আমি কেনো জামাতশিবির করি

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: বিষ্যুদ, ৩১/০৭/২০০৮ - ১০:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শাহবাগ দিয়ে যাচ্ছি।
হঠাৎ কাধে কারো ছাঁয়া- আসসালামু আলাইকুম ভাই কেমন আছেন?
অবাক হয়ে পেছনে তাকাই-আরে রবি তুমি? রবি হাসে।
রবির সাথে প্রায় এক বছর পর দেখা। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ দিকে ও আমার ডিপার্টমেন্টেই ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়। ওরিয়েন্টেশনে পরিচয়। মাঝে মাঝে আমার রুমে আসতো। কীভাবে পড়তে হবে, কার বই কিনতে হবে, নোট-পত্র বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ চাইতো। মাঝে মাঝে ওর লেখা কবিতাও পড়ে শোনাতো। প্রথম থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ও। আমি ওকে বলেছিলাম আবৃত্তি করো, বিতর্ক করো, নাটক করো, গীটার শেখো কিন্তু ভুলেও ছাত্ররাজনীতি করতে যেও না। আমার সাথে শেষ দেখায় ও বলেছিলো হলে সিটের খুব সমস্যা হচ্ছে। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র তাই হলে এখনও আবাসিকতা পায়নি। এক বড় ভাইয়ের রুমে ফ্লোরিং করতো সেখান থেকে ব্লকের হাইজ টিউটর ওকেসহ ওর মতো আরো অনেককে অবৈধ ছাত্র হিসেবে বের করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওদের ঠাঁই হয় হল মসজিদের বারন্দায়। আমার তখন পরীক্ষা শেষ, হল ছেড়ে দিচ্ছি তাই ওকে আমার রুমে রাখতে পারলাম না। এরপর একদিন ফোন করে জানিয়েছিলো আপাতত সমস্যার একটা সমাধান হয়েছে- এলাকার এক বড় ভাইয়ের মেসে উঠেছে।

তারপর আজ আবার দেখা।
ভাইয়ের কী তাড়া আছে? চলেন এক কাপ চা খাই। স্মীত হেসে রবি অনুরোধ করে।
আসি রবির পরিবর্তন খেয়াল করি- মুখে দাড়ি, প্যান্ট গোড়ালীর উপরে ওঠানো!
আমার চাহুনী রবি বুঝতে পারে। জ্বী ভাই , আমি শিবিরে যোগ দিয়েছি।
রবি!
চা খেতে খেতে রবির সাথে কথা হলো। আমি বললাম রবি আমি তোমার এই চেঞ্জ কিছুতেই মেন নিতে পারছি না। রাজনীতি করার ইচ্ছা হলে করো কিন্তু তাই বলে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবিরের কর্মী হবে এটা মেনে নেয়া যায় না।
রবি খানিকক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে -ভাই আমি কেনো জামাতশিবির করি জানেন?

১. আমাকে যখন হল থেকে বের করে দেয় তখন লীগ, দল, ইউনিয়নের অনেক নেতার কাছে ঘুরেছি কেউ কোন ব্যবস্থাই করেনি। তখন এরাই আমার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়!!!!
২.ফোকাস কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি নয়াদিগন্তে পার্টটাইম কাজ জুটিয়ে দেয়!!!!!!!!
৩. লেখাপড়া শেষে ইসলামী ব্যাংক, ইবনেসিনা হাসপাতাল, ব্যাংক আলফালাহ অথবা দিগন্ত টেলিভিশনে চাকরী নিশ্চিত!!!!!আপনার সহপাঠীদের খোঁজ নিয়ে দেখেন যারা শিবির করতো তাদের কী অবস্থা আর যারা করতো না তাদের কী অবস্থা!
৪. চাইলে ওরা বিসিএসে টিকতেও সাহায্য করবে!!!!!!!!
৫.সংগঠনের সাথে সক্রিয় যুক্ত থাকলে বিদেশে পড়তে চাইলেও খরচ ওরা দেবে!!!!!!!!!
৬.যেকোন ধরনের বিপদে-আপদে সবরকমের সাহায্যই ওরা করবে!!!!!!!!

অর্থাৎ ভাই আমার ভবিষ্যত নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা নাই। জীবনটা অনেক সহজ।
তাই বলে এই সামান্য সহযোগিতার লোভে তুমি রাজাকারদের কাতারে নাম লিখালা!
কাদের রাজাকার বলছেন ভাই । শিবির রাজাকার হলেতো বিএনপিও রাজাকার, আওয়ামী লীগওতো জামাতের সাথে রাজনীতি করেছে। আর এই যুগে কর্মসংস্থানের সুযোগকে আপনি সামান্য সহযোগিতা কীভাবে বলেন? আপনাদের ব্যাচেইতো এখনো অনেকে বেকার। আদর্শ নিয়ে মাথা ক্ষয় করে লাভ নেই। ওগুলে সব ফাঁকা বুলি। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ক্ষুধায় কাতর হয়ে আদর্শের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শহীদ হবার যুগ শেষ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি করে অবমূল্যায়নের রাজনীতি আর জামাত করে কর্মসংস্থান ভিত্তিক রাজনীতি। তাই বলতে পারেন পেটের দায়েই শিবির করি।

বুঝলাম ওর মাথাটার মগজটা পুরো ধোলাই হয়ে গেছে। ওকে এখন বোঝালেও কিছু বুঝবে না। কিন্তু জামাত-শিবিরের নীলনকশার জাল দেখে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। রবির মতো আরো কতো ছেলে না জানি এদের প্রলোভনের জালে এভাবে আটকে যাচ্ছে!মরণ নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর এই সর্বনাশা জাল থেকে এদরেকে কে বাঁচাবে?রবির সাথে কথা বলার পর থেকে খুব বিপন্ন বোধ করছি। অসহায়ত্বের এক ধরনের হতাশা ছায়ার মতো চারপাশে ঘুরছে। কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ!


মন্তব্য

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

অনেক, অনেক, অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক সংগঠন থেকে। আরো অনেক কিছুই আছে। আশা করি উঠে আসবে এই পোস্টে।


রাজাকার রাজা কার?
এক ভাগ তুমি আর তিন ভাগ আমার!

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

গতকাল রাতেরই ঘটনা। ক্যান্টিনে খেয়ে হলের দোকানগুলোর সামনে আড্ডা দিচ্ছি। আমাদের পাশেই একটা জটলা। জুনিয়র ছেলেপেলে। সেখানেই একটি ছেলেকে বলতে শুনলাম- এখন তো দল করি, কিন্তু পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে এসে আমি শিবিরে যোগ দেবো। শিবিরে যোগ দিলেই তো চাকরি নিশ্চিত। এখন দেখছি, দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগের শীর্ষে ছাত্রদলও শিবিরের কাছে হেরে যাচ্ছে। এর শেষ পরিণতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কে জানে!

মুশফিকা মুমু এর ছবি

মন খারাপ
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।
দেশের প্রতি,জাতির প্রতি দায় থাকলে আড্ডায়-পাতায় রাজাউজির না মেরে ফিল্ডে কাজ করা উচিত।নইলে-চেয়ে চেয়ে দেখবো...........

---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

মূর্তালা রামাত এর ছবি

কিন্তু ভাই আমাদের এই প্রজন্মতো রাজাউজির মারা প্রজন্মই হয়ে গেছে অথবা সুকৌশলে করে দেয়া হয়েছে।

মূর্তালা রামাত

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

এটা বুঝতে পারাও অনেক বড় ব্যাপার।
কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?ছাত্র সংগঠনগুলো কি কখনো শিবিরের বিকল্প হিসাবে দাঁড়াতে পারবে?সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কী কর্মসূচী আছে,যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌছে দেবে প্রকৃত ইতিহাস কিংবা বাঁচিয়ে রাখবে মৌলবাদের করাল গ্রাস থেকে?এটা মুদ্রার একদিক।আরো একটা দিক আছে-মাদ্রাসা শিক্ষিত বিশাল বেকার শ্রেণী।এই শ্রেণী শিক্ষীতের সার্টিফিকেট নিয়েও চাকরীর প্রতিযোগীতায়ই যেতে পারে না।সব দিক মিলালে -থাকে শুধু অন্ধকার।
এইসব নিয়ে যারা চিন্তা করেন,তাদের সমন্বিত ভাবে কিছু একটা করা দরকার।কারণ নির্দেশ দেয়ার মতো কোন নেতা আমাদের নেই।

---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

রায়হান আবীর এর ছবি

প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট। এই ব্যাপারটা আমি অনুভব করি। কিন্তু মন্তব্য কিভাবে করবো বুঝতে পারছিনা। অভিজ্ঞদের আলোচনা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল

শামীম এর ছবি

আর এভাবেই ওরা তলে তলে সচলায়তনের কন্ঠ চেপে ধরার শক্তি অর্জন করে।

বেহেশত্ আর হুর পরীর লোভে কাজ হচ্ছে না.... চাকরীর লোভে কাজ হয় - এই ব্যাপারটা খেয়াল করার মত!
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়াতে পারলে এরকম উদাহরণ চলতেই থাকবে। ইসলামীপন্থীরা যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়ে তাদের লোকবল বাড়ায়, সেটা বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য মুসলিম-প্রধান দেশে ঘটছে। পেটের জ্বালা বড় জ্বালা। এর উপরে কোন সত্য নেই। বাড়ি ভাড়ার দুশ্চিন্তা যেই যুবকের মাথায়, তার আদর্শ নিয়ে টেনশন করার সময় নেই। অন্যদিকে পড়াশোনা শেষে ওকে একটা ৯-৫ কাজ নিশ্চিত ধরিয়ে দিতে পারলে তার হুজুরদের সাথে মেশার বিন্দুমাত্র প্রয়োজনও ছিল না।

এ কারনেই যারা ক্ষণে ক্ষণে "কর্পোরেট" জীবনধারার মুন্ডুপাত করেন - তাদের প্রশ্ন করি - শিক্ষিত যুবকদের জন্যে চাকরি বিনা বিকল্পটা কি? বকা-ঝকা আর বিকল্প পথপ্রদর্শন এক জিনিস নয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ধ্রুবর দেয়া পোস্টটা দেখে সবারই চিন্তিত হওয়া উচিত। নীতি নির্ধারকরা কি করছেন, খোদা মালুম। রেমিট্যান্স থেকে দেশ যে টাকা পায়, তা গার্মেন্টস/রপ্তানী শিল্পের কাছাকাছি বা বেশীও হতে পারে। এবং সেই টাকার সিংহভাগ আসছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই অবস্থায় আরব দেশগুলো যদি বাংলাদেশের শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয়, সেটা আমাদের জন্যে ক্ষতিকর। ওদের নিজেদেরও শ্রমিকের দরকার আছে। মালিকের অত্যাচারের প্রতিকার করা, সুবিচার করা, এবং পাশাপাশি চাকরির দ্বার উন্মুক্ত রাখা, এসবই রাষ্ট্র এবং সফল কূটনীতির ব্যাপার। দরকার পড়লে অন্যান্য লেবার-সাপ্লাইং দেশের সাথে হাত মিলিয়েই বাংলাদেশের তা করতে হবে - ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ফিলিপিন, ইত্যাদি। আট লক্ষ লোক প্রতি বছর বাইরে যাচ্ছে, কারন দেশে পর্যাপ্ত কাজ নেই। এই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যত পরিণতি আরো গাদাগাদি, আরো বেকারত্ব, অতঃপর নৈরাজ্য আর হতাশা।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

মূর্তালা রামাত এর ছবি

এদেশে এ নিয়ে চিন্তা করার লোক কোথায়। সবাইতো যে যার মতো নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

মূর্তালা রামাত

আলমগীর এর ছবি

একমত। দারিদ্র একটা বড় কারণ। ২০০৫ এ সিরিয়াল বম্বের পর ড. জাফর ইকবাল একটা কলাম লিখেছিলেন এ নিয়ে। যে মানুষের হারানোর কিছু নাই, তাকে ১০টা টাকা দিলেই পটকা নিয়ে ঘুরবে।

অমিত আহমেদ এর ছবি

প্রথমত, ওদের সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত।
দ্বিতীয়ত, ওরা দেশে কতটা শেকড় গেঁড়ে বসেছে সেটা ওদের দেখানো লোভগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বিসিএস এ সাহায্য, চাকরী, ব্যাপার কিন্তু সোজা না।

বাংলাদেশের মত গরীব দেশে এসব প্রলোভন কাজে লাগবেই। ওরা দেশকে যেদিকে নিচ্ছে এসব প্রলোভন আর কিছুদিন পরে আরও বেশি লোভনীয় হয়ে উঠবে।

সুবিনয় মুস্তফীর মন্তব্য ভালো লেগেছে।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফেসবুক | ইমেইল

নিঝুম এর ছবি

জামাতী হুজুর রা বেশ সুসংগঠিত । সুতরাং এইসব সুযোগ সুবিধা তারাই দিবে এবং কিছু সরল ছেলেপেলে সেটা খাবে, এটাই স্বাভাবিক । এইরকম রবি ওদের প্রচুর পরিমাণে চাই । এই লন্ডনে একটি জামাতের কর্মী এলে সে কখনো বেকার থাকেনা, তার থাকা,খাওয়া, কাজ সব জামাতের লন্ডন এজেন্ট রা ব্যাবস্থা করে । ইস্টলন্ডন মসজিদ আর তার আশ পাশ ঘিরে হুজুরদের বিশাল সাম্রাজ্য । আ লীগ, বি এন পি'র কাঁদা ছোড়াছুড়ি আর তাদের দ্বিমুখী নীতি , হুজুর আর মাওলানাদের অনেক সামনে নিয়ে যাবে ... এটাই তো স্বাভাবিক।
--------------------------------------------------------
... বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ের গালি খাবেন, 'কীসের মুক্তিযোদ্ধা তুমি, কী দিয়েছ আমাদের'? তিনি তখন আবারো বাড়ির বাইরে যাবেন, আবারো কান পাতবেন, মা জননী কি ডাক দিল?

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

মূর্তালা রামাত এর ছবি

ভালো মন্তব্য করেছেন।

মূর্তালা রামাত

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

মজা পেলাম... কালকে বিকেলেই আজীজ মার্কেটে শুদ্ধস্বরে বসে টুটুল ভাইয়ের সাথে ঠিক এই আলাপই করছিলাম... বলছিলাম যে স্কুলে সিক্স সেভেনে পড়া ছেলেরা না বুঝে শিবিরের ফর্মে সই করে সদস্য হয়... তাদেরকে একেবারেই রাজনীতির কোনও কথাই বলা হয় না... বলা হয় ধর্মের কথা... এবং নিয়মিত খোঁজ খবর করা হয়। S.S.C. পাশের পরে ভালো কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করে শিবির... তখনও তারা রাজনীতি নিয়া কথা বলে না... এরপরে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি নিশ্চিত করে শিবির... তখন অল্প অল্প বলা শুরু করে... ভার্সিটিতে ভর্তির পরে ধীরে ধীরে শিবিরিয় মূল্যবোধ ঢোকানো হয় মগজে... ততদিনে মগজ সাফ হয়ে গেছে... সেই মগজে ভবিষ্যতে নিশ্চিত চাকরি ঘোরে...
আমরা আদর্শগত চেতনার বুলি বিলায়াই খালাস... দুনিয়া যে বদলায়ে যাইতেছে তার কোনও খোঁজই রাখি না আমরা...
সবকিছু এভাবেই নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে... যাচ্ছে... যাবে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

কি ভয়ংকর প্ল্যানিং ওদের !
আর সেইসাথে অসম্ভব ধৈর্য্য !!
সবুরে যে মেওয়া তারা ফলাতে পারে, তা তো দেখতেই পাচ্ছি।

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

শিমু নুমান এর ছবি

শিবির কমন সেন্টিমেনট নিয়ে রিবে আঘাচ্ছে। আর অন্য রাজনৈতিক দলগুলো
ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে আগায়। ফলে আদর্শিক স্বার্থে ও ব্যক্তি র্স্বাথে উপর আদশিক স্বার্থ বিজয় লাভ করে।
জামায়াতশিবির স্বাধীনতার ভূমিকা নিয়ে দ্বন্ধ থাকলেও মানুষ আজ বলতে বাধ্য হচ্ছে জামাত শিবির রাজনীতি করলেও তারা ভালো।
এদের সততা ও দর্শন দিয়ে অন্যকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। এটা যে করবে সেই বিজয় লাভ করবে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বিদেশে বইসা জামাত শিবির করা সবচে' লাভজনক। পাবলিকের কাছে রাজাকার গালি খাইতে হয় না, বোমা ফুটানো লাগে না, ফাঁকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় পার্টির খরচে ট্রিপ মারা যায়, রিয়াল-ডলার পাওয়া যায়। (ফান্ড কালেকশন বিষয়ে নাকি হাদিস আছে, তিনভাগের একভাগ যে কালেক্ট করে তার। সুতরাং ৩ ভাগের ২ ভাগ আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় দিয়ে বাকিটা হালাল।)

শিবির কর্মীরা টাকা দিয়ে পার্টি চালায় এইটারেও কোনো না কোনো হাদিসে ফেলে দেয়া যাবে।

কাজের মধ্যে কিছু চাপাবাজি করে ফান্ড কালেকশন আর মাঝে মাঝে সংগ্রাম আর নয়াদিগন্তে সুশীল আর্টিকেল লেখা। মুর্তলা দা, রবি রে একটু জিগাইয়েন জামাতে যোগ দেয়ার সিস্টেম কি।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

মূর্তালা রামাত এর ছবি

আবার যদি কখনো দেখা হয় জিগামুনে।

মূর্তালা রামাত

রাফি এর ছবি

এত ঘৃণা !এত প্রতিরোধ !
এরপরও এরা বেঁচে থাকে কী নিয়ে?

---------------------------------------
অর্থ নয়, কীর্তি নয় ,স্বচ্ছলতা নয়-
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভেতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

দেবোত্তম দাশ এর ছবি

কলকাতার বাম দলের মতো, গোঁড়া থেকে বিষাক্ত করা
------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট। এরকম উদাহরণ আমাদের চারপাশেই ভুরি ভুরি ঘটছে। এ থেকে রেহাই পাবার কি কোন উপায়ই নেই!

স্নিগ্ধা এর ছবি

শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তো নয়, জামাতের রিক্রুটিং পলিসি শুরু হয় একেবারে প্রাথমিক স্কুলের সময় থেকে। এই যে অগণিত মাদ্রাসা গজিয়ে উঠেছে, সেগুলোর উদ্দেশ্যও একই। যারা ওইসব মাদ্রাসায় পড়তে যায় তাদের অধিকাংশই শুনেছি নিজ নিজ পরিবারের জন্য নিয়মিত আর্থিক সাহায্য পায়।

মৌলবাদের আগ্রাসন নিয়ে আমরা চিন্তিত, কিন্তু আমাদের মত একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশে এটা যে কি পরিমাণ অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত, সেটা নিয়ে কেন যেন আমরা প্র্যাক্টিকাল কোন সমাধানের পথে আগাই না!

চুপচাপ এর ছবি

যে গরু দুধ দেয় মানুষ তার লাথিও খায়
আর শিবির-জামাত তো জামাই আদর দেয়...

রণদীপম বসু এর ছবি

জামায়াতশিবির স্বাধীনতার ভূমিকা নিয়ে দ্বন্ধ থাকলেও মানুষ আজ বলতে বাধ্য হচ্ছে জামাত শিবির রাজনীতি করলেও তারা ভালো।
এদের সততা ও দর্শন দিয়ে অন্যকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। এটা যে করবে সেই বিজয় লাভ করবে।
@শিমু নোমান।

এখানে সততা শব্দটি উল্লেখযোগ্য। আসলেই কি সততা ? ভন্ডামি। তাদের দর্শন হচ্ছে ভন্ডামির দর্শন। যারাই ধর্ম নামের একান্ত মনোজাগতিক একটা সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনীতির ভেলা হিসেবে ব্যবহার করে, তারাই ভন্ড। ভারতের বিজেপিও তাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্যখানে। জামাত কি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনীতি করে ? অবশ্যই নয়। এরা সবচেয়ে বেশি জাগতিক। মানুষের রগটা তারাই ধরতে পেরেছে সঠিকভাবে। এজন্যেই তারা এগুচ্ছে। যা আমাদের চরিত্রহীন তথাকথিত অপরাপর দলীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
জামাত ঠিকই জানে অর্থনৈতিক শক্তিটাই মূল কথা। এরা যে কতোটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যবসায়ী তা ক'বছর আগের অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাতের একটা সমীক্ষা থেকেই বুঝতে পারি। তিনি দেখিয়েছেন, জামাত গংএর সর্বত্র বিস্তৃত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ১২০০ কোটি টাকা নীট মুনাফা করছে, যা রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে দলিয় প্রয়োজন মিটিয়ে ব্যবসাতেই ফিরে আসে এবং এর অবয়ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই।
বাংলাদেশে এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে জামাতের ব্যবসায়িক রাজত্ব নেই। অন্য দলগুলো যখণ ফকিরের মতো লুটপাটে নিজের পেট আর আখের গোছানোতে ব্যস্ত, জামাত অতি পরিকল্পিতভাবেই সবগুলো সেক্টরে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে নিয়োজিত রয়েছে। রাষ্ট্রের সবগুলো চেকপয়েণ্টে তাদের লোক রিক্রুট করে বসিয়েছে। আর এজন্যেই হাসিনা খালেদা জেল থেকে বেরুতে না পারলেও অনেক পরে আই ওয়াশ গ্রেপ্তার নিজামী ঠিকই বেরিয়ে আসে যুদ্ধাপরাধীর মতো গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও। তারা বিস্ময়করভাবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশকে কটাক্ষ করে মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করার দুঃসাহস দেখাতে পারে, যে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হয় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হয় বিশেষ অতিথি ! এযাবৎ জামাতের বিরুদ্ধে একটা একশনেও বর্তমান তত্তাবধায়ক সরকার যেতে যে পারছে না, সে কি এমনি এমনি ? সব সরিষার রোমে রোমে জামাত। অতএব সাধু সাবধান।

এই ভার্চুয়াল জগতের কথাই ভাবুন না। ধর্মগ্রন্থের নিষেধাজ্ঞা কি এদের বিচরণ আটকে রেখেছে ? টিভি দেখলেই যেখানে গেল গেল রবে বাজ পড়তে থাকে, সেখানে অনলাইনে কি ধর্ম শোধন হয়ে যায় ? সব ভন্ডামী আর পরিকল্পিত দুরভিসন্ধি।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তানভীর এর ছবি

আমি চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় শিবিরের ঘাঁটি ছিল ঐখানে। আমি আগে এটাই কখনো বুঝতে পারতাম না চট্টগ্রাম কলেজের মতো একটা জায়গায় শিবিরের মতো একটা রাজাকার পার্টি থাকে কী করে! পরে অন্য কলেজে অন্য পার্টিগুলোর হালচাল দেখে বুঝেছি কেন শিবির চট্টগ্রাম কলেজে আসন গেড়ে বসেছে। সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার ফরম নিতে গেলাম। দেখি লীগের পান্ডারাই ভর্তি ফরম বিক্রি করছে, সাথে তাদের গাইড বই। তাদের সবার এমনভাব যেন কলেজ তাদের বাপের সম্পত্তি। আমি বল্লাম, আমি গাইড বই নিবো না, শুধু ফর্ম নিবো। লীগের পান্ডা (পরে শুনেছি ঐ ব্যাটাই ছাত্রলীগের সভাপতি) কথা শুনে আমাকে থাপ্পড়ই লাগায় দেয় আর কি- মান-ইজ্জত বাঁচাতে তখন গাইড বইসহ ফর্ম কিনলাম। কর্মাস কলেজ যেখানে ছাত্রদলের ঘাঁটি, সেখানেও নাকি একই অবস্থা। অথচ চট্টগ্রাম কলেজে অফিসে কর্মচারীদের কাছ থেকেই আমরা শুধু ফর্ম কিনেছি- যা আসলে হওয়া উচিত। ঐখানে কোন শিবিরের লোক ছিল কিনা জানি না, থাকলেও বুঝিনি। ক্লাস শুরু হওয়ার পর অন্য কলেজের বন্ধুদের কাছ থেকে শুনি ছাত্রদল-লীগের মিছিল হলে নাকি ক্লাস বন্ধ করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলে যোগ দেয়া বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রাম-মহসীন কলেজেও শিবিরের মিছিল হয়, কিন্তু তার জন্য ক্লাস বন্ধ হয় না, মিছিলে সাধারণ ছাত্রদের যোগ দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তেমন কেউ তাদের মিছিলে যায়ও না, তারা নিজেরাই ছোটখাট মিছিল করে। অন্য কলেজগুলোতে ছাত্রদল-লীগের ডাকে দুই দিন পরপর ছাত্র ধর্মঘট হত। অথচ আমরা তখন নিশ্চিন্তে ক্লাস করতাম, কারণ শিবির এসব ধর্মঘটে যুক্ত থাকত না। শিবির চট্টগ্রাম কলেজে কখনো নির্বাচন দেয় না, কারণ তারা জানে নির্বাচন দিলে তারা জিততে পারবে না। তাই মূলত তারা গায়ের জোরেই সেখানে ছিল। কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের এটা নিয়ে কোন মাথা-ব্যথা নাই। কারণ, তারা জানে শিবির থাকায় তারা একরকম শান্তিতেই আছে। অন্য পার্টি থাকলে মিছিল-ধর্মঘট করতে করতে আর জিয়া-মুজিবের আদর্শ কপচানো পান্ডাদের হুজুর হুজুর করতেই কলেজ পার করা লাগত।

অন্য পার্টিগুলো তাদের এটিচিউড চেইঞ্জ না করলে শিবির তার শাখা-প্রশাখা আরো বিস্তার করবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

= = = = = = = = = = =
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা ঘুচাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।

দ্রোহী এর ছবি

ভাবতেছি শিবিরে যোগ দিব!!!!!!!!


কী ব্লগার? ডরাইলা?

আলমগীর এর ছবি

কোন শিবির? লেখক না পাঠক না ভিন্ন কিছু?

সবজান্তা এর ছবি

আমার এক বন্ধুর কথা বলি। ময়মনসিংহ মেডিকেলে পড়তো। পাগলা টাইপের, কবি। ওরা কয়েক বন্ধু শিবিরের কার্যক্রমকে স্তিমিত করার জন্য কালচারাল এক্টিভিটিস বাড়িয়ে দিলো, কবিতার পত্রিকা বের করা শুরু করলো। যদিও স্বীকার করি অর্থনৈতিক সাহায্যের মত কার্যকরী কিছুই নেই - কিন্তু ওদের তেমন কিছু করার সামর্থ্য ছিলো না। ওরা শুধু শিবিরের দাওয়াত কার্যক্রম আর মওদুদী মগজ ধোলাই এর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু কতৃপক্ষ এ নিয়ে ওদের চূড়ান্ত অসহযোগিতা করেছিলো। শেষ পর্যন্ত কি করেছিলো জানি না, তবে আমার সাথে যখন দেখা হয়েছিল শেষবার, তখনো ওরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কবিতার কাগজটিকে বাঁচিয়ে রাখার।

পরিস্থিতি আর কোন দিক দিয়েই আসলে অনুকূল নেই - প্রশাসন সম্পূর্ণ শিবিরের দখলে।


অলমিতি বিস্তারেণ

খেকশিয়াল এর ছবি

আমার মনে হয় অনেক বড় একটা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এইগুলা, প্ল্যানমতই এগুচ্ছে সব অনেক আগের থেকেই, আমাদেরই নাকের সামনে

------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

রেনেট এর ছবি

আসলে রবিদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। একজন রবি যখন দ্বারে দ্বারে ঘুরে, তখন আমরা কেউ কিছুই করি না। আর যখন ওরা নিরুপায় হয়ে জামাত শিবির করে, আমরা ওদের ঘৃণা করি, গালি দেই। আসলে রবিরা না, আমরাই সবচেয়ে বড় সুবিধাবাদী।
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর "মৃত্যুক্ষুধা"য় তো ঠিক এরকমই কিছু লিখে গেছেন। উড়ে এসে জুড়ে বসা ক্যাথোলিক অনুসারীরা তখন এই বাংলাদেশেই ক্ষুধা ও দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে, ভালো ও স্বচ্ছ দিনযাপোনের আশ্বাস দিয়ে খ্রীষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে দিত।

সময় বদলালেও প্রেক্ষাপট বদলায়নি মোটেও। দারিদ্র আর অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে যখন মধ্যবিত্তের মাঝে নিশ্চয়তার চরম দুশ্চিন্তা তখনই শিবির তথা জামাত এগিয়ে এসেছে সেই ক্যাথোলিক অনুসারীদের মতো। তারাও থাবা মেলে ধরছে "নিডি" বাংলাদেশীদের ওপর। নিয়ে নিচ্ছে নিজেদের 'গ্রীপে'।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় তো অবশ্যই আছে যেমনটা ছিলো অনেক আগেও, খ্রীষ্টিয় যাজকদের অশ্লীল হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচার। বেশি দেরী হয়ে যাবার আগেই বাংলাদেশের মানুষের এই উপায়টাই বের করতে হবে আরেকবার, ইতিহাস আর অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে। নাহলে শ'য়ে শ'য়ে রবি চলে যাবে তাদের হিংস্র করতলে, ব্রেইন ওয়শড হয়ে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

শিক্ষানবিস এর ছবি

আমি ক্লাস এইট (২০০০) থেকে ভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ার (২০০৭) পর্যন্ত শিবিরের সাথে যুক্ত ছিলাম। শিবির ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন অর্থাৎ শ্রেণীভিত্তিক। সবার প্রথমে সমর্থক ফর্ম পূরণ করতে হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে কর্মী, সাথী প্রার্থী, সাথী, সদস্য প্রার্থী এবং সবশেষে সদস্য। প্রতিটির জন্য সিলেবাস ও তার উপর পরীক্ষা আছে। আমি ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার আগেই সদস্য প্রার্থী হয়েছিলাম। এরপর আর এগুনো হয়নি।

বর্তমানে আমি শিবিরের সাথে সকল সম্পর্কই ছিন্ন করেছি। কিন্তু শিবির করতে গিয়ে যাদের সাথে কাজ করেছি তাদের অনেককেই এখনও শ্রদ্ধা করি বা ভালবাসি। শিবির থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আমার যুক্তি ছিল, কোন আবেগ থেকে বের হয়ে আসিনি।

বর্তমানে আমি অজ্ঞেয়বাদী, অর্থাৎ ঈশ্বর আছেন কি নেই তা প্রমাণ করা সম্ভব নয় বলে বিশ্বাস করি। আমি সব সময়ই অসীম ও সম্পূর্ণ কোন সত্ত্বার সন্ধান করবো। আর ধর্মের ব্যাপারে আমার মত হল, ধর্ম ঈশ্বরকে খোঁজার জন্য মানুষের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, কোন ঐশী বাণী নয়।

১৯৭১ সালে জামাত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তারপরও আমি কেন এতোদিন শিবিরে ছিলাম? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়া সম্ভব না। বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইল।
(উল্লেখ্য: আমার বাবা ময়মনসিংহ জেলা জামাতের বিশিষ্ট নেতা এবং আমার মা মহিলা জামাতের অত্যন্ত আবেগী ও নিষ্ঠাবান কর্মী। আমি বাবাকে একদম পছন্দ না করলেও মা-কে খুব ভালবাসি)

রায়হান আবীর এর ছবি

তুই শিবির আছিলি? খাইছে

---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- জেনে ভালো লাগলো শিক্ষানবিস।

শিবির কিংবা জামাতের সাপোর্ট করার সুযোগ আমারও স্কুলে এসেছিলো। বুঝিনি তখন। যোগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মায়ের কারণে পারিনি। কেনো পারিনি সেটা এখন বুঝি। ছোটবেলায় যে নাদানতা ছিলো সেটা জায়গা করে নিয়েছে আদর্শ নামক এক জিনিষ। আমি বা আমার আত্মীয়স্বজন কেউ যে কারণে শিবির বা জামাতের সাপোর্ট করে না তার কারনও ঐ আদর্শ। এখানে আবেগ থাকার দরকার লাগে না, সামান্য একটু আদর্শ থাকলেই চলে।

আমার বাবা খুব সামান্য সরকারী চাকুরে ছিলেন। এখন রিটায়ার্ড। বেতন যা পেতেন খুবই সামান্য। তাঁর স্বচ্ছলভাবে সংসার চালনার যুক্তিতে তিনি যদি ঘুষ খেতেন, বাড়ি-গাড়ি করতেন তাহলে আমি হয়তো তাঁকে দোষ দিতে পারতাম না। কিন্তু এটা অবশ্যই বলতাম যে তিনি তাঁর আদর্শ থেকে স্খলিত হয়েছেন। আর একজন মানুষ যখন আদর্শহীন হয়ে পড়েন তখন তার মূল্য আর অবশিষ্ট থাকে না, এটা আমার সামান্য শিক্ষা বলে। আর আমার বাবা ঘুষ খেয়েছেন বলে বাবার সন্তান হিসেবে সেটাই সঠিক নীতি ধরে নিয়ে নিশ্চই আমিও ঘুষ খাওয়া শুরু করবো না!

অনাদর্শের বিরুদ্ধচারণ করার শিক্ষাতো তাঁদের কাছেই প্রথম পাই আমরা।

যদি কখনো আপনি বিস্তারিত লেখেন সেখানে হয়তো মন্তব্য করা নাও হতে পারে। তাই কথাগুলো এখানেই বলে রাখলাম ভাই।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

kola mia এর ছবি

shikkha nobish tomake dhonnobad jamaat charso deikha. tomar abbare r ammre bujhao please . oi poth theke shore ashte bolo.

পলাশ এর ছবি

বাংলাদেশে জামাত শিবির যেভাবে এগুচ্ছে
আমার তাতে প্রায়ই একটা ভয় হয় যে সামনে কোনো এক দিন পাকিস্তান আবার বাংলাদেশ আক্রমন করে ৭১'এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইবে।
আর তখন দেশের ভেতর থেকে জামাত শিবির তাদের সহায়তা করবে
এমতাবস্থায় আমার মতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বাদ দিয়ে ব্যাক্তিগত পর্যায়ের ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে তোলা উচিত যারা নিজেদের এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জামাত ও তার অংগ সংগঠনগূলোর অতীত কাজ গুলো প্রমান সহ তুলে ধরবে।
আর একটা ব্যাপার হলো ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট
জামাত শিবির এর অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে হলে ইসলাম বা ধর্মের ব্যাপারে কোনো খোচাখুচি করবেন না।
কারন এতে করে জামাত শিবির এর হাতকেই শক্তিশালি করা হচ্ছে
তবে এই ব্যাপারটা শুধু ইসলামের ক্ষেত্রে না
লাওস বা ভিয়েতনাম এ আপনি যদি বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যতই আপনি ভালো কথা বলেন না কেনো পাবলিক আপনারে নগদের উপরে ধোলাই দিবে।
সেই হিসেবে বলি
ধর্মীয় ব্যাপার এ খোচাখুচি না করে এবং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যদি দেশ বিরোধিদের বিরুদ্ধে সচেতন এবং শক্ত অবস্থান নেয়া যায় তাহলে হয়ত আমরা একদিন এই রাহুর হাত থেকে মুক্তি পাবো।
মূর্তলা রামাত কে ধন্যবাদ বিষয়টি সবার সামনে তুলে আনার
আসলেই আমরা সবাই রবিদের গালি দেই
কিন্তু কেউ ঘেটে দেখিনা কেনো রবিরা জামাত শিবিরে যোগ দেয়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।