এভাবেই শুরু এবং শেষ হয়েছে ‘সং ভং চং’এর ব্রোশিয়ারের লিটারেচার। আমি এটা পড়েছি ব্যতিক্রমীভাবে শো শেষে বাসায় ফেরার পরে। এই ব্যত্যয়ের কারণটা একটু পরেই বোঝা যাবে, নাটকটি দেখার সংগ্রামী প্রয়াসের বিবরণটা শুনলেই। এখন যা বলতে চাচ্ছি, তা হ’লো- এই উদ্ধৃত অংশটিতে আমার মনে হয়েছে যে কাজটির পুরো দৃষ্টি এবং ভঙ্গিটাই বর্তমান মূর্তিমান আছে খুব সোচ্চার সুন্দরভাবে। তাই, আমার এই ছোট্ট লেখাটিতেও তুলনায় এত বড় একটা অংশ এভাবে চোথা মেরে তুলে দিলাম। জানি না ঠিক- ওই লেখাটি প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট কার চয়ন, হ’তেও পারে প্রযোজনা পরিকল্পক ও নির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের, আবার হঠাত্ না-ও হ’তে পারে। তবে, আমার উচ্ছ্বাস আর আরামের ব্যাপারটি এখানে এই, যে- নাটকটি দেখার পর এই ব্যতিক্রমী সুলিখিত কেজো সাহিত্যটুকু প’ড়ে আমার কাছে ব্যতিক্রমী পর্যায়েই সম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে গোটা কন্টেন্ট, পারফরম্যান্স, তার আচরিত শিল্পভঙ্গি আর এদের জড়িতির সকল অর্থস্বার্থ।
মূলত পাঠ্যক্রমিক নাট্যচর্চার অংশ হিসেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর এবং চতুর্থ সেমিস্টার-এর লোকনাট্যভিত্তিক প্রযোজনা ‘সং ভং চং’ এক টানা সপ্তাহের সপ্তসন্ধ্যায় (১ থেকে ৭ অগাস্ট, ২০০৯) মঞ্চায়িত হ’লো বিভাগেরই মিলনায়তন ‘নাটমণ্ডল’-এ।
প্রায় সহস্র বছর ধ’রে চর্চিত, মূলত টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ এলাকার ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্যাঙ্গিক ‘সং’ বা ‘সংযাত্রা’ নিয়ে ঢাকার নাগরিক মঞ্চে আগেও কাজ হয়েছে। সংশিল্পীদের শিল্পজীবনক্রান্তি নিয়ে প্রসেনিয়াম মঞ্চেই আরণ্যক নাট্যদলের অনবদ্য প্রযোজনা ‘সংক্রান্তি’র প্রেক্ষিতে সং আঙ্গিকটি এবং সেই নাটকটির ওপর আমিই আট-নয় বছর আগেও একটি ইংরেজি রিভিউ লিখেছিলাম, আমার জানামতে বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব পোর্টাল মতামত.কম-এ। গত বছরও আমি একবার ওই পোর্টালে ঢুকে আমার ছয়-সাত লেখাগুলোতে নস্টালজিক চোখ বুলিয়েছিলাম। কিন্তু এই প্যাচালের সাথে দুঃখটা হ’লো- এই লেখায় ওই সবিস্তার ‘সং’নামার একটা লিংক দিতে চেয়ে এবার খুঁজে দেখি- সেই পোর্টাল-টা আমাদের কতোজনের ওইসব লেখাজোখা-সহই মর্টালিটির জলে ডুবে উধাও হয়েছে (হায়! আমি অথচ ভেবেছিলাম অগোছালো গরিব লেখকেরও কয়টা ছোটবেলার লেখাসমেত ওই আর্কাইভ-টা অন্তত আমাদের পি.সি.-দের চেয়ে নিরাপদ এমনকি চিরস্থায়ী হবে!)।
তো, সেই গত ‘সংক্রান্তি’র এই কতোকাল পরে আমার আরেকবার সং দেখা হ’লো এই ‘সং ভং চং’-এর একেবারে সপ্তম সন্ধ্যায়। সপ্তাহের মধ্যেই এক নাট্যবন্ধুর কাছ থেকে জেনেছিলাম, তবে অফিসের পরে সময় করতে পারিনি একদিনও। আমার রক্তের গ্রুপ যেখানে টি (থিয়েটার) পজিটিভ, সেখানে নাটকের প্রতি আমার দুর্বলতা নিয়ে বেশি বানান ক’রে বললে বাড়াবাড়ি বাতুলতাই হবে। তার মধ্যে আবার বাংলার লোকনাট্যের ঐতিহ্যবাহী অনন্যসমৃদ্ধ আঙ্গিকগুলোর প্রতিও আমার আকর্ষণ আরো একটু বেশি বেশিই। মাঝেমধ্যে নাটমণ্ডলে নাটক দেখা আমার হয়, তবে ওই যে, সবকিছুর পরে নিয়মিত সময় করতে পারি না ব’লে সব প্রযোজনা দেখতে যে পারিই, তা নয়। তবু, সং ব’লে কথা! এটা কোনোভাবেই মিস করতে পারতাম না।
শুক্রবারের আগে ফুরসত তো পেলামই না। ভার্সিটি আর নাটকপাড়ার আশপাশের ছেলেমেয়েদের কাছে এমন লোভনীয় একটা প্রযোজনা দেখতে শেষ সন্ধ্যায় যাওয়ার ফলে বেগও পেতে হয়েছে অনেকই। ঢাকার বাইরের উজান-উন্নত গ্রাম উত্তরা থেকে নাটমণ্ডল পৌঁছাতে দেরিও হয়ে গিয়েছিল একটু। নাটক শুরু হ’তে তখনও যদিও আরো আধঘণ্টা সময় বাকি ছিল, তবু দেখি টিকিট সব ওরই মধ্যে শেষ! বিপন্ন বেচারা হয়ে আরো কয়েকবার কাউন্টারের সামনে দিয়ে ঘুরঘুর করছি গিজগিজ নাট্যতৃষ্ণাতুর আবালবৃদ্ধবনিতার মধ্যে। আমার মতো আরো কয়েকটা কেস আশপাশে জমা হয়েছে বুঝতে পারার পর একবার কাঁধে আর কণ্ঠে নেতৃত্ব নিয়ে জিজ্ঞেস ক’রেই বসলাম- কোনো একটা ব্যবস্থা করা যাবে কি না, দাঁড়িয়ে থেকেও বা ফ্লোরের ধূলোয় ব’সেও দেখতে আপত্তি নেই (যদিও শেষ এমন বেশি সংগ্রামে নাটক দেখেছিলাম তা-ও পাঁচ-ছয় বছর হয়ে থাকবে। ঢাকা থিয়েটারের উত্সবে কলকাতার ‘নান্দীপট’র সেই “মৃত্যু না হত্যা” নাটকটির কথাও মনে পড়তে থাকে ওই কষ্ট অবসরেই)। ওমা! কী ভালো, কাউন্টারের ওই রাগী-চেহারার মেয়েটা! বললো- একটু ওয়েইট করেন, দেখছি ব্যবস্থা করা যায় কি না। আশাবাদী অপেক্ষমান ভিড় যেমন বড় আর ভারি হচ্ছিল একদিকে, তেমনই অন্যদিকে টিকিট-পেয়ে-বৈধ দখলদারদের কিউ-ও লম্বা হ’তে হ’তে সাপের মতো পেঁচিয়ে যাচ্ছিল। আশার বাণী নিয়ে এলো সেই রাগী-চেহারাটার আরেক বন্ধু। ভেতর থেকে কিছু না-লেখা বাড়তি টিকিট এনে ‘স্ট্যান্ডিং’ বোঝাতে আসন-সারির জায়গায় ‘St’ লিখে লিখে আমাদের কাছে অনুমতি বিক্রি করলো সেই খুব-কাঙ্খিত প্রদর্শনীটি দেখতে পারার। আমরা জনা-বিশেক উন্মুখ দর্শক খুশি হয়ে ব’র্তে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখারই টিকিট কিনলাম টপাটপ।
আপনি যতোটুকু ভাবছেন, ভিতরের অবস্থা তার চেয়েও সংগ্রামী ছিল, কারণ অ্যারেনা ঘরানার (চারদিকে দর্শক, আর মাঝখানে নাটক) মঞ্চব্যবস্থায় দর্শক-সারিগুলোর মাঝে মাঝে যে চারটা কোনা বেরিয়েছিল, সেগুলোয় দাঁড়াতে পারবো ব’লে ভাবছিলাম যদিও, গানের সাথে দোহরানোর জন্য সেখানে নাট্যকলা বিভাগের ছোট ছোট ছেলেমেয়ের চার-চারটে দল দাঁড়ালো ব’লে আমাদের মতো সংগ্রামী দর্শকদেরকে দাঁড়াতে হ’লো দর্শকের শেষ সারির পিছনে ফ্লোরে, অর্থাত্ উঁচু প্ল্যাটফর্মে চেয়ারে ব’সে থাকা সামনের সবার ঘাড়ের ফাঁকেফুঁকে যদি কিছু দেখতে পারি দেখলাম, নয়তো আমার কাছে সেটা নিছক রেডিও-নাটক হয়ে গেলেও কারো কিছু করার নেই। (কু)বুদ্ধি ক’রে দেয়ালে পিঠ (আসোলে শুধু কোমরই) দিয়ে তার থেকে ফুট দুয়েক সামনের বেদীতে পা ঠেঁকিয়ে বাঁকা হ’তে হ’তেই দেখলাম পুরোটা। দুই ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের সং দেখতে দেখতে নিজের কোমরে-উরুতে-হাঁটুতে ব্যথা তো ধরলোই, এমনকি ছয়-সাতজনের ওজন সইতে না পেরে একবার আমার পায়ের নিচ থেকেই ভেঙে স’রে পড়লো চৌকিটার ধারের চিরল-কাঠটি। সৃষ্টি দেখতে অনাসৃষ্টি ঘটালেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই কুকর্মফলে ভাগ্যিস কেউ শাসায়নি এসে!
নৃ-ইতিহাস, নাট্যতত্ত্বশিক্ষা, পর্যবেক্ষণ, সমকালীন ও কালক্রমিক বিশ্বপাঠ আর নবসৃজনস্পৃহার মিলিত সুবাদে নাটকটিতে আঙ্গিকগত পরীক্ষণ হয়েছে বেশ। নির্দেশক বা প্রযোজনাপক্ষ অবশ্য সেটাকে অবিমিশ্র বা শুদ্ধ সংযাত্রা হিসেবে দাবিও করেননি। সমকালীন স্থানীয় প্রেক্ষাপটের, মজার, আগ্রহের আর অসঙ্গত বিষয়-আশয় নিয়ে রূপক-ব্যঙ্গভঙ্গিতে মূলত ফরম্যাটেড স্ক্রিপ্ট ছাড়াই তাত্ক্ষণিক উদ্ভাবন এবং শিল্পীদের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়ায় যেমন সং-য়ের অভিনীতব্য বিষয় রচিত হয়ে এসেছে, তেমনি এই নাটকেও এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের ইতিহাস এবং সামগ্রিক কুচর্চায় বেহাল বর্তমান-সহ চারপাশের ব্যক্তিক, রাষ্ট্রিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে ইম্প্রোভাইজেশন করতে করতেই তৈরি হয়েছে মূল পারফরম্যান্সের বিষয়-বুনন। আর, সংযাত্রা’র মতো ক’রেই এতে বিদ্রূপাত্নক ও হাস্যকৌতুকমূলক (সমসাময়িক গানের প্যারোডি-সহ) গানের প্রয়োগ হয়েছে। অভিনেতাদের বিশেষ স্টাইলাইজড মুখাবয়ব তৈরি এবং সামগ্রিক রূপ ও অঙ্গসজ্জার ক্ষেত্রে আমাদের দেশজ সংযাত্রার ঐতিহ্যের সাথে মেলানো হয়েছে চিনা মুখসজ্জার ঐতিহ্য আর অভিজ্ঞতাকেও। আবার অভিনয়রীতিতেও পরীক্ষণমূলকভাবে সংযাত্রার মূলসুরের সাথে যুক্ত হয়েছে পাশ্চাত্যের (ইতালি) কমেডিয়া-দেল-আর্তে’র বিশিষ্ট অভিনয়ভঙ্গি। আশপাশের চেনার পাশাপাশি এতটা খেয়াল-না-ক’রে-ওঠা উদ্ভট এবং অনুচিত নানা চর্চা-অচর্চা-কুচর্চাই স্থান পেয়েছে উত্কৃষ্ট নাট্যশৈলীপুষ্ট এই মনোজ্ঞ অভিনয় আয়োজনে। ভরপুর হাস্যবিনোদনে দম ফেটেছে হল-ভর্তি সবগুলো মানুষের। শুধু হাসিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, সাথে সাথে বারেবারেই গভীরভাবে ভাবিয়েছে এবং বিস্ময়ে তাক লাগিয়েছে এই পারফরম্যান্স।
সাত-সন্ধ্যায় হয়ে যাওয়া এ নাটকটি উত্সর্গ করা হয় গীতল প্যাচালে তীক্ষ্ন স্যাটায়ারের জন্য বিখ্যাত, অমিত তেজস্বী, প্রয়াত নাট্যজন এস এম সোলায়মানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। নির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের সাথে সে-কাজে সহযোগিতা করেছেন নাট্যকলা বিভাগের তরুণ শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী, যিনি নিজেও বিভাগে ‘থ্রি সিস্টারস’ (আন্তন চেখভ’র)-এর মতো বেশকিছু অনবদ্য মঞ্চায়ন উপহার দিয়েছেন। বিপাশা রায়, তামান্না রহমান, লুবনা মরিয়মের নৃত্য প্রশিক্ষণ এবং রহমত আলী’র (বিভাগেরই আরেক শিক্ষক) সংগীত প্রশিক্ষণের সাথে সাথে আলাদা ক’রে ইম্প্রোভাইজেশন ও অভিনয় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিভাগেরই অন্য অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল শাহীন। সে-প্রশিক্ষণের প্রয়োগ-প্রদর্শনের জন্য সেই প্রক্রিয়ায় মডেল হয়ে সহযোগিতা করেছেন হুমায়ুন ফরিদী, চঞ্চল চৌধুরী, সাজু খাদেম, শামীম জামানের মতো প্রতিষ্ঠিত পরিচিত অভিনয়শিল্পীরা। সবচেয়ে বিরল আর বড় ব্যাপার হ’লো- এই প্রযোজনার জন্য শিক্ষার্থীদের সংযাত্রা অভিনয় দেখা ছাড়াও তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ হিসেবেই নিতে হয়েছে টাঙ্গাইলের কালিহাতী সং দল-এর সরাসরি প্রশিক্ষণ। উক্ত দলের নৃপেণ চন্দ্র পাল, সিদ্ধিচরণ পাল, ভজন পাল, হরিদাস পাল এবং বাবলু চন্দ্র সাহা-কে এই কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেয়া হয়েছে শিক্ষকের সমান মর্যাদায়, এই মর্মে, যে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে তাঁরা পাঠদান করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক নাট্যশিক্ষা ও চর্চার এই ধারায় আমাদের আশেপাশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে যখন এমন সুন্দর ও সুঠাম হয়ে এসে যোগ দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও নাট্যকলা বিভাগ, সেটা আমাদের মতো চির-নাট্যক্ষুধার্ত চোখগুলোর জন্য অনেক বেশি পাওয়ার, আনন্দের এবং একই সাথে শিল্প-বিমোক্ষণের (ক্যাথারসিস)। এ জাতীয় প্রযোজনাগুলোর ধারাবাহিক উন্নত মান নাগরিক এবং জাতীয় নাট্যচর্চায় নিঃসন্দেহে একটি গৌরবজনক বড় সংযোজন। বাংলাদেশের নাট্যজগতে যশস্বী শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন নিয়মিত নৈকট্যে নাট্যশিক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দর্শক-বোদ্ধাদেরও মত, ভাব আর প্রশংসা-প্রতিক্রিয়া নিয়ে এ নাট্যপীঠ এবং এমন নাট্যচর্চা তার আরো সুফলা সম্ভাবনা আর ঋদ্ধির পথে এগিয়ে যাক দৃপ্তপদে, ছন্দে-শব্দে, আনন্দে।
মন্তব্য
লেখা ভালৈছে । কিন্তু নাটকের বর্ননা আধা প্যারা দেখে একটু হতাশ ।
অফটপিক - ফেনোমেনার বাংলা প্রপঞ্চ - এইটা ঠিক কার অনুবাদ ?
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি
থ্যাংকস।
তবে, আমি কিন্তু নাটক দেখার গল্পই লিখতে চাইসি, নাটক-রিভিউ না। আমি লেখার স্কিম-টা এমনই দেখসি- অনেস্টলি, ডেলিবারেটলি। তবু, আশাহত করার জন্য দুঃখিত।
প্রশ্নটাকে অফটপিক কেন বললেন- বুঝিনি।
আর, আমি কিন্তু লেখায় বলেছি যে- মুসাবিদাটা কার লেখা- সেটা জানা যায়নি।
তবে, আমার কিন্তু মনে হচ্ছে- এই 'বা'টা 'অর্থাত্' অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, বরং 'কিংবা' অর্থেই বলা হয়েছে। মানে, ওটাকে (ইসলামী জঙ্গিবাদ) ফেনোমেনা-ই (আসোলে 'ফেনোমেনন', মোর অ্যাপ্রোপ্রিয়েটলি।) বলা যাক, অথবা ওটা শ্রেফ কোনো প্রপঞ্চ-ই হোক, যুক্ত হয়েছে আর কি এসে।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
- নাটক দেখার কাহিনী বুঝলাম । তবে কিনা পাঠকরা একটু নির্দয় টাইপ । তারা আরো বেশী চায় মঞ্চ নাটক ব্যাখ্যা করে একটা পোস্ট দিন ।
- আমি মনে হয় প্রশ্নটা বুঝাতে পারিনি । প্রশ্নটা শ্রেফ একটা ভাষা সম্পর্কে আগ্রহ থেকে করা । আমি অনেককেই এই প্রপঞ্চ শব্দটা ইংরেজী phenomenon এর বাংলা হিসেবে ব্যবহার করতে দেখেছি । এতো লোক যেহেতু এই কাজ করছে করছে সেহেতু কোন একটা কারন আছে নিশ্চয়ই । আমি সেই কারনটাই জানতে চাইছিলাম ।
phenomenon এর অর্থ দেখলাম এইরকম লেখা আছে ডিকশনারিতে -
1. a fact, occurrence, or circumstance observed or observable: to study the phenomena of nature.
2. something that is impressive or extraordinary.
3. a remarkable or exceptional person; prodigy; wonder.
4. Philosophy.
a. an appearance or immediate object of awareness in experience.
b. Kantianism. a thing as it appears to and is constructed by the mind, as distinguished from a noumenon, or thing-in-itself.
আবার ধরেন বাংলা ডিকশনারিতে প্রপঞ্চ অর্থ -
১. ব্যক্তিকরণ ২. বিস্তার ৩. ব্যাখ্যান, বিশদীকরণ, ৪. বিপর্য্যয় ৫. সঞ্চয় ৬. প্রতারণা ৭. বিস্তর ৮. বৃথা অন্যের প্রশংসা ৯. মায়া ১০. সংসার ১১. পুত্রাদি ১২. আড়ম্বর
তো এই দুইটা তুলনা করলে ইংরেজী phenomenon এর অর্থ প্রপঞ্চ দাড়ায় না ।
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি
- হুউম, দেখা যাক। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।
- আর হ্যাঁ, আমি ভুল বুঝেছিলাম একটু, আমি ভেবেছিলাম আমার উদ্ধৃত অংশেই এই বাংলাকরণটা নিয়ে আপনার প্রশ্ন। কারণ, আমার পড়াশোনা অনেক কম বলেই বুঝি-বা, 'ফেনোমেনন'-এর বাংলা হিসেবে কমনলি 'প্রপঞ্চ'র ব্যবহার আমি প্রত্যক্ষ করিনাই ওইভাবে।
হ্যাঁ, এইভাবে মেলেই নাই তো। আপনার কথা ঠিক। আমিও এই দুইটা শব্দকে ব্যবহারিক ডিটেইলেই যতোটুকু জানতাম, তাতেও 'প্রপঞ্চ' 'ফেনোমেনন'এর অনুবাদ হিসেবে ভালো বা উপযুক্ত বা ঠিক হ'তে পারে না।
ফিলোসফি আর দর্শনের মধ্যে এইজন্যই তো ম্যালা গ্যাপ রয়ে গ্যাছে!
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
নাটক দেখতে তো দেখা যায় বিরাট যুদ্ধ করতে হইসিল আপনারে। যাক, তাও তো শেষ পর্যন্ত দেখতে পারসেন, এইটাই অনেক।
আমিও নাটকের বর্ণনা আরো আশা করসিলাম। যাই হোক, লেখাটা অনেক গোছানো আর তথ্যসমৃদ্ধ হইসে। একটা কথা, সিরিয়াস লেখার মাঝখানে স্মাইলি দেখতে ভাল্লাগে না।
আর-
এই প্যাঁচালের সাথে দুঃখটা হ’লো --> 'প্যাচাল' হবে কি?
রক্তের গ্র“প --> 'গ্রুপ'
দুই ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যরে সং দেখতে দেখতে --> 'দৈর্ঘ্যের'
গীতল প্যাঁচালে তীক্ষ্ন - 'প্যাচাল', 'তীক্ষ্ণ'
সবশেষে, দারুণ একটা রিভিউ লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আর, শিরোনামটা বেশ পছন্দ হইসে।
সারছে! আপ্নে এই লেখারে সিরিয়াস মনে করছেন না কি?!
যান, তবু আপ্নের ভালোলাগার জন্য ইস্মাইলি-রে কুরবান ক'রে দিলাম!
'প্যাচাল' ক'রে দিসি।
'গ্রুপ'-ও করসি। এইটা তো বুঝছেনই, বিজয় থেকে ফন্ট কনভার্ট ক'রে অফিস থেকে বের হওয়ার তাড়াহুড়ায় ভালো ক'রে ভাঙা-অক্ষর চেক ক'রে দিতে পারিনি ব'লেই হয়েছে। 'দৈর্ঘ্যরে'টাও ফাইনাল চেক করতে পারি নাই ব'লে টাইপো ভুলে রয়ে গেসে! সব ঠিক করসি।
তবে, 'তীক্ষ্ন' নিয়ে একটু সন্দেহ আছে। আমি আবার অফিসে বানান অভিধান দেখে কনফার্ম করবো। আপনি ঠিক হ'তেই পারেন, তবু আমার খচখচানিটাও দূর করতে চাই আর কি।
অনেক কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ, অ.প্র.। ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্যও। আর, ওই টিপস-এর জন্যও। দেখসেন তো- ওইটাও করসি।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
'তীক্ষ্ন' সম্পর্কে: আমার ধারণা ছিল এইটা ক+ষ+ণ। যাই হোক, ভুলও হইতে পারে। আপনি চেক কইরেন। আমার কাছে অভিধান নাই।
হুম, দেখলাম
ভালু থাইকেন।
'বিজয়'এ দন্ত্য-ন আর মূর্ধহ্ন-ণ দুইটা দিয়া লিখলেই দেখি একইরকম দেখায় 'তীক্ষ্ন'। সেইজন্য বাসায় উচ্চারণ এবং অফিসে বানান অভিধান- দুই জায়গাতেই 'তীক্ষ্ন' যেভাবে লেখা (চেহারাটা এমনই, যেমন এখানে এখন হ'লো, দন্ত্য-ন দিয়ে লিখলে), তাতে বোঝা মুশকিল- এইটা দন্ত্য-ন নাকি মূর্ধহ্ন-ণ! বানান ব্যাকরণে এই নিয়মটা নির্দিষ্ট ক'রে পড়া নাই আমার। তবে, এখানে দ্যাখেন- দন্ত্য-ন দিয়ে লিখলে দেখায় 'তীক্ষ্ন', আর মূর্ধহ্ন-ণ দিলে হয় 'তীক্ষ্ণ'। এতে এখানকার ব্যাপারে আবার বোঝা যায়, যে- এখানে 'ক্ষ'র পরে 'ণ'র ব্যাপারটা ফর্ম হিসেবে একদম বিবেচনাই করা হয় নাই।
বুঝতেছি না। আপনি ঠিক হ'তে পারেন। মানে, যেহেতু আমি নিজের ধারণাটাও প্রুভ করতে পারছি না, আবার আপনার বলা-টা ডিসপ্রুভ-ও করতে পারছি না।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
আমার কাছেও যেহেতু অভিধান নাই, অন্য একটা রেফারেন্স দেই। আপনার কাছে অভ্র ইনস্টল করা থাকলে, সেখানে বেশ কিছু সাহায্যকারী ফাইল পাবেন। পিডিএফ ফরম্যাটে। সেখানে একটা ফাইল আছে - 'বাংলা টাইপিং উইথ অভ্র ফোনেটিক'। এই ফাইলের শেষে বাংলা যুক্তাক্ষর/যুক্তবর্ণের একটা তালিকা আছে, যার মূল উৎস হিসেবে উল্লেখ আছে বাংলা একাডেমীর নাম।
সেখানে পেলাম:
ক্ষ্ণ - kkhN, kxN
অভ্র ফোনেটিকে 'n' লিখলে আপনি পাবেন 'ন', আর 'N'-এ পাবেন 'ণ'। তাই 'তীক্ষ্ণ' লিখতে তো মনে হচ্ছে 'ণ'-ই লাগবে।
হুম। তা-ই মনে হচ্ছে
ধন্যবাদ।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
লেখাটা দারুণ হয়েছে।
প্রযোজনাটি যে খুব দুর্বল হয়েছে, তা কিন্তু বললেন না।
ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।
আপনি দেখেছেন না কি? দেখে থাকলে, কীসের জন্য প্রযোজনাটিকে এমন দুর্বল মনে হয়েছে- একটু শেয়ার করবেন?
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
ভাই, ভাষাটা আরেকটু সহজ করলে....
মতামত.কম আমারো এক দুঃখের নাম! জীবনে মাত্র ৩/৪টা লিটারেচার রিভিউ করছি। তাও থাকলোনা।
তাইলে তো আর কাউরে দিয়া লেখাইতে হৈবো! আমি আর সেইটা পারতেছি কই?!
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
আহা এত কষ্টের কী দরকার ছিল...........
নৈশী।
আহা, সীতা যেন কার বাপ?!
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
দুই হাত ভূমিকার পরে আধাহাত নাট্যালোচনা!! এইটা ঠিক হইলো? লেখার প্রথম অংশটা কমাতে পারতেন, বাড়াতে পারতেন নাটকের কথা।
প্রযোজনাটি দেখিনি। কিন্তু আপনার বর্ণনা পড়ে খুব একটা সুবিধার মনে হলো না। সং যাত্রার সঙ্গে চৈনিক মুখোশ বা ইতালির কমেডি দেল আর্তের রিমিক্স কেন?
জামিল আহমেদ তাঁর দূর্দান্ত প্রযোজনা "বিষাদ সিন্ধু" দিয়ে বাংলা থিয়েটারে আজীবন টিকে থাকবেন। কিন্তু তারপর কী? এইসব? এর আগে ঢাবির নাট্যকলা বিভাগেরই আরেকটা কী যেন প্রযোজনা দেখেও ব্যাপক বিরক্ত হইছিলাম। বিষাদ সিন্ধুর পরিচালকের এই দশা কেনু?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
বস, 'নাট্যালোচনা' তো করবেন শ্রদ্ধেয় আতাউর রহমান, আলী যাকের-রা। আমি কি সেই নাট্যতাত্ত্বিক না কি?!
আমি নাটকের পোস্টমর্টেম ওই অর্থে লিখতে চাই-ই নাই, সেইরকম কিছু হিসেবে তো বলিও নাই এই লেখাটারে! আমি অন্য যেকোনো ব্লগের মতো আমার নাটক দেখার গল্পই করতে চাইছি, তাই করছি। নাটক নিয়ে আর তেমন বলার ছিলও না মনে হইছে আমার কাছে। ব্রোশিয়ার থেকে এতটা তুলে দিছি উপযুক্ত মনে করছি ব'লে। এরপরেও নাটকের ভিতরের বর্ণনা হয়তো এমনিতেও ভালো লাগতো না। বিষয় আর আঙ্গিকগতভাবেই ওইটারে যা একটু নাড়ছি চাড়ছি। এইরকম ফরম্যাটের মধ্যে ওইরকম ডিটেইলে গেলে হয়তোবা পুষাইতোও না সব মিলায়া।
চিন-ইতালি'র ফর্মের মিশ্রণে সমস্যাটা কী পাইলেন- সেইটা বুঝি নাই বস, অনেস্টলি। পৃথিবীতে সবকিছুর রিমিক্স হৈতেছে নির্বিচারে, তিন জায়গার তিনটা কমেডি ফর্মেরই এলিমেন্টস বা স্টাইল যদি এক্সপেরিমেন্টেশনের উদ্দেশ্যে মিলায়া দেখা হয়, তাইলে অসুবিধা কই?! তাইলে তো এক্সপেরিমেন্টাল বইলা কোনো ভ্যালিড জিনিসের অস্তিত্বই থাকতো না দুনিয়ায় বা শিল্পে!
এই পর্যন্ত নাটক কি বিভিন্নরকম বিবর্তনগুলার মধ্যে দিয়াও আসে নাই? প্রসেনিয়াম মঞ্চে নাটক তো আমাদের ছিল না। এইটা যে আসলো সেই ১৭৯৫ সালে, আমরা যে ছোটবেলা (নাটক নিয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত) নাটক বলতে এইরকমই দেখতাম এবং মনে করতাম, এইটা কি পুরাই জারজ কাহিনী? এর কি কোথাও কোনো ভ্যাল্যু বা হিস্টোরিক্যাল সিগনিফিক্যান্স নাই?
জামিল স্যারের কথা উঠলেই আমার ওই একটা কথা মনে কইরাই কষ্ট লাগে, যে- 'বিষাদসিন্ধু' আমার দেখা হয় নাই। কিন্তু, ইউনিভার্সিটি-তেই 'কমলারাণীর সাগরদীঘি', 'বেহুলার ভাসান' - এইগুলা যে দেখলাম তাঁর পরিচালনায়, প্রত্যেকটাই তো অনেক ভালো লাগছে আমার কাছে।
(এইটা অবশ্য আমার জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেও হইতে পারে)
'সং ভং চং'-ও তো দেখলাম হল-ভর্তি দর্শক-অভিনেতা-পরিচালক-তাত্ত্বিকরা পছন্দই করছেন অনেক।
যাক, অনেক ধন্যবাদ নজরুল ভাই, সময় ক'রে এই লেখা প'ড়ে আবার এই চিন্তাযুক্ত ফিডব্যাক+ইনপুট-ও দিয়ে গ্যাছেন ব'লে। সিন্সিয়ারলি। ভালো থাকেন।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
একদম হাচা কথা কই, আতাউর রহমানরা যে নাট্যালোচনা করবেন সেইটা কষ্ট কইরা পড়তে আমি খুব একটা রাজী না। বেহুদা টাইম খরচ করতে চাইলে ঠিক আছে। আমার দলের সিনিয়র লোক, তবু এই কথা কইলাম। আলী যাকের হইলে তবু ঠিক আছে।
যাহোক, আমি আসলে নাট্যালোচনা বলতে আপনার কাছ থেকে বেশি করে শুনে নিজের না দেখাটারে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর ইচ্ছায় ছিলাম আর কী... এইটা আমার চাওয়া ছিলো। যাহোক... দিবেন্না যখন তাইলে কী আর করা?
রিমিক্স ফিউশন এইগুলা বড় ভেজাইল্যা। আমি ঠিক বুঝি না। ধরেন লতা মুঙ্গেশকরের গানের রিমিক্স হয়। (আমি কলকাতার এক চ্যানেলে একবার দেখলাম "আল্লা মেঘ দে পানি দে ছায়া দে'র ফিউশন। এইটা দেইখা মনে হইলো আল্লাহ পাক যদি থাকে তাইলে তিনি এইটা দেইখাই ততোধিক ঊর্ধ্বাকাশে পলাইবেন)। আবার ধরেন ফর্ম ভাঙচুর হয়, ফিউশন হয়। এইটা সেই রিমিক্স বা ফিউশন কে করতেছে তার উপর নির্ভর করে। এখানে যারা করছেন তারা উস্তাদ লোক, হয়তো ভালোই করছেন।
কিন্তু সঙযাত্রা একটা প্রাচীণ ফর্ম। এইটার রিমিক্স আর আব্বাসউদ্দিনের কান্ধে সিন্থেসাইজারের জোয়াল চাপায়া, পিঠে মিলারে নাচতে কওনের মতো হয় কী না সেই ভয় হয়। আসলে আমারই ভুল হইছে, না দেখে এই মন্তব্য করা ঠিক হয় নাই, এখনো হইতেছে না। নিজের আশঙ্কার কথা কইছিলাম। এইটা অমূলক হইতে পারে। সঙ নিয়া রিমিক্সের কিছু ভ্যাজাল আছে। লোকে কমেডি দেখলেই সবকিছু ঢাইলা দিতে চেষ্টা করে এর ভিতরে। সঙযাত্রা কমেডির ধাঁচে হইলেও এটা আসলে কতটুকু কমেডি? এর ভিতরে ভিতরে যে মানুষের কতো কান্না আছে সেইটা না হারায়া যায়, এইটাই আশঙ্কা।
থাউক্গা... ভুল হইছে... ক্ষমা দেন।
বিষাদ সিন্ধু না দেখলে দুনিয়া মিছা বস। ঢাকার মঞ্চের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাটক। জন মার্টিনের অভিনয়... কোরিওগ্রাফি... উফ... এই নাটক দেখা এক অভিজ্ঞতা। প্রথমবার দেইখা এতোই হা কইরা তাকায়া ছিলাম যে পরে আরো বার কয়েক দেইখা মাথা ঠাণ্ডা করতে হইছিলো।
কমলারানীর সাগরদীঘি জামিল আহমেদের পরিচালনায়? এইটা তো ইসলাম উদ্দিন পালাকারের। আমি দেখছি এইটা। প্রথম শোটাই দেখছিলাম। ইসলাম উদ্দিন পালাকার করলো প্রথম অংশ, চোখ বড় বড় কইরা দেখলাম, তারপর দ্বিতীয় অংশ করতে আইলো লিপন। এইবার ঘুমানোর পালা... হা হা হা হা...
অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেহুলার ভাসান দেখা হয় নাই।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
এইসব জন্মের আগের জিনিসগগুলান দেখবাম চাই, দেখান।
জন্মের আগের না... বিষাদ সিন্ধু আমি দেখছি বোধহয় ৯৫/৯৬এ। ঐ সময়ের আগের ফাটাফাটি নাটক গুলার জন্য আমার ক্ষেদ আছে অনেক। যেমন মুনতাসীর ফ্যান্টাসী।
তবে ঢাকার মঞ্চে আমার দেখা সেরা নাটকগুলোর মধ্যে বিষাদ সিন্ধু একটা। গ্যালিলিও, নূরলদীনের সারাজীবন, ঈর্ষা, দেওয়ান গাজীর কিসসা, মুখোশ, হাত হদাই, একাত্তুরের পালা, যৈবতী কইন্যার মন, হয়বদন, আ ম্যান ফর অল সিজনস... এসব নাটকের কথা জীবনে ভুলবোনা।
যৈবতী কইন্যার মন আর আ ম্যান ফর অল সিজনস এখনও হয় ঢাকায়। এখনকার প্রযোজনার মান কেমন জানিনা। তবু দেখে নিতে পারেন।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
'আ ম্যান ফর অল সিজনস' এখনও আসোলেই আছে না কি? আমি দেখছিলাম ২০০৪-এর দিকে হবে হয়তো। আগাপাশতলায় দুর্দান্ত প্রডাকশন!
আর, বস, 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি'র কিন্তু মাঝখানে আবার শো হইছিল, ২০০৬-এর দিকে হইতে পারে। তখন হয়তো দ্যাখেন নাই তাইলে আপনে। ওইবার হইছিল শুধু 'মুনতাসীর' নামে। (সেলিম স্যার তো তাঁর প্রাচ্যবাদের পরে আর ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন নাই কিছুতে, বরং আগে যা করছিলেন তা-ও পরে বাদ দিছেন!)
তখন কামাল বায়েজীদ ভাই করছিলেন আগে হুমায়ুন ফরিদী'র করা সেই মুনতাসীর ক্যারেক্টার।
'গ্যালিলিও' আর 'ঈর্ষা' আমি দেখতে পাইনাই। এই দুইটা নিয়াও অনেক দুঃখ আছে, আপ্নেরেই ঈর্ষাইলাম তাই এই সুযোগে।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
আ ম্যান ফর অল সিজনস ফার্স্ট শো মারছিলাম। মুনতাসির নামে হইছিলো জানি। কিন্তু মুনতাসির চরিত্রটার যা শুনছি বা পড়ছি, সেইটা ফরিদী ভাইয়ের জায়গায় করবে কামাল বায়েজীদ, এটা শুনেই আর উৎসাহ পাই নাই দেখতে। যেমন মিজান গায় শুইনা ছাড়ছি ওয়ারফেইজ শোনা।
গ্যালিলিও দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিছিলাম নাগরিক না করলে জেবনই বৃথা (তখন করতাম সুবচন নাট্য সংসদ)। আর ঈর্ষা... সে এক দূর্দান্ত... ঈর্ষা কিন্তু স্ক্রিপ্ট পইড়াও তাশকি খাওয়ার মতো। পড়া না থাকলে পড়ে ফেলেন
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
যেমন মিজান গায় শুইনা ছাড়ছি ওয়ারফেইজ শোনা।
আমি যখন থিয়েটার স্কুলের বার্ষিক কোর্সের মাঝামাঝি, তখন দেশনাটকের এক বড় উত্সবে লাগাতার 'নিত্যপুরাণ', 'বিরসাকাব্য', 'লোহা'র শো দেইখ্যা আর আমাদের স্কুলের (ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুলে ওদের রিহার্স্যাল হইতো তখন, আর আমাদের থিয়েটার ক্লাসও তখন হইতো ওই স্কুলেই) নিচে তাদের দলীয় কর্মযজ্ঞ দেইখ্যা ভাবছিলাম- দেশনাটকে কাজ না করলে আমার জীবন বৃথা হইয়া যাইবো! হায় রে, কী দিন গ্যাছে। পরে, নাসির ভাই (নাসিরউদ্দিন শেখ)য়ের পিছে একমাস লাইগ্যা থাইক্যা পারমিশন পায়া ছয়মাস দেশনাটকের ঘর-ঝাড়ু দিছি, চা-পুরিও আনছি কয়েকজনের সাথে মিইল্যামিইশ্যা, কিন্তু দেখলাম যে- না, জীবন এইভাবে সার্থক হয় না। তা-ও কি, শেষ এক মাস আমি গ্রুপ-এ গেছিলাম জাস্ট দীপান্বিতা'র সুন্দর নাকটা কাছে থেকে দেখার জন্য।
সে ২০০১-০২-এর কথা।
হ, 'ঈর্ষা' পড়ছি। দুর্দান্ত'র উপরেও আরো কিছু। সৈয়দ হক সাব আসোলে আরেকটা বস পাব্লিক!
ওইদিকে শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ্ আল মামুনও (হায় রে, উনারও তো ক্লাস করছি, আমারে ফার্স্ট টার্মের ভাইভা'য় ইচ্ছা ক'রে ফেইল করাইছিলেন আজবভাবে। টোটাল নম্বরে আমি ডিসট্যান্ট ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলাম, কিন্তু তাঁর পেপারে ক্রস, ওই ভাইভা'য়! দুঃখের কথা মনে হয়ে গ্যালো!) দেখলাম কয়েকটা কাব্যনাটক লেখার চেষ্টা চালাইছিলেন! কী যে করুণ আর হাস্যকর সেই চেষ্টা!
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
এইডা কী কন বস? আপ্নে যদি "ক্ষমা দেন" জাতীয় কথা কন, তাইলে আমি তো পুরা লইজ্জা!
অপরাধ নিয়েন না বস। আমি পার্সোনালি হার্ট করতে চাই নাই কিন্তু- সেইটা আশা করি বুঝছেন।
শ্রদ্ধেয় আতাউর রহমান আমার তো আবার ডিরেক্ট টিচার (থিয়েটার স্কুল-এ)। তো, আমার অ্যাসেসমেন্ট-মতে তিনি অভিনেতা হিসাবে ১০০-তে ০৩, ডিরেক্টর হিসাবে ২০, সংগঠক হিসাবে তো জানিই না (যেহেতু 'নাগরিক' করি নাই), তবে নাট্যতাত্ত্বিক হিসাবে ৫০-এর উপরে, ভালোই উপরে। প্রথমআলো-তে উনার কমিশনড নাটক-রিভিউ প'ড়ে অবশ্য এইরকমটা মনে হওয়া কঠিন! আমি বলতেছি তাঁর সাথে আমার লম্বা লম্বা মোটা মোটা গভীর গভীর ক্লাসালোচনা'র আলোকে। হ্যাঁ, তো, অবশ্যই সেইটা আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন।
চিনা ওইগুলা এবং কমেডিয়া দেল-আর্তে-ও তো বেশ প্রাচীনই বস। তাই, এইরকম ফিউশনে আমি মনে করি সিন্থেসাইজার-মিলা সিন্ড্রোমের আশংকা একদমই কম এমনিতেও। কারণ, ইউনিভার্সালি কিছু কমন সুর কিন্তু বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ফর্মে আছেই এবং ছিলই পৃথিবীতে, সেইটা শিল্পের এবং নৃ-ইতিহাসে হরাইজন্টাল ভার্টিক্যাল দুইরকম অ্যানালাইসিস-এই প্রচুর পাওয়া যাবে, এইরকম মিলমিশের প্রচুর ইনস্ট্যান্স-সহই- সেইটা আপ্নেও জানেন।
সংযাত্রা শ্রেফ কমেডি না, উদ্দেশ্যমূলক স্যাটায়ার। সেইক্ষেত্রেও, একদম শুরুর দিককার গ্রিক কমেডি'র নিচুজাত-ধারণার পরে আস্তে আস্তে কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সব কমেডি ধারায়ই শুধু হাসির জন্য হাসি না হইয়া পারপাসফুল আয়রনি-ই যুক্ত হইছে, মোস্টলি। স্যাটায়ার, ফার্স- দুই ধারাতেই তো এই বিষয় বর্তমান। আমার জানামতে- সং-এর বিষয়াদি মূলত সমসাময়িক এবং সমস্থানিক বিভিন্ন অসঙ্গতি-অসামঞ্জস্য থেকেই আসতো, আসে। তাই, সেই কমেডি'র পিছনেও সামাজিক প্রপাগান্ডা একটা বড় এবং মহান বিষয়। আর, সংশিল্পীদের ব্যক্তিজীবনের কান্না তো একটা সাবসিডিয়ারি টপিক (যদিও আমি নিশ্চিত না, যে- আপনি ওইগুলার কথাই বলছেন কি না)। যেমন- 'সংক্রান্তি'তে আমরা দেখছিও ওইরকম কিছু ব্যাপারস্যাপার। ওই নাটক দেখে মহিলা সমিতি-তে আমি হাসতে হাসতেই এক পর্যায়ে ভয়ঙ্করভাবে কানছিলাম।
যেই কান্নার কথাই আপনি ব'লে থাকেন বস, নির্দিষ্ট ক'রে একটা ফর্মের সাথে আরেকটা ফর্মের এলিমেন্ট যুক্ত বা মিশ্রিত করাটাই অন্তত সেই কান্না চাপা প'ড়ে যাওয়ার কারণ হবে না, তাই না?
হ্যাঁ, 'কমলারাণীর সাগরদীঘি' আগে ইসলামউদ্দিন পালাকারের করা তো ঠিকই আছে, কিন্তু- ঢাকার মঞ্চে (নাটমণ্ডলেই) ঢা.বি'র যে প্রযোজনা, সেইটার নির্দেশনা জামিল স্যারের দেয়া বইলাই তো জানি! না কি?! আমার জানা ভুলও হৈতে পারে- সম্ভাবনা স্বীকার করি।
আমি অবশ্য দুইজনের মিলানো দেখি নাই। আমি যে দুইবার দেখছি, তা শুধু লিপন ভাইয়েরই করা পুরাটাই। আমিও তখন আরো একটু ছোট ছিলাম, আর লিপন ভাইয়ের এই জাতীয় পারফরম্যান্স আমার ওইটাই প্রথম দেখা হইছিল। আমার কাছে তো এনার্জি আর অ্যাসিমিলেশন মিলায়া ওই পারফরম্যান্স বেশ ভালোই লাগছিল। হ, আপ্নের ভালো না-ই লাগতে পারে, দোষ নাই কোনো।
'বেহুলার ভাসান'-ও অনেক সুন্দর, আমার কাছে।
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
বস, আপনে আলোচনা করতেছেন উত্তাল সমুদ্রের মাঝি হয়া, আর আমি কইতেছি আবহাওয়া রিপোর্ট পইড়া। তাই এই প্রযোজনা নিয়া আলাপ সুবিধার না। এজন্যই ক্ষমা দিতে চাইছিলাম। এখনো চাই।
আতাউর রহমানরে নিয়া এদেশেরই আরেকজন গুণী নাট্যজন খুব ভালো একটা কথা বলছিলেন, (ইচ্ছা করেই নামটা কইলাম না) যে- আতাউর একসময় দূর্দান্ত ছিলো। সব বিষয়ে তার জ্ঞান ছিলো অসাধারণ। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মুখস্ত কইতে পারতো। কিন্তু সমস্যা হইলো গত বিশ বছরে আর কিছু যোগ হয় নাই। ও সেখানেই পইড়া রইছে।
এই বাণী আমি শুনছিলাম প্রায় বছর দশেক আগে। তারমানে হইলো ৩০ বছর ধরে তার মধ্যে আর কিছু যোগ হয় নাই। এজন্যই কইলাম আর কী...
কমলারানীর সাগরদীঘি পুরাই ইসলাম উদ্দিন পালাকারের। তিনিই এটা শিখাইছেন লিপনদেরকে। লিপনরা এইটারে হুবহু কপি করার চেষ্টাই করছে কেবল। এবং প্রথম দিকে, এটা দুইভাগে মঞ্চস্থ হইতো। কারন তখনও লিপনদের পুরো পালা পরিবেশনের দম হয় নাই। তাই প্রথম অংশ ইসলাম উদ্দিন করতো। দ্বিতীয় অংশ করতো লিপনরা।
পরে এইটা লিপনরা পুরাটা করার ক্ষমতা পায়। কিন্তু এইটার পরিচালক জামিল আহমেদ হয় কেমনে? কাগজে কলমে কী আছে জানি না, কিন্তু এইটা পুরাই ইসলাম উদ্দিনের।
আর লিপনের পারফর্মেন্স যদি ভালো লেগে থাকে তাইলে ইসলাম উদ্দিনেরটা দেখলে বুঝবেন... কী জিনিস...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
এই প্রযোজনা থেইক্যা তো আমরা সেই কখনই বাইর হইয়া কনসেপচুয়ালে গেছিলাম গা! যাউক। বাদ্দেই।
আতা স্যার-কে নিয়েও আমিও আর কিছু যোগ করলাম না তাইলে।
কমলারাণীর সাগরদীঘি'র ব্যাপারটা তাইলে আমি ভুল ভাবছিলাম, এখন ঠিক-টা জানলাম আপ্নের কাছ থেকে। না, কাগজপত্রের ভিত্তিতে বলতেছিলামও না। কী জানি- আমার মাথায় ক্যান্ ওইরকমভাবে ছিল জিনিসটা। যাক, এখন জানলাম তো। থ্যাংকস বস, ফর এভরিথিং। আর, হ, ইসলামউদ্দিন পালাকারের অন্য পারফরম্যান্স দেখছি টিভি-তে, তাতে কিছু বোঝা যায়নাই। এইটা দেখি নাই, সেইটা তো মিস-ই। এইরকম কতোকিছু যে জীবনে মিস ক'রে গেলাম!
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!
___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি
নতুন মন্তব্য করুন