আমি তাকে চিনি না তবুও
শুকতারার মতো এতো পরিচিত
উচ্ছ্বাসে হাসিতে একান্ত যেমন জানালার রোদ।
সপ্তর্ষীমণ্ডলের শেষ তারাটির কোল ঘেঁষে
সে দাঁড়িয়ে ছিলো আনমনে
আমি ঠিক চিনে গেছি তার শাশ্বত ভঙ্গিমা
বা হাত চিবুকে রেখে সে চোখ রেখেছিলো দিগন্ত রেখায়
গোলাপী গ্রীবার নিচে একটা বাদামী তিল
আমি ঠিক জানি নিঃশ্বাসের কতটা কাছাকাছি।
আমি তাকে দেখিনি কোনদিন আগে
তবু তার অবয়ব অনিবার্য হয়ে ভেসে ওঠে অনুভবে
মনেহয় অনাদিকাল অমাবস্যার পর
পৃথিবীর মেরুপ্রান্ত হতে উঠেছে নতুন চাঁদ এক
চিরতপ্ত সাহারাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে
তিনশ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস
আর আমি বাঁশপাতা হয়ে
পড়ে আছি তার মসৃন জোছনা শরীরে।
আমি তাকে চিনি না তবুও
নীলাম্বরী মেঘ-ভাসা ঐ চোখের সরোবরে
মনেহয় অবগাহনের উন্মুখ আহ্বানে
জন্মান্তর ভেসে ছিলাম তার জলজ শরীরে
আমি চিনি তার ঢেউয়ের গভীরতা
পৃথিবীর আদিকাল থেকে ঝরা শেফালীর মতো
আমি তাকে কুড়িয়েছি সকালের ভেজা রোদে
আমি জানি তার সুগন্ধ কতটা মদির
মনেহলো - এই সেই হারানো ফনীমনসা
স্কুল থেকে ফেরার পথে যাকে হারিয়েছিলাম
মুন্সীবাড়ির বাগানের ভিতর।
আরো কতো স্মৃতি ভিড় করে খরা রোদ্দুরের মাঠে -
মনেপড়ে যায় কতো ভুলে যাওয়া সুর ...
সমস্ত পুর্ণতা শূন্য করে
এক সময় সে হারিয়ে গেলো নিরব গোধূলীর আড়ালে
অস্তিত্বের পরমাণু জুড়ে রয়ে গেলো নিবিড় কম্পন।
আমি তাকে দেখিনি কোনদিন আগে
তবু মনেহয়েছিলো শুকতারার মতো কতোটা আপন।
মন্তব্য
না দেখেই বিরাশি লাইন
দেখলে না জানি কত লাইন হতো
বাপরে
চোখে এতো ধার
যা দেখছিলাম তার তেমন কিছুই এইখানে লিখি নাই। মূল কবিতার এইটা মুখবন্ধ' বলতে পারেন। মুখবন্ধ লেখার পর আর মুখ খোলার সাহস হয় নাই। যা বড় হইছে, এমনিতেই লজ্জায় আছি, তারপর আর লজ্জা দিয়েন না।
সে দাঁড়িয়ে ছিলো আনমনে
আমি ঠিক চিনে গেছি তার শাশ্বত ভঙ্গিমা
বা হাত চিবুকে রেখে সে চোখ রেখেছিলো দিগন্ত রেখায়
গোলাপী গ্রীবার নিচে একটা বাদামী তিল
আমি ঠিক জানি নিঃশ্বাসের কতটা কাছাকাছি।
আমিও স্মৃতিকে টানছি কাছাকাছি ...
....................................
বোধহয় কারও জন্ম হয় না, জন্ম হয় মৃত্যুর !
....................................
বোধহয় কারও জন্ম হয় না, জন্ম হয় মৃত্যুর !
বেশ ভাল লাগলো আপনা কবিতা।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!
**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব
আপনার কবিতায় প্রভাব দেখলাম আরো এক কবির , আমার প্রিয় কবি, মার্জনা করবেন স্মৃতি থেকে লিখছি -
একদা এমনি বাদলশেষের রাতে
সে এসে সহসা হাত রেখেছিলো হাতে
চেয়েছিলো মুখে সহজিয়া অনুরাগে ... ....
... ... ... ... ...
... ... ... .... ... ...
একটি কথার দ্বিধা থরথর চূড়ে
ভর করেছিলো সাতটি অমরাবতী
একটি নিমেষ দাঁড়ালো সরণী জুড়ে
থামিলো কালের চির চঞ্চল গতি
(শাশ্বতী - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)
লিখতে থাকুন, অভিনন্দন।
প্রীতিসহ -
ss
এডিট, এডিট প্লীজ!!!
নীরেন্দ্রনাথ না, সুধীন্দ্রনাথ হবে।
স্যরি , হ্যাঁ অবশ্যই সুধীন্দ্রনাথ - স্মৃতি বয়স হলে প্রতারণা করে । আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
তবু তো কবিতাটা এটুকু মনে রেখেছেন বলে কতবছর পর পড়লাম... জানেন, দু'দিন আগেই ভ্রমণকাহিনীতে সাতটি অমরাবতীর কথা লিখলাম...
দোস্ত জব্বর হইছে। এক্কেবারে হৃদয়টা আনচান বানাইয়া দিল।
তবে ৪৪-এর মন্তব্যে নীরেদ্রনাথের আসল দুইটা লাইনই বাদ পইড়া গেছে ঐগুলা আমি কইয়া দিলাম :
সে দিনও এমনই ফসল বিলাসি হাওয়া মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে
অনাদি যুগের যত চাওয়া যত পাওয়া বুঝেছিল তার আনতো দিঠির মানে।
মনে পড়ে দোস্ত..... সেই যে সেই দিনগুলো?
কীর্তিনাশা
হু... এই তাইলে অবস্থা?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
হ !
কবিতা ভালৈছ !
আরে আমিও তো সুধিন্দ্রনাথের জায়গায় নিরেন্দ্রনাথ লিখছি। কি হইবো অখন?
কীর্তিনাশা
'সুধিন্দ্রনাথ' এবং 'নিরেন্দ্রনাথ' দুটোই লিখেছিস হ্রস্ব 'ই'কার দিয়ে। দুটোই হবে দীর্ঘ 'ই'কার। কি হইবো অখন?
নাম মুছে দিলে জীবনানন্দ দাশের 'ঝরাপালক'-এর কবিতাগুলোকে নজরুলের লেখা বলেও ভ্রম হতে পারে। ক্রমশ তিনি প্রভাব কাটিয়ে সম্পূর্ণ নিজের ভাষা আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন। ওই ভাষা এখনো আমাদের শাসন করে।
অগ্রজের ভালো লাগা কবিতার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারা কবি হবারই লক্ষণ। লিখতে লিখতেই আপনারও নিজের ভাষা অর্জিত হবে। সে পর্যন্ত না পৌঁছালে সিদ্ধি নেই।
................................................................
আমার সমস্ত কৃতকর্মের জন্য দায়ী আমি বটে
তবে সহযোগিতায় ছিল মেঘ : আলতাফ হোসেন
... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী
মুজিব ভাই, একবার হিসেব করে দেখেছিলাম ২০/৩০টা শব্দ জীবনানন্দ দাশএমনভাবে এবং এতবার তার কবিতায় ব্যবহার করেছেন যে ওর একাধিক শব্দ কোনো কবিতায় চলে আসলেই একটা জীবনানন্দীয় সুবাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কী যে মুশকিল! ভীষণ চেষ্টা করছি, কবে যে সিদ্ধি হবে!
বাহ্
বাংলা বানান নিয়া তো দেখি ভালোই ক্যাচালে পড়লাম সবাই খালি ভুল ধরে। দোস্ত একটা বাংলা অভিদান গিফট করিস তো।
কীর্তিনাশা
মন্তব্যের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
নতুন মন্তব্য করুন