স্কুল ছুটি হয়ে যায় দুপুরের আগেই, মায়ের অফিস শেষ হতে তখনো কঘণ্টা বাকী, প্রায়শই এই সময়টাতে তার অফিসে, বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম গ্রন্থাগার, রাজশাহী বিশ্ব- বিদ্যালয় গ্রন্থাগারে কাটানো হত নানা বিদেশী ছবির বই দেখে, বিশেষ করে জীবজন্তুর বৈচিত্রময় রঙিন ছবিগুলো যে কি উদ্বেলিত করে তুলত অদ্ভুত সব কল্পনায়।
মাঝে মাঝে ছোটদের বাংলা বইয়ের তাক থেকে চুপিসারে দুয়েকটা বই নামিয়ে পড়ার চেষ্টা চালাতাম গভীর আগ্রহে। অদ্ভুত নামের একটি বই চোখে পড়াই কৌতূহলী হয়ে টেনে নামিয়েছিলাম, খুব একটা মোটা নয়, সাদা উন্নত কাগজে ছাপা, প্রকাশনা আজ আর মনে নেই, ব্যতিক্রমী নামটি ছিল - হোয়াইট ফ্যাং!
ফ্যাং মানে জানতাম না, কিন্তু সেই না জানাই আকৃষ্ট করে ছিল প্রবল ভাবে। পাতা উল্টাতেই মনে হল অন্য ধরনের বই- বন, বরফ, সবুজ, শিকার আর নেকড়েদের নিয়ে। প্রথমেই বর্ণনা ছিল সদ্য চোখ ফোঁটা নেকড়ে শাবক কি করে গুহার মুখ দিয়ে বাহিরের আলোকময় বিশ্বের আভাসে অবাক বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায়।
লেখকের নামটিও অন্য ধরনের জ্যাক লন্ডন, লন্ডন শহরে জন্ম বোধ হয় ! বেশ একটা গভীর ছাপ ফেলেছিল শিশুমনে একটি বুনো নেকড়ের কুকুর হয়ে ওঠার কাহিনী।
আরো ক বছর পর সেবার বই প্রথম প্রথম পড়ার সুখময় স্কুল বছরগুলোতে একই লেখকের কুকুর নিয়ে লেখা আরেকটি বই আসল হাতে দ্য কল অফ দ্য ওয়াইল্ড,বাক নামের এক কুকুরের উত্তরের বন্ধুর পরিবেশে নেকড়ে হয়ে উঠবার অসাধারণ শক্তিশালী গল্প। শুনলাম এই বইটি লেখার পরেই পরিপূরক হিসেবে হোয়াইট ফ্যাং লিখেছিলেন তিনি। বইয়ের ভুমিকায় লেখা ছিল লেখকের রূপকথার মত বর্ণময় জীবনের চকচকে কিছু ঘটনার বর্ণনা, জন্ম তার লন্ডনে নয়, মার্কিন দেশে! মনে হয়েছিল এমন মানুষ হতে পারলেই জীবন সার্থক, সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রবল ঘটনাবহুল জীবন। ৪২ বছরের জীবনে কি করেন নি তিনি!
একে একে পড়া হল সী উলফ, তার অসাধারণ কিছু ছোট গল্প, বিশেষ করে এক ফালি মাংস, আগুন ইত্যাদি। জানলাম জ্যাক লন্ডনের জীবন নিয়ে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বাস্তব ভিত্তিক উপন্যাস লিখেছেন আরভিং স্টোন।
কোন আরভিং স্টোন? হু হু, বিশ্ব সাহিত্যে আরভিং স্টোন একজনই, যাকে বলা হয় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীবনীকার, একাই রচনা করেছেন শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের জীবন নিয়ে Lust for Life, মাইকেল এঞ্জেলোর জীবন নিয়ে Agony and Ecstasy, ডারউইনের ভ্রমণ নিয়ে Origin, ট্রয়ের হাইনরিখ স্লিম্যানের ঘটনা নিয়ে Greek Treasure, এবং আরো অনেকের জীবনের সাথে সাথে জ্যাক লন্ডনের জীবন নিয়ে Sailor on Horseback, কি অদ্ভুত নামের বই- অশ্বারোহী নাবিক !
এখন খোঁজা শুরু হল বইটি, পুরনো বইয়ের দোকানে তোলপাড় চলে নিত্য দিন, কিন্তু পাওয়া যায় না। নেটের মাধ্যমে আমাজনে চাইলেই অবশ্য আনানো যায় অন্য মহাদেশ থেকে কিন্তু নিজের হাতে পুরনো বইয়ের পাহাড় সরিয়ে পছন্দে বইটি পাবার তীব্র আনন্দের কাছে মনে হয় সোনার খনি খুঁজে পাবার আনন্দও ম্লান হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই অ্যাড্রিন্যালিন প্রবাহের লোভেই অন্বেষণ চলতে থাকে দোকানে দোকানে।
অবশেষে ২০১০ এর জুলাইতে যখন বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগের জন্য অবস্থান করছিলাম আফ্রিকা মহাদেশের সুন্দরতম নগরী কেপ টাউনে, পেঙ্গুইন দেখে, পাহাড়ে চড়ে, নেলসন ম্যান্ডেলার স্মৃতি বিজড়িত স্থান দেখে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতেই চোখে পড়ল এক পুরনো বইয়ের দোকান, ঢুকতেই মাথা বোঁ করে ঘুরে উঠল, অধিকাংশই ইংরেজি বই! আসলে অন্য ভাষার দেশে ঘুরতে ঘুরতে ভুলেই গেছি যে দোকানে থরে থরে বাংলা- ইংরেজি বই সাজানো থাকতেই পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইংরেজি এবং ডাচ আফ্রিকানা দুইই চলে, কাজেই সমস্যা নেই।
প্রথম দফাতেই এক গাদা বই পছন্দ হয়ে গেল বিশেষ করে এডমুন্ড হিলারির এবং জেরাল্ড ডারেলের, কাঁধে করে বইগুলো হোটেল রেখে সেই দোকানে আরো দুইবার ঢুঁ মারতে বাধ্য হলাম রোদেলা সৈকতের আহ্বান উপেক্ষা করে। ( বিমানবন্দরে যাবার আগে ওজন করে দেখেছি প্রায় ১৩ কিলো বই ছিল, অধিকাংশই পেপারব্যাক) , শেষ বার কি মনে হওয়ায় এমনিই জিজ্ঞেস করলাম জ্যাক লন্ডনের জীবনীটা আছে কিনা। শুভ্র কেশের ভদ্রলোক চশমা নাকের ডগায় রেখে খানিকক্ষণ চোখ মুদে চিন্তা করে বললেন, বইটি তো ছিল, দেখি এখনো আছে নাকি !
মিনিট কয়েক খোঁজাখুজির পর পিছন দিকের এক তাক থেকে আসলেই পরম আরাধ্য বইটি নিয়ে যখন তিনি হাজির হলেন, বিশ্বাস হচ্ছিল না কোন মতেই! দাম জানতে চাইলে উল্টে পাল্টে দেখে বললেন ৫০ সেন্ট ( ৫০ বাংলাদেশী টাকা)! মনের আনন্দ মুখে প্রকাশ পাচ্ছে তখন, বিশ্ব জয়ের দুর্লভ আনন্দের মত, সেই তাক হাতড়েই পেলাম আরভিং স্টোনের আরও দুটি বই, সিগমুণ্ড ফ্রয়েড এবং চিত্রকর ক্যামিল পিসারোর জীবন ভিত্তিক উপন্যাস ।
মানুষের তৈরি সবচেয়ে নয়নাভিরাম পথ বলে খ্যাত কেপ টাউন- জোহান্সবার্গের রাস্তায় দীর্ঘ বাস ভ্রমণকালেই শুরু হল লন্ডনের জীবনের সাথে বাঙলাভাষী এক ভক্তের পরিভ্রমণ ( আফ্রিকার রাস্তায় পড়া অন্য বইটি ছিল বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়) ।
আরভিং অন্যান্য বইগুলোর মতই বিশাল কলেবরে লেখা বইটি পাঠের সময় মনে হতে থাকে জীবনের প্রতিদিনই জ্যাক লন্ডনের সঙ্গী ছিলেন আরভিং স্টোন, এছাড়া এমন বই লেখা সম্ভব না।
প্রথম লাইনে দেখা যায় ১৮৭৫ সালের জুন মাসে ফ্লোরা উইলম্যান নামের এক তরুণী আত্নহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন কারণ তার প্রেমিক জনৈক আইরিশ প্রফেসর গর্ভস্থ সন্তানটিকে পৃথিবীতে আনতে রাজী হচ্ছিলেন না। অনেকের মতে তারা বিবাহিত হলেও, শেষ পর্যন্ত তা প্রমাণ করা সম্ভব হয় নি, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় চিরদিনের মত। ভূমিষ্ঠ সন্তানের নাম অবশ্য সেই আইরিশ জ্যোতিষবিদ উইলিয়াম চ্যানির নামেই রাখা হয় জন গ্রিফিথ চ্যানি । কিছু দিনের মধ্যেই ফ্লোরার সাথে জন লন্ডন নামের এক ভদ্রলোকের সাথে পরিণয় ঘটে, শিশুটি আজীবন তার সৎ বাবার নাম গ্রহণ ও বহন করেই জগদ্বিখ্যাত হয়ে ওঠে- জ্যাক লন্ডন।
শুরু হয় ধরণীর বুকে এক মূর্তিমান বিদ্রোহীর পথ চলা, দারিদ্রপীড়িত শৈশবে মাত্র ১২ বছর বয়সেই প্রতিদিন ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টায় কঠোর কায়িক পরিশ্রমের কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন ভবিষ্যৎ লেখক পেটের তাগিদে।
এর কয়েক বছর পরেই নিজের জমানো আর ধার করা টাকায় র্যাজেল- ড্যাজেল নামের এক পুরনো জাহাজ কিনে পুরোদস্তুর ঝিনুকদস্যু বনে যান তিনি, উপকূলীয় অঞ্চলে বেআইনি ভাবে ঝিনুক শিকার চলতে থাকে তার, এক পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় ঝিনুক দস্যু ফ্রেঞ্চ ফ্রাংকের রক্ষিতা মেমিকে নিজের কবলে নিয়ে আসেন, অবশ্য একই কারণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাংকের কোপানলে পড়েন। এর কমাস পরেই সলিল সমাধি ঘটে তার সাধের জাহাজের।
বাধ্য হয়ে মৎস্যজীবীদের দলে যোগদান করেন জ্যাক, পরে জাপান উপকূলে যান স্কুনার নিয়ে। পরের কয়েক বছর বলা চলে হেন কাজ নাই যা তিনি করেন নি জীবিকা তাগিদে, পাট কলের কেরানি থেকে রেক কোম্পানির মজুর, শুঁড়িখানার বিক্রেতা।
অবশেষে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেন তিনি- লেখক। ক্লায় ক্লেশে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলেতে ভর্তিও হন কিন্তু মূলত অর্থ কষ্টের কারণেই বিশ্ব-বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন ।
এর পরপরই যোগ দেন স্বর্ণানুসন্ধানীদের দলে, অবারিত প্রকৃতির মাঝে কুকুরটানা স্লেজ গাড়ী নিয়ে চির তুষারের রাজ্যে, যে কঠিন জীবন ঘষে পাওয়া অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে গেছে পরবর্তীতে তার মহান উপন্যাস এবং ছোট গল্পগুলোতে। এর আগেই এক ভবঘুরে পথিকের হাত থেকে এক ইস্তেহার আসে তার হাতে, কার্ল মার্ক্স নামের এক দার্শনিকের কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো, যা পাঠ করে অন্যরকম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠেন চির ভবঘুরে জ্যাক এবং বাকী সারা জীবনই তিনি সমাজতন্ত্রে সুদৃঢ় আস্থা রেখে তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছেন।
এই প্রসঙ্গে আরভিং স্টোন আবিস্কারের চেষ্টা চালিয়েছেন নানা গল্পের মাধ্যমে, কেন জ্যাক প্রথমবারের মত সন্ধান পাবার পর থেকেই মার্কসবাদে দীক্ষা নেন? কারণ অতি সহজ, শৈশব, কৈশোর তিনি দারিদ্র পীড়িত সমাজে বড় হয়েছেন। বঞ্চিত, পীড়িতের ব্যাথা তার চেয়ে বেশী কে বুঝবে! তাই যখন সে বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা দেখেছে এই বৈষম্যময় প্রচলিত সমাজব্যবস্থা দূরীকরনের, সেটিকেই অবলম্বন করে সামনে এগোতে চেয়েছে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যই জ্যাক লন্ডনের মনে হল সমাজতন্ত্র মানুষের আবিষ্কৃত শ্রেষ্ঠ সমাজব্যবস্থা, এবং একই সাথে একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন- নিজের মেধা ও মননকে উপজিব্য করে জীবন যুদ্ধে এগোবার, পেশীকে নয়। সাথে নোটবই রাখা শুরু করলেন সেই সময় থেকেই যাতে টুকে রাখতেন নানা যাত্রার অদ্ভুত সব তথ্য, কেন যেন মনে হয়েছিল তার জীবনের এই গল্পগুলো দিয়েও হয়ত মহৎ সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব।
আলাস্কার সেই বুনো নিসর্গের মাঝে মূল্যবান হলুদাভ ধাতু খোঁজার সময়ও জ্যাক পাগলপারা হয়ে পড়ে চলতেন ৪টি বিশেষ বই- ডারউইনের অরিজিন অফ স্পেসিস, মার্ক্সের পুঁজি, মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট এবং স্পেনসারের ফিলসফি অফ স্টাইল।
তার এই সময়ের ভ্রমণ সঙ্গীদের অনেকেই পরবর্তীতে রোমন্থন করেছেন, হাড়ভাঙ্গা খাটুনীর পরে সবাই যখন কম্বলের উষ্ণ আশ্রয়ের সন্ধানে ব্যস্ত তখনও জ্যাক স্যুপের পাত্র হাতে আগুনের পাশে অধ্যয়নরত! বিশেষ করে এক সঙ্গী তাদের পুরোই পাগল ঠাউরে ছিল, কোন মতে মৃত্যুর শীতল গ্রাস থেকে সে প্রবল সংগ্রামের পর যখন সে তাবুতে ফিরতে সক্ষম হয়, দেখে তাবুর সবাই তর্কে লিপ্ত! তর্কের বিষয়- সমাজতন্ত্র!!
অবশেষে নানা অ্যাডভেঞ্চারের পরে কপর্দকহীন অবস্থায় বাড়ী ফেরেন তিনি, সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল এক বুক হাহাকার করা দুঃসংবাদ- সৎ পিতা জন লন্ডনের মৃত্যুসংবাদ, যে মানুষটির কাছে থেকে সবসময়ই স্নেহ পেয়ে এসেছেন তিনি।
এবার তিনি চেষ্টা চালান আলাস্কার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার, কিন্তু সময় ছিল বড্ড প্রতিকূল, পরিবারের জন্য বাধ্য হয়ে তিনি সব রকমের কায়িক পরিশ্রমের কাজ যোগাড়ের চেষ্টা করতে থাকেন অবিরত। জানালা ধোয়া, কার্পেট পরিষ্কার, ঘাস কাটা- যে কোন কাজকেই তিনি স্বাগতম জানিয়েছিলেন কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অধিকাংশ দিনই পুরো একটি মাত্র ডলার উপার্জনেও সক্ষম হতেন না।
অবশেষে স্থানীয় পোস্ট অফিসে ডাক পিয়নের কাজ যোগাড়ে সক্ষম হন, এবং সেই সাথে বাড়তি উপার্জনের জন্য এক খবরের কাগজের জন্য গল্প লেখার চেষ্টা করতে থাকেন, যারা প্রতি হাজার শব্দের জন্য ১০ ডলার পারিশ্রমিক দিত। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে জ্যাক বাড়ীর প্রায় সমস্ত কিছুই বন্দক রাখতে বাধ্য হন কিন্তু এর মাঝে বিভিন্ন পত্রিকাতে তার লেখা পাঠাতে থাকেন, এক হিসেবে বলা যায় একজন সাহিত্যিক হিসেবে তার বুনিয়াদ এই সময়েই গড়ে ওঠে।
অবশেষে Overland Monthly নামের পত্রিকা তার আলাস্কার ঘটনা নিয়ে লেখা পাঁচ হাজার শব্দের গল্প To the man on trail ছাপাতে রাজী হয়! যার অর্থ ৫০ ডলার আসবে পকেটে, জ্যাক একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে লিখে যেতে সক্ষম হবেন! কিন্তু পত্রিকাটি পরে তাকে মাত্র ৫ ডলার দিতে সম্মতি জানায়, বলে এই ধরনের গল্প অনেকেই লিখতে পারে। হতাশায় প্রায় মুষড়ে পড়েন আমাদের হার না মানা নায়ক, ক্ষণিকের জন্য হলেও ভাবেন তবে কি কেবল ধনীরাই লেখক হতে পারে?
কিন্তু কাকতালীয় ভাবে সেই একই বিকেলে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়, The Black Cat নামের এক পত্রিকা তার এক গল্প খানিকটা কাট ছাঁট করে ছাপতে রাজী হয়, এবং প্রতি হাজার শব্দের বিনিময়ে ২০ ডলার করে দিতে রাজী হয়! শুরু হয়ে যায় জ্যাক লন্ডনের সাহিত্যযাত্রা।
Overland Monthly তে তার প্রথম গল্প ছাপা হল অবশেষে, কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুত ৫ ডলার তো ফেরৎ পাঠালই না এমনকি জ্যাককে পত্রিকাটির সৌজন্য সংখ্যা পর্যন্ত পাঠানো হল না! রিক্ত হাতে শূন্য পকেটে এক খবরের কাগজের দোকানে জ্যাক অধীর আগ্রহে কেবল দেখতে চাইলেন ছাপার অক্ষরে তার সৃষ্টিকে কেমন দেখাচ্ছে! কি দুর্মর আকাঙ্খা লেখক জীবনের!
কিন্তু এরপরও একই পত্রিকায় কেবলমাত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য The White Silence নামের গল্প পাঠালেন, লিখতেই থাকলেন দুই হাত ভরে।
এবং ১৯০০ সালে নতুন শতাব্দীতে প্রবেশকালে বেশ কিছু দিনের প্রেম ম্যাবেলকে ঘরে তুলেন বদমেজাজী শাশুড়িসহ। কিছুদিনের মধ্যই জ্যাকের উপার্জন গিয়ে দাঁড়াল প্রতিমাসে দেড়শ ডলার, সম্পূর্ণটাই লেখনীর মাধ্যমে! এই পরিমাণ অর্থ মাস ছয় আগেও ছিল পুরো পরিবারের কাছে স্বপ্ন বিশেষ।
যদিও সংসারে দুই কন্যা সন্তানের আগমনের পরেও ১৯০৪ সালে এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং পরের বছরই জ্যাক তার জীবনের সেরা প্রেম চার্মিয়ানকে বিয়ে করেন, যার সাথে পরবর্তীতে রয়েছে তার অসংখ্য ভ্রমণ এবং অ্যাডভেঞ্চারের অভিজ্ঞতা।
বাড়তেই থাকে লেখক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা, আন্তর্জাতিক ভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সুনাম। ১৯০২ সালের শেষের দিকে জ্যাকের মাথায় কুকুর নিয়ে এক গল্প খেলে যায়, এটিকে পাতায় আঁকার চেষ্টা করেন তিনি ৪০০০ শব্দে, এবং এর পরপরই তিনি বিমূঢ় হয়ে আবিস্কার করেন, গল্পটি কেবল মাত্র শুরু হয়েছে। প্রথম বারের মত বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক বুঝতে পারেন কিছু কিছু সময় আসে যখন গল্পই হয়ে দাঁড়ায় মূল চালক, সেক্ষেত্রে লেখককে গল্পের দাস হিসেবে তার মর্জিমত চলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। গল্পটির নাম তিনি দেন- দ্য কল অফ দ্য ওয়াইল্ড!
লেখার ফাঁকে ফাঁকে পরিবার ও বন্ধুদের পড়ে শোনাতেন কাহিনীটি, সবার উচ্ছসিত হয়ে প্রশংসা করতে থাকে আজ পর্যন্ত কুকুর বা কোন প্রাণী নিয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ উপন্যাসটির, যার তিনি সর্বসত্ত্ব বিক্রি করে দেন দুই হাজার ডলারের বিনিময়ে।
এর পরপরই the Spray নামের এক ক্ষুদের স্কুনার কিনে ফেলেন তিনি, কারণ ততক্ষণে তার উর্বর মস্তিস্কে এসে গেছে সমুদ্র যাত্রা নিয়ে এক বিশাল উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা, এই সময়ে পায়ের নিচে জলের কম্পন অনুভব করতে চাইছিলেন জ্যাক। যখনই বাড়ীতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যেতে, চলার মত খাবার নিয়ে নিয়ে একা জাহাজে ভেসে দুরে চলে যেতেন, লোনা বাতাসে দেহ-মন জুড়িয়ে মত্ত থাকতেন সেই উপন্যাস রচনায়, যার নাম দিয়ে ছিলেন সী উলফ ( সাগর নেকড়ে) । বিশ্ব সাহিত্য অন্যতম অবিস্মরণীয় চরিত্র ক্যাপ্টেন লারসেনের আগমন ঘটল সাবেক নাবিকের কলম থেকেই!
১৯০৪ সালে নভেম্বরে উপন্যাসটি বাজারে আসার সাথে সাথেই ঈর্ষণীয় পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে, ছাপা হতে থাকে একের পর এক মুদ্রণ, বইটির আবেদন আজো অটুট, অনেক সমালোচকের মতে এটিই জ্যাক লন্ডনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্রই, বিভিন্ন শহরে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন জ্যাক, সেই সাথে অবরাম গতিতে চলতে থাকে লেখার ফোয়ারা। আর তার চির অশান্ত মনে খেলতে থাকে একের পর এক অ্যাডভেঞ্চারের দুঃসাহসী পরিকল্পনা।
যার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যয়বহুল ইয়ট SNARK, কল্পিত এক সামুদ্রিক জীবের নামে রাখা স্নার্ক নামের সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নৌযানটির পিছনে প্রায় সমস্ত উপার্জন খরচ করেছিলেন জ্যাক, কিন্তু প্রকাশনা সংস্থার সাথে তার চুক্তি ছিল এই নৌযান নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বাহির হয়ে তাদের নিয়মিত টাটকা লেখা দিবেন। যদিও নানা অব্যবস্থাপনা ও জ্যাকের খেয়ালের জন্য নিত্য নতুন খরচ বাড়তেই থাকে, এবং যাত্রা শুরু পর দেখা যায় স্নার্ক আদৌ এমন সমুদ্র বিহারের উপযোগী নয়! সমুদ্রে সলিল সমাধি ঘটে তার।
কিন্তু বিপুল গতিতে চলছিল তার কলম, একের পর এক লিখে চলেছিলেন উপন্যাস। এই সময়ে চির ভবঘুরে লেখক চাইলেন সারা জীবন থিতু হয়ে বসবার মত একটি আস্তানা, নিজের মনের মত একটি বাড়ী ও র্যাঞ্চ।
সেই সাথে মনের গহনে আত্মজীবনী লেখার সুতীব্র ইচ্ছে ছিল তার যার নাম হবে Sailor on Horseback ( অশ্বারোহী নাবিক), শেষ পর্যন্ত যা সম্ভব হয় নি। জ্যাকের এই ইচ্ছের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হয়ত আরভিং স্টোন ঠিক এই নামটিই বেছে নিয়েছিলেন। যদিও নিজের জীবনের ছায়া নিয়ে তিনি জন বার্লেকর্ণ নামের একটি উপন্যাস লিখেছিলেন।
আবার মত্ত হলেন আপন খেয়ালে, তখন বছরে ৭৫ হাজার ডলার উপার্জন করলেও তার খরচ হচ্ছিল এক লাখ ডলার! যদিও ১৯১৩ সালের বসন্তের মাঝে জ্যাক লন্ডন পরিণত হন সারা বিশ্বের জনপ্রিয়তম, সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সর্বাধিক পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত লেখকে। কিন্তু এই বিপুল খরচের বোঝা তার উপরে চেপে বসেছিল ক্রমাগত।
সেই র্যাঞ্চে একটি বিশাল বিলাস বহুল প্রাসাদবাড়ী নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি, এর নামকরণ করা হয় উলফ হাউস। সারা দেশ থেকে সেরা কাঠের গুঁড়ি, নির্মাণ শ্রমিক আসতে থাকে এই খেয়ালী প্রাসাদ নির্মাণে, তরতর করে এগিয়ে চলে নির্মাণকাজ। এটিকে বলা হত আমেরিকার শ্রেষ্ঠ আবাসগৃহ। কিন্তু নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলেও এখানে কোনদিনই বাস করতে পারেন নি জ্যাক, তার আগেই অজ্ঞাত কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভুত হয়ে যায় গোটা উলফ হাউস, যা ভীষণ ভাবে নাড়া দেয় লেখকের হৃদয়কে, কোনদিনই এরপর আর আগের উচ্ছল মানুষে পরিণত হতে পারেন নি তিনি।
জীবনীশক্তি ফুরিয়ে আসছিল সকলের অজান্তেই এই অদম্য লেখকের, লেখার উৎসাহও ক্রমাগত হারিয়ে ফেলেছিলেন প্রকাশকদের তাগাদায়। ভগ্নস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের কারণে হাওয়ায় দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানেও ভ্রমণ করতে থাকেন, যদিও শেষ দিন পর্যন্ত সমাজতন্ত্রে তার আস্থা অটুট ছিল, বন্ধুদের চিঠি লেখার সময় কমরেড বলে সম্বোধন করতেন সবসময়ই।
অবশেষে ১৯১৬ সালের ২২ নভেম্বর নিজের র্যাঞ্চেই কিডনির সমস্যাসহ নানাবিধ কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে সন্ধ্যার সময় সূর্যের সাথে সাথেই নশ্বর জীবন থেকে বিদায় নেন অমর লেখক জ্যাক লন্ডন ( তার মৃত্যুর কারণ আজো রহস্যঘেরা, অনেকেই মনে করেন আত্মহত্যা, কিন্তু ধারণা করা হয় ঔষধের ভুল প্রয়োগের কারণে অ্যালকোহলাসক্ত জ্যাকের দেহে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাতেই ভেঙ্গে পড়ে সমস্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা)।
জ্যাক লন্ডন বিদায় নেন না তার ভক্তদের কাছে থেকে, পরিণত হন কিংবদন্তীতে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার লেখনীর, সত্ত্বার, জীবনের গল্প। যে জীবন সম্পর্কে তিনি নিজেই লিখে গেছেন—
I would rather be ashes than dust!
I would rather that my spark should burn out
in a brilliant blaze than it should be stifled by dry-rot.
I would rather be a superb meteor, every atom
of me in magnificent glow, than a sleepy and permanent planet.
The function of man is to live, not to exist.
I shall not waste my days trying to prolong them.
I shall use my time.
( ব্যবহৃত আলোকচিত্রগুলো নেট থেকে সংগৃহীত)
মন্তব্য
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'
facebook
আই শ্যাল ইউজ মাই টাইম। মারাত্মক। আই শ্যাল ইউজ মাই টাইম।
..................................................................
#Banshibir.
ঠিক !
facebook
facebook
অপূর্ব!
ধন্যবাদ রমা দি।
facebook
অনু দা হিমালয়ে যাবেন কবে !!!!!
দেখি! এই বছর হতেও পারে-
facebook
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
facebook
দারুণ! সী উলফ পড়া হয়নি। জলদি পড়তে হবে।
ক্যাপ্টেন লারসেনের সাথে দেখা করার সময় সাবধান
facebook
কিছুই হলনা - বাজানো গেলনা সময়---
ইস! কতকিছু পড়ার আছে বাকি---
হ, অসহায় লাগে, কিন্তু শুরু করে দেন ! তাতে লাভ বই ক্ষতি তো নেই !
facebook
পোস্ট আকর্ষণীয় হয়েছে নিঃসন্দেহে !
অনেকগুলো বছর হয়ে গেলো জ্যাক লন্ডনের একটামাত্র বই পড়েছিলাম সেই ছাত্রজীবনে 'সমুদ্রের স্বাদ'। প্রয়াত কবীর চৌধুরীকৃত 'সী উলফ'এর অনুবাদ। মূল ইংরেজিটা কেমন তা তো জানি না, কিন্তু ঢাউস সাইজের সেই অনুবাদটাই অসাধারণ লেখেছিলো আমার কাছে। ক্যাপ্টেন লারসেন দীর্ঘদিন অভিভূত করে রেখেছিলেন আমাকে। পববর্তীকালে বিশ্বসাহিত্যের বহু অনুবাদ গ্রন্থ পড়েছি, কিন্তু জ্যাক লন্ডনের সী উলফের মতো এতোটা মজা আর পাই নি।
অনেককাল পরে সেবা প্রকাশনী থেকেও বোধয় 'সী উলফ' নামে বই বেরিয়েছিলো। এতো ছোট্ট সাইজ দেখে ইচ্ছেও হয়নি উল্টে দেখার- আদৌ কি সেটা জ্যাক লন্ডনের বইটাই কিনা।
ধন্যবাদ অণু।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
একই বই দাদা, কিন্তু সেবারটা খুব সংক্ষেপিত।
কবীর চৌধুরীর অনুবাদটা যে কি দারুণ! অনেকেই আমাকে বলেছেন এই বই পড়ার পরই তাদের জীবনের গতিপথ পাল্টে গেছে।
ধন্যবাদ উৎসাহ দেবার জন্য--
facebook
হায় কেপ্টাউন!!
_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩
হবে হবে===
facebook
ভালো লাগলো।
facebook
ভালো লাগলো।
[আমার চারপাশ]-[ফেবু]-[টিনটিন]
ধন্যবাদ।
facebook
কল অফ দ্য ওয়াইল্ডের মুভিটা দেখেছি।
****************************************
চার্লটন হেস্টনের টা তো? ঐটা বেশ লেগেছিল, কুকুরটার কি আবেগ আর অভিমান!
facebook
হাঁহ, জীবনটা কত কত কছু ছাড়াই পার হয়ে গেল।
ভাল লাগলো আপনার বর্ণন।
হুম, জীবন চলতেই থাকে, হয়ত সেটাই ভাল।
facebook
চমতকার লাগলো । সেবার কারণে সী উলফ সহ আরো কিছু বই পড়া ছিলো ছোটোবেলাতেই। লারসেন একটা চরিত্র বটে।
সেবার কারণেই মূলত লন্ডন পড়া, কিন্তু সী উলফটা বেশী সংক্ষিপ্ত ছিল। কবীর চৌধুরীর অনুবাদে 'সমুদ্রের স্বাদ' পড়ে দেখেন, অনেক বেশী ভাল লাগবে।
facebook
"সী উলফ" পড়েছিলাম এই লেখকের। অন্যান্য বইগুলা পড়া হয়নি।
জ্যাকের জীবনী পড়ে মনটা সত্যিই অনেক খারাপ হয়ে গেছে। বেশীরভাগ বিখ্যাত লেখকের জীবনই অনেক কষ্টের হয়। হয়তো তার এই ভয়ঙ্কর কঠিন জীবন যাপনের জন্যই আজ একজন বিখ্যাত লেখক হয়ে মানুষের মনে গেথে আছেন।
তার প্রিয় বইগুলোর একটা "অরিজিন অফ স্পেসিস" পড়েছি। পড়তে হয়েছিল আমার অনার্স বিষয় "উদ্ভিদবিদ্যা" এর জন্য। তখন পাঠ্য বলে গিলতে হয়েছিল কিন্তু এখন আবার পড়ব শুধু নতুন করে আরও অনেক কিছু জানার জন্য।
পড়ে ফেলেন সময় করে, সেবার অন্য দুটি বইয়ের অনুবাদ বেশ ভাল।
facebook
আমার মা ইদানিং আপনার লেখার ভক্ত। উনি জানতে চেয়েছেন যে, আপনি কি করেন? এত্ত সময় পান কই ঘুড়ার? আর ঘুড়ার ফিনানশিয়াল ব্যাপারটা। উনি আপনার ছবিরও ভক্ত।
আপনার মাকে আমার শুভেচ্ছা।
সময় পেলাম কোথায়? খুব ইচ্ছে করে ইউরোপিয়ানদের মত বছরখানেক টানা ঘুরতে, দেখি সামনে এমন করতেও পারি। যা উপার্জন করি সব ঘোরাঘুরি, বই কেনা, ক্যামেরাতেই সিংহভাগ চলে যায়, চলছে এভাবেই--
facebook
তারেকাণু ভাই, আপনার সব লেখার সাথে সাথে বই বিষয়ক লেখাগুলোও ব্যাপক ভালো পাই। স্মৃতি হাতড়ে আরও লেখা আসুক। অঃটঃ ক্যাম্পাসের অনেককেই চিনি-জানি, সাথে আপনাকেও।
ধন্যবাদ, চেষ্টা করব। বলেন কি, পরিচয় হয়েছিল? আমরা কিন্তু ক্যাম্পাসে থাকতাম না যদিও। আমাকে অণু বললেই হবে, শুভেচ্ছা,
facebook
কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটার পি, ডি, এফ কি আছে আপনার কাছে?
পোষ্টটা খুবই ভাল লাগল ।
নারে ভাই, আমিই খুঁজছি! পেলে জানিয়েন--
facebook
facebook
এক নিঃশ্বাস এ পড়ে ফেললাম পুরোটা, দারুন
----------------------------------------------------------------------------------------------
"একদিন ভোর হবেই"
হে হে, আমারও এক বসাতেই লেখা।
facebook
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
।ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।
facebook
facebook
হোয়াইট ফ্যাং! আমার অন্যতম প্রিয় বইগুলোর একটা।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, জ্যাক লন্ডন-কে নিয়ে লেখার জন্য।
আমার পড়া প্রথম লন্ডন বলে একটা আলাদা টান আছে বইটার প্রতি, একটি ছবির নামও সেটার নামেই দিয়েছিলাম।
facebook
নতুন মন্তব্য করুন