হোম কুয়ারান্টিনে
আছি
আপাতত
যদিও বিদেশ মোর হয়নিকো যাওয়া
শরীলও মাশাল্লাহ সুস্থ
তবু
মাবুদের ইশারায় এ কি হল?
বেপারটা এমনও নয়, পুরা বাসা জুড়ে মোর আনাগোনা
যেতে পারি যেথা খুশি, পাকঘরে বানাতে পারি কফি
খাটঘরে বিছানা জুড়ে খেতে পারি গড়াগড়ি
বৈঠকখানায় বসে দেখতে পারি তাগড়া তাগড়া হিন্দি নায়িকার ঘাগড়া।
কিংবা চাইলেই যাব আলামিন ভাতের হোটেলে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বসে দিব গুলতানি, খাব সিংগারা।
ভেক করে ছেপ ফেলব এখানে ওখানে, যেমনটা বরাদ্দ আছে মানবাধিকারে।
ভাৎরুমে বসে আছি কমোডের ঢাকনি নামায়ে।
যদিও কবিতা কুন এলমেল ফালতু বেপার নয়, কিন্তু
বলে রাখা ভাল মোর বাসার টয়লেটে কুন ছিটকানি
ছিল নাকো। বাড়িওলা বরাবর বহুবার করেছি আবদার
ওগো বাড়িওলা
দেও না গো ছিটকানি লাগায়ে।
বাড়িওলা হাসে। বলে, ভাৎরুমে কি এমন সুনাদানা খনিজ খাজানা?
যে ছিটকানি ফিট করে রক্ষা করতে চান?
কার অত ঠেকা আছে কবিসাব, আপনের ভাৎরুমে জবরদস্তি ঢুকে যাবে?
বরং সদর দোরে আরও দুটু ছিটকানি দেই। যদি চান। খরচটা ফিপ্টি ফিপ্টি।
অগত্যা এ নরপশুটির দোরে আর ধর্না না দিয়া সটান গিয়াছিনু
বাজারে মিস্ত্রির দোরে
তাহাকে বসাইয়া কাজে আমি বসে বৈঠকখানার ছফা 'পরে
পিয়েছিনু কফি
আমার সুপ্রিয়া পত্নী হোসনে আরা তার কাজ করেছিল তদারক।
আমি শুধু বিলখানি বিকাশ করিয়াছিনু মিস্ত্রির লম্বারে।
আজ যবে হোসনে আরার তাড়া খেয়ে
ছুটিয়া ঢুকিনু মুই ভাৎরুমে, তুলিয়া ছিটকানি
সোল্লাসে বলিনু যবে, ওগো আর চলবে না গয়রহ খন্তাঘাত
এখন তো ভাৎরুমে ছিটকানি আছে ট্রালালালা
তখন রহস্যময় খটাং শব্দ শুনি
দরজার অনন্তর ওপাশে
হায়, হোসনে আরা বুঝি ভাৎরুমের এদিকে ওদিকে দুদিকেই
ছিটকানির এন্তেজাম করেছে।
কিন্তু কেন সে দৌড়ানি দিল আমায়?
কেনই বা হোসনে আরা গোপনে খরিদ করলো একটি মজবুত
কাঁঠালকাঠের ছড়ি? এতদিন সেটাই বা ছিল কই?
দরজার ওপাশে শুনি প্রাণপ্রিয়া পত্নীর জোম্বিমধুর ঘড়ঘড়
কি কি যেন বলে
আর নখ দিয়া পাল্লা আচড়ায়
অথচ যে কবিতাটি লয়ে তার এমন নাখোশি
উহা আমি লিখেছিনু ক্লায়েন্টের তরে
লেখা ছিল তাতে
ওগো রোকসানা দেখ চেয়ে
চারিদিকে করুণা ভয়রাস, মৃত্যুর হাতছানি,
দুকানে বাড়ন্ত চালডাল ওষুদ আর পায়খানাপরবর্তীপিছনপোছানি
এখন মিত্যুই সত্য, লাষ্ট ইষ্টপের আগের ইষ্টপে আছি তুমি আমি
ওগো চল দুইজনা আপিসের পরে
যে যার বাসায় না গিয়া যাই কুন নিরাপদ নিরালায়
চল হেন্ড সেনিটাইজার দিয়া একে অন্যরে
আপাদমস্তক ডলি যতক্ষণ না
শরীলের তাপমাত্রা অতিরিক্ত তেইশ ডিগ্রি হয়
ফেসবুকে একজন ডাক্তার বলছে তেইশ ডিগ্রি হয়ে গেলে কুন ভয় নাই
মধুর মালিশে চল মস্ত মস্ত সব কার্ভ দলেপিষে ফ্লেটেন করিয়া দেই
রোকসানা না বল না
সর্বদা তুমায় দেখি চক্ষু বুজিলেই
কাছে আসতে দেও আমায়
পৃথিবীর সমস্ত বঞ্চিত বাছুরের ঋণ শুধে তৃষ্ণার্ত আমায় আসতে দেও তুমার গোশালে...
এই রকম আরও কতকিছু ছিল সেই কবিতায়
হোসনে আরা দরজার তলে আজ বিহানবেলায়
কি একটা খাম পাইয়া খচাৎ ছিড়িয়া
উঠিল হাউমাউ করে
যতই বুঝাই তারে এ কবিতা আমার তো নয়
এখানে যা আছে সব ক্লায়েন্টের হারাম প্রণয়।
কিন্তু সে মানে না, বলে হুঙ্কারিয়া, তবে রে শয়তান
চিটঠির তলায় তবে লিখছস ক্যান, ইতি খেলায়েত জান?
যতই বুঝাই তারে
ক্লায়েন্টের নামও খেলায়েত
কিন্তু মানে না সে
জান আর খান যে দুই ব্যক্তি হতে পারে
এ কথা ঢুকে না তার নিষ্করুণ কানে
সেই থেকে আছি আমি
হোম কুয়ারান্টিনে
অবশ্য মানে না হোসনে আরা
বলে সে, কুয়ারান্টিন নয়, এ সকল বড়জোর অন্তিম কুয়ারা।
-----------
নামঃ খেলায়েত
পেশাঃ কবি
মন্তব্য
অলমিতি বিস্তারেণ
:-?
খেলায়েত কবির হোম কুয়ারান্টিন জারি থাকুক!
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না
যে কারনেই হোক না কেন, কুয়ারান্টিনে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম। থাকেন কিছুদিন।
........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা
খেলায়েত স্ট্রাইক্স এগেইন!
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...
চল হেন্ড সেনিটাইজার দিয়া একে অন্যরে
আপাদমস্তক ডলি যতক্ষণ না
শরীলের তাপমাত্রা অতিরিক্ত তেইশ ডিগ্রি হয়
ফেসবুকে একজন ডাক্তার বলছে তেইশ ডিগ্রি হয়ে গেলে কুন ভয় নাই
অজ্ঞাতবাস
ইনবক্সে হুমকি দেবে, হুমম!
____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?
কবি কি অপিসে বসেন?
এই দুই লাইন দেখে তো হোসনে আরার বোঝা উচিত ছিল। অবুঝ হোসনে।
নতুন মন্তব্য করুন