভাবলাম হিডেন এন কিনা, ‘আন্ট ন্যান্সি’ তে অবশ্য সে সমস্যা নাই। নাথিং নামটা মনে হয় সিম্বলিক। দুষ্টের প্রতীকি রূপ আনান্সির সাপেক্ষে নাথিং এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে সার্কাজ্ম করে নাথিং বলা হয়েছে কিনা কোথাও স্পষ্ট করা নেই। তবু আমি তেমনটাই বুঝে নিয়েছি। নাথিং হারানোর বেদনায় যে চরিত্র টা শিশুদের সেট করেছে নাথিং রোদনে, তার একটা নাম থাকতেই পারে, তাই বিন্টা নামটা এই অধমের দেওয়া। আমার ট্যাগিং যথাযথ হয়নি, আপনার ‘রূপান্তর’ সাজেশনে মনে পড়লো। অনেক ধন্যবাদ ষষ্ঠ পাণ্ডব।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
অত্যন্ত সাবলীল অনুবাদ। চমৎকার লাগলো পড়ে। লিখতে থাকুন।
/ লে নিহিলিস্ট
ধন্যবাদ লে নিহিলিস্ট।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
আমার কাছে অনুবাদটা মাঝারি মানের লেগেছে। অনুবাদ করে এক মাস ফেলে রেখে বাংলা লেখা সংশোধন করছেন এরকম চিন্তা করে কাটাছেড়া শুরু করবেন। দেখবেন অনেক উন্নত হয়েছে অনুবাদ।
আমার কাছে কেন ভালর বদলে মাঝারি লেগেছে সেটা বলি,
১। বানান প্রমাদ। র এবং ড়-এর পার্থক্য বলতে বলতে আজকাল ক্লান্তি লাগে। নতুন করে কিছু বললাম না। সাজগোছ, কারুকায - এ বানানগুলো ঠিক করতে হবে।
২। আপনার অনুবাদ সাবলীল না লাগার কারণ সম্ভবত যতি চিহ্নের ব্যবহার। যেমন,
উদাহরণ ১ঃ
এটা এভাবে লেখা যেত,
সেই গ্রামে আনাসি আর নাথিং নামে দুই বন্ধু থাকত।
উদাহরণ ২ঃ
এটা এভাবে লেখা যেত,
আনাসি ছিল অনেক গরীব আর দুষ্ট প্রকৃতির যে কেবল বন্ধুত্বের ভান করত।
উদাহরণ ৩ঃ
এটা এভাবে লেখা যেত,
একদিন আনাসি আর নাথিং মিলে ঠিক করলো শহরে যাবে মেয়ে দেখতে। কাউকে পছন্দ হলে বিয়ে করে বাড়ি ফিরবে।
উদাহরণ ৪ঃ
এটা এভাবে লেখা যেত,
পরদিন ভোরে সাজগোজ করে বের হলো দু বন্ধু। আনাসি’র পরনে ছেঁড়া, মলিন কাপড় আর নাথিঙের গায়ে ঝকমকে কেন্টির দাশিকী। সাথে মানানসই ছোট পাজামা। সাতরঙা কাঠের পুঁতি দিয়ে কারুকাজ করা জুতো জোড়া উঠে গেছে হাঁটুর সামান্য নিচ পর্যন্ত। তাতে উটপাখির পালকের ঘের দেয়া।
উদাহরণ ৫ঃ
এটা এভাবে লেখা যেত,
কিছু দূর যেতেই আনাসি ফন্দি আঁটা শুরু করে কীভাবে নাথিং এর পোশাক ও পরে মেয়েদের মুগ্ধ করবে।
ইংরেজি ভাষায় আমার প্রিয় লেখক কুর্ট ফোনেগুট সেমি কোলন পছন্দ করতেন না। আপনার লেখায় সেমিকোলনগুলোর সূত্র কি মূল টেক্সট? সময় থাকলে ফোনেগুটের কিছু লেখা পড়ে দেখতে পারেন। আরেকটু সময় পেলে দু একটা অনুবাদও করে ফেলতে পারেন। বাংলায় সম্ভবত ফোনেগুটের লেখা অনুদিত হয়নি এখনও। একটা কোট শেয়ার করি,
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি
বাহ! দারুণ একটি আলোচনা। এই ধাঁচের মন্তব্য সহসা চোখে পড়ে না। হাসিবকে ধন্যবাদ। আমার কাছে অনুবাদটি সাবলীল লেগেছে। মনে হয়েছে যেন গল্প নয়, কোন এক শীতের রাতে ঝিমিয়ে আসা আগুনের ধিকিধিকি আঁচে জুবুথুবু হয়ে বসে কিসসা শুনছি এক। "সেই গ্রামে থাকত দুই বন্ধু; আনাসি আর নাথিং।"এই বাক্যটির কথাই ধরা যাক। ছাপার অক্ষরে হাসিব যেমনটি বলেছেন -সেই গ্রামে আনাসি আর নাথিং নামে দুই বন্ধু থাকত- তেমনটিই যে সুপাচ্য সে ব্যাপারে আমার কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু জে এফ নুশান সেদিকে যাননি। ভাগ্যিস! গেলে ওই কিসসা কিসসা আমেজটি আমরা হারাতাম বলেই আমার বিশ্বাস। হয়তো আমিই ভুল। কিন্তু তাতে কী! অনেকদিন পর নুশানের হাত ধরে রাদুগা কিংবা চলন্তিকা যে ঘুরে এলাম এটাই আমার প্রাপ্তি।
---মোখলেস হোসেন
মোখলেস হোসেন
“কোন এক শীতের রাতে ঝিমিয়ে আসা আগুনের ধিকিধিকি আঁচে জুবুথুবু হয়ে বসে কিসসা শুনছি”
অতীত কাতর হয়ে গেলাম!
উৎসাহের ঝুলিটা আরেকটু ভারী হলো।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
সহমত।
--------------------------------------------------------
এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।
এক লহমার... টুকিটাকি
হাসিব
সেটাই। লেখা কিছুদিন ফেলে রেখে তরতাজা চোখে ফিরে আসলে অবাক হতে হয় এই ভেবে যে এক মাস বা সপ্তাহ আগেও কত অপরিনত ছিলাম। গঠনমূলক সমালোচনা পেলে বেশ ভালোলাগে। নাহ, অরিজিনাল টেক্স দেখে প্রাথমিক কাজ করায় এখনও হাত পাকিয়ে উঠতে পারিনি। গল্প পড়ার পর লিব্রাভক্সে শুনি। শুনলে গল্প আত্মস্থ করতে আমার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। তারপর লেখা শুরু করি।
বানানের ব্যাপারে লজ্জিত।
কুর্ট ফোনেগুট এখনও পড়ে উঠিনি। চমৎকার মন্তব্য এবং থট প্রোভোকিং ইম্পালস্ এর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
সেমিকোলন নিয়ে Kurt Vonnegut-এর অবস্থানের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। বিষয়টা এমন হলে প্রথিতযশা প্রায় সব লেখকের রচনাতে বিরামচিহ্নের ব্যবহারকে বালখিল্য দোষে দুষ্ট বলতে হয়। আমি নিজে এক সময় লেখায় সেমিকোলন (অর্ধচ্ছেদ) ব্যবহার করতাম না। এতে দেখা যায় হয় বাক্যটিকে ভেঙে ভেঙে লিখতে হচ্ছে যাতে বক্তব্যটির স্পিরিট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথবা একটা এমন লম্বা জটিল বাক্য লিখতে হচ্ছে যে তাতে পাঠকের পক্ষে অর্থ বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে এখন সেমিকোলন ব্যবহার করি।
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।
সহমত।
--------------------------------------------------------
এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।
এক লহমার... টুকিটাকি
গল্পটি ভালো লেগেছে। অনুবাদ ঝরঝরে। তবে উপরে সচলেরা বেশ কিছু ভালো পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলোর ব্যাপারে সচেতন থেকে আরো লেখা পোস্ট করুন সচলে।
-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
চমৎকার ঝরঝরে অনুবাদ। আমার ভাল লাগার পাশাপাশি উপরের সব কটি মন্তব্য পড়ে এসেই বলছি। আপনি কি ভাবে লিখবেন - আপনার সিদ্ধান্ত। সব লেখা সব পাঠকের সব সময় ভাল লাগবে না। কোন কোন পাঠকের কখনই ভাল লাগবে না - এমনও হতে পারে। সেই পাঠকের ভাল লাগার জন্য আপনার লেখার ধরণ পালটে ফেলবেন কি না - সেটাও আপনার-ই সিদ্ধান্ত। পরের লেখার জন্য সাগ্রহ অপেক্ষায় থাকলাম।
--------------------------------------------------------
এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।
এক লহমার... টুকিটাকি
অনেক ধন্যবাদ এক লহমা। ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
পরিনত, পরিশুদ্ধ করা গেলেও এসেন্স কি আর পাল্টে ফেলা যায়।
জে এফ নুশান
---------------------------------
যেইখানে এক বরফ গলা নদী ছিল
সঙ্গে যাবি?
একপাশে তার বৃক্ষবন বার্চ শাখা
মাথার ওপর তীব্র ঘন আকাশ সাদা
বরফ মাখা
খুব সহজে দেখতে পাবি,
সঙ্গে যাবি?
খুব ভালো বলেছেন একলহমা।
---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।
নতুন মন্তব্য করুন