ক.
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, মিটিং, মিছিল, শ্লোগান, টিয়ার গ্যাস, বুটের লাথি আমাকে এক লাফে কৈশোর ছাড়া করেছিলো। কৈশোরের স্বাদ পেতে পেতেই তরুণ হয়ে গেলাম। একটা মস্ত আন্দোলন বাড়িয়ে দিলো বয়স।
আর সেই হুট করে পাওয়া তারুণ্যে পেলাম রুদ্রকে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। প্রিয়তম কবিকে।
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিত্কার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ-দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
এই দিয়ে শুরু। গায়ে কাঁটা দিয়ে শুরু। তারপর কতো না রাত্রিদিন বুভুক্ষের মতো গিলেছি তারে। চেটেপুটে খেয়েছি। খেয়ে চলেছি। শেষ হয়নি আজো সেই ভোজ। যে ছেলে ক্লাস টেনে থাকতে কবিতার শিরোনাম দিতে পারে "আমি ঈশ্বর আমি শয়তান"... সে গুরু না তো কী?
এই নিস্তেজ হয়ে আসা রক্ত এখনো গরম হয়ে যায় রুদ্রর কবিতা পড়লে। আজ ২১ জুন, কবির মৃত্যুদিন। ১৭ তম। ১৯৯১ সালের এই দিনে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি মারা গেছিলেন।
খ.
জন্মেছিলেন জীবনানন্দের দেশে, বরিশালে। ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। বেড়ে ওঠা খুলনার মংলায় মিঠেখালি গ্রামে। (সুন্দরবনের কাছাকাছি থাকলেও সবাই বাঘ হয় না, কিন্তু রুদ্র বাঘের চেয়ে শক্তিমান ছিলেন)।
তাঁর সঙ্গে আমার একটা মিল আছে। তিনিও ঢাকা কলেজ থেকে পাশ করেছেন, আমিও। (যদিও তিনি যেবছর পাশ করছেন অর্থাৎ ১৯৭৫, সেবছর মোটে আমি জন্মাইলাম) তিনিও দ্বিতীয় বিভাগে, আমিও। তিনি দুই বছরে ১৮টা ক্লাস করেছিলেন। আমি বোধহয় এখানে একটু পিছিয়ে, ১৮টা ক্লাসও করিনি মনে হয়। (শুধু শুধু কি আর প্রিন্সিপালের চিঠি যায় বাপের কাছে?)
আরো একটা মিল আছে। তিনিও ক্লাস টেন-এ থাকতে সংকলন সম্পাদনা করেন, আমিও
তিনি আর আমি দেহে একই উচ্চতার- সাড়ে ৫ ফুট
আর সবচেয়ে বড় অমিলটা হইলো, তিনি এক অমানবিক কবি, আর আমি এক অধম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। ডাকসুর ইলেকশনে দাঁড়ায়া হারছেন আপন বন্ধুর কাছে। আর করছেন সংগঠন। লিস্ট দিলে পাতা ভরে যাবে। অসংখ্য। বাউণ্ডুলেমির চূড়ান্ত। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার। আন্দোলনের খাতিরেই গড়ে তোলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। কবি এরশাদ আর তার ভাড়াটে কবিরা বাহাদুরি দেখাতে ঢাকায় যখন করেন এশীয় কবিতা উত্সব করে, বিপরীতে রুদ্র খাড়িয়ে যান "জাতীয় কবিতা উত্সব" নিয়ে। ৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত দেশে কোনো আন্দোলন নাই যাতে রুদ্রর সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো না।
কবিতা, গল্প, কাব্যনাট্য, প্রবন্ধ, গান সবখানেই রুদ্র। "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"র মতো অসম্ভব সুন্দর আর জনপ্রিয় গান লিখেছেন। গানের দল গড়েছেন "অন্তর বাজাও" নামে। শেষ জীবনে ফিল্ম বানাতে চেয়েছিলেন। মৃত্যু ঠেকিয়ে দিলো।
ভীষণ এক খামখেয়ালীর জীবন ছিলো তাঁর। পারিবারিক স্বচ্ছলতা ছিলো, সেপথে যাননি। চাকরির প্রাতিষ্ঠানিকতায় বাঁধেননি নিজেকে। কয়েকটা রিক্সা ছিলো, তা থেকে আয় হতো, তাতেই চলতেন। ঠিকাদারী করেছেন, চিঙড়ির খামার করেছেন। আর দুহাতে টাকা উড়িয়েছেন। পাঞ্জাবী আর জিন্সের যুগলবন্দী তখন বোধহয় তিনি একাই ছিলেন। পরে জেমস যেটা জনপ্রিয় করেন। ঋত্বিকের মতোই ছিলো তার মদ্যপ্রীতি। প্রতিসন্ধ্যায় হাটখোলার নন্দের দোকানে হাজিরা দিতেই হতো। জল বিনা তার যে চলে না। হুইস্কির বাংলাকরণ করেছিলেন "সোনালী শিশির" (এই নামে একটা গল্পও লিখেছিলেন)
শেষদিকে ইসলাম ত্যাগ করে মানবধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন কাগজে কলমে। উকিলের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু ঐ যে মৃত্যু এলো!
গ.
কবিতা আর বিদ্রোহ ছিলো রক্তে। ৭৯ সালে বের হয় প্রথম বই "উপদ্রুত উপকূলে" প্রথম বইতেই "বাতাসে লাশের গন্ধ" লিখে সব মনোযোগ, পাঠক আর কবিশত্রু কেড়ে নেন। বলেন- "আমি কবি নই- শব্দশ্রমিক/শব্দের লাল হাতুড়ি পেটাই ভুল বোধে ভুল চেতনায়।"
দ্বিতীয় বই "ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম"। তারপর একে একে "মানুষের মানচিত্র" (৮৪), "ছোবল" (৮৬), "গল্প" (৮৭), "দিয়েছিলে সকল আকাশ" (৮৮), "মৌলিক মুখোশ" (৯০)। ৭টি কবিতার বই। আর মৃত্যুর পর বের হয় নাট্যকাব্য "বিষ বিরিক্ষের বীজ"।
জীবন নিয়ে রুদ্র যতো হেলাফেলাই করুক, কবিতা নিয়ে কখনো করেননি। কবিতায় তিনি সুস্থ ছিলেন, নিষ্ঠ ছিলেন, স্বপ্নময় ছিলেন। (এটা আমার কথা না, তসলিমার)
রুদ্রকে অনেকে ৭০ দশকের কবি বলেন। খুব অশ্লীল লাগে শুনতে। সব বাঁধা ছিঁড়ে যে কবি বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর কাঁধে কেন দশকের জোয়াল?
কবিতা কেবল না, কোথাওই ভণ্ডামি এবং ভণ্ডদের পছন্দ করতেন না। তাই নব্বই'র পরে যখন কবিরা সব দলে দলে বিভিন্ন ঝাণ্ডার তলে আশ্রয় নিতে লাগলেন। তখন রুদ্র একা হয়ে গেলেন। প্রতিবাদে অনেকের অপ্রিয় হয়ে গেলেন। অবশ্য মৃত্যুর পর দেখা গেছে তারাই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ রুদ্রর বন্ধুত্ব প্রচারে।
শেষদিকে খুব নিঃসঙ্গ হয়ে গেছিলেন। এই ব্রম্মান্ডের ভেতর একটি বিন্দুর মতো একা।
নীলক্ষেতে কবি অসীম সাহার ইত্যাদি প্রেসে একটা চেয়ার বরাদ্দ ছিলো। সেখানেই বসতেন। আড্ডা হতো। নতুন কাগজের স্বপ্ন দেখতেন।
ঘ.
অনেক ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন লীমা নাসরিনকে। পরে যিনি তসলিমা নাসরিন নামে খ্যাতি পান। সে বিয়ে টেকেনি। অবশ্য ৯০'র শেষদিকে তসলিমার সঙ্গে আবার প্রেম শুরু হয়েছিলো। কিন্তু সেটা ছিলো তসলিমার দ্বিতীয় বিবাহ থেকে তৃতীয় বিবাহে উত্তরণের মধ্য সময়ে। ফলে সে প্রেমও টিকলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্যামা তরুণীর সঙ্গে প্রেম হলো। কিন্তু নায়িকার অভিভাবক রাজী না। সে সম্পর্কও চুকে বুকে গেলো। সেই থেকে রুদ্র আরো বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে লাগলেন। ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যেতে লাগলেন। ক্ষয়ে যেতে লাগলেন।
(একটা বিষয়ে খুব রাগ হয়। এখন অনেকে রুদ্রকে তসলিমার সাবেক স্বামী হিসেবে চেনে। আজ ছবি খুঁজতে গুগলাইলাম রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লহ নামে, আসে দেখি তসলিমার ছবি। রুদ্রর কোনো ছবি নাই।
প্লিজ, রুদ্রকে চিনতে হলে রুদ্র পড়ে চিনুন। তসলিমা পড়ে রুদ্রকে চেনার চেষ্টা না করাই উচিত)
আলসার হয়েছিলো। পায়ের আঙ্গুলে রোগ ধরেছিলো। ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি পা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তারপর একদিন হলি ফ্যামিলির ২৩১ নম্বর কেবিনে। ৯১ সালের ২০ জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরেও গেলেন। কিন্তু ২১ জুন ভোরে দাঁত ব্রাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঙ.
বাংলা ভাষায় রুদ্র এক অসামান্য কবি। প্রেমে আর দ্রোহে, সবখানে। স্বাধীনতা পরবর্তী কবিদের মধ্যে রুদ্রর চেয়ে শক্তিমান কেউ নাই (নিজস্ব বিবেচনা)।
বেশি কথা না বলে দুচারটে কবিতা দাখিল করি-
সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তিনিই তো বলেন- "দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?"
কিংবা বলেন- "তোমার বুলেট মানুষের বুক লক্ষ্য কোরে ছুটে যাচ্ছে/ তোমার বুলেট মানুষের মাথার খুলি উড়িয়ে দিচ্ছে"
আর নিজেকে বলেন- "ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই"
নাহ্, এভাবে না বলে স্রেফ কবিতাংশই তুলে দেই-
১)
শ্লোগানে কাঁপুক বিশ্ব, চলো, আমরা এগিয়ে যাই
প্রথমে পোড়াই চলো অন্তর্গত ভীরুতার পাপ,
বাড়তি মেদের মতো বিশ্বাসের দ্বিধা ও জড়তা।
সহস্র বর্ষের গ্লানি, পরাধীন স্নায়ুতন্ত্রীগুলো,
যুক্তির আঘাতে চলো মুক্ত করি চেতনার জট (মিছিল)
২)
দশজনে পোড়ে আর একজন খোয়ারের বেহেস্ত বানায়,
এই যদি বিচার বিধান তয় মানি না, মানি না-
৩)
হাত বাড়ালেই ফুটে থাকা রক্তিম গোলাপ-
তবু যে যার কাঁটার কাছে ফিরে যায় একদিন.
একদিন যে যার নিঃসঙ্গতার কাছে।
৪)
অভিমানি মন চন্দ্রে না পাক,
জোত্স্নায় পাক সামান্য ঠাঁই।
৫)
এতো ক্ষয়, এতো ভুল জমে ওঠে বুকের বুননে,
এই আঁখি জানে, পাখিরাও জানে কতোটা ক্ষরণ
কতোটা দ্বিধায় সন্ত্রাসে ফুল ফোটে না শাখায়।
(অভিমানের খেয়া)
৬)
আমি জানি, সম্মিলিত মানুষের চেয়ে
কখনোই বেশি নয় অস্ত্রের ক্ষমতা।
......................
বুলেটের বিরুদ্ধে আমাকে আজ
হাতে তুলে নিতে দাও আগুন ও বারুদের ভাষা।
(আগুন ও বারুদের ভাষা)
৭)
এ কেমন ভ্রান্তি আমার!
এলে মনে হয় দূরে স'রে আছো, বহুদূরে,
.......................
চলে গেলে মনে হয় তুমি এসেছিলে,
চলে গেলে মনে হয় তুমি সমস্ত ভুবনে আছো।
(এ কেমন ভ্রান্তি আমার)
৮)
খাঁটি জিনিস চিনতে তোমার ভুল হয়ে যায়,
খুঁজে এবার পেয়েছো ঠিক দিক ঠিকানা।
লক্ষ্মীসোনা, এখন তুমি বিড়াল এবং কুকুর পোষো।
(সামঞ্জস্য)
৯)
শেষ চুম্বন দিয়েছি তোমার ঠোঁটে,
আর দ্বিধা নয়, এবার ফেরাবো মুখ।
(বেয়াড়া শোকের চুল)
১০)
হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে যায় প্রেমে,
অথচ আমার ব্যাপক বিরহভূমি।
ছুটে যেতে চাই-পথ যায় পায়ে থেমে,
ঢেকে দাও চোখ আঙুলের নখে তুমি।
(অবদমনের ডালপালা)
১১)
এইসব মৃত্যু থেকে শুরু হয় আমাদের সূর্যময় পথ,
এই ফাঁসির মঞ্চ থেকেই আমাদের শুরু।
(ফাঁসির মঞ্চ থেকে)
১২)
অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই,
কিছুটা শরীর কিছুটা মাংস মাধবীও চাই।
এতোটা গ্রহন এতো প্রশংসা প্রয়োজন নেই
কিছুটা আঘাত অবহেলা চাই প্রত্যাখ্যান।
(অবেলায় শঙ্খধ্বনি)
১৩)
মৃত্যুকে থামাও, বলো-আয় পাখি, আয় মুখরতা,
একবার ডেকে ওঠ এই কালো নির্মম সকালে।
লোকালয় গান হোক-জনপদ, নিসর্গ জানুক
এখনো পাখিরা আছে, গান আছে জীবনের ভোরে।
(নিঃশব্দ থামাও)
১৪)
এবার কবিতাংশ না। এর পুরোটাই পড়তে হবে-
বাতাসে লাশের গন্ধ
......................................
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিত্কার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ-দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো,
জীর্ন জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ-যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা-একি তবে নষ্ট জন্ম?
এ-কি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন।
বাতাসে লাশের গন্ধ-
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দোলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ-
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়।
এ-চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুন চিত্কার,
নদীর পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ,
মুন্ডুহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বীভত্স শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে-আমি ঘুমুতে পারি না, আমি
ঘুমুতে পারি না...
রক্তের কাফনে মোড়া-কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে,
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সেই আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা- সে আমার স্বজন হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন,
স্বাধীনতা-সে আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ি ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।
ছবিসূত্র: রুদ্রর ফেইসবুক গ্রুপ
তথ্যসূত্র: জীবনী গ্রন্থমেলা, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (তপন বাগচী) বাংলা একাডেমী '৯৮
ব্লগ শিরোনাম: রুদ্রর কবিতা
মন্তব্য
অসাধারণ!
কবিতাটির জন্য কৃতজ্ঞতা। তুলে রাখলাম আমার খাতায়।
আহ
"এইসব মৃত্যু থেকে শুরু হয় আমাদের সূর্যময় পথ,
এই ফাঁসির মঞ্চ থেকেই আমাদের শুরু।
(ফাঁসির মঞ্চ থেকে)"
অপূর্ব !!!
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -
-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -
এই লেখাতে
দেয়ার জন্য লগাতে বাধ্য হলাম...
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যাক্তিগত ব্লগ | আমার ছবিঘর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যাক্তিগত ব্লগ | আমার ছবিঘর
নতুন সময়ের সেই ভোর ৬টায় ঘুম জেগে লিখতে বসেছি। সারাদিন অমানবিক লেখার তুমুলে ভাত খাওয়ার সময় পাইনি। গোসলহীন, লজ্জার কথা কি বলি, দাঁতও ব্রাশ করার সময় পাইনি সারাদিনে।
রাত আটটায় একটু দম নিলাম। একটু জিরিয়ে নেওয়া দরকার। খুব ক্লান্তি শরীরে। একটু খেলাম। কিন্তু জিরোতে গেলেই আর উঠতে পারবো না। তাই সেপথে গেলাম না। ভাবলাম ব্লগ লিখি। কী লিখবো? আজ বাবা দিবস। আব্বাকে নিয়ে লেখবো? ইচ্ছে হলো না। আব্বাকে নিয়ে এটাই একমাত্র লেখা। আর লিখতে চাই না।
তাহলে?
মনে পড়লো আজ প্রিয় কবি রুদ্রর মৃত্যুদিন। তাঁর চরণেই তুলে দেই অবসরটুকু।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
আপনারে গুরু মানলাম।
এই পোস্টটার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...
ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...
লেখাটা অসাধারণ, আপনার অন্যান্য লেখার মতই, আর রদ্রদাকে গুগুলে খুজলে তসলিমার ছবি আসা যেন কবি স্বত্তার প্রতি অপমান।
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী
রুদ্রের মতো কবিতা লিখতে পারার জন্য লাগে সাহস, লাগে নিষ্ঠা, লাগে মানুষের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা। মাঝে মাঝে রুদ্রের কবিতা পড়ি আজো। কি ভয়াবহ অপচয় করেছে সে জীবনের।
ভাল লাগল খুবই... রুদ্রকে আমি পছন্দ করিনা, কে জানে হয়ত তসলীমার জন্যেই, কিন্তু রুদ্রের অনেক কবিতাই বুক কাপিঁইয়ে দেয়...কবিতা ভালবাসলেইতো চলে তাই ওর অনেক কবিতাই তোলা আছে খাতায়...
**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।
মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।
অভিমানি মন চন্দ্রে না পাক,
জোত্স্নায় পাক সামান্য ঠাঁই।
আমিও দুষ্ট বালিকার দলে, আমি দুষ্ট
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা
*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়
তথ্য ও আবেগবহুল লেখা।
(সুন্দরবনের কাছাকাছি থাকলেও সবাই বাঘ হয় না, কিন্তু রুদ্র বাঘের চেয়ে শক্তিমান ছিলেন)।
প্লিজ, রুদ্রকে চিনতে হলে রুদ্র পড়ে চিনুন। তসলিমা পড়ে রুদ্রকে চেনার চেষ্টা না করাই উচিত
আমার অনেক প্রিয় কবি, তবে এতোকিছু জানতাম না আজ অনেক জেনেছি। অনেক সুন্দরভাবে গেঁথেছেন কথাগুলো নজরুল ভাই ।
আহা, প্রিয় কবি আমার। ফুলগুলো স্বল্পায়ু বুঝি, আর কাটাগুলো ঠিক টিকে যায় বাকলে বাকলে।
==============================
আমিও যদি মরে যেতে পারতাম
তাহলে আমাকে প্রতি মুহূর্তে মরে যেতে হত না।
আপনার কমেন্টটা খুব পছন্দ হইছে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
নজু ভাই,
শুধু একটা শব্দ আপনার জন্যে----- অসাধারণ---
এত চমৎকার লিখেছেন কী আর বলবো।
অসংখ্য ধন্যবাদ নজরুল।
সত্যি বলতে কী রুদ্র সম্পর্কে খুব বেশী কিছু জানি না। যতটুকু জেনেছি তাও তাসলিমার লেখা পড়ে। তাই হয়ত আমার জানাটা অনেকটাই একপেশে হবে, জানিনা। তারপরও আমার অনুভূতিটা লিখতে ইচ্ছে করছে।
যতটুকু জেনেছি তাতে মনে হয়েছে তিনি আরও অনেক বড় হতে পারতেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা আমাদের কবিতার জগতকে আরও সমৃদ্ধ করতো যদি একটু নিয়ন্ত্রিত, সুশৃংখল জীবন যাপন করতেন।
কি জানি আমার জানা বোঝায় ভুল আছে কিনা।
রুদ্রের কথা ভাবলেই তাই ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়। জীবনকে বড় হেলা ফেলায় শেষ করে দিলেন!
আজকাল রুদ্রের কথা মনে হলেই আমার এক বন্ধুর কথা মনে হয়।
ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি প্রায়ই।
এইটা আমি মানি না। রুদ্র যা তাই। সে নিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল হইলে হয়তো আরেকটা শামসুর রাহমান বা অন্য কিছু হইতো। রুদ্র হইতো না।
অনেকেরই অনেক বড় কিছু হবার ক্ষমতা থাকে। কিন্তু যে যতটুকু হয়, ততটুকুই সে। সেই বিচারেই তারে দেখা উচিত। আরেকটু ঠিকঠাক চললে সে নবী হইতে পারতো না।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
...........................
সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
আমি বোধ হয় ঠিক বোঝাতে পারিনি।
আমি রুদ্রকে অন্য কারো সাথে তুলনা করিনি বা করতে চাইও নি।
অবশ্যই তিনি তাঁর মতো।আমিও আপনার সাথে পুরোপুরি একমত।
একজন মানুষ নিজের মেধায় আর চেষ্টায় যতটুকু বড় হয় তাঁকে সে বিচারেই দেখা উচিত এবিষয়ে ও কোন দ্বিমত নেই।
কিন্তু যখন দেখি একজন মানুষ প্রচন্ড মেধা নিয়ে জন্মেছেন , তাঁর সৃষ্টিশীলতা পাঠককে মুগ্ধ করছে অথচ হঠাৎ বড্ড অসময়ে সব ছুঁড়ে ফেলে চলে যান তখন বড় আক্ষেপ হয় ।
সাধারন পাঠক হিসেবে এটুকুই বলতে চেয়েছি।
তারপরও আপনাকে বা কাউকে আমার মন্তব্য hurt করে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আরে ধুর, এইখানে হার্টাহার্টির কী হইলো? দুঃখ প্রকাশেরও কিছু নাই। আমিই হয়তো বুঝি নাই।
কিন্তু তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশের মতো সৌজন্যতা দেখাইতে পারুম না। আমি কি অতো ভদ্রলুখ?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
একেবারে আমার মনের কথা----
ত্রিশ লক্ষ তারা, শুধু এই কমেন্টের জন্যেই----
'যাক এতো দিনে তাসলিমা নাসরিন যে শাস্তি পাইছে তার একটা কারণ খুঁজে পাইলাম, মনে শান্তি হইল!'
এরকম অপয়া বেয়াদপের খপ্পরে পরেই যেন সূর্যটা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করার আগেই ডুবে গেল! ক্লাস টেনে থাকতে যে "আমি ঈশ্বর, আমি শয়তান" এর মত কথা বলতে পারে সে যে কি পরিমাণ গোঁয়ার হতে পারে তাঁর প্রতিটা অনুভূতিতে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
নজরুল ইসলাম ভাইকে ধন্যবাদ একালের শ্রেষ্ঠ গর্জনের সাথে আমাদের ঠিকমতো পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যে

আর আমি কিন্তু 'rudro' শব্দ দিয়ে গুগল করে তার কবিতা, কবিতার বইয়ের ছবি পেলাম
পোস্টটা অসাধারণ হইছে
নব্বুইয়ে আমি বাচ্চা পুলাপান, তবে তারে আমার মনে আছে। মনে আছে সে যেদিন মারা যায় সেদিনটার কথা, আর আগে-পরে বুইঝা বা না বুইঝা পড়া কিছু কবিতার কথা।
------------------------------
'..দ্রিমু য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'
-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'
অসাধারণ! আপনাকে তো চ্যাটেও বললাম। তাও এখানে বলে গেলাম।
কবিতার রাজনীতির শিকার ছিলেন রুদ্র । যারা তাকে অপমান , অপদস্থ করে কবিতা পরিষদ ইত্যাদি থেকে বের করে দিয়েছিল তারাই আজ রুদ্রমেলায় পৌরহিত্য করে । সত্যি সেলুকাস ! কি বিচিত্র এই দেশ !
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
অনেকদিন পর এমন ফাটাফাটি একটা লেখা পড়লাম আপনার থেকে নজু ভাই। খুব পছন্দ হইসে। উনার কবিতা আমার বেশ ভাল লাগে।
-------------------------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

আমিও সেই দলে যারা তসলিমার লেখা পড়ে রুদ্রকে জেনেছে। তসলিমার বর্ণনা কৌশলে রুদ্রকে কমিটমেন্টহীন-আস্থাহীন বলেই মনে হয়েছে। অবশ্য এ কথাও শুনেছি যে রুদ্রর কারণেই তসলিমা একটা জায়গা পেয়েছিল লেখালেখির জগতে।
নজরুল ভাইয়ের কাছ থেকে আগামীতে আরও লেখা চাই, নির্মোহ ফ্যাক্ট ও বিশ্লেষণ চাই। ধন্যবাদ ।
কিছু কিছু লেখা বিশেষায়িত করতে যাওয়া অহেতুক সময় নষ্ট।
পোস্ট আর কবিতাগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ , নজু ভাই ।
---------------------------------
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস্ পাটুস্ চাও?!
---------------------------------
বাঁইচ্যা আছি
দুর্দান্ত হয়েছে লেখাটা !
আমাদের কবিতা লেখার উঠতি সময়টাতে রুদ্র তখন আমাদের ক্রেজ। সে সময়ে অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আর কিছু যে হওয়া হয় নি, তাও বোধ করি রুদ্রের কারণে।
তারপর আমি আর কিছু হতে পারি নি
কেবল কবিতাকে ভালোবেসে...
তবু একটা কবিতাও লেখা হয় নি মনের মতো করে !
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
রুদ্রর তুলনা শুধু রুদ্রই
নজরুল ভাইকে ধন্যবাদ
তবে অন্তত আরো কিছু পূর্ণ কবিতা দেয়া যেতো
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস
এমনিতেই পোস্ট এতো লম্বা হয়ে গেছে... আর সাহস পাই নাই... আমি তো আরো কিছু কবিতাংশ বাদ দিলাম আরো... রুদ্র তো পুরাটা তুলে দিতে ইচ্ছা করে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
"অমানবিক কবি"টাকে (আমারও খুব প্রিয়) আর এই "এক অধম" ব্লগার-টাকে- দু'জনকেই আমূল তুমুল শ্রদ্ধা।
আরো একটা মিল প্রোভাইড করলাম আর কি উনার সাথে আপনার।
খুব লিখেছেন নজরুল ভাই। আপনার এই টাইপ লেখাগুলা অনেক কমপেলিং হয়, নিজেকে আরো ছোট আরো নিজবদ্ধ লাগে!
["বাতাসে লাশের গন্ধ" আমি যে নিজে নিজে আর মানুষের সামনে কয়বার আবৃত্তি করেছি- তার কোনো সীমা-পরিসীমা হিসাব করতে পারবো না।
আর, আমার অন্যতম অলটাইম ফেভারিট-
"হোক ভুল,
হোক মিথ্যে প্রবোধ,
অভিলাষী মন-
চন্দ্রে না পাক,
জোছনায় পাক সামান্য ঠাঁই।
কিছুটা তো চাই, কিছুটা তো চাই!"
এরেই কয় রুদ্র! রৌদ্রের চেয়েও কী ভীষণ প্রগাঢ়!]
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
ঠিকাছে... নেক্সট্টাইম দেখা হইলে আপনের জন্য এইটা আবৃত্তি বাধ্যতামূলক
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
জানেন নজরুল ভাই, রুদ্রকে আমিও চিনেছি লীমা নাসরিনের কারণেই। তার একটা কবিতার [[রুদ্রকে লেখা চিঠি খুব সম্ভবত]] আবৃত্তি শুনে। ভালো আছি ভালো থেকো, আমার অসম্ভব প্রিয় একটা গান।
ছোটবেলায় এই গান শুনে আমি ভাবতাম, এই গানটা কেউ লিখে নাই। এইটা গান হয়েই পৃথিবীতে নেমে আসছে। এইটা কোন মানুষের সৃষ্টি করা না। এই ধারণাটা মনের এককোনায় সযতনে পড়ে ছিল। তারপর যখন কবিতাটা শুনলাম, তখন আমি বাকহারা। এইটা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামে একজনের লেখা। একটা মানুষ এতো সুন্দর একটা গান লিখলো কীভাবে। মনটা আরও খারাপ হলো, মানুষটার অকাল মৃত্যুর কথা শুনে।
গতবছর তার জন্মদিনে খুব ইচ্ছে করছিল রুদ্র'র উদ্দেশ্যে আকাশের ঠিকানায় একটা চিঠি লিখি। তাকে ঘিরে ধরা আবেগটা তাকে জানাই। তা আর হলো কই।
দারুন লিখছেন নজু ভাই। সুপার। আমি রুদ্র'র কবিতা খুব বেশি পড়ি নাই। আজ আপনার কারণে কিছু পড়া হলো। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বস।
অফটপিকঃ এতো সুন্দর একটা লেখা। অথচ ইমো ব্যবহার করে লেখাটার সোন্দর্য ম্লান করে দিলেন বস?
ইমো একটা প্রকাশভঙ্গি... অনেক না বলা কথা বলে দেয়... লেখায় যখন ইমো ব্যবহার করা যেতো না, তখন শুধু লেখাই ছিলো। সেটা কেবলই টেক্সট... কিন্তু ব্লগ বা অধুনা ব্যবস্থা লেখার বাইরেও অনুভূতি প্রকাশের ব্যবস্থা রেখেছে। এটাকে আমি দূর্বলতা তো ভাবিই না। বরঞ্চ শক্তি ভাবি। টেক্টট যদি শক্তিশালী হয় তাইলে তো হইছেই। সঙ্গে ইমো থাকলে এইটা বোনাস... যোগ করে... বিয়োগ করে না কিছু...
এইটা আমি মনে করি...
সমস্যা কই? জানাইলে নেক্সট্টাইম সতর্ক থাকুম
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, এই নামটাই তো সব বলে দেয়। তসলিমাকে পড়েই কেনো তাঁকে জানতে হবে! তিনি তো নিজেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
'৯২ থেকে ২০০০- আমার নিজস্ব কক্ষে রুদ্র'র বিশাল একটা পোষ্টার ছিলো, আর মগজে ছিলো তার কবিতার লাইনগুলো।
সেই কক্ষ নেই, পোষ্টার টা ও নেই- কবিতার লাইনগুলো আছে কিন্ত।
'অভিমান ভালোবেসে তোমায় ভুলতে গিয়ে তোমাকেই করেছি নির্মান'
'আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ,
নীরবে ফিরে যাওয়া অভিমান ভেজা চোখ
আমাকে গ্রহন করো'
'আমার সাফল্যের সাথে বিশ্ব জুড়ে আছে
ব্যর্থরাতের গ্লানির সাথে তুমি
তোমার প্রিয় ছায়ার তলে ক্লান্তিটুকু রাখি
রাখি আমার বিষন্নতাগুলো......'
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
আহা... রুদ্র আমার চে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
এই পোস্টটা সময় মতোই পড়া হয়েছিলো । কিন্তু মন্তব্য করতে এসে দেখি অনেক পিছিয়ে আছি । বলা হয়ে গেছে অনেক কথাই । রুদ্র'র মৃত্যুদিনটা আপনার বদৌলতেই জানা হলো বস । ধন্যবাদ । না হয় মনেই পড়তো না এই পোড়াদেশে এক কবি ছিলো- '...এখন আমি যুদ্ধ বুঝি/মৃত্যু বুঝি না...'বলে জানিয়ে,কাঁপিয়ে, আলোড়ন তুলে পাশে ছিলো । সামনে ছিলো । আমৃত্যু ।
কবি হিসেবে রুদ্র প্রিয় ছিলেন না কখনোই আমার। {(আবৃত্তি-উপযোগী অনেক কবিতা আছে হয়তো তাঁর । কিন্তু যে অর্থে অগ্রজ কবিদের শক্তি প্রসারিত থাকে উত্তর প্রজন্মে, সে অর্থে রুদ্র অতোটা প্রভাবশালী নয় হয়তো তার পরের সময়ে) এটা একান্তই আমার মত }
কিন্তু অই যে বললেন, ' ৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত দেশে কোনো আন্দোলন নাই যাতে রুদ্রর সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো না। ' তার জন্যই তিনি আমার চীরনমস্য ।
---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !
---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !
দুর্দান্ত!
হোক ভুল,
হোক মিথ্যে প্রবোধ,
অভিলাষী মন-
চন্দ্রে না পাক,
জোছনায় পাক সামান্য ঠাঁই।
আমার প্রিয় লাইন গুলোর মধ্যে একটা। আর কয়েকটি কবিতার জন্য এখানে দেখতে পারেন।
ধন্যবাদ রুদ্র কে নিয়ে লেখার জন্য ।
এক বছর পরে পড়লাম। তাই মনে হল অনেক দেরী হয়ে গেছে। তবু বেশী দেরী হয়নি। আগুন হয় সবকিছু জ্বালিয়ে নইলে নিভে যায়। রুদ্র তেমনি। বেঁচে থাকার কালটুকু জ্বলেছেন, সবকিচছু চ ছাপিয়ে। আর মৃত্যুর পর দগ্ধ করেছেন কিছু মন, মৃত্যু অকালে এলো বলে।.
--------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]
-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
এই ব্লগটা কেন আগে পড়িনি ???
কিছুই বলার নাই। শুধু লাল সেলাম।

ডাকঘর | ছবিঘর
অসাধারণ লেখা । পড়ে খুব ভালো লাগল ।
নতুন মন্তব্য করুন