প্রচারমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদারের মৃত্যু হয়েছে [লিঙ্ক], কিন্তু বাংলার ইতিহাসচর্চায়, আলোকচিত্রের ইতিহাসচর্চায় রশীদ তালুকদারের মৃত্যু কখনোই হবে না। অসম্ভব।
হাজার বছর পরেও ৬৯ এর গণআন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হলে রশীদ তালুকদারকে জানতে হবে। একটি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময়টিকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ধারণ করেছেন ক্যামেরায়। একটি ছোট্ট শিশুর শ্লোগানমুখর মুষ্টিবদ্ধ উচ্চকিত একটি হাত কীভাবে সারাদেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারে, কীভাবে গোটা দেশের মনোভাব উঠে আসতে পারে একটি ছবিতে, তা তিনি দেখিয়ে গেছেন।
মু্ক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে মৃত্যুর পরোয়া না করে ছবি তুলে গেছেন। গেরিলা যোদ্ধাদের অবাধ চলাফেরার সুবিধার জন্য হাজার হাজার আইডি কার্ড বানিয়ে দিয়েছেন গোপনে। রচনা করেছেন ইতিহাস। ১৯৬৫ সাল থেকেস ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চিত্রগুলো তিনি ধারণ করেছেন ক্যামেরায়।
যথারীতি আমরা তাঁকে এর জন্য কোনো সম্মান জানাতে পারিনি। রাষ্ট্রও অপারগ, যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদক দেওয়া তবু চলে, কিন্তু রশীদ তালুকদারকে না। অবশ্য নিজেই তিনি বলে গেছেন "আমি পুরস্কারের আশা করি না। কারণ এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা রাষ্ট্রী পুরষ্কার পায়, তাই আমি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার চাই না।"
মুক্তিযুদ্ধের অনেক সাহসী সৈনিককে যখন দেখি সামান্য কিছু সুবিধার বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়ে দেয়, যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে হাত মেলায়, তখন রশীদ তালুকদারকেই তাই মনে হয় সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা।
শ্রদ্ধেয় রশীদ তালুকদার, আপনি যে দীর্ঘ জীবন ব্যয় করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণে... তজ্জন্য আপনাকে আমার এবং আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
আপনার মৃত্যু নেই, বাংলার ইতিহাসের পাতায় পাতায় আপনি বেঁচে থাকবেন।
রশীদ তালুকদার সম্পর্কে আরো জানতে এখানে পড়ুন
ফটোগ্রাফার হয়ে ওঠার গল্প, জীবনের গল্প বলেছেন নিজেই... [লিঙ্ক]
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, এই দিনটি নিয়েও নিজেই লিখেছেন: এখানে
ফটোগ্যালারি
রশীদ তালুকদারের অসংখ্য ছবির মধ্য থেকে কিছু ছবি নমুনা হিসেবে দেওয়া গেলো
আন্দোলন ৬৫ সালে
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
৬৯ এর হরতালে ঢাকার জিন্নাহ এভিনিউ [বর্তমান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ]
আইয়ুব খানের কুশপুত্তলিকা দাহ, ১৯৬৯
৬৯ এর গণআন্দোলন, তেজগায় রেললাইন উপড়ে ফেলেছে জনতা
এবং সেই অমর ছবি
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর বঙ্গবন্ধুকে দেখতে ৩২ নম্বরে জনতার ঢল
১৮ ডিসেম্বর ১৯৭০, পল্টনে জামাত ইসলামীর মিটিংয়ে আগুন লাগালো ছাত্র জনতা
বাংলার নারীদের যুদ্ধের মহড়া [১৯৭০]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যুদ্ধের মহড়া [১৯৭০]
ঢাকায় ওমেন্স ভলান্টিয়ার্স লীগের মার্চ পাস্ট [১৯৭১]
৯ জানুয়ারি ১৯৭১, মওলানা ভাষানীর জনসভা
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
১ মার্চ ১৯৭১, ইয়াহিয়া এসেম্বলি বাতিল ঘোষণার পর ঢাকার চারু ও কারুশিল্পী সংগ্রাম পরিষদের মিছিল... বড় করে 'স্বাধীনতা' শব্দটি উল্লেখযোগ্য
মুজিব ভুট্টোর মিটিং [১৯৭১]
মুজিব ভুট্টোর মিটিং [১৯৭১], ভুট্টোর এই হাসির আড়ালেই চলছিলো বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্র
ইয়াহিয়া ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ৩২ নম্বরে সাংবাদিক সম্মেলন, ৩ মার্চ ১৯৭১
শহীদ মিনার পাদদেশে মশাল জ্বেলে দেশরক্ষার শপথ
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ
৭ মার্চের ভাষণ
বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা জড়ো হলেন আউটার স্টেডিয়ামে [মার্চ ৭১]
ভুট্টোর সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন
২৭ মার্চ ১৯৭১, ঢাকার রাস্তায় পাকার্মি... যখন ১ ঘন্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলো
পাকার্মির হত্যাযজ্ঞ
শরণার্থী
ডিসেম্বর ১৯৭১, কারওয়ান বাজারে পাকার্মির বোমাবর্ষন
গভর্নর হাউজে পাকিচাটা মালেক মন্ত্রীসভার বৈঠক ভারতীয় বোমাবর্ষণে লণ্ডভণ্ড
রায়ের বাজার
ডঃ ফজলে রাব্বীর মৃতদেহ পড়ে আছে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে
রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে
রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে
রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে
নিজামী মুজাহিদদের নৃশংসতা, আল বদর বাহিনী রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে হত্যা করে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের
মুক্তিবাহিনীর ঢাকায় প্রবেশ
ভারতীয় সৈন্যরা ঢাকায় ঢুকছে
ভারতীয় ট্যাঙ্ক ঢাকায় ঢুকলো, জনগনের উল্লাস
ডিআইটির সামনে পড়ে আছে পাকার্মির লাশ
মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় উদযাপন
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১, ঢাকা স্টেডিয়ামে কাদেরীয়া বাহিনী
কাদেরীয়া বাহিনী কর্তৃক রাজাকারবধ [ঢাকা স্টেডিয়াম, ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১]
ধর রাজাকার মার রাজাকার [১৯৭১]
২৮ ডিসেম্বর ১৯৭১, মুজিবনগর সরকারের প্রথম সংবাদ সম্মেলন
স্বাধীন বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন, ১৯৭২
নেতা ফিরলেন
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের দেখতে বঙ্গবন্ধু গেলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রসমর্পন
বঙ্গবন্ধুকে ফটোগ্রাফি শেখাচ্ছেন রশীদ তালুকদার
ক্যাপসন: একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন দেশের পতাকা হাতে ঢাকার রাজপথে বীর মুক্তিযোদ্ধারা
ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে
১৯৮১, স্বজন হারানোর ছয় বছর পর শেখ হাসিনার দেশে ফেরা []
স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন ১৯৮৭ সালে
মন্তব্য
তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।
এই লেখাটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম - ধন্যবাদ আপনাকে।
এই দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পায়, উনি সেই থুতু-মাখা পদক চাননি। স্যালুট আপনাকে, আপনি বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে...বিদায়।
________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
ওল্ড ফটো আর্কাইভ নামে একটা ফেসবুক গ্রপ আছে। এই ছবিগুলো একটু আগে সেখানে দেখছিলাম। দারুন কাজের গ্রুপ। বাংলার গত দুই শতকের ইতিহাস তারা ছবি করে রেখে দিয়েছে। ৬৯ এর নাম না জানা শহীদ শিশুটার ছবিটা ডাইনলোড করে আজকে ফেসবুকের প্রফাইল পিকচার হিসেবে দিয়েছি। রশিদ তালুকদারের ছবি আরো বহু প্রজন্মের কাছে আমাদের স্বাধিনতার সংগ্রামের আর যুদ্ধের ইতিহাস বলে দেবে।
আমরা তোমাদের ভূলবো না।
ছবি গুলো দেখলে গায়ে কাঁটা দেয় রীতিমতো
একে একে নিভিছে দেউটি। এক অচেনা হয়ে যাওয়া অতীতের সাথে আরেক যোগসূত্র রশীদ তালুকদারও চলে গেলেন।
ছবিগুলি একে একে দেখছিলাম। বধ্যভূমির ছবিগুলি বাদে অন্যগুলি দেখে মনে হচ্ছিল একটা পঁচে যাওয়া আর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভেজাল আর ফেইক সমাজের এক সৎ, সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা একটা অনেক সরল-খাঁটি-আদর্শবাদী-প্রাণতপ্ত সংগ্রামী অতীতের, কিন্তু অধুনা প্রায় মীথে পরিণত হওয়া ছবি দেখছি।
****************************************
শ্রদ্ধা জানিয়ে গেলাম।
...........................
Every Picture Tells a Story
-মেফিস্টো
স্বাধীনতাবিরোধীদের দেয়া রাষ্ট্রীয় পদকগুলি কি কোনো আদেশ দিয়ে প্রত্যাহার করা যায় না?
করা উচিত...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
হ করা উচিত । সচলে শোহেইল মতাহির চৌধুরী ভাইয়ের পোস্টঃ দেশবিরোধীদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহার করা হোক
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
লেখা আর ছবি সব মিলিয়ে অসাধারণ।
অসাধারণ ছবিগুলোর জন্য পোস্টটা প্রিয়তে নিলাম।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
পরবর্তী প্রজন্ম তাকে আজীবন মনে রাখবে তার কাজের মাধ্যমে।
ছবি গুলো এতোবার দেখেছি ইনিই যে সেই কীর্তিমান তা আগে জানতাম না।কালকে জেনেছি।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে গেলাম।
ধন্যবাদ নজরুল ভাই ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
ধন্যবাদ, নজরুল সাহেব। আপনার লেখা ও ছবিগুলোর মধ্যে নিজেকেই খুঁজে পেলাম।
প্রৌঢ়ভাবনা
ভাল থাকবেন,রশীদ তালুকদার।
আমাদের সব ব্যর্থতা,সব গ্লানি ক্ষমা করে ভাল থাকবেন আপনি।
ভাল থাকবেন , রশীদ তালুকদার।
আমাদের সব ব্যর্থতা , সব গ্লানি ক্ষমা করে ভাল থাকবেন আপনি।
শ্রদ্ধা
শ্রদ্ধা
নজরুল ইসলাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জানতামওনা যে ছবিগুলো রশীদ তালুকদারের তোলা। রায়েরবাজারের ছবিগুলো দেখে চোখ ভরে গেলো জলে...!
ধন্যবাদ নজরুল ভাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ এই পোষ্টটার জন্য। ছবিগুলো দেখতে দেখতে গা শিউরে উঠে চোখে পানি চলে এল আবার।
আচ্ছা, এই ছবিগুলো শর্মিলা বোস নামের ওই মহিলাকে দেখানো যায়না ?
----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি
রায়েরবাজার বধ্যভূমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সেখানে শর্মিলাকে স্রেফ হাত পা চোখ মুখ বেঁধে তিনঘন্টা ফেলে রাখা হোক... তারপর ছেড়ে দেওয়া হোক...
তাতেও যদি বোধোদয় না হয় তখন ভিন্ন ব্যবস্থা
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।
চোখের সামনে তুলে আনার জন্য ধন্যবাদ নজরুল ভাই
------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !
অনেক ধন্যবাদ জানবেন।
ইদানীং পৃথিবী অনুভব করে, একটা সূর্যে চলছেনা আর
এতো পাপ, অন্ধকার
ডজনখানেক সূর্য দরকার।
খুব ভালো লাগল আপনার লেখাটা,আর ছবিগুলো ও খুব ভালো আপলোড করেছেন... সাধুবাদ প্রাপ্য!
সালাম,
যান, দেখা হবে, ভাল থাকবেন।
অতীত
বিনম্র শ্রদ্ধা!
ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখে পানি চলে আসছিল...!
১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল নিয়ে তার লেখার লিঙ্কে কিছুই পাচ্ছি না ? কাহিনী কি ?
১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ নিয়ে তার লেখা ছিল কি ? আপনার লিঙ্কেও পাচ্ছি না?
তার আদর্শে আলোকিত পথেই আমাদের এগোতে হবে।
facebook
সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাথে রশীদ তালুকদারের সম্পর্কটা সবসময়ই অন্যরকম ছিলো। সেই ৯০-৯২ সালের দিকে রশীদ তালুকদার এবং আফতাব আহমেদকে সংবর্ধনা দেয়া হয় সিলেটে। সেই থেকেই বলতে গেলে তিনি সোসাইটির খুব কাছের লোক ছিলেন। সিলেটের কারো সাথে কোথাও দেখা হলেই আমাদের সোসাইটির কথা জিজ্ঞেস করতেন।
তারও আগে রশীদ তালুকদার এবং আফতাব আহমেদের যুদ্ধকালীন সব বিখ্যাত ছবিগুলো নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে প্রদর্শনী করে বেড়িয়েছে সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।
অডিও ভিজুয়্যাল আরেকটা প্রেজেন্টেশন ছিলো যেটাতে নেপথ্য থেকে যুদ্ধকালীন সময়ের সেইসব ভয়াবহ মূহুর্তের খুব আবেগঘন বর্ণনা চলতো আর স্লাইডে রশীদ তালুকদার আর আফতাব আহমেদের সেই ছবিগুলো পর্যায়ক্রমে চলতে থাকতো। অবধারিতভাবেই এই প্রেজেন্টেশনগুলো যখন শেষ হতো তখন সবাইকে আড়ালে অশ্রুবিসর্জন করতে দেখা যেত।
তাঁর ছবিগুলোই প্রমাণ করে করে তিনি কতটুকু মাটির কাছাকাছি ছিলেন। আজকে সকাল থেকেই ভাবছিলাম আপনার লেখায় একটা মন্তব্য করবো। কিন্তু আমি আসলেই ভেবে পাচ্ছিলাম না কী লিখব। হৃদয়ের খুব কাছাকাছি যাঁরা থাকেন তাদের নিয়ে আসলে খুব বেশি কিছু বলা কিংবা লেখা যায় না।
লেখাটার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ নজরুল ভাই।
অসাধারণ মানুষটিকে নিয়ে আপনার লেখাটাও অসাধারণ!
ছবিগুলো দেখে কান্না আটকানো গেল না। এরকম History-maker জিনিয়াস মানুষটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন না, কতবড় লজ্জা! কতবড় ব্যর্থতা আমাদের। ছিঃ
“Peace comes from within. Do not seek it without.” - Gautama Buddha
বঙ্গবন্ধু আর ১০৭১ নিয়ে বেশ একটা মোটা বই আছে আমার সংগ্রহে। সেখানকার অসংখ্য ছবির মধ্যে রশিদ তালুকদারের ছবিগুলোই অন্যরকম।
উনার রাষ্ট্রিয় পদকের দরকার নেই, রাষ্ট্রের জন্য এঁদের মত মানুষেরাই অনন্য এক পদক।
যেখানেই থাকুন অনেক ভাল থাকুন। বিনম্র শ্রদ্ধা।
নজরুল ভাই আমি কাজের ঠেলায় এমন জায়গায় যেখানে রাত ১০টার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে পরদিন সকাল ৮টায়। জেলা আরুয়া, দেশ উগান্ডা। আজ রাতে ৪০০+ কিমি ড্রাইভ করে কাম্পালা যাচ্ছি, রাতে রওনা হওয়ার উদ্দেশ্য হল হাতি গন্ডার জলহস্তি নাকি সব নীল নদের পানি খেতে রাস্তা পার হয় আর চামে তাদের অবলোকন করা, যদিও সবাই মানা করেছে, খুব নাকি রিস্কি। যাই হোক, ঘটনা হল বাই চান্স কিছু হয়ে গেলে আর মন্তব্য করা হবে না, তাই বলি আপনাকে ধন্যবাদ, চোখে পানি এসে গেল অনেক দিন পর, তারপরেও আবার ধন্যবাদ। রশীদ তালুকদারের মত মানুষকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেয় হয়নি কনফার্ম করায় বিশাল স্বস্তি পেলাম। এই অপমান তাঁর কোনোমতেই পাওনা হয় না, এখন তাঁকে কোন পুরস্কার দিলেও পরিবারের পক্ষ থেকে সেটা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
বালাইষাট! এমন কথা মুখে আনতে নেই। তাইলে আমার একজন শুভানুধ্যায়ী কমে যাব যে!
প্রৌঢ়ভাবনা
আপনার দোয়ায় ভয়াবহ তেজ বহাল তবিয়তে আছি।
বিনম্র শদ্ধা
মাওলানা ভাসানী বানানটা ভুল হয়েছে সম্ভবত।
-------------------------------------------------
ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !
রায়ের বাজার বধ্যভূমির ছবিগুলো বরাবরের মতই এড়িয়ে গেলাম, সম্ভব হলো না দেখা...
শ্রদ্ধা আপনাকে গুণী মানুষ... আপনি বেঁচে থাকবেন আমাদের ইতিহাসে...
নজরুল ভাই, পোস্টের ট্যাগে 'রশীদ তালুকদার' দিয়ে দিলে হতো, শিরোনামেও যেহেতু নেই, খুঁজে পেতে সুবিধা হবে তাইলে। আর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোস্টের জন্যে।
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।
ধন্যবাদ, ট্যাগ করে দিচ্ছি
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।
**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।
মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
।ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।
মুহুর্তগুলো এভাবে ছবিতে ধরে রাখার জন্য এই অসাধারন মানুষটার জন্য ভীষণ শ্রদ্ধা।
আরও একজন অসাধারণ মানুষ চলে গেলেন। আমাদের দায় আরও বাড়লো।
--------------------------------------------------------------------------------
ছোট বাচ্চাটির উত্তোলিত হাত ও স্লোগান-রত মুখ যেন পুরো বাংলাদেশের প্রতিবাদ ও ক্ষোভকে ধারণ করে আছে। এই ছবিটি দেখেই লেখাটির ভিতর ঢুকে গেলাম এবং তারপর যা আবিষ্কার করলাম, তা সত্যিই ইতিহাস। ইতিহাসের এক বাকরুদ্ধ অভিযাত্রী হয়ে আমি বিচরণ করলাম অনেক অজানা ক্ষেত্রে। আমার পূর্ব প্রজন্মকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে দেখে একই সাথে অহংকার ও আফসোস হল। 'রায়ের বাজার' ক্যাপশনের ছবিটা দেখে চোখ ভিজে উঠল! ইট-কাদা-মাটি-জল এর পাশে একটি মানুষের মুখমণ্ডল এমনভাবে লেপ্টে রয়েছে যে তাকে আর আলাদা করা যাচ্ছে না; ঐ মানুষটি একটি ফসিল হয়ে উঠেছে যেন! শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ছবিটা দেখে অবাক হলাম। যেই মানুষগুলো ঔ দুঃসময়ে তার পাশে ছিল, তাদের উনি আজ কত দূরে সরিয়ে দিয়েছেন!
নজরুল ভাই, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ রশীদ তালুকদারের এই অমর কীর্তিগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
নতুন মন্তব্য করুন